Showing posts with label দর্শণীয় স্থান. Show all posts
Showing posts with label দর্শণীয় স্থান. Show all posts

ভ্রমণে সুস্থ থাকার উপায়

ভ্রমণ প্রিয় মানুষ কখ‌নোই নি‌র্দিষ্ট স্থা‌নের ম‌ধ্যে সীমাবদ্ধ থাক‌তে চায় না। আজ এক স্থান তো পরবর্তী‌তে আর এক। ভ্রম‌ণের জন্য শারী‌রিক সুস্থ্যতা অ‌তি গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য কিছু নিয়ম মে‌নে চলুন।

খাবার ও পানীয়
ভ্রমণের সময় শরীরের দুর্বলতা এড়াতে পানি পান করা প্রয়োজন। এ ছাড়া পুষ্টিকর খাবারও খেতে হবে।
এটি না মানা হলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এ ক্ষেত্রে বাদাম ও শুকনো ফলমূল সঙ্গে রাখা যেতে পারে। সুযোগ পেলেই খেয়ে নিতে হবে তাজা ফলমূল, শসা ও দইয়ের মতো খাবার। এ ছাড়া অসুস্থতা বোধ করলে লেবু ও আদা খেতে হবে।
ইয়োগা
ভ্রমণকালে সুস্থ থাকার জন্য ইয়োগা চর্চা করা ভালো। বেশ কিছু সহজ ইয়োগা স্ট্রেচ আছে, যা ভ্রমণকালে শরীর ঠিক রাখতে সহায়তা করে। এ জন্য দেহের সঙ্গে মানানসই ইয়োগা স্ট্রেচগুলো জেনে রাখা উচিত।
হাঁটা
ভ্রমণের সময় শুধু শুয়ে-বসে থাকলে অসুস্থ হয়ে পড়ার শঙ্কা থাকে। তাই নতুন কোনো স্থানে গেলে ওই জায়গাটি আধাঘণ্টা হেঁটে দেখা যেতে পারে।
এতে সুস্থ থাকার পাশাপাশি ওই জায়গা সম্পর্কে অনেক কিছু জানা সহজ হবে।
খাবারে সাবধানতা
ভ্রমণকালে অপরিচিত স্থানে অস্বাস্থ্যকর খাবার ও পানীয় গ্রহণ করা ঠিক নয়। কারণ এতে ডায়রিয়াজনিত রোগ হওয়ার শঙ্কা থাকে।
সুস্থতায় মনোযোগ
ভ্রমণে গিয়ে দেহের সুস্থতায় মনোযোগ দেওয়া উচিত। অনেকেই ভ্রমণকালে দেহের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন থাকে না। কিভাবে দেহ সুস্থ থাকবে, সে জন্য পরিকল্পনা করা ভালো।
ঘুম ও বিশ্রাম
ভ্রমণের সময় পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের প্রয়োজন আছে। বিমানে দূরবর্তী স্থানে ভ্রমণে জেটল্যাগে আক্রান্ত হতে পারে। তাড়াহুড়া করে বহু দর্শনীয় স্থান ভ্রমণে ক্লান্তি হতে পারে।

ভ্রমণ টিপস ১৮টি

বন্ধু-বান্ধব বা পরিবারের সঙ্গে দূরে কোথাও বা দেশের বাইরে যখন ভ্রমণে যাবেন, তার আগে পরিকল্পনা করে নিন। ভ্রমণের জন্য আপনি অনেক পরিকল্পনা করে থাকলেও ছোট কিছু ভুলের কারণে আপনার পুরো আনন্দ ভ্রমণ নিরানন্দে পরিণত হ্য়। তাই আপনার আনন্দ ভ্রমণ আরো প্রাণবন্ত ও আনন্দময় করতে আপনাদের জন্য সামান্য দরকারি কিছু টিপস দিচ্ছি। আশা করছি আপনাদের ভালো লাগবে, থাকতে পারবেন চাপমুক্ত।

ঘুরতে যাওয়ার আগে গুরুত্বপূর্ণ কিছু টিপস জেনে নিন...

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত টুঙ্গিপাড়া

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আখ্যায়িত করা হয় ‘হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি’ হিসেবে। তার পুরো জীবনই ঘটনাবহুল। আর এর পুরোটা জানা মানেই যেন বাংলাদেশের ইতিহাসের অনেকখানি জেনে ফেলা! মহান এই নেতা এবং আমাদের স্বাধীনতার রূপকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতের আধারে সপরিবারে হত্যা করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর জীবন ও মুক্তিযুদ্ধে তার অবিস্মরণীয় ভূমিকার কথা জানান আপনার সন্তানকে। এদিন বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত আবাসস্থল বা সমাধিস্থলে আপনার সন্তানকে নিয়ে যেতে পারেন।

পার্বতীপুরের নয়নাভিরাম প্রকৃ‌তি

ঘুর‌তে কে না ভালোবা‌সে। তাছাড়া ইট-পাথরের যান্ত্রিক নগরের ব্যস্ততায় হাঁপিয়ে ওঠা নাগরিক জীবন মাঝেমধ্যেই হারিয়ে যেতে চায় প্রকৃতির সান্নিধ্যে। খুঁজে ফেরে একটু অবসর। অনেকেই ঘুরতে যান দেশ-বিদেশের নানান দর্শনীয় স্থানে। অথচ দেশের গ্রামগুলো যে, প্রকৃতির এক অপূর্ব রঙ্গশালা তা হয়তো অনেকেই খেয়ালই করেন না।

দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলা। এই উপজেলার প্রত্যেকটি গ্রাম সুন্দর। ষড়ঋতুর সব ঋতুতেই গ্রামগুলো ধারণ করে অনন্য রূপ। প্রকৃতির সৌন্দর্যের সারল্যের মতোই এখানকার মানুষজনও সহজ-সরল। এই উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের প্রায় সবকটি গ্রাম একেকটি রূপের খনি। উত্তর শালন্দার, মমিনপুর, ঝিনাইকুঁড়ি, বড় হরিপুর, খয়ের পুকুরসহ সব গ্রামই মনোমুগ্ধকর। কিছু গ্রামে রয়েছে মেঠো পথ আবার কোথায়ও রয়েছে পিচঢালা সরু পথ, পথের দুই ধারে গাছ আর দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ ক্ষেত, দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়। কয়েকটি গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ছোট যমুনাসহ কয়েকটি শাখা নদী। নদীগুলোর দুই ধারের নয়নাভিরাম দৃশ্য মুগ্ধ করবে যে কাউকে। গ্রামগুলোতে মাটির ঘরবাড়ির প্রভাব লক্ষ্যণীয়। রয়েছে ইটের পাকা বাড়িও। গ্রামে গ্রামে ক্ষেত-খামারে কৃষকের কাজের ব্যস্ততা। কণ্ঠে মাটি ও মানুষের গান। নদীর জল বা পুকুরে পাড়ার ছেলেমেয়েদের অবাধ সাঁতার, আবহমান বাংলাদেশের চিরাচরিত রূপের সবকিছুই রয়েছে এখানকার গ্রামগুলোতে। গ্রামে গ্রামে মেঠো পথে চলতে গেলে দুই পাশের ফসল ভরা মাঠ দেখলেই মন ভরে যায়।
শীতকালে প্রকৃতি এখানে অনিন্দ্য সুন্দর রূপ ধারণ করে। সবুজ ক্ষেতে মুক্তোর মতো ঝকঝকে শিশির হাতছানি দেবে আপনাকে। ধান চাষের পাশাপাশি শীতকালে শাক-সবজির বিপুল সমারোহ দেখতে পারবেন এখানে।

যা দেখ‌বেন
গ্রামের সৌন্দর্য দেখার পাশাপাশি এখানে রয়েছে বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান ও স্থাপনা। পার্বতীপুর বড় রেল জংশন হওয়ায় এখানে দেখা যাবে পুরোনো সময়ের অনেক অবকাঠামো, রয়েছে বদ্ধভূমি। আরো আছে লোকোমোটিভ কারখানা, মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্প, উত্তর পশ্চিম মৎস্য সম্প্রসারণ প্রকল্প, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি ও তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র।

থাকবেন যেখানে
পর্যটকদের থাকার জন্য স্টেশনের কাছেই রয়েছে দু, একটি আবাসিক হোটেল। এ ছাড়া রেলস্টেশন থেকে অল্পকিছু দূরত্বে হলদিবাড়ি নামক জায়গায় পর্যটকদের থাকার জন্য রয়েছে বেশ ভালো মানের গেস্ট হাউজ। তবে জেলা শহর দিনাজপুরে রয়েছে বেশ কিছু হোটেল। যেখানে এক রাত্রি যাপনের জন্য ২০০ টাকা থেকে শুরু করে হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে বিভিন্ন মানের হোটেল। রয়েছে সরকারি গেস্ট হাউস।

যেভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সরাসরি বাস রয়েছে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায়। হক, হানিফ, নাবিলসহ রয়েছে একাধিক পরিবহন। ট্রেনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা চমৎকার। ঢাকা থেকে দিনাজপুর বা নীলফামারীগামী যেকোনো ট্রেনে যাওয়া যাবে পার্বতীপুর। অল্প সময়ে যেতে চাইলে বিমানেও যাওয়া যাবে। সৈয়দপুর এয়ারপোর্ট নেমে আধা ঘণ।টা থেকে পয়তাল্লিশ মিনিটের মধ্যে পৌঁছানো সম্ভব পার্বতীপুরে।

তেওতা জমিদারবাড়ি: নজরুলের স্মৃতিবিজ‌রিত স্পট

মানিকগঞ্জের পুরাকীর্তি স্থাপনার মধ্যে শিবালয় উপজেলার তেওতা জমিদার বাড়ীর ইতিহাস বেশ গুরুত্বপূর্ণ। শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীর কূলঘেঁষা সবুজ-শ্যামল গাছপালায় ঢাকা তেওতা গ্রামটিকে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে দিয়েছে জমিদার শ্যামশংকর রায়ের প্রতিষ্ঠিত নবরত্ন মঠটি। একসময়ে জমিদারের বাড়ির আঙিনার এই মঠকে ঘিরে দোলপূজা আর দুর্গাপূজার রঙিন উৎসব পালিত হতো। মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার এই তেওতা গ্রামটিতে জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী প্রমীলার স্মৃতি জড়িয়ে আছে । ঢাকার থেকে কাছের দূরত্বে যেকেউ ঘুরে আসতে পারেন নজরুলের স্মৃতিধন্য তেওতা জমিদারবাড়িতে ।

ইতিহাস
ইতিহাসবিদদের মতে, সতেরশ' শতকে এই জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি নির্মাণ করেছিলেন পঞ্চানন সেন নামক একজন জমিদার। জনশ্রুতি অনুসারে, পঞ্চানন সেন এক সময় খুবই দরিদ্র ছিলেন ও দিনাজপুর অঞ্চলে তিনি তামাক উৎপাদন করে প্রচুর ধসম্পত্তির মালিক হওয়ার পর এই প্রাসাদটি নির্মাণ করেন। পরবর্তিতে এখানে জমিদারি প্রতিষ্ঠিত করে জয়শংকর ও হেমশংকর নাম দুজন ব্যক্তি।
ভারত বিভক্তির পর তারা দুজনেই ভারত চলে গেলে বাড়িটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়।

বি‌দ্রোহী নজরুল কয়েক দফায় এসেছিলেন এই গ্রামে। তবে জনশ্রুতি হয়েছে ১৯২২ সালে প্রমীলার সঙ্গে একবার এসেছিলেন ওই বছর সেপ্টেম্বর মাসে নজরুলের লেখা ‘‘আনন্দময়ীর আগমনে’’ কবিতাটি ধূমকেতু পত্রিকায় প্রকাশ হলে ব্রিটিশ সরকার তাঁর বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করে। প্রমীলাকে নিয়ে তেওতা গ্রামে আত্মগোপন করেন নজরুল। আত্মগোপনে থাকতে এলেও দুরন্ত নজরুল অবশ্য ঘরের কোণে বসে থাকেননি।
যমুনার ছোঁয়ায় গড়ে ওঠা সবুজ শ্যামল পাখিডাকা তেওতা গ্রামে ছুটে বেরিয়েছেন। গান, কবিতা আর অট্টহাসিতে পুরো গ্রামের মানুষকে আনন্দে মাতিয়েছেন। কখনো বা জমিদার বাড়ির শান বাঁধানো পুকুর ঘাটে রাতের বেলায় করুণ সুরে বাঁশি বাজিয়ে বিমোহিত করেছেন রাতজাগা গ্রামের মানুষকে। জমিদার কিরণশঙ্কর রায়ের আমন্ত্রণে একবার নজরুল তাঁর অতিথি হয়ে আসেন। আর সে সময়ই নজরুল এবং প্রমীলার দেখা হয়েছিল। জমিদারবাড়ীর পাশের বাড়ি বসন্তকুমারের মেয়ে দুলি (প্রমীলা) ছিলেন তখনকার জমিদার কিরণ শঙ্কর রায়ের স্নেহধন্য। বেড়াতে এসে নজরুল জমিদারবাড়িতে প্রতি রাতেই গান-বাজনার আসর বসাতেন। আর সেখানে একমাত্র গায়ক ছিলেন নজরুল। দুলি তখন মাত্র কয়েক বছরের বালিকা। নজরুল গানের ফাঁকে ফাঁকে পান খেতেন। আর দুলির দায়িত্ব ছিল তার হাতে পান তুলে দেওয়া। হয়তো এর মাধ্যমেই নজরুল প্রমীলার পরিচয় আরো ঘনিষ্ঠ হতে থাকে। বিয়ের পর তেওতার জমিদার কিরণ শঙ্কর রায়ের আমন্ত্রণে নজরুল নববধূকে নিয়ে আবার তেওতায় আসেন। প্রায় দুই সপ্তাহ থাকার সময় জমিদার বাড়িতে নজরুলের গান ও কবিতার আসর বসত। দর্শকের আসনে জমিদার পরিবারের পাশে প্রমীলাও থাকতেন। আর নজরুল যখন
‘‘তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয় সেকি মোর অপরাধ"....
অথবা, "মোর প্রিয়া হবে এসো রাণী দেব খোঁপায় তারার ফুল".... গান গাইতেন তখন লজ্জায় রক্তিম হতেন প্রমীলা। ভবঘুরে জীবনে নজরুল যেখানেই গেছেন সেখানেই তিনি কিছু না কিছু রচনা করেছেন। তেওতার স্মৃতি নিয়েও তিনি অনেক কবিতা গান সৃষ্টি করেছেন বলে নজরুল গবেষক রফিকুল ইসলামের গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে। এমনই একটি হচ্ছে নজরুলের ‘‘লিচু চোর কবিতা’’। তেওতার জমিদারদের স্থানীয়ভাবে বলা হতো বাবু। আর তাদের বিশাল পুকুর ঘিরে তালগাছ থাকায় বলা হতো তালপুকুর। প্রাচীর ডিঙিয়ে এই পুকুরপাড়ের গাছ থেকে একটি বালক লিচু চুরি করতে গিয়ে মালি ও কুকুরের তাড়া খাওয়ার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে নজরুল এই কবিতাটি রচনা করেছিলেন।

দেখার আ‌ছে অ‌নেক কিছুই
তেওতা জমিদার বাড়িটি মোট ৭.৩৮ একর জমি নিয়ে স্থাপিত। মূল প্রাসাদের চারপাশে রয়েছে আরও বিভিন্ন ধরণের স্থাপনা ও একটি বড় পুকুর। প্রাসাদের মূল ভবনটি লালদিঘী ভবন নামে পরিচিত। এখানে একটি নটমন্দিরও রয়েছে। এছাড়াও এখানে রয়েছে নবরত্ন মঠ ও আর বেশ কয়েকটি মঠ। সবগুলো ভবন মিলিয়ে এখানে মোট কক্ষ রয়েছে ৫৫টি।

জমিদার বাড়িটি এখনো তার কাঠামোতে দাঁড়িয়ে আছে। যদিও খয়ে গেছে এর ইটের দেয়াল। বাড়ির সামনে বিশাল একটি পুকুর এই পুকুরের জল তরঙ্গে পুরো রাজবাড়ির অবয়ব দর্শন করা যায়। বাড়ির সামনে আছে একটি বহুতল মন্দির। কারুকাজময় মন্দিরটি আজ বিলীন হওয়ার পথে। এখনো যেটুকু সৌন্দর্য অবশিষ্ট রয়েছে তার আকর্ষণও কম নয়। ভবনের এক পাশে দোতালায় ওঠার সিঁড়ির দেখা পাবেন। ছাদ থেকে পুরোবাড়ির গঠন কাঠামো দেখতে পাবেন অসাধারণ কারুকার্য খচিত। বাড়ির সামনে মাঠের কোণায় দেখা পাবেন কূয়ার। বাড়ির সামনেই আছে সবুজ ঘাসের বড়সড় মাঠ। মাঠেই রয়েছে জমিদারদের তৈরি টিনের চালার এক কাচারিবাড়ি। এখানে সেখানে ভেঙেচুরে একাকার হয়ে গেছে।

যেভাবে যাবেন
কয়েকটি পথ ধরে আপনি যেতে পারবেন তেওতা রাজবাড়ি। ঢাকা থেকে আরিচার দূরত্ব ৯০ কিলোমিটার। তিন ঘণ্টায় বাসে যেতে ভাড়া দিতে হবে ৮০-১০০ টাকা। গাবতলী থেকে যাত্রীসেবা, বিআরটিসি, পদ্মা লাইন, ইত্যাদি বাসে আরিচাঘাট যেতে পারবেন। আরিচা ঘাট থেকে রিকশায় ২৫-৩০ টাকা ভাড়ায় যাওয়া যাবে তেওতা জমিদার বাড়ি। অথবা ঢাকা থেকে বাসে আরিচা ঘাট এসে নামতে হবে। এরপর সিএনজিচালিত অটো অথবা রিকশা যোগে তেওতা যেতে হবে। এ ছাড়া নদীপথেও আসা যাবে। এজন্য নৌকায় আরিচাঘাটে এসে নামতে হবে। যমুনা নদী দিয়ে বাংলাদেশের যেকোনো পয়েন্ট থেকে তেওতা জমিদারবাড়ী আসা যাবে। মাইক্রোবাস ভাড়া করেও যেতে পারবেন- ভাড়া নেবে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা।

নৈস‌র্গিক রূ‌পের সাজেক ভ্যালী

এন‌টি‌ভি: মেঘের রাজ্য খ্যাত সাজেকের মূল রুইলুইপাড়া থেকে ১৫-২০ মিনিটের হাঁটাপথে কংলাক চূড়া, সাজেকের সবচেয়ে উঁচু গ্রাম কংলাকপাড়া। পাড়া থেকে পাখির চোখের মতো দেখা যাবে পুরোটা মেঘের রাজ্য। বিশাল পাথরখণ্ডের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা এই পাড়ায় আদিবাসী লুসাইদের বসবাস। বৃষ্টির পর সাজেকের অন্যরূপ দেখা যায় এই পাড়া থেকে- সাদা মেঘে ডেকে যাওয়া-রুইলুইপাড়া, পাইলিংপাড়া আর সাজেক ভ্যালির পাহাড় চূড়া। বর্ষায় মেঘের দল আপনাকেও ভিজিয়ে দেবে পাহাড়ের চূড়ায়। পাহাড়ের আকাশে মেঘের পেখম থেকে অঝোর ধারায় নামে বৃষ্টির স্রোতধারা। বৃষ্টির পর মিষ্টি রোদের আলোয় নৈসর্গিক সাজেকে ডানা মেলে - রংধনুর সাত রং

অলিম্পিকের ভেন্যু ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর দর্শনীয় স্থান সমুহ্

ব্রাজিলের রাজধানী রিও ডি জেনিরোতে চলছে অলিম্পিক গেমস। এমনিতেই ব্রাজিলিয়ানরা ফুটবলপ্রিয় জাতি। এ ছাড়া ব্রাজিলের রয়েছে ঐতিহ্যবাহী কার্নিভাল, যেখানে দেখা মেলে তাদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির। এবারের রিও অলিম্পিক উপলক্ষে পাঁচ লাখেরও বেশি পর্যটক রিও ডি জেনিরো ও ব্রাজিলে এসেছেন বলে আশা করা হচ্ছে।

১০ হাজার ৫০০ অ্যাথলেট এবারের আসরে প্রতিযোগিতা করবেন। আর নিজ দেশের প্রতিযোগীদের সমর্থন জোগাতে সেখানে গিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রীড়াপ্রেমীরা। অলিম্পিক গেমস দেখার পাশাপাশি পর্যটকরা রিও ডি জেনিরোর বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রও ঘুরে দেখতে পারেন। পাহাড় ও সমুদ্রে ঘেরা রিও ডি জেনিরোর মূল আকর্ষণ উঁচু পাহাড়, বোটানিক্যাল গার্ডেন, সমুদ্রসৈকত ও পাহাড় ঘেঁষে গড়ে তোলা বসতি। রিও ডি জেনিরোর দর্শনীয় স্থানগুলোর

চট্টগ্রামের খৈয়াছড়া ঝর্ণায় মুগ্ধ পর্যটকরা

দূর থেকে শোনা যায় পাহাড়ীয়া ঝর্ণার নুপুরধ্বনি। সবুজ শ্যামল ঘেরা প্রকৃতি দেখলে মনটা ভরে যায়। সৃষ্টি কর্তার অপরূপ সৃষ্টির নির্দশন খৈয়াছড়া ঝর্ণা। আট স্তর বিশিষ্ট এই ঝর্ণা প্রবাহ দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসে শত শত পর্যটক।
এখানে গা ভিজিয়ে মানুষ যান্ত্রিক জীবনের অবসাদ ধুয়ে যেন সজীব করে নিজেদের। চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার এই খৈয়াছড়া ঝর্ণা এখন অগণিত পর্যটকের প্রধান আকর্ষণ। শুধু খৈয়াছরা নয় আশেপাশের আরো কয়েকটি ঝর্ণায় দর্শনার্থীরা এখন ঘুরে বেড়ায় মনের আনন্দে।

পাহাড়ের সবুজ রঙ আর ঝর্ণার স্বচ্ছ জল মিশে মিশে একাকার হয়েছে প্রাকৃতিক জলপ্রপাত খৈয়াছরা ঝর্ণায়। প্রকৃতির নান্দনিক তুলিতে আঁকা এ ছবি দেখে মুগ্ধ হচ্ছে ভ্রমণ

মনপুরা দ্বীপ : অপরূপ সৌন্দ‌র্যের লীলাভূ‌মি

বাংলাদেশের বৃহওম রূপালী দ্বীপ ও অপরূপ সৌন্দ‌র্যের ম‌নোমুগ্ধকর দর্শণীয় জায়গা হ‌চ্ছে মনপুরা। চতুর্দিকে মেঘনা নদীবেষ্টিত সবুজ-শ্যামল ঘেরা মনপুরা। সুবিশাল নদী, চতুর্দিকে বেড়ীবাঁধ, ধানের ক্ষেত, বিশাল ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছের বাগানে সমৃদ্ধ। মনপুরা উপজেলা দেশের মানুষের কাছে যেমন আকর্ষণীয় ও দর্শনীয় জায়গা তেমনি বিদেশিদের কাছেও। এ দ্বীপে সকালবেলার সূর্য যেমন হাসতে হাসতে পূর্বদিকে ডিমের লাল কুসুমের মত উদিত হতে দেখা যায়; তেমনি বিকেল বেলাতে আকাশের সিঁড়ি বেয়ে লাল আভা ছড়াতে ছড়াতে পশ্চিম আকাশে অস্ত‌মিত দৃশ্যও চো‌খে প‌ড়ে।
বাংলাদেশের বৃহওম দ্বীপ ভোলা জেলার মূল ভূ-খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এক‌টি দ্বীপ মনপুরা। মেঘনার কোলে লালিত

ঘুরতে যে‌তে পারেন অপরূপ সা‌জের বড়লেখায়

চির সবুজের দেশ বাংলা‌দেশ। নৈস‌র্গিক দৃ‌শ্যের যে‌নো মিলন মেলা প্রিয় এই দেশ‌টি। তেম‌নি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব লীলাভূমি মৌলভীবাজার জেলার উত্তর প্রান্তিক জনপদ বড়লেখা। পর্যটকদের মুগ্ধ করার জন্য এখানে রয়েছে বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থান। এর মধ্যে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক জলপ্রপাত মাধবকুণ্ড, এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকি ও পাখপাখালির অভয়াশ্রম হাল্লা গ্রামের মনোহর আলী মাস্টারের পাখিবাড়ি, যা পর্যটকদের মনকে মাতিয়ে রাখবে। ম‌নে হয়, ভরা যৌবনে হাকালুকির স্বচ্ছ জলরাশির শান্তভাব যেনো প্রকৃতির বুকে শীতলপাটি বিছিয়ে দেয়।
এছাড়াও রয়েছে নতুন সৃষ্ট ঝরণা, ছয় শ' বছরের পুরনো খোঁজার মসজিদ, জুড়ীতে সৃষ্ট নতুন আরেকটি ঝর্ণা। এসব ছাড়াও পাহাড়-টিলা, চা বাগান

ম‌নোমুগ্ধকর দার্জিলিং ভ্রমন করুন

দার্জিলিং‌কে বলা হয় পাহাড়ের রাণী। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর, পাহাড়ে ঘেরা অপূর্ব চিরহরিৎ ভূমির এক পর্যটন স্থান। দার্জিলিং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দার্জিলিং জেলার একটি শহর ও পৌরসভা এলাকা। ভারতের অন্যতম এই ম‌নোমুগ্ধকর স্থানটি হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত। দার্জিলিং ভারতের অন্যতম পর্যটন স্পট হিসেবে বিশ্ববাসীর নিকট অধিক পরিচিত।
কাঞ্চনজঙ্ঘা'র অনুপম সৌন্দর্য এবং টাইগার হিলের চিত্তাকর্ষক সূর্যোদয় ছাড়াও বি‌ভিন্ন কৃ‌ত্রিম ও প্রাকৃ‌তিক দৃশ্য দেখার জন্য প্রতিবছর অ‌নেক পর্যটক এখানে ভিড় করেন।
আসুন জেনে

বিনা ভিসাতে বি‌দেশ ভ্রমন

বিনা ভিসাতে বিদেশ ভ্রমন ! ভাবছেন এটাও কি সম্ভব! ঘাবড়াবেন না। আমা‌দের দে‌শে অসম্ভব ম‌নে হ‌লেও, বিশ্বের এমন অ‌নেক দেশ আছে যেখানে যেতে ভিসার প্রয়োজন নেই, শুধু বাংলাদেশের পাসপোর্ট থাকলেই হবে। এসব দেশ বি‌দে‌শি‌দের আকৃষ্ট কর‌তে এরকম সু‌বিধা দি‌য়ে থা‌কে।
ত‌বে এমন কিছু দেশ আছে যেখানে ল্যান্ড করার পরে এয়ারপোর্ট থেকে On Arrival ভিসা সংগ্রহ কর‌তে হয়। আবার কোন কোন দেশের ক্ষেত্রে অবশ্য ফি দিতে হয়। শ্রীলংকা, ভুটান, দ‌ক্ষিন কো‌রিয়া, টো‌গো, জ‌র্জিয়া, পালাউ, আজারবাইজানসহ অ‌নেক দে‌শেই বিনা ভিসা বা যাওয়ার প‌রে ভিসা পাওয়া যায়।

যেসব দে‌শে ট্রাভেল ভিসা ছাড়া যাওয়া যাবে এবং সেখা‌নে অবস্থান করা যাবে:
এশিয়া মাহাদেশের মধ্যে- ভুটান (যত দিন ইচ্ছা), শ্রীলংকা (৩০ দিন), দ: কোরিয়া (৯০ দিন)।
আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে- কেনিয়া (৩ মাস), মালাউই (৯০ দিন), সেশেল (১ মাস)।
আমেরিকা মাহাদেশের মধ্যে- ডোমিনিকা (২১ দিন), হাইতি (৩ মাস), গ্রানাডা (৩ মাস), সেন্ট কিট্‌স এ্যান্ড নেভিস (৩ মাস), সেন্ড ভিনসেন্ট ও গ্রানাডাউন দ্বীপপুঞ্জ (১ মাস), টার্কস ও কেইকোস দ্বীপপুঞ্জ (৩০ দিন), মন্টসের্রাট (৩ মাস), ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপমালা (৩০ দিন)।
ওশেনিয়া মাহাদেশের মধ্যে- ফিজি (৬ মাস), কুক দ্বীপপুঞ্জ (৩১ দিন), নাউরু (৩০ দিন), পালাউ (৩০ দিন), সামোয়া (৬০ দিন), টুভালু (১ মাস), নুউ (৩০ দিন), ভানুয়াটু (৩০ দিন) এবং মাক্রোনেশিয়া তিলপারাষ্ট্র (৩০ দিন) অন্যতম।

এছাড়াও যেসব দেশে প্রবেশের সময় On Arrival ভিসা পাওয়া যাবে:
এশিয়া মহা‌দে‌শের মধ্যে- আজারবাইজান (৩০ দিন, ফি ১০০ ডলার), জর্জিয়া (৩ মাস), লাউস (৩০ দিন, ফি ৩০ ডলার), মালদ্বীপ(৩০ দিন), মাকাউ (৩০ দিন), নেপাল (৬০ দিন, ফি ৩০ ডলার), সিরিয়া (১৫ দিন), পূর্ব তিমুর (৩০ দিন, ফি ৩০ ডলার)।
আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে- বুরুন্ডি, কেপ ভার্দ, কোমোরোস, জিবুতি (১ মাস, ফি ৫০০ জিবুতিয়ান ফ্রাঙ্ক), মাদাগাস্কার (৯০ দিন, ফ্রি ১,৪০,০০০ এমজিএ), মোজাম্বিক (৩০ দিন, ফি ২৫ ডলার), টোগো (৭ দিন, ফি ৩৫,০০০ এক্সডিএফ) এবং উগান্ডা (৩ মাস, ফি ৩০ ডলার)।

আপ‌নি য‌দি ভ্রমন পিপাসু হ‌য়ে থা‌কেন ত‌বে এসব দে‌শে যাওয়ার আ‌গে ফ্লাইট, টিকিট, হোটেল ইত্যাদি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য নি‌তে পারেন:
http://www.travel.yahoo.com

http://www.farecompare.com

http://www.airfare.com

এসব ওয়েবসাইট ছাড়াও আরও অ‌নেক সাইট আ‌ছে যা ইন্টার‌নে‌টে সার্চ দি‌য়ে বের কর‌তে পার‌বেন।

সতর্কতা:
বাংলাদেশের এয়ারপোর্ট থে‌কে রওনা হবার সময় কিছু সুযোগ সন্ধানী অফিসার ঘু‌সের জন্য ভিসা নেই বা আপনার সমস্যা হবে এই মর্মে হয়রানি করতে পারে। কেউ য‌দি এসব দেশে বেড়াতে যেতে চান, তাহ‌লে অবশ্যই টিকিট কেনার পূ‌র্বে আরো তথ্য জেনে নিবেন। সরকা‌রের সং‌শ্লিষ্ট বিভাগ থে‌কে তথ্য জানাটাই যু‌ক্তিযুক্ত।

^
^
free travel, travel visa offer, ভিসা ছাড়া বি‌দেশ ভ্রমন, travel without visa, free visa, ভিসা ছাড়া বি‌দেশ যাওয়া, visa free country,