কিডনি নষ্ট হয়ে যায় কেন? কিডনি প্রতিস্থাপন ও কিডনি দান প্রসঙ্গ

আজ‌কের আ‌লোচনার বিষয়বস্তুু-
১। কিডনি নষ্ট হয়ে যায় কেন?
২। কিডনি প্রতিস্থাপন কারা করতে পারবেন?
৩। কিডনি দান কি ঝুঁকিপূর্ণ?

কিডনি নষ্ট হয়ে যায় কেন?
বিভিন্ন কারণে কিডনি বিকল হতে পারে। এনটিভির নিয়মিত আয়োজন ‘স্বাস্থ্য প্রতিদিন’ অনুষ্ঠানের ২৪৯০তম পর্বে এ বিষয়ে কথা বলেছেন অধ্যাপক জামানুল ইসলাম ভূঁইয়া। বর্তমানে তিনি গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

প্রশ্ন : কিডনি সংযোজন অত্যন্ত জটিল ও আধুনিক একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। এটি বাংলাদেশে হচ্ছে। একজন মানুষের কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট (প্রতিস্থাপন) প্রয়োজন হয় সাধারণত তার কিডনি বিকল হয়ে গেলে। কিডনি বিকল হয় কেন?
উত্তর : কিডনি বিকল একটি অত্যন্ত গুরুতর এবং এর জন্য অনেক ব্যয়বহুল চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। এর কারণের মধ্যে সংক্রমণ একটি কারণ। যেমন আমরা বলি গ্লুম্যারো নেফ্রাইটিস। এ ছাড়া পাইলোনেফ্রাইটিস, ডায়াবেটিস ম্যালাইটাস, ডায়াবেটিস যার বেশি থাকে, উচ্চ রক্তচাপ যার বেশি থাকে, যাকে আমরা বলি হাইপার টেনশন। এরপর অন্যান্য আরো কিছু অসুখ আছে, যেমন পাথর অথবা টিউমার দিয়ে রাস্তাগুলো বন্ধ করে দেয়, বের না হয়। যাকে আমরা প্রচলিত একটি শব্দ ব্যবহার করে বলি—অবসট্রাকটিভ ইউরোপ্যাথি। এ ধরনের অসুখগুলো হলে কিডনি বিকল হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

প্রশ্ন : আমরা জানি কিডনি বিকল হয়ে যাওয়াটা শুরুতে অনেক সময় ধরা পড়ে না। এটা যখন ধরা পড়ে তখন অনেকখানি ক্ষতি হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে কিডনির চিকিৎসা করে কি আগের পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব?
উত্তর : কিডনি যদি বিকল হয়, যদি অবসট্রাকটিভ ইউরোপ্যাথি হয়, তখন আমরা যদি বাধা দূর করে দিই এটি আগের পর্যায়ে ফিরে আসে। তবে এটা নির্ভর করবে কতদিন এই অবসট্রাকটেড অবস্থায় ছিল।
আমি রোগীদের একটি সহজ উদাহরণ দিই। একজন মানুষকে যদি আপনি একটি আঘাত করেন, সামান্য থাপ্পড় দিলেন, সে কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে সুস্থ থাকবে। কিন্তু একজন মানুষকে যদি আপনি অজ্ঞান করে ফেলেন, আর যদি মেরে ফেলেন তাহলে আর জীবনেও সুস্থ হবে না। কিডনির বেলায়ও তাই। কিডনির অসুখগুলো কতদিন থেকে ভোগাচ্ছে, সেটার ওপর নির্ভর করবে কতটা সে পূরণ করতে পারবে।
তাই সবাইকে একটি কথা বলব। যেহেতু এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা যায়, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা যায়, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা যায়, আপনারা অবশ্যই এগুলোর চিকিৎসা করবেন। যাতে ওনাদের গুরুতর পরিণতির দিকে যেতে না হয়।

প্রশ্ন : যদি গুরুতর পরিণতির দিকে দুর্ভাগ্যবশত যায়, তার দুটো কিডনিই হয়তো বিকল, সে ক্ষেত্রে তার চিকিৎসার কী আছে? একটি তো আমরা জানি ট্রান্সপ্ল্যান্ট। তবে এর বিকল্প কী রয়েছে?
উত্তর : যখন নাকি কিডনি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যায়, তখন তো অন্য কথা। মনে করেন যদি খানিক বিকল হয়, তখন এর মেডিকেল চিকিৎসা আছে, আমরা রাখি। মেডিকেল চিকিৎসায় অনেকদিন ভালো থাকা যায়। যখন সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যায় তখনই হয় ডায়ালাইসিস করি, অথবা কিডনি সংযোজন করি। ডায়ালাইসিস বিভিন্ন রকম আছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পরামর্শ দিই, হেমোডায়ালাইসিস—রক্ত দিয়ে যে ডায়ালাইসিস করা হয়। এ ছাড়া প্যারিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস আছে। অথবা কন্টিনুয়াস এমবিলুটারি প্যারিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস আছে। এখানে সে বাড়িতে বসে বসে ডায়ালাইসিস করতে পারে। রোগী নিজে নিজেই করে, তাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দেওয়া হয়। পেটে একটি নল বসিয়ে দেওয়া হয়। এটা দিয়ে তাকে শিখিয়ে দেওয়া হয় এবং সে বাড়িতে করতে পারে। এগুলো হলো তার চিকিৎসা।

প্রশ্ন : কিডনি বিকল হলে, একজন রোগীর হাতে মাত্র দুটো পথ রয়েছে। ডায়ালাইসিস অথবা কিডনির ট্রান্সপ্ল্যান্ট। সেই ক্ষেত্রে একজন রোগীকে কী পরামর্শ দেবেন? তিনি কি ডায়ালাইসিস করবেন, না কি তার ট্রান্সপ্ল্যান্টে যাওয়াই উচিত। ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে চাইলেই কি সবাই করতে পারবে?
উত্তর : এ দুটো বিষয়ের মধ্যে ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে পারলে ভালো। কারণ এতে তার জীবনের যে গতিধারা সেটি কম ব্যাহত হয়। মনে করেন ডায়ালাইসিস করতে গেলে, তাকে সপ্তাহে তিনদিন হাসপাতালে যেতে হবে। গিয়ে ডায়ালাইসিস করতে হবে। ঘণ্টা চার-পাঁচ হাসপাতালে থাকতে হবে। তবে একবার যখন সংযোজন করে ফেলে কিডনি, তখন শুধু তার ওষুধ খেতে হয়। প্রথম দিকে একটু বেশি। এরপর ছয় মাস গেলে অনেক কমে যায় এবং জীবনটা অনেক স্বাভাবিক হয়। স্বাভাবিক কাজকর্ম সহজে করতে পারে। তার জীবনযাপন প্রায় আগের মতো হয়ে যায়।

কিডনি প্রতিস্থাপন কারা করতে পারবেন?
কিডনি বিকল হয়ে গেলে অনেক সময় ট্রান্সপ্ল্যান্ট বা প্রতিস্থাপন করতে হয়। তবে কারা সেটি করতে পারবেন—এ বিষয়ে এনটিভির নিয়মিত আয়োজন ‘স্বাস্থ্য প্রতিদিন’ অনুষ্ঠানের ২৪৯০তম পর্বে কথা বলেছেন অধ্যাপক জামানুল ইসলাম ভূঁইয়া। বর্তমানে তিনি গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজের ইউরোলজি বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

প্রশ্ন : কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট কি সবাই করতে পারবেন?
উত্তর : এ ক্ষেত্রে বয়সের বিষয় রয়েছে। কিডনি যে দান করবে তার বিষয়ে বয়সের কিছু বিষয় আছে। ৬০ বছরের ওপরে গেলে আমরা সাধারণত ডায়ালাইসিসটাই পছন্দ করি। এর মধ্যে থাকলে ট্রান্সপ্ল্যান্টটা পছন্দ করি। আবার কিছু বিষয় রয়েছে ধরেন একজন রোগীর যদি ক্যানসার থাকে, সে ক্ষেত্রে আমরা তখনই ট্রান্সপ্ল্যান্ট করব না। তার ক্যানসারের চিকিৎসা করে এক বছর দেখব রোগী ভালো হচ্ছে কি না। তখন যদি হয়, আবার আমরা ট্রান্সপ্ল্যান্ট করি।

প্রশ্ন : কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টের বিষয়ে অন্য একজন মানুষের কিডনি এনে সংযোজন করতে হয়। সাধারণত ওই কিডনির বেলায় মিলবে কি না এই বিষয়টি থাকে বা দাতা পাওয়া যায় না। এ বিষয়ে যদি একটু বলেন।
উত্তর : দাতাদের বেলায় আমি সর্বপ্রথম দর্শক-স্রোতাদের একটি কথাই বলব, প্রথম একটি সহজ পরীক্ষা করে নেবেন সেটি হলো রক্তের গ্রুপ। সাধারণত যেটা করা হয় রক্তের গ্রুপ না মিললেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা সেটা করি। সেটা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তবে সাধারণত আমাদের এখানে যেটা মেনে চলা হয় একই গ্রুপের রক্ত হতে হবে।
আরেকটি যেটা মানতে হবে, আমাদের দেশে একটি আইন আছে, এটি হলো জিনগতভাবে সম্পর্কিত হতে হয়। যেমন বাবা মা, ছেলে মেয়ে, ভাই, বোন এরা দিতে পারে। আর সেকেন্ড ডিগ্রির মধ্যে আসে চাচা মামা খালা ফুফু। মানে আমি যে কথাগুলো বললাম চাচা দিতে পারবে। তবে চাচি দিতে পারবে না। কারণ চাচা জিনগতভাবে সম্পর্কিত। চাচি নয়। তেমনি খালা দিতে পারবে। তবে খালু দিতে পারবে না।
আর সম্পর্কিত যেটি নয়, যেটা আমাদের দেশে করা হয় সেটি হলো দম্পতি। স্বামী স্ত্রীকে দিতে পারবে। স্ত্রী স্বামীকে দিতে পারবে। তবে এই ক্ষেত্রে একটা বিষয় আমরা খুব খেয়াল করি, যে আপনার অসুস্থতাটা কি বিয়ের পরে হয়েছে, না কি আগে হয়েছে? কারণ এর সঙ্গে অনেক নৈতিকতা জড়িয়ে যায়। অনেক সময় দেখা গেল, একজন অসুস্থ হলো, এরপর একটি বিয়ের সার্টিফিকেট নিয়ে এলো। এনে বলল আমার স্বামী। এটা কিন্তু আমরা নেব না। তাকে অবশ্যই আগে থেকে বিবাহিত জীবন যাপন করতে হবে।

কিডনি দান কি ঝুঁকিপূর্ণ?
অনেকে কিডনি দান করে থাকেন। এই বিষয়টি কতটা নিরাপদ বা এতে ঝুঁকি আসলে কতখানি—এনটিভির নিয়মিত আয়োজন ‘স্বাস্থ্য প্রতিদিন’ অনুষ্ঠানের ২৪৯০তম পর্বে এ বিষয়ে কথা বলেছেন অধ্যাপক জামানুল ইসলাম ভূঁইয়া। বর্তমানে তিনি গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজের ইউরোলজি বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

প্রশ্ন : যাঁরা কিডনি দেবেন তাঁদের মধ্যেও আতঙ্ক কাজ করে। যিনি কিডনি দেবেন তাঁর জন্য কি কিডনি দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে?
উত্তর : আমরা যখন ট্রান্সপ্ল্যান্ট করি, যাকে কিডনি দেব (গ্রহীতা), তাঁর চেয়ে বেশি যত্নবান থাকি যিনি দেবেন তাঁর প্রতি। কারণ উনি একটি মহৎ কাজ করছেন। দান করছেন। হোক না ওনার আত্মীয়। তারপরও তো উনি কিডনিটা দিয়ে জীবন বাঁচাচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে আমরা দাতার ব্যাপারে খুব যত্নবান থাকি। কেউ কিডনি দিলে আমরা তাঁর অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিই। তাঁর শরীরে যদি ন্যূনতম কোনো অসুবিধা থাকে, তাহলে তাঁর কিডনি আমরা নেব না। আমরা যখন দেখি, উনি সম্পূর্ণ নিরাপদ, তাঁর শরীরে কোনো ক্ষতি হবে না, তখনই আমরা তাঁর কিডনি নেব।
আরেকটি বিষয় বলব, জন্মগতভাবে আমাদের অনেকের একটি কিডনি। এটা নিয়েও তো আমরা ভালো আছি।

নেটওয়ার্ক মার্কেটিং-এ গ্রুপের সুবিধাসমূহ: শেষ পর্ব

মানুষ সামাজিক জীব। প্রাচীন কাল থেকে মানুষ দলবদ্ধ হয়ে বসবাস করে আসছে। কোন নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য মানুষ দল গঠন করে। মানুষ এককভাবে যা সম্পাদন করতে পারে না, তা দলীয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারে। নিজের ও সংগঠনের প্রয়োজনেই মানুষ দল বা গ্রুপ তৈরী করে। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় দল গঠন করতে লিডাররাই মূল ভূমিকা পালন করে। লিডাররা এক-একটি দল বা গ্রুপের নেতৃত্ব প্রদান করে ডিস্ট্রিবিউটরদের প্রেরণা যোগাতে সহায়তা করে। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ দল গঠনের সুবিধা সমূহ নিম্নে আলোচনা করা হলোঃ

১. সহজে কার্য সম্পাদনঃ
নেটওয়ার্ক মার্কেটিং বা অন্য যে কোন কাজ যখন একজন ডিস্ট্রিবিউটর একক প্রচেষ্ঠায় সম্পন্ন করতে পারে না; তখন অনেকে মিলে সে কাজ সম্মেলিতভাবে সহজেই সম্পন্ন করতে পারে। এতে দলের সকলেই কম বেশি উপকৃত হয়ে থাকে। অবশ্য দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে একজন অন্যের উপর আস্থা রাখতে হবে।

২. কাজের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধিঃ
নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় বিক্রয়কর্মী বা ডিস্ট্রিবিউটরদের কাজের প্রতি আগ্রহের উপরই নির্ভর করে সাফল্য। দলবদ্ধভাবে কাজ করার মাধ্যমে প্রত্যেকের আগ্রহ অনেকাংশে বেড়ে যায়। দলের অনেকের সফলতা দেখে নতুনরা কাজ করার আগ্রহ প্রদর্শন করে। এ ধরনের পদ্ধতিতে একজনের সফলতা অনেকাংশে অন্যের উপর নির্ভরশীল যার দরুন একে অন্যের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে।

৩. মর্যাদা ও তৃপ্তি লাভঃ
নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে দল গঠনের মাধ্যমে ডিস্ট্রিবিউটরগণ সাফল্য অর্জন করে যেমন তৃপ্তিলাভ করে; তেমনি বড় দলে কাজ করার দরুন মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। একজন ডিস্ট্রিবিউটর পর্যায়ক্রমে যখন দলের নেতৃত্ব লাভ করে দলের অন্যরাও অধিক পরিশ্রম করে সাফল্য অর্জনের প্রচেষ্ঠা করে।

৪. দলীয় শক্তি বৃহৎ শক্তিঃ
একটি দল বা গ্রুপে একাধিক ডিস্ট্রিবিউটর ও লিডার থাকে বিধায় সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় একটি বৃহৎ শক্তি গড়ে উঠে। এ শক্তির উপর ভিত্তি করে অনেক জটিল কাজ সহজে সমাধান করা যায়। দলীয় শক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরী হয় বড় নেটওয়ার্ক যা সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়।

৫. সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহনঃ
দলীয় সিদ্ধান্ত নেটওয়ার্ক পদ্ধতিতে খুবই ফলপ্রসু। এককভাবে গৃহীত সিদ্ধান্তের চেয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত অনেক বেশি কার্যকর। অনেকগুলো মস্তিষ্ক যখন আলোচনায় বসে কোন সিদ্ধান্তগ্রহন করে তা সফল হয়েই থাকে। কারন এক্ষেত্রে অনেক মেধা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটে।

৬. নিয়ম শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠাঃ
প্রত্যেকটি দল বা গ্রুপের কিছু নিয়ম-নীতি, আচরনবিধি ও দলীয় আদর্শ থাকে। একজন ডিস্ট্রিবিউটর দল ভূক্ত হওয়ার সাথে সাথে ঐ নিয়মনীতি ও বিধিসমূহ মেনে চলে। প্রত্যেক দল বা গ্রুপের দলীয় নিয়ম শৃঙ্খলার দরুন সম্পূর্ন প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়।

৭. প্রেষণা বৃদ্ধিঃ
দলে অন্তর্গত একে অন্যের কাজে সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদানের দরুন কাজের গতি বৃদ্ধি পায়। দলীয় গতিশীলতা ডিস্ট্রিবিউটরদের প্রেষণা যোগায়। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে আপ-লাইন ডিস্ট্রিবিউটর নিজের অগ্রগতির জন্য ডাউন লাইন ডিস্ট্রিবিউটরদের প্রেষণা প্রদান করে। এসব প্রেষণা প্রদানের জন্য বিভিন্ন প্রকার পুরষ্কার ও বোনাস প্রদান করে দলের পক্ষ হতে। পারস্পরিক সম্পর্ক সৃষ্টির জন্যই দলে প্রেষণামূলক পরিবেশ বজায় থাকে।

৮. মনোবল বৃদ্ধিঃ
নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে প্রতিটি গ্রুপ বা দল মনোবল বৃদ্ধির ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। এক একটি দলে ডিস্ট্রিবিউটর, সিনিয়র ডিস্ট্রিবিউটর ও নতুনদের সহিত আপ-লাইন লিডারদের যোগাযোগ থাকে বিধায় একের সাফল্য অন্যের মনোবল বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়। স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া ও আন্তরিকতা থাকে বিধায় এ পদ্ধতিতে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে উঠে যা নতুনদের মনোবল বাড়িয়ে দেয়।

৯. যোগাযোগ উন্নয়নঃ
নেটওর্য়াকারদের সহিত ডিস্ট্রিবিউটর ও নতুনদের যোগাযোগ যত সহজতর হয় তত বেশি সফলতা অর্জিত হয়। লিডার ও ডিস্ট্রিবিউটর একে অন্যের সহিত দুরত্ব বা ব্যবধান কমানোর মাধ্যমে দলীয় তৎপরতা বৃদ্ধি ঘটে। এককথায় তথ্যের আদান প্রদান আন্ত:সম্পর্ক তৈরীর জন্য যোগাযোগ অপরিহার্য যা অর্জিত হয় দল গঠনের মাধ্যমে।

১০. প্রশিক্ষনঃ
সাধারণত নেটওয়ার্ক মার্কেটিং প্রতিষ্ঠান নানাধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহন করে থাকে। এছাড়াও লিডাররা গ্রুপ বা দলের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহন করে যা দলীয় লক্ষ্য অর্জনে ফলপ্রসু হয়ে থাকে। সার্বিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সফল হওয়ার জন্য কোম্পানী বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করলেও বিভিন্ন দলের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচী সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

পোশাক শি‌ল্পে আসিফ ইব্রাহীমের সাফল্যগাঁথা

কিলক নিউএজ (এইচকে) লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও নিউএজ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহীম সময় পেলেই জীবনীশক্তির খোঁজে বের হন।

আসিফ ইব্রাহীম বলেন, ‘খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠা হয়। সাড়ে ৬টার দিকেই উঠে যাই। মেয়েকে স্কুলে দিয়ে আসতে হয়। ও স্কুলে যায় বাসে করে। বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে দিয়ে আসার কাজ আমি করি। এটা আমি এনজয় করি।’

বিয়ে করেছেন দুই দশকের বেশি আগে, ১৯৯৪ সালে। স্ত্রী পড়ালেখা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে। এখন দুই মেয়েকে নিয়ে সুখে-দুঃখেই কেটে যায় তাঁদের নিত্যদিনের ঘর-সংসার। বড় মেয়ে বিদেশে পড়ছেন; ছোট মেয়ে ক্লাস ফোরে পড়ে।

আসিফ ইব্রাহীমের জন্ম ঢাকায় ১৯৬৫ সালে। বেড়ে ওঠা, স্কুল-কলেজ সব ঢাকাতেই। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু পড়াশোনা শেষ করার পর আর এক মুহূর্তও মন টেকেনি। দেশে ফিরেছেন। হাল ধরেছেন নিজেদের ব্যবসার।

আসিফ ইব্রাহীম বলেন, ‘১৯৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যখন পড়ালেখা শেষ করলাম, আমি কিন্তু একদিনের জন্য সেখানে থাকিনি। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, বাংলাদেশে ফেরত আসব। আমাদের একটা পারিবারিক ব্যবসা ছিল। আমার ইচ্ছা ছিল, এটাকে আরো অনেক বড় করা। তখন তৈরি পোশাকশিল্প বাংলাদেশে শুরু হয়েছে। আমি মনে করেছি, যদি দেশে ফেরত আসি, তাহলে দেশে শিল্পায়নে কন্ট্রিবিউট করতে পারব।’

ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে আলাদা করে চিনিয়েছেন আসিফ। সফলতার পথে পথে পরিচয় হয়েছে কতজনের সঙ্গে। কারও কারও সঙ্গে সম্পর্কটা হয়েছে আরো নিবিড়। বন্ধু হয়ে বিপদে-আপদে পাশে পাশে আছেন তাঁরা।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে নিজেদের ব্যবসায় মন দেন। আজ বলতেই পারেন, সে লক্ষ্যে এগিয়েছেন ভালোভাবেই।

ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলোর শীর্ষ পদেও ছিলেন অনেকটা সময়। চেষ্টা করেছেন ব্যবসায়ীদের জন্য ভালো কিছু করার। নতুন কিছু, যেখান থেকে সরকারের নীতিনির্ধারকদেরও নানা পরামর্শ দেওয়া যায়। সে উদ্যোগটাও ভালোই এগিয়েছে। ছিলেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি। দায়িত্ব পালন করছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক হিসেবে।

আসিফ বলেন, ‘২০১১-১২ সালে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। তখন আমরা দেখেছি, আমাদের প্রাইভেট সেক্টর নিয়ে সরকারি যেসব পলিসি আছে, তার বেশির ভাগই ব্যবসাবান্ধব নয়। সেগুলো চিন্তাভাবনা করে আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিলাম, ব্যবসায়ীদের একটা গবেষণামূলক সংস্থা তৈরি করা প্রয়োজন। সে জন্য আমরা ঢাকা চেম্বার, মেট্রোপলিটন চেম্বার ও চট্টগ্রাম চেম্বার মিলে বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড) নামে সংস্থা গঠন করি। বিল্ড থেকে আমরা সরকারকে পলিসি দিয়ে থাকি।’

তরুণদের হাত ধরেই বাংলাদেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে বলে তাঁর বিশ্বাস। তাই তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য মাঝেমধ্যেই নানা কর্মসূচি হাতে নেন তাঁরা। নতুন নতুন ভাবনা নিয়ে, লক্ষ্যটা ঠিক করে এগোলে তরুণরাও ভালো করবে বলে মনে করেন। তবে যা করতে চান, তা ভালোভাবে জেনে-বুঝে তার পর মাঠে নামার পরামর্শ তাঁর।

নিউএজ গ্রুপের শুরু ১৯৮৩ সালে। ফার্মগেটের ইন্দিরা রোডে। তৈরি পোশাক কারখানা শুরু হয় ৬০টি মেশিন দিয়ে। শুরুতে কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে ছিল দেড়শর মতো। তার পর নানা ঘাত-প্রতিঘাতে একটু একটু করে এগিয়েছেন। ধীরে ধীরে সেই ব্যবসার প্রসার ঘটেছে। অনেক কারখানা বেড়েছে। নিউএজ ফ্যাশন ওয়্যার, নিউএজ অ্যাপারেল, নিউএজ এক্সেসরিজ, নিউএজ প্লাস্টিক লিমিটেড গড়ে তোলেন। পরে তৈরি পোশাকশিল্পের বাইরে তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেছেন। প্রথমে ইন্দিরা রোডে থাকলেও পরে উত্তরার দিকে, আশুলিয়ায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়েন। পরে কালিয়াকৈরে ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলেছেন।

তাঁদের বেশির ভাগ পণ্যই দেশের বাইরে রপ্তানি হয়; ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোতে। সে দেশের সংখ্যা আরো বাড়ানোর চেষ্টা থাকে সব সময়ই।

আসিফ ইব্রাহীম বলেন, যেসব আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের রেটিং দিয়ে থাকে, যেমন—মুডিস, স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস আমাদের সম্পর্কে ইতিবাচক কথা বলে। এসব দেখে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আমাদের প্রতি আগ্রহ দেখায়। সাম্প্রতিক সময়ে এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, চীনের পর এখনো বাংলাদেশ তৈরি পোশাকশিল্পে আকর্ষণীয় গন্তব্য। এ ক্ষেত্রে বিদেশি ক্রেতারা এখনো চীনের পরে বাংলাদেশকে দেখে। চীনে তৈরি পোশাকের পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। তাদের শ্রমিকদের জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ৫০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বিজিএমই, তা সম্ভব হবে বলে মনে করেন আসিফ।

তাঁর প্রতিষ্ঠানে পণ্যের মান নিয়ে যেমন কোনো ছাড় নেই, তেমনি কারখানার পরিবেশটাও ঠিকঠাক রেখেছেন সব সময়। দেশের কারখানাগুলো পরিবেশবান্ধব হলে, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও ভিন্ন মাত্রা আসবে বলে বিশ্বাস করেন আসিফ ইব্রাহীম।

আসিফ পরিবেশবান্ধব করে কারখানা গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। এখন তাঁদের প্রতিষ্ঠানে প্রায় হাজার দশেক কর্মী আছে।

আর কর্মীরাই একটি প্রতিষ্ঠানের প্রাণ বলে বিশ্বোস তাঁর। তাই তাঁদের সুযোগ-সুবিধার কথাটা মাথায় রাখেন সব সময়। দেশের আইন মেনে সব সুযোগ-সুবিধাই দেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁদের। তাঁদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে চান আসিফ।

তিন তরুণের গার্মেন্টস ব্যবসায় এগিয়ে চলার গল্প

উ‌দ্যোক্তার খোঁ‌জে: চট্টগ্রাম থেকে কখনও রাজধানী শহর ঢাকা আবার কখনও বা উত্তর বঙ্গের জনপদে। দিনের পর দিন ঘুরে বেড়িয়েছেন ব্যবসার খোঁজে। কি করবেন কি করবেন। কোথা থেকে শুরু করবেন কিভাবে শুরু করবেন ভাবতে ভাবতে এক সময় রাজশাহীতে ছোট্ট একটি সাহসী উদ্যোগ নিয়ে এক একরের একটি আম বাগান তিন বছরের জন্য লীজ নিয়ে ফেললেন মাত্র ৫৭,০০০ হাজার টাকায়। কিন্তু যার চোখে বড় হওয়ার স্বপ্ন সে কিভাবে থেমে থাকবেন মাত্র একটি সিজনের ক্ষুদ্র ব্যবসা নিয়ে।

আবার ঢাকার পথে, নারায়নগঞ্জের পথে প্রান্তরে, অলিতে গলিতে একটি ব্যবসার খোঁজে যেখান থেকে বড় হওয়ার স্বপ্নটাকে বাস্তবে রুপ দিতে পারবেন। মাদ্রাসায় পড়াশুনা করলেও বর্তমানে ঢাকা কলেজে অনার্স করছেন এ উদ্যোক্তা। আর এগিয়ে চলেছেন স্বপ্ন বাস্তবে রুপ দেওয়ার সাহসী পথে। শুরুটা খুব বেশী ভাল ছিল তা নয়। গার্মেন্টস ব্যবসার কোন রকম পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও আরও দুই জনকে সাথে নিয়ে নেমে পড়েন কাজে।

শুরুটা ছিল মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে। না ছিল কাপড় সম্পর্কে আইডিয়া না জানা ছিল কাপড় তৈরীর পুরো প্রক্রিয়া। কোথা থেকে প্রয়োজনীয় সুতা বোতাম কিনতে হয়, কিভাবে কোথা থেকে কাজ পাবে সে সম্পর্কেও ভাল ধারনা ছিল না। সহযোগী দুই জন আর এই ব্যবসায় জড়িতদের কাছ থেকে এক এক করে শিখেছেন সবই। সবকিছু গুছিয়ে যখন শুধুই এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশ্যায় পা বাড়িয়েছেন ঠিক তখনই এক ধাক্কা।

মাঝপথে সহযোগীদের অসহযোগীতা শুরু। এক পর্যায়ে সহযোগী দুই জন ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিতে থাকে। কিন্তুু সেই দুঃসময়েও হাল ছাড়েননি তরুন উদ্যোক্তা বেলাল হোসেন। সমস্ত বাধা মোকাবেলা করে আরও নতুন উদ্যোমে শুরু করেন এগিয়ে চলা। তার সাহসী উদ্যোগের সহযাত্রী হয়ে হাতে হাত রেখে নতুন করে এগিয়ে আসে আরও দুজন স্বপ্নোজ্বল তরুন সাখাওয়াৎ হোসেন ও মীর মোবাশশীর।

এগিয়ে চলার এ সময়ে যুক্ত হতে থাকে নতুন নতুন মেশিন। বাড়তে থাকে কর্মযজ্ঞ। নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগোতে থাকেন সামনের দিকে। কিন্তু বড় অর্ডার না পাওয়ায় বেশ বেগ পোহাতে হয় ফ্লোর চালাতে। শ্রমিকদের পর্যাপ্ত কাজ দিতে না পারায় ক্ষতির সম্মূখীন হতে হয়। তার পরও থেমে থাকেননি। মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাতে থাকেন কিভাবে বড় অর্ডার পাবেন। বড় বড় গার্মেন্টস ও বায়িং হাউজ গুলোর সাথে যোগাযোগ বাড়াতে থাকেন প্রতিনিয়ত।

তারই ফসল হিসেবে তাদের আগ্রহ দেখে সাহস করে প্রথম বড় অর্ডারটি এনে দেন রাশিয়ান বায়িং হাউজ থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হাসান। আর প্রথম পাওয়া এ অর্ডারের কাজ করার কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় বেগ পোহাতে হলেও সঠিক সময়ে কাজটি ডেলিভারী করতে সক্ষম হন। এর পর থেকে আর বড় ধরেনের কোন বেগ পোহাতে হয়নি। এগিয়ে চলেছেন বেশ সাচ্ছন্দেই। দেড় বছরের ব্যবসায়িক সময়ের ব্যবধানে এখন মেশিনের সংখ্যা ১৭টি। কর্মসংস্থানের তেরী হয়েছে প্রায় অর্ধশত লোকের। যেকোন ধরনের নীট আইটেম এর প্রোডাক্ট তৈরী করতে সক্ষম বেলাল হোসেনের বিএসএম ফ্যাশন।

বিএসএম ফ্যামিলির পথচলার এ সল্প সময়ে রাজধানীর গুলিস্তানে বিএসএম লাইফষ্টাইল নামে নিজস্ব শোরুম পরিচালিত হচ্ছে অক্টোবর থেকে। এখানে নিজস্ব ব্যান্ডের সতন্ত্র ডিজাইনের এক্সপোর্ট কোয়ালিটির তৈরী পোশাক বিক্রি হচ্ছে খুচরা ও পাইকারী দামে।

বিএসএম ফ্যামিলির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও তরুন উদ্যোক্তা বেলাল হোসেনের সাথে কথোপকথনের সময় বলেন যারা আগামীর উদ্যোক্তা হতে চায় তাদের সাহস ও বুদ্ধিমত্তার সাথে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে জানতে হবে। তিনি আরও বলেন হাজার হাজার ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে দিনের পর দিন চিন্তা ভাবনা না করে লক্ষ ঠিক করে একটা ব্যবসা শুরু করে দিন। ধৈর্য্য আর সততা নিয়ে এগোতে থাকুন। সফলতা অবশ্যই হাতের মুঠোয় আসবে।

বেলাল হোসেনের আর এক বড় সহযোদ্ধা সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন শুধু চোখে স্বপ্ন রেখে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকলে সাফল্য আসবে না। সাফল্যের জন্য প্ররিশ্রমী হতে হবে। এগিয়ে যেতে হতে হলে অবশ্যই প্রতিটা সম্পর্ককে সম্মান করতে হবে। কারও সাথে খারাপ আচরন করা চলবে না।

তাদের আরেক সহযোগী মীর মোবাশশীর হোসেন নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্যেশ্যে বলেন যেকোন কাজে ধৈয্য ধরার কোন বিকল্প নেই। প্রতিটা কাজে আল্লাহর সাহায্য পার্থনা করে শুরু করলে তাতে সফলতা মিলবেই। আর ইতিবাচক মনোভবের লোকদের সাথে ‍চলার পরামর্শ দেন তিনি। আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন ভাল চিন্তার ফলাফল সবসময় ভালই হয়।

সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় নিব আমি মাসুদুর রহমান মাসুদ। সেই সাথে বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি উদ্যোগী এ তিন তরুনকে যারা তাদের শত ব্যস্ততার মাঝেও এগিয়ে চলার গল্প শুনিয়েছেন আমাদের। উদ্যোক্তার খোঁজের সাথে থাকতে আমাদের পেইজে লাইক দিতে ভুল করবেন না। সেই সাথে আপনার সফলতার গল্প আমাদের জানাতে চাইলে ফোন করুন ০১৭৩৫২৮৪৬১৭ এই নাম্বারে।
www.facebook.com/uddoktarkhoje

বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে নিয়োগ

ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে ১০ হাজার জনকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। এর মধ্যে আট হাজার ৫০০ পুরুষ ও এক হাজার ৫০০ নারীকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা
এসএসসি বা সমমান পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। প্রার্থীদের ন্যূনতম জিপিএ থাকতে হবে ২ দশমিক ৫ অথবা সমমান।

শারীরিক যোগ্যতা
পুরুষ প্রার্থীদের জন্য উচ্চতা পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি এবং বুকের মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ৩১ ইঞ্চি ও স্ফীত