Showing posts with label মহৎ কাজ. Show all posts
Showing posts with label মহৎ কাজ. Show all posts

কুড়িয়ে পাওয়া ২৫ লাখ টাকা ফেরত দিলেন ট্রাকচালক

সড়কে কুড়িয়ে পাওয়া ২৫ লাখ টাকা ফেরত দিলেন মো. শাহনেওয়াজ (৩২) নামের এক ট্রাকচালক। রোববার বিকেলে পুলিশের মাধ্যমে নাটোর সদর থানা ভবনে এই টাকা প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

হুইল চেয়া‌রের আবু সালাহ'র বিরল দেশ‌প্রেম

৭০ বছর আগে ১৫ মে ইসরায়েল ফিলিস্তিনের ভূমি দখল করে নেয় এবং সেখানে বাস করা সাধারণ ফিলিস্তিনের বিতাড়ন করে। এর প্রতিবাদে প্রতি বছর ১৫ মে নাকাবা দিবস পালন করে ফিলিস্তিন।
ঠিক এর আগেরদিন সোমবার জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর কর করা হয়। এটা মূলত শান্তিকামী ফিলিস্তিনিদের উস্কে দেয়ারই নামান্তর।

স্বাভাবিকভাবেই প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে ফিলিস্তিনিরা। আর এই প্রতিবাদী কনভয়ে অনবরত গুলিবর্ষণে নিহত হয় ৫৮ জন ফিলিস্তিনি।

সাইকেলে স্বাস্থ্যসেবা দি‌চ্ছেন ‘বাংলার নানি’


বয়স নব্বই পেরিয়েছে। এরপরও নিজে সাইকেল চালিয়ে গ্রামে গ্রামে বাড়ি গিয়ে নারী-পুরুষ-শিশুদের হাতে পৌঁছে দেন প্রয়োজনীয় ওষুধ।
তিনি জহিরন বেওয়া।

তিস্তা বিধৌত উত্তরের জেলা লালমনিরহাটের আদিতমারী কিংবা এর আশপাশে গেলেই চোখে পড়বে-অশীতিপর এক বৃদ্ধা নিজে সাইকেল চালাচ্ছেন! চিকিৎসা সম্পর্কে কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন জহিরন।

সম্প্রতি লালমনিরহাট টু আদিতমারী সড়কে তার দেখা মেলে। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে হাসিমুখে মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন এই নারী।

দুই শিশুর বু‌দ্ধিতে নি‌শ্চিত দূর্ঘটনা থে‌কে রক্ষা পেল ট্রেন

উপস্থিত বুদ্ধিতে রেললাইনের ত্রুটি দেখে লাল মাফলার দেখিয়ে তেলবাহী ট্রেনকে দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করেছে দুই শিশু।
ট্রেন রক্ষা করে আলোচনায় আসা রাজশাহীর বাঘা উপজেলার শিশু সিহাব ও টিটোন এখন ‘হিরো অব আড়ানি’।
ওই ট্রেনের চালক কেএম মহিউদ্দিন নিশ্চিত করে জানান, তেলবাহী ট্রেনটি খুলনা থেকে রাজশাহী যাচ্ছিল। দুই শিশু মাফলার দিয়ে ট্রেন থামানোর সিগন্যাল দিলেও গুরুত্ব দেয়া হয়নি। কিন্তু ট্রেনটি অনেক কাছে চলে যাওয়ার পরও ওই দুই শিশু রেললাইন থেকে সরছে না দেখে ট্রেনটি থামিয়ে দেন। সিহাব রহমান (৬) ও শহিদুল ইসলামের ছেলে টিটোন আলী (৭)।
ট্রেনের পরিচালক আরশেদ আলী জানান, হঠাৎ ট্রেন থামিয়ে দেয়ার কারণে প্রথমে চালকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিলেন। পরে রেললাইন ভাঙা দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে সঙ্গে জানানো হয়। কর্তৃপক্ষ ঈশ্বরদী থেকে মিস্ত্রি নিয়ে এসে রেললাইন মেরামত করিয়ে দেন।
এরই মধ্যে তাদের পড়ালেখার দায়িত্ব নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। সোমবার এ নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন স্থানীয় এই সংসদ সদস্য।
ওই দুই শিশুকে হিরো অব আড়ানি হ্যাশটাগ দিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লিখেছেন, আমার নির্বাচনী এলাকা আড়ানি রেললাইনের পাশেই আবাস তাদের। তাদের সারা জীবনের শিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছি।
সোমবার সকালে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী এলাকায় গলায় থাকা লাল মাফলার দেখিয়ে তেলবাহী একটি ট্রেনকে দুর্ঘটনা ঠেকায় বাঘার ঝিনা গ্রামের সুমন আলীর ছেলে সিহাব ঝিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র। একই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র টিটোন। তারা লেখাপড়ার পাশাপাশি মাঠে কাজও করে।
তারা জানায়, সকালে জমিতে কাজ করে তারা বাড়ি ফিরছিল। এসময় রেললাইন ভাঙা দেখে ট্রেনটি আসার সময় গলায় থাকা মাফলার তারা উঁচু করে ধরে। লাল সংকেত দেখে ট্রেনটি থেমে যায়।
আড়ানি স্টেশন মাস্টার নয়ন আহম্মেদ জানান, বিষয়টি জানার পর পশ্চিমাঞ্চলের রেলওয়ের কর্তকর্তাদের জানানো হলে সবধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

হেপাটাইটিস ‘বি’ চিকিৎসার ওষুধ উদ্ভাবন করলেন দুই বাংলাদেশি

হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় বাংলাদেশি দুজন গবেষক অধিক কার্যকর ও উন্নততর ওষুধ উদ্ভাবন করেছেন। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন পেলে আগামী বছরের শুরুতেই এটি বাজারে আসবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মামুন-আল-মাহতাব এবং জাপান প্রবাসী বাংলাদেশি লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. শেখ মোহাম্মদ ফজলে আকবর হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসের চিকিৎসার জন্য নতুন ধরনের এই ওষুধ ‘ন্যাসভ্যাক’ উদ্ভাবন করেন। এ দেশেরই একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওষুধটি প্রস্তুত ও বাজারজাত করবে। বাজারে প্রচলিত হেপাটাইটিস বি’র অন্যান্য ওষুধের তুলনায় এর দাম কম এবং সহজলভ্য হবে।
অধ্যাপক ডা. মামুন-আল-মাহতাব বাসসকে বলেন, ‘ন্যাসভ্যাক কোনো জাদুকরি ওষুধ নয়। কিন্তু এই ওষুধের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসে আক্রান্ত শতকরা ৫০ ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। আর লিভারের প্রদাহে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় আরোগ্য লাভের হার শতভাগ।

ডা. মাহতাব এই ওষুধের কার্যকারিতা যাচাইয়ের প্রধান পরীক্ষক এবং ডা. আকবর এই ওষুধ উদ্ভাবনের জন্য মৌলিক গবেষণা সম্পন্ন করেন।
জাপান প্রবাসী বাংলাদেশি লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আকবর ২৫ বছর ধরে হেপাটাইটিস বি চিকিৎসায় নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁর গবেষণার মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে, হেপাটাইটিস বি’র বিরুদ্ধে মানুষের নিজের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে বাড়িয়ে দিয়ে ভাইরাসটিকে নিয়ন্ত্রণ করা।

ডা. আকবর প্রথমে ইঁদুরের ওপর গবেষণা করেন। পরে জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে হেপাটাইটিস বি রোগীদের ওপর ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনা করেন। পরবর্তী সময়ে আরো গবেষণার জন্য ডা. মাহতাব বাংলাদেশে প্রায় এক হাজার হেপাটাইটিস ‘বি’ রোগীর ডেটাবেস তৈরি করেন।

২০০৯ সালে বাংলাদেশে ১৮ জন ক্রনিক হেপাটাটিস ‘বি’ রোগীর ওপর ‘ন্যাসভ্যাক’-এর প্রথম ও দ্বিতীয় দফা ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালিত হয়। এতে আশাব্যঞ্জক ফলাফল পাওয়ায় ২০১১ সালে পুনরায় ১৫১ জন রোগীর ওপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনা করা হয়।
তৃতীয় দফায় এই ১৫১ জন ক্রনিক হেপাটাইটিস ‘বি’ রোগীকে দুই দলে ভাগ করে তাদেরকে যথাক্রমে ‘ন্যাসভ্যাক’ ও পেগাইলেটেড ইন্টারফেরনের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। ট্রায়ালটিতে সর্বমোট ৭৫ জন রোগীকে মোট ১৫ বার ‘ন্যাসভ্যাক’ আর অন্য ৭৬ জন রোগীকে মোট ৪৮ বার পেগাইলেটেড ইন্টারফেরন প্রয়োগ করা হয়।

ডা. মাহতাব বলেন, ‘এ পরীক্ষায় দেখা যায় ন্যাসভ্যাক পেগাইলেটেড ইন্টারফেরন-এর চেয়ে অধিক কার্যকর।’ তিনি বলেন, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে এর চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়াল দেওয়া হয়েছে।
ডা. মাহতাব বলেন, কিউবার ওষুধ প্রশাসন এরই মধ্যে ন্যাসভ্যাককে অনুমোদন দিয়েছে। পাশাপাশি বেলারুশ, ইকুয়েডর, নিকারাগুয়া ও এঙ্গোলাতেও হেপাটাইটিস বি’র চিকিৎসায় ন্যাসভ্যাক ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।

বর্তমানে হেপাটাইটিস ‘বি’ সংক্রমণ থেকে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ করে তোলার মতো কোনো ওষুধ নেই। চিকিৎসকরা এ রোগের চিকিৎসার জন্য প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির আশ্রয় নেন। যাতে এসব রোগী ধীরে ধীরে সংক্রমণ থেকে আরোগ্য লাভ করে এবং লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যানসারের মতো রোগে আক্রান্ত না হয়।

ডা. মাহতাব বলেন, এমনকি এ ধরনের চিকিৎসাও দীর্ঘদিন কোনো রোগীর ওপর প্রয়োগ করলে তার নানা ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। তবে ন্যাসভ্যাক-এর ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে এটি ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে অনেক বেশি কার্যকর। তিনি বলেন, ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় আরো প্রমাণিত হয়েছে যে, ন্যাসভ্যাক কেবলমাত্র হেপাটাইটিস বি’র চিকিৎসার জন্যই কার্যকর নয়, যে কোনো ক্রনিক ইনফেকশনের জন্যও এটি কার্যকর।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দুই কোটি ৪০ লাখ লোক ক্রনিক হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসে আক্রান্ত।

একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার উল্লেখ করে ডা. মাহতাব বলেন, ‘দেশে পাঁচ কোটির বেশি লোক হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসে আক্রান্ত। এদের মধ্যে ৮০ লাখ লোক ক্রনিক হেপাটাইটিস ‘বি’ দ্বারা সংক্রমিত এবং তাদের লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

অন্ধ মুস্তাফিজ ব্যবসা করে

কা‌লেরকন্ঠ: নরসিংদী রেলস্টেশনের একটু বাইরে। ছোট্ট একটি চৌকি। সুন্দর গড়নের লম্বা এক তরুণ। জামা-কাপড় বিক্রি করছে। তরুণের চোখে আলো নেই। কিন্তু হেরে যায়নি। দেখে এসেছেন রায়হান রাশেদ
কাস্টমার দাম জিজ্ঞেস করলে মুস্তাফিজুর রহমান প্রথমে কাপড়ের শরীরে হাত বোলায়। সাইজ অনুমান করে। তারপর বলে দাম। দর মিললে পরে কাস্টমারের ব্যাগে পুরে দেয়। টাকা হাতে নিয়ে স্পর্শ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করে। কখনো কখনো টাকার প্রান্তে আঙুল দিয়ে খুঁটে দেখে। পুরো টাকা বুঝে নিয়ে পকেটে পোরে। মুস্তাফিজের চোখে আলো নেই, কিন্তু মুখের হাসি কখনো মিলায় না। মানুষ তাকে ভালোবাসে। সে-ও ভালোবাসে সবাইকে।

মুস্তাফিজের ছোটবেলা
অন্ধ হয়ে সে জন্মায়নি। বাংলার আকাশ-মাটি দেখতে পেয়েছিল সে। দেখেছিল মমতামাখা মায়ের মুখ। প্রত্যয়ী বাবার চেহারা। বড় আপুর বইতে মুক্তিযুদ্ধের ছবিও সে দেখেছে। কিন্তু টাইফয়েড হয়েছিল তার। তখন বয়স চার। মুস্তাফিজ দেখার শক্তি হারায়।

প্রথম ব্যবসা
অভাবের সংসার। একসময় তাকে কাজে লাগতেই হয়। তখন কিশোরবেলা। বাবার সঙ্গে মোবাইলে লোড দেওয়ার কাজ করতে লাগে। মোবাইলের বাটন টেপা শিখে নিয়েছিল মুস্তাফিজ। টাকা পাঠাতে ভুল করত না। মানুষ অবাক হয়ে দেখত অন্ধ ছেলেটিকে। এভাবে অনেক দিন ওই কাজে ছিল মুস্তাফিজ। তারপর বড় হলো। উপলব্ধি করল, রোজগার বাড়াতে হবে। অল্প টাকায় চলে না সংসার।

মানুষটা ভদ্রলোক
২০১৪ সাল। ঢাকা এসেছিল মুস্তাফিজ। ফেরার সময় বিমানবন্দর স্টেশন থেকে ট্রেন ধরবে বলে এগোচ্ছিল। কিন্তু ঠিক পেরে উঠছিল না। শেষে এক লোককে বলেছিল, ভাই, আমি চোখে দেখি না। আপনি কি আমাকে স্টেশনে পৌঁছে দেবেন? ভদ্রলোক সদয় হলেন। হাঁটতে হাঁটতে মুস্তাফিজ জানলেন, ভদ্রলোকের একটি প্যান্ট-গেঞ্জি তৈরির কারখানা আছে। ভদ্রলোকও জানতে পারলেন, মুস্তাফিজ অন্ধ হয়েও ভিক্ষা করে না। তিনি খুশি হলেন। নিজের ভিজিটিং কার্ড দিলেন মুস্তাফিজকে। বললেন, যদি মনে করো কোনো কাজে লাগব, তবে ফোন করো।

কার্ডটি জীবন বদলে দিল
ভিজিটিং কার্ডটি যত্ন করেই রেখে দিয়েছিল মুস্তাফিজ। একদিন সাহস করে ফোনও করে। বলে, আমাকে একটা ছোটখাটো চাকরি দেন। ভদ্রলোক বললেন, এখানে তুমি পারবে না। অন্য কিছু বলো। মুস্তাফিজ বলল, রিজেক্ট (বাতিল) কাপড়গুলো কী করেন?
ব্যবসায়ীরা নিয়ে যায়। কম মূল্যে ছেড়ে দিই।
আমাকে যদি দিতেন, তাহলে আমি বিক্রি করতাম।
ভদ্রলোক রাজি হলেন। ১০০ প্যান্ট বিনে পয়সায় দিয়ে দেন। শুধু বললেন, তুমি প্রথমে ব্যবসা শেখো। ভদ্রলোকের নাম আনিছুর রহমান।

ফেরি করে বেড়াত
প্রথম প্রথম কাপড় কাঁধে নিয়ে যেত বাজারে বাজারে। একেক দিন একেক বাজারে। এতে কষ্ট বেশি হতো। তারপর একটা ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ভ্যানে করে কাপড় বেচাকেনা করত। তারপর রেলস্টেশনের ধারে একটা বসার জায়গা জোগাড় করে। সেখানেই সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কাপড় বিক্রি করে মুস্তাফিজ। প্রায় আড়াই বছর হতে চলল। নরসিংদীর বদলপুর গ্রামে তাঁর বাড়ি।

মুস্তাফিজের ভালো বউ
বাড়ির সব কাজ করে একাই। মেয়েটাকে স্কুল থেকেও নিয়ে আসে। কাপড়ে টুটাফাটা থাকলে সেগুলো সেলাইও করে। তারপর বিকেলে যায় স্বামীর দোকানে। মুস্তাফিজের বউ। নাম নাজমীন আক্তার। বউ পাশে থাকলে মুস্তাফিজের কোনো ভয় লাগে না। বলে, ‘বউটা আমার ভারি ভালো। ’ চোখেমুখে তখন খুশি খেলে যায় মুস্তাফিজের।

মুস্তাফিজ স্বপ্ন দেখে
স্বপ্ন আছে মুস্তাফিজের। আর দশটা বাবার মতোই। বলে, ‘বড় মেয়েটার মেধা তেমন ভালো নয়। তবে ছোট মেয়েটাকে আমি ডাক্তার বানাব। আমার স্বপ্ন, সে ডাক্তার হবে। ’ বউ-সন্তান নিয়ে দিব্যি চলছে মুস্তাফিজ। বলে, কারোর কাছে হাত পাততে হয় না, এটাই শুকরিয়া।

সাতকানিয়ার ওসি থ্যালে‌সে‌মিয়া আক্রান্ত শিশুকে রক্ত দিলেন

ই‌ত্তেফাক: ‘মানুষ মানুষের জন্য’ এটি একটি স্লোগান- সেই মানুষের জন্যই, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন পোস্ট দেখে হাসপাতালে ছুটে গিয়ে এক শিশুকে নিজের সন্তানের মতোই বুকে জড়িয়ে ধরে আদর করলেন এবং শিশুটির জন্য রক্ত দিলেন।

গত ২৯ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে অণুচক্রিকা সংগঠনের এক সদস্যের ফেইসবুক ওয়ালে সাতকানিয়া পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের সুকুমার দাশের মেয়ে থ্যালেসেমিয়া রোগে আক্রান্ত মিনা দাশ (১০) নামে এক শিশুর জন্য রক্তের প্রয়োজন এমন একটি পোস্ট দেখে তাৎক্ষণিক পার্শ্ববর্তী ডায়াবেটিকস হাসপাতালে ছুুটে যান সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রফিকুল হোসেন। রক্তের গ্রুপ মিলে যাওয়ায় ওসি শিশুটির জন্য স্বেচ্ছায় রক্ত দান করেন। মেয়েকে ওসি রক্ত দেয়ায় খুশি হলেন সুকুমার দাশ।

তিনি বলেন, আমি গরীব লোক। আমার মেয়েটি থ্যালেসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় তাকে প্রতি মাসে রক্ত দিতে হয়। কয়েক মাস ধরে অণুচক্রিকা সংগঠনটি আমার মেয়েকে বিনা খরচে রক্ত দেয়ার জন্য কাজ করে আসছে। তাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে ওসি সাহেব হাসপাতালে এসে আমার মেয়েকে রক্ত দিলেন।
           
সাতকানিয়া থানার ওসি রফিকুল হোসেন বলেন, মানুষের সেবা করতে না পারলে আমার ভালো লাগে না। সবসময় চেষ্টা করি মানুষের কল্যাণে কাজ করতে। শিশুটিকে রক্ত দিয়ে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি।

অঝরে কাঁদলেন অনন্ত জলিল, জানালেন দ্বীনের পথে আসার নেপথ্যের কথা

নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার এনায়েনত নগর ইউনিয়নের বায়তুল আকসা জামে মসজিদে তিন দিনের জামাতের এসে অঝরে কাঁদলেন আলোচিত চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল। সোমবার ২১ আগস্ট বাদ ফজর সকালে তাবলীগের নিয়ম অনুযায়ী সকালের বয়ানের পর মোনাজাতে হাত তুলে কখনো অঝরে আবার কখনো ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে থাকেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত মসজিদের মুসল্লীদের মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

গত ১৮ আগস্ট থেকে ২১ আগস্ট সকাল পর্যন্ত পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ফতুল্লার ওই মসজিদটিতে আসেন অনন্ত জলিল। এই তিনদিনে বিভিন্ন সময় তাবলীগের পথে আসার নেপথ্যের কারণ জানিয়ে অনন্ত জলিল মুসল্লীদেরকে বলেন, ধানমণ্ডি তাকওয়ার মসিজদের খতিব মাওলানা ওসামা সেই ২০০৪ সাল থেকে আমাকে দ্বীনের দাওয়াত দিয়ে যাচ্ছে। কোন কোন দিন ৫০ বারও মোবাইলে ফোন দিয়েছেন। ধরিনি। তবে মোবাইল বন্ধ করতে পারিনি। কারণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বায়াররা ফোন দেয়। তবে পিছু ছাড়েননি খতিব ওসামা।
তিনি বলেন, একদিন অফিসে বসেছিলাম। হঠাৎ জানালা দিয়ে বাইরে চোখ গেল। মনে পড়ল মাত্র ২০০ জন নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শুরু করেছিলাম। আজ কত শ্রমিক কাজ করছে। এসব তো কিছুই থাকবে না, আমিও থাকব না। মনের ভেতর কেমন যেন একটা ব্যথা অনুভব করলাম যে, সবই তো হলো ধর্ম-কর্মতো মনোযোগ দিয়ে করা উচিত। এছাড়া মাওলানা ওসামাতো আমাকে ভাল কথা বলছে। পরে তাকে ফোন দিয়ে জানাই আমি দ্বীনের পথে বের হতে চাই। বিশ্বাস করুণ, অনেক শান্তি লাগছে। এত শান্তি দ্বীনের পথে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ওমরাহ করেছি। যদি কেউ বলে থাকে আমার জীবনে সবচেয়ে বেশী কে উপকার করেছে? বলব যারা আমাকে এই দ্বীনের পথে আনার জন্য ধারাবাহিকভাবে দাওয়াত দিয়ে গেছেন। তাদের কোন স্বার্থ নেই। তারা শুধু চেয়েছেন আমি অনন্ত জলিল আল্লাহওয়ালা হয়ে যাই। একজন মুসলমান হিসাবে ধর্মে মনোনিবেশ করি। বিভিন্ন হাদিসে পড়েছি, আল্লাহ বলেছেন তোমরা তার কথা শোন যারা বিনা স্বার্থে তোমাদের আমার দিকে ডাকে। কথা শেষ করেই সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জ ত্যাগ করেন অনন্ত জলিলসহ তাবলীগের কর্মীরা।
এদিকে গত তিনদিন ধরেই অনন্ত জলিলকে দেখতে ওই মসজিদের সামনে ভিড় জমায় ভক্তরা। অনন্ত জলিলও তাদের সাথে দেখা করেন এবং শর্ত দিয়ে বলেন, 'আসেন সবাই নামাজ পড়ি'।

মাসদাইর এলাকার হোটেল কর্মচারী সাফায়েত জানান, রবিবার অন্তত জলিলকে জোহরের নামাজের সময় দেখতে গিয়ে তিন ওয়াক্ত নামাজ শেষ করে মাগরিবের সময় বাসায় ফিরেছেন।
প্রসঙ্গত, নায়ক অনন্ত জলিলের ঢাকাই চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হয় ২০১০ সালে ‘খোঁজ-দ্য সার্চ’ সিনেমার মাধ্যমে। এরপর কয়েকটি সিনেমায় কাজ করলেও অনেকদিন হয় দূরে সরে আছেন অভিনয় থেকে। পরিচালনা-প্রযোজনায়ও এখন তিনি নেই। বর্তমানে ব্যবসার পাশাপাশি ধর্ম প্রচারে মনোযোগী হয়েছেন। গত জানুয়ারি মাসে ওমরাহ হজ পালন করেছেন, নিয়মিত ইসলামের প্রচারে তাবলিগ-জামাতে অংশ নিচ্ছেন। কিছুদিন আগে তাবলীগ জামাতের সঙ্গে রাজধানীর ধানমণ্ডির একটি মসজিদে ছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবার তিনি নারায়ণগঞ্জ বাইতুল আকসা মসজিদে আগামী ১৮ থেকে ২১ আগস্ট-এই ৩ দিন সময় কাটিয়ে গেলেন।

আমরা সারাহাহ চিনি, সায়েবাস চিনি না!

প্রতিদিন পত্রিকার পাতা খুললেই গড়ে প্রতি ১০টি সংবাদের আটটিই খারাপ পাই। তখন মনটাও খারাপ হয়ে যায়। আজকেও আমার এই ‘কনটেন্ট অ্যানালাইসিস’-এর ফলাফল অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে আজকে ভালো একটি সংবাদে সব খারাপ সংবাদ কোণঠাসা হয়ে গেছে। মনটাও এক অন্যরকম ভালো লাগায় ভরে গেছে। ভালো কোনো ক্ষেত্রে নিজের দেশ পথপ্রদর্শকের ভূমিকায় থাকলে কার না মন ভালো হয়?
খবরটি হলো বিশ্বের লাখো মায়ের জীবন রক্ষা করে চলেছে বাংলাদেশেরই এক নিভৃতচারী-প্রচারবিমুখ চিকিৎসকের উদ্ভাবন করা প্রযুক্তি। প্রযুক্তিটির নাম সায়েবাস মেথড। প্রসূতি মায়েদের জীবন রক্ষার সবচেয়ে কম খরচের মূল্যবান চিকিৎসা পদ্ধতি। ধনী দেশে এমন একটি উদ্ভাবন হলে হৈচৈ পড়ে যেত। চিকিৎসায় নোবেল পুরুস্কারও মিলে যেত। আমরা দরিদ্র বলেই হয়তো এই স্বীকৃতিটা পাইনি।
সারা বিশ্বে প্রতি দুই মিনিটে একজন করে প্রসূতি মায়ের মৃত্যু ঘটছে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে। একই কারণে এই মাতৃমৃত্যু ঘটছে আমাদের দেশেও। এসব মৃত্যুর ৩০ শতাংশের জন্য দায়ী প্রসবকালীন রক্তক্ষরণ। এর বড় অংশই ঘটে আবার আমাদের মতো গরিব দেশগুলোতে। মাতৃমৃত্যুর এই স্রোত ঠেকানো যাচ্ছিল না। কারণ এটা ঠেকানোর জন্য যে চিকিৎসা-ব্যয় হয়, গরিব দেশের মায়েদের পক্ষে সেটা মেটানো সম্ভব হতো না। ফলে তাঁরা অসহায়ভাবে মৃত্যুকেই যেন মেনে নিতেন।
এ অবস্থায় দুর্দান্ত এক উদ্ভাবন দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন বাংলাদেশের প্রচারবিমুখ চিকিৎসক সায়েবা আক্তার। তাঁর নামেই হয়েছে চিকিৎসা পদ্ধটির নাম ‘সায়েবাস মেথড’ (সায়েবা পদ্ধতি)। সায়েবাস মেথড বিশ্বের লাখো মাকে বাঁচিয়েছে এবং বাঁচিয়ে চলেছে। ফলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের স্বীকৃতিও মিলেছে বিশ্বজুড়ে। ২০১১ সালে যুক্তরাজ্যের রয়েল কলেজ অব অবসটেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টসের পক্ষ থেকে তাঁকে এই উদ্ভাবনের জন্য সম্মানসূচক ডিগ্রি দেওয়া হয়েছে। এমনকি কেনিয়ার একজন স্বাস্থ্যকর্মী সায়েবা মেথড ব্যবহার করে ছয়জন মায়ের জীবন রক্ষা করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে রীতিমতো হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন। অথচ সায়েবাস মেথডের উদ্ভাবক সায়েবাকে নিয়ে কোনো আলোচনাই নেই আমাদের দেশে। অনেকে হয়তো জানেনই না যে সায়েবাস মেথডের এই সায়েবা কে?
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন টেবিলে ১৭ বছর আগে অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে এক প্রসূতি মায়ের অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণের চিত্র দেখেন কর্তব্যরত ডাক্তার সায়েবা। তখন নিতান্ত বাধ্য হয়ে পরিস্থিতির চাপে উপস্থিত বুদ্ধি হিসেবে এই কৌশলের আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। এটিই যে একদিন বিশ্বজয়ী এক উদ্ভাবন হবে, ডাক্তার সায়েবা নিজেও তা ভাবতে পারেননি। তাঁর এই মেথড এখন অনুকরণ করা হচ্ছে দেশে দেশে। ইউনিসেফ, আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতাল, ওয়ার্ল্ড ভিশন, পাথফাইন্ডারসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা এটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
একটি ক্যাথেটার, একটি সাধারণ কনডম আর স্যালাইন পানি—এই তিনটি সাধারণ জিনিস ব্যবহার করেই সায়েবা আক্তার তাঁর এই জীবনরক্ষাকারী ‘কিট’ বানিয়েছেন। এটি এখন ৯৩ শতাংশ ক্ষেত্রে প্রসূতি মায়ের জীবন রক্ষা করতে সফল হচ্ছে। বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও আফ্রিকা মহাদেশ ও দক্ষিণ আমেরিকার এক ডজন দেশে সরকারি কর্মসূচির অংশ হয়ে উঠেছে এই পদ্ধতি। এটা তৈরি করতে সাকল্যে মাত্র ১০০ টাকা খরচ পড়ে।
কীভাবে কাজ করে সায়েবার এই প্রযুক্তি
আমাদের শরীরের চামড়ার কোথাও যদি কেটে যায় তবে তা কিছুক্ষণ চেপে ধরে থাকলে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে যায়। একইভাবে কনডম দিয়ে তৈরি ওই প্রযুক্তি ফুলিয়ে জরায়ুমুখে স্থাপন করা হলে প্রসবকালীন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বন্ধ করা যায়। এটাই এই প্রযুক্তির কৌশল। এমনকি যে রোগীর কলের মতো রক্তপাত হয়, সেটাও ১০ মিনিটের মধ্যে এই পদ্ধতি প্রয়োগে বন্ধ করা সম্ভব।
এবং সারাহাহ
গত কিছুদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ার সারাহাহ অ্যাপ নিয়ে তুমুল উৎসাহ-উদ্দীপনা চলছে দেশের ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে। নিজের পরিচয় গোপন রেখে অন্যকে মেসেজ পাঠানো যায় এই অ্যাপস দিয়ে। সারাহাহ নিয়ে উৎসাহ-উদ্দীপনায় আমার আপত্তি নেই। কিন্তু আমরা দূরদেশের সারাহাহ অ্যাপস সম্পর্কে যতটুকু জানি, নিজ দেশের অবিস্মরণীয় উদ্ভাবন সায়েবাস মেথড সম্পর্কে সেভাবে জানি না, চিনি না। আর এ কারণেই ১৭ বছর পরও এই মেথড আমাদের অচেনা-অজানা। অথচ এই মেথডটি সম্পর্কে গ্রামে-গঞ্জের মানুষদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা গেলে হাজার হাজার মায়ের জীবন রক্ষা করা যেত। এই না জানানো বা জনগণকে সচেতন করতে না পারার ব্যর্থতার দায় গণমাধ্যমেরও আছে।
আমাদের গণমাধ্যমগুলো সারাহাহর নতুন নতুন কী ফিচার এলো সে সম্পর্কে দিনের পর দিন খবর পরিবেশন করে। অথচ জীবন রক্ষাকারী নিজের দেশের সায়েবাস মেথড সম্পর্কে জানাতে পারে না। তারা জানাবে কী করে, তারা নিজেরাই তো চেনে না ডাক্তার সায়েবাকে।

লুৎফর রহমান হিমেল, 
সাংবাদিক, কলামিস্ট। বার্তা সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন।