Showing posts with label পাখি পালন. Show all posts
Showing posts with label পাখি পালন. Show all posts

খরগোশ পালন পদ্ধতি (Rabbits Farming)

খরগোশ (Rabbit) তৃণভোজী, শান্ত ও নিরীহ স্বভাবের প্রাণি। অল্প জায়গায় স্বল্প খাদ্য এবং স্বল্প বিনিয়োগের মাধ্যমে খরগোশ পালন করা যায়। তবে যথাযথ জ্ঞানের অভাবে, অনেকেই সঠিক ভাবে খরগোশ পালন করতে পারে না। শখের পাশাপাশি ব্যবসায়িক কারণে খরগোশ পালন করলেও সঠিক পদ্ধতি জেনে রাখা উচিত। খরগোশের মাংসের প্রোটিন, এনার্জি, খনিজ এবং ভিটামিনের পরিমাণ অন্যান্য সকল প্রজাতির জীবজন্তুর মাংসের চেয়ে বেশি এবং কোলেস্টেরল ফ্যাট ও সোডিয়াম কম থাকে। এছাড়া এদের মাংস সুস্বাদু ও সহজে হজম হয় এবং সকল ধর্মের মানুষের জন্য গ্রহণযোগ্য। এখনো বাংলাদেশে খরগোশ পালন ব্যাপক আকারে হয়ে ওঠেনি। তবে বাণিজ্যিকভাবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খরগোশ পালন অনেক লাভজনক। তাই, সারা বিশ্বে বাণিজ্যিকভাবে খরগোশের প্রজনন ও উৎপাদন করা হয়।

সখ থেকে রশিদ সেলিমের সারুমা অ্যাভিয়ারি

 সেলিমের মা ময়না পুষতেন। ঘরময় ঘুরে বেড়াত ময়না। কথাবার্তা বলত। সেলিম অবাক হয়ে দেখতেন।

তারপর  সেলিম নিজেই একটি শালিককে পোষ মানান। এখন বজলুর রশিদ সেলিমের সারুমা অ্যাভিয়ারি দেশের অন্যতম বৃহৎ পাখির খামার। মুহাম্মদ শফিকুর রহমান গল্প করে এসেছেন।

বেজি, বিড়াল, কুকুর, বানর, সাপও পোষ মানিয়েছেন সেলিম; কিন্তু ২০১১ সালে সেলিমের বাইপাস সার্জারি হয়। ডাক্তার বলেন, টেনশনমুক্ত থাকতে। তিনি খাঁচায় পাখি পালনের কথা ভাবেন। এটিকে তিনি টেনশনমুক্ত থাকার উপায় ভাবতে থাকেন। ৫০ জোড়া বাজরিগার পাখি কিনে ফেলেন। এগুলো খাঁচার বিদেশি পাখি। এখন তাঁর সংগ্রহে ৫০ প্রজাতির কয়েক শ পাখি আছে। সারুমা অ্যাভিয়ারি বিডির তিনি মালিক। এখন নারায়ণগঞ্জের থানাপুকুর পারে তাঁর পক্ষীশালা। 

শৌখিন পাখি পালন করে সফল আরিফুল

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার আরিফুলরা চার ভাইবোন। চারজনই শিক্ষিত। ছোট ভাই হাফেজ আসিফ পাবনার একটি মসজিদে ইমামতি করেন। চার বছর আগে তিনি পাবনা থেকে আরিফুল ইসলামকে তিন জোড়া শৌখিন পাখি কিনে দিয়েছিলেন। পাখি দেখে বাবা আসাদুর রহমানের সে কী রাগ! বাবাকে বুঝিয়ে বাড়িতে পাখি পালন শুরু করেন আরিফুল।

হাঁসের খামার ক‌রে সফল আবুল কালাম আজাদ

হাঁসের খামার গড়ে চমক সৃষ্টি করেছেন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের মধ্য উমানন্দ জামতলা বাজারের চায়ের দোকানদার আবুল কালাম আজাদ। গত দুই বছরে শুধু নিজে স্বাবলম্বী হননি, প্রেরণা যুগিয়েছেন অন্যদের মাঝেও। সেই সাথে পাল্টে গেছে তার অভাবের জীবন। 
জামতলা বাজারের চায়ের দোকানি আবুল কালাম আজাদ টিভি ও ফেসবুকে হাঁস লালন পালন করার দৃশ্য দেখে খুবই অনুপ্রাণিত হন। এরপর অল্প অল্প করে জমাতে থাকেন টাকা। দু’বছর আগে চায়ের দোকানের ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে জমানো প্রায় এক লক্ষ টাকা নিয়ে শুরু করে উন্নত জাতের হাঁস পালন।

প্রথমে ২৫/৩০টি হাঁস দিয়ে শুরু করেন খামারের স্বপ্ন। সেই শুরু আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি আবুল কালাম আজাদকে। এরপর গত দু’বছরে ছোট বড় মিলিয়ে তার খামারে বর্তমান প্রায় ৬ হাজারের অধিক হাঁস রয়েছে। খামারে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটিয়ে তা বিক্রি করছেন। ডিম পাড়া হাঁস রয়েছে ১০০টি। পাশাপাশি দু’শতাধিক দেশীয় মুরগী পালন করার পাশাপাশি মুরগির বাচ্চাও উৎপাদন করছেন তিনি।
দুই দিনে এক লট অর্থাৎ ১২শ হাঁসের বাচ্চা উৎপাদনে তার খরচ হয় প্রায় ১৫ হাজার টাকা। আর বিক্রি করেন প্রায় ৩৫ হাজার টাকায়। খরচ বাদ দিয়ে সব মিলিয়ে মাসে আয় হচ্ছে দেড় থেকে ২ লক্ষ টাকা।
আবুল কালাম আজাদ প্রথমে ১৫ হাজার টাকায় ২টি পুকুর দুই বছরের জন্য লীজ নেয়। সেই পুকুরে হাঁস পালনের পাশাপাশি সেখানে মাছ চাষ করছেন। ফলে মাছও বিক্রি করতে পারছেন। সেই সাথে হাঁসেরও খাবার জুটছে।

অভাবের সংসারে ১০জনের ভরণ পোষণ মেটাতে হিমশিম খেতে হতো আবুল কালাম আজাদকে। হাঁস-মুরগির খামার করে অনায়সে সংসারের অভাব দূর করার পাশাপাশি স্বচ্ছলতায় ফিরেছেন তিনি। তার খামারে এখন রয়েছে উন্নতজাতের খাকি ক্যাম্বল, জেনডিন, রানাডা ও ব্ল্যাকো জাতের হাঁস। তার এই খামারের আয় ও উন্নতি দেখে প্রতিবেশীরা খুবই খুশি।
তবে এই খামারীর অভিযোগ উলিপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে কোন প্রকার সহযোগিতা না পাওয়ায় পাশ্ববর্তী গাইবান্ধা জেলার সুদরগঞ্জ উপজেলা থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে। এতে করে কিছুটা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে এই খামারিকে। এছাড়াও করোনার মধ্যে প্রায় ৪ শতাধিক হাঁস-মুরগী মারা গেছে।
খামারি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘চায়ের দোকান করার সময় টেলিভিশন, মোবাইল ও ফেসবুকে সরকার খামারের উপর খুব উৎসাহ থেকে আমি খামার শুরুর স্বপ্ন দেখি। সেই থেকে চায়ের দোকান না করে হাঁসের খামার করার সিদ্ধান্ত নেই । স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য জমানো এক লক্ষ টাকা সংগ্রহ করে চায়ের দোকান বাদ দিয়ে শুরু করি খামার। বাড়তি শ্রমিক কাজ না করলেও পরিবারের স্ত্রী, সন্তান এবং পুত্রবধুরাও সহযোগিতায়  করছেন।বর্তমানে এই খামার থেকে ৬/৭ লাখ টাকা পুঁজি  হয়েছ’।
স্থানীয় মো. নুুরবক্ত মিয়া জানান ‘আবুল কালাম আজাদ ভাই গ্রামে খামার করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। অনেক বেকার যুবক তার খামার দেখে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। চাকুরীর পিছনে না ছুটে অল্প পুঁজিতেই এ ধরণের খামার তৈরী করে বেকার ছেলেমেয়েরা নিজের পায়ে দাঁড়ানো সম্ভব বলে আমি মনে করি’।
এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মো.আব্দুল হাই জানান, ‘স্বল্প পুঁজি নিয়ে আবুল কালাম আজাদ যেভাবে এগিয়ে এসেছেন, তেমনিভাবে বেকার যুবকরাও যদি এগিয়ে আসে তাহলে আমিষ জাতীয় খাদ্য পরিপূর্ণ হবে। পাশাপাশি দারিদ্র্য দূরীকরণ হবে। এছাড়াও জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ হতে সহযোগিতার করা হবে’।

ঘুঘু পালন করে মাসে ৩০০০০ টাকা আয়


পাখ-পাখালি পছন্দ করে না এমন লোকের সংখ্যা খুবই নগণ্য। কারণ এরা দেখতে সুন্দর, অত্যন্ত নিরীহ ও বৈচিত্র্যময়। এসব কারণে পোষা পাখির বাজার বেশ বিস্তৃত ও চাহিদা সম্পন্ন। খাঁচার পাখির মধ্যে ঘুঘু অন্যতম। সহজে ও অল্প জায়গায় পালন করা যায় বলে এর চাহিদাও ব্যাপক। তাই সখের পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ঘুঘু পাখি পালন অত্যন্ত লাভজনক।

বন্য প্রাণী সংরক্ষণ বিভাগ সূত্র মতে, পৃথিবীতে ৩৬টি ঘুঘুর প্রজাতি রয়েছে এর মধ্যে বাংলাদেশে পাওয়া যায় মাত্র ৬টি প্রজাতি। আফ্রিকা, ইউরোপ, ভারতীয় উপমহাদেশে এসব পাখির দেখা মেলে বেশি। এসব ঘুঘু সাধারণত ১০ থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত বাঁচে। অনেক ক্ষেত্রে ২১ বছর পর্যন্তও বাঁচতে পারেতবে খাঁচার ঘুঘুর আয়ুষ্কাল সবসময় বেশি হয়ে থাকে।