Showing posts with label সোস্যাল মি‌ডিয়া. Show all posts
Showing posts with label সোস্যাল মি‌ডিয়া. Show all posts

ক্যামেরায় ছবি তোলা কি জায়েজ?

নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। শরীফ বায়জীদ মাহমুদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ ।
আপনার জিজ্ঞাসার ২০৩৫তম পর্বে ক্যামেরায় ছবি তোলা জায়েজ কি না, সে সম্পর্কে রাজশাহী থেকে ই-মেইলে জানতে চেয়েছেন মিনহাজ পারভেজ। অনুলিখনে ছিলেন জহুরা সুলতানা।

প্রশ্ন : ক্যামেরায় ছবি তোলা কি জায়েজ? অনেকেই মনে করেন ক্যামেরায় ছবি তোলা হারাম, কোনটি সঠিক?
উত্তর : আসলে ক্যামেরার মাধ্যমে যে ছবিগুলো তোলা হয়ে থাকে, সেগুলো অনেকটাই ইমেজ এবং এই ইমেজগুলোতে সুস্পষ্টভাবে কোনো প্রতিকৃতি অথবা পরিপূর্ণ আকার ধারণ করা হয় না। ক্যামেরায় এমন একটি ছবি আসে, যেখানে তেমন কিছুই থাকে না।
রাসুল (সা.) যেখানে ছবির কথা হারাম করেছেন, সেখানে কি তিনি এই ছবির কথা বলেছেন, নাকি একজন মানুষের মূর্তি আবিষ্কার করা বা পরিপূর্ণ ছবি ধারণ করা সেটা বুঝিয়েছেন? এই নিয়ে পরবর্তী যুগের আলেম বা এই যুগের আলেমদের মধ্যে মতবিরোধ আছে।
মূল কথা হচ্ছে, ক্যামেরার যে ইমেজগুলো আছে, রাসুল (সা.)-এর হাদিস দ্বারা সেগুলোকে বোঝানো হয়নি। তাই এই ইমেজ যদি কেউ ধারণ করে থাকেন, সেটাকে যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি ছবির আকার না দেবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত এটি ধারণ করা জায়েজ, নাজায়েজ নয়। ক্যামেরার মাধ্যমে এটি করতে পারেন।
কিন্তু এক্ষেত্রে আলেমদের একটি দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। এটি ইশতেহাদি বিষয়, সেটি হচ্ছে, সুস্পষ্ট কোনো দলিলের মাধ্যমে বা রাসুলের (সা.) কোনো সুস্পষ্ট হাদিসের মাধ্যমে এটি সাব্যস্ত হয়নি, সেটি হল— অপ্রয়োজনীয়, অহেতুক কারণে বারবার ছবি তোলা বা ছবির কাজেই লিপ্ত থাকা। অনেক সময়ই দেখা যায় যে, হজ করার সময় আল্লাহর ঘরে তাওয়াফ করছেন, তখন তিনি ছবি তুলছেন। অথচ তাওয়াফের ইবাদত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়, ইবাদত কবুলের সময়, তখন আপনি ছবি তুলবেন কেন! তাই প্রয়োজন যদি না থাকে, সেক্ষেত্রে ছবি না তুলে, প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করা আপনার জন্য উত্তম। প্রয়োজনীয় সময়ে ছবি তোলা বৈধ, এটি জায়েজ, আপনি ছবি তুলতে পারেন। এটি রাসুল (সা.) যে নিষেধ করেছেন, তার আওতাভুক্ত হবে না।

টুইটার লাইট এখন বাংলাদেশে

বাংলাদেশের টুইটার ব্যবহারকারীদের জন্য সুখবর। কম ডেটা খরচ করে টুইটার ব্যবহার করার সুযোগ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে কম ডেটা খরচের ‘লাইট’ নামের একটি সংস্করণ চালুর ঘোষণা দিয়েছে টুইটার কর্তৃপক্ষ। এত দিন ফিলিপাইনসে এটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু ছিল।

টুইটার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডেটা বান্ধব সংস্করণটি এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকার ২৪টি দেশে চালু করা হয়েছে; যার মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে।

গুগল প্লেস্টোরে থাকা লাইট অ্যাপটিতে তিন মেগাবাইটেরও কম জায়গা লাগে। এটি টুজি ও থ্রিজি নেটওয়ার্কে দ্রুত লোড হয়। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও অফলাইন সমর্থন করে।

ফেসবুকের লাইট সংস্করণের মতো টুইটার লাইটে ডেটা সাশ্রয় করার বিশেষ ব্যবস্থা আছে। এতে ব্যবহারকারীর ইচ্ছা অনুযায়ী ছবি ও ভিডিও ডাউনলোড করতে পারেন।

টুইটারের পণ্য ব্যবস্থাপক জেসার শাহ বলেন, গত এপ্রিল মাসে টুইটার লাইট তৈরি করা হয়। কম ডেটা লাগার কারণে মোবাইলে ব্যবহারকারীদের কাছে এর অভিজ্ঞতা খুব ভালো। এর ফলে টুইটার ব্যবহারকারীর হার বেড়েছে। টুইটার লাইট ব্যবহার করে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত টুইট করার হার বেড়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে এটি ফিলিপাইনসে পরীক্ষামূলকভাবে অবমুক্ত করা হয়। ব্যবহারকারী ও প্লেস্টোরে মূল্যবান প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। ইতিবাচক ফলাফল পাওয়ায় বিশ্বের কয়েকটি নতুন দেশে টুইটার লাইট চালু করা হচ্ছে।

টুইটার লাইট পাওয়া যাবে আলজেরিয়া, বাংলাদেশ, বলিভিয়া, ব্রাজিল, চিলি, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ইকুয়েডর, মিশর, ইসরায়েল, কাজাখস্তান, মেক্সিকো, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, নেপাল, পানামা, পেরু, সার্বিয়া, এল সালভাদর, দক্ষিণ আফ্রিকা, থাইল্যান্ড, তিউনিসিয়া, তানজানিয়া ও ভেনেজুয়েলা।

বর্তমানে বিশ্বে টুইটার ব্যবহারকারী সংখ্যা ৩৩ কোটি। এর মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি ব্যবহারকারী যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে।

‘গুগল প্লে’-তে বিক্রি হবে বাংলাদেশি অ্যাপ

বাংলাদেশের অ্যাপ ডেভেলপারদের জন্য সুখবর! ‘গুগল প্লে’তে এখন থেকে বাংলাদেশের অ্যাপ ডেভেলপাররা অ্যাপ বিক্রি করতে পারবেন। মঙ্গলবার রাতে গুগলের সাপোর্ট সেন্টার ‘লোকেশনস ফর ডেভেলপার অ্যান্ড মার্চেন্ট রেজিস্ট্রেশন’ বিভাগে বাংলাদেশের নাম যুক্ত করে।
এতদিন বাংলাদেশ থেকে ‘গুগল প্লে’ ব্যবহারের সুবিধা থাকলেও বাংলাদেশি অ্যাপ ডেভেলপারদের অ্যাপ বিক্রির সুবিধা ছিল না। 

এ প্রসঙ্গে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘বাংলাদেশের মোবাইল অ্যাপলিকেশন ডেভেলপারদের দীর্ঘদিনের দাবি আজ পূরণ হলো। গত বছরের মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে সিনিয়র কাউন্সিল (পাবলিক পলিসি) উইলসন এল হোয়াইটের নেতৃত্বে গুগল কর্তৃপক্ষের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছিলাম। ওই বৈঠকে আমাদের অন্যতম এজেন্ডা ছিল, বাংলাদেশের ডেভেলপাররা যেন মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট করতে পারে, যা দিয়ে ইন-অ্যাপলিকেশন পেমেন্ট ও পেইড-অ্যাপলিকেশন পাবলিশ করা সম্ভব।’

সোশ্যাল মি‌ডিয়ায় যা শেয়ার করা উচিত নয়

আমরা আমাদের দৈনন্দিক জীবনের অনেক তথ্যই সামাজিক নেটওয়ার্কগুলোতে শেয়ার করি। আমাদের, আমাদের পরিবার এবং আমাদের বন্ধুদের এসব তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া দরকার আমাদের। অনলাইনে কিছু বিষয় শেয়ার করা একদমই উচিৎ না।

নিচে এমন দশটি বিষয় তুলে ধরা হলো:

১. পুরো জন্মতারিখ

আপনি হয়তো চান যে আপনার জন্মদিনে আপনার ফেসবুক বন্ধুরা আপনার টাইমলাইনে জন্মদিনের শুভেচ্ছা বার্তা লিখুক। তবে এটা কিছুটা বিপজ্জনক। আপনার জন্ম তারিখটি আপনার প্রোফাইলে পোস্ট করা থাকলে যে কেউ আপনার পরিচয় চুরি করে নিতে পারে। আপনার জন্মতারিখ ব্যবহার করে ভূয়া আইডি খুলে আপনাকে হয়রানি করতে পারে। 

২. বর্তমান অবস্থান

ফেসবুক স্ট্যাটাস কিংবা টুইটার বার্তায় নিজের বর্তমান অবস্থান উল্লেখ করা ঠিক না। অনেক সময় নিজের অবস্থান অন্যকে জানিয়ে বিপদে পড়তে পারেন। এটি সম্ভাব্য চোরকে বলে যে আপনি হয়তো বাড়িতে নেই। এছাড়া দুস্কৃতিদের কারীদের নিজের অবস্থান জানিয়ে বড় ধরনের বিপদের সম্মুখিন হতে পারেন।

৩. নাম উল্লেখ করে নিজের ও বন্ধুর সন্তানের ছবি

নিজের ও বন্ধুদের সন্তানের ছবি নাম উল্লেখ করে পোস্ট করা অনেক সময় বিপদের কারণ হতে পারে। আপনার শত্রুরা আপনার শিশুর ক্ষতি সাধন করতে পারে তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

৪. বাড়ির ঠিকানা

সোশ্যাল নেটওয়ার্কে নিজের বাড়ির ঠিকানা শেয়ার করবেন না। অপরাধী আপনার ঠিকানা পেয়ে গেলে তা আপনার জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

৫. প্রকৃত ফোন নাম্বার

বাড়ির ঠিকানার মতো আপনার প্রকৃত ফোন নাম্বারও শেয়ার করা ঠিক না। ফোন নাম্বার ট্র্যাকিং করে দুষ্কৃতিকারীরা আপনার অবস্থান জেনে ফেলতে পারবে।

৬. রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস

রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস দেয়া উচিৎ না। রহস্যময়ী হওয়ার জন্য  "It`s Complicated" দিয়ে রাখতে পারেন।

৭. জিয়োট্যাগের ছবি

জিয়োট্যাগের মাধ্যমে ছবি আপলোড করা উচিৎ না। ছবি আপলোড দেয়ার আগে দেখে নিন আপনার ফোনের লোকেশন অপশনটা চালু কিনা। চালু থাকলে বন্ধ করে নিবেন।

৮. ছুটির পরিকল্পনা

ছুটির দিনে কোথায় ‍যাবেন, কি করবেন তা সামাজিক মাধ্যমের শেয়ার করা প্রয়োজন নেই।

৯. আপনি/আপনার উর্ধ্বোতন বা পরিবারের বিষয়ে বিব্রতকর জিনিস

কোনো কিছু পোস্ট করার আগে ভেবে নিন যা পোস্ট করছেন তা আপনার পরিবার ও আপনার উর্ধ্বোতনদের কাছে বিব্রতকর হবে কিনা। বিব্রতকর হলে পোস্ট করা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।

১০. আপনার বর্তমান কাজের বা কাজের সাথে সম্পর্কিত প্রকল্প সম্পর্কে তথ্য

নিজের কাজ সম্পির্কিত বিষয়গুলো সামাজিক মাধ্যমের শেয়ার করা উচিৎ না। এতে আপনার প্রতিদ্বন্দ্বি বা অন্য প্রতিষ্ঠানের লোকজন আপনার প্রতিষ্ঠানের তথ্য জেনে যাচ্ছে ।ফলে আপনার ও আপনার প্রতিষ্ঠানের ‌নিরাপত্তা ব্যবস্থা ক্ষুন্ন হ‌চ্ছে।

ফেসবুকের গ্রুপ অ্যাডমিনদের জন্য সুখবর

বিভিন্ন গ্রুপের অ্যাডমিনদের জন্য বেশ কয়েকটি নতুন ফিচার চালু করেছে ফেসবুক। এখন থেকে গ্রুপের কোনো সদস্যকে সাময়িকভাবে কোন পোস্ট ও কমেন্ট করা থেকে বিরত রাখতে পারবেন অ্যাডমিন।

আরও সহজে এবং কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই যেন গ্রুপ পরিচালনা করা সম্ভব হয় সেজন্যই সম্প্রতি এই ফিচারগুলো চালু করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি।

চালু করা আরেকটি ফিচার হলো একাধিক গ্রুপ পরিচালনা করেন, এমন কোনো অ্যাডমিন চাইলে একবারেই সবগুলো গ্রুপ থেকে কোনো সদস্যকে অপসারণ করতে পারবেন।

এখন থেকে গ্রুপ অ্যাডমিন সহজেই নতুন সদস্যদের সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে পারবেন। এজন্য কোনো ওয়েলকাম পোস্ট লিখলেই সেখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন সদস্যদের ট্যাগ করবে ফেসবুক।
ছবিটি লোড করতে ক্লিক করুন

এর পাশাপাশি মেম্বার প্রোফাইল এবং আরও উন্নত গ্রুপ ইনসাইট সুবিধাও যুক্ত করেছে। এর ফলে পেজের মতো এখন থেকে গ্রুপেও শিডিউল পোস্ট করা যাবে।

প্লে স্টোর থেকে ইন্সটল না করেই চলবে অ্যাপ

গুগল প্লে স্টোরে আসতে চলেছে বড়সড় রদবদল। এখন অ্যাপ কী, কীরকম সেইসব দেখতে হলে মোবাইলে ইনস্টল করার দরকার নেই। তার আগেই ঘেঁটে দেখা যেতে পারে সেই অ্যাপ। অ্যাপসের নানা রকম তথ্য জানা যাবে ইনস্টল না করেই, আসছে গুগলের নতুন ট্রাই নাও।

গত বছর গুগলের আইও ডেভেলপার কনফারেন্সে প্রথম অ্যানড্রয়েড ইনস্টান্ট অ্যাপস নতুন ফিচার জনসমক্ষে আনা হয়। নেটিভ অ্যাপ্লিকেশনসের সঙ্গে মোবাইল ওয়ার্ল্ডকে আরও কাছাকাছি এনে ফেলেছে গুগল। আর এই ঘনিষ্টতা বাড়াচ্ছে প্লে স্টোরে নতুন ট্রাই নাও অপশন। এর জেরে নির্দিষ্ট কিছু অ্যাপের কিছু অংশ গ্রাহকের অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে চলে যাবে।

ফলে ডাউনলোড বা ইনস্টলেশন প্রসেস ছাড়াই ওই অ্যাপ সম্পর্কে একটা ধারণা পেতে পারেন গ্রাহকরা। স্বাভাবিক ভাবেই মোবাইল ডেটা খরচের ঝক্কি থেকে রেহাই। তবে এখনও পর্যন্ত প্লে স্টোরে এই ট্রাই নাও ফিচার পুরোপুরি জাঁকিয়ে বসেনি। ইনস্ট্যান্ট অ্যাপ লঞ্চ করা যাবে ইউআরএল ট্যাপ করেই। অন্যান্য অ্যাপের মতো ডাউনলোড করার দরকার নেই। গুগল প্লে স্টোরে থাকছে আরও কিছু পরিবর্তন। এডিটরস চয়েস সেকশন রাখা হচ্ছে। ১৭টি দেশে যা লাইভ হবে। গেম ট্রেলার আর স্ক্রিনশটের জন্য আলাদা হোম আনা হচ্ছে। পেড আর আপকামিং গেমসের জন্য প্রিমিয়াম ও নিউ সেকশন রাখা হবে।

আপাতত ট্রাই নাও-এর আন্ডারে রয়েছে কিছু সংখ্যক অ্যাপ। কিন্তু আরও সংখ্যাটা বাড়ানো হবে। ফলে এখন মোবাইলের জায়গা আর ডেটা খরচ করার আর সমস্যা থাকবে না। আগেভাগেই গ্রাহকরা দেখে নিতে পারবেন অ্যাপটি আদৌ তার কাজে লাগবে কি না।

অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন আপডেট করবেন যেভা‌বে

স্মার্টফোন দীর্ঘদিন ব্যবহারে স্লো হয়ে যায়। এছাড়া আরো নানা সমস্যা হয়।

এসব সমস্যা এড়িয়ে চলতে অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন আপডেট করা উচিত। চলুন জেনে নেওয়া যাক কিভাবে অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন আপডেট করা যায়।

১. প্রথমেই আপনার মোবাইল ফোন মেমোরিতে সংরক্ষিত ডাটা (ছবি, গান, ভিডিও, অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য) ব্যাকআপ করে রাখুন। কারণ, আপডেট হওয়ার সময় আপনার ফোনের ডাটা ডিলিট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

২. তারপর Settings ওপেন করুন।

৩. নিচে স্ক্রল করে About Phone এ ক্লিক করুন।

৪. Software Updates এ ক্লিক করুন।

৫. Update/ Check for Updates এ ক্লিক করুন। এটি আপনার মোবাইল এর জন্য কোন আপডেট আছে কিনা তা চেক করবে।

আপডেট আছে কিনা তা নির্ভর করবে আপনার মোবাইল ফোনের উপর। নতুন আপডেট সব মোবাইল এর জন্য থাকে না।
যদি কোন আপডেট থাকে তাহলে তা ডাউনলোড হওয়া শুরু হবে। বড় সাইজের আপডেট এর জন্য আপনার ফোন টিকে Wi-Fi এ কানেক্ট করে রাখুন যাতে আপনার মেগাবাইট শেষ হয়ে যাওয়ার ভয় না থাকে। 

৬. আপডেট যখন ডাউনলোড হওয়া শেষ হবে, তখন সেই আপডেট টি ইন্সটল হওয়ার জন্য মোবাইল ফোন টি রিস্টার্ট হবে এবং সম্পূর্ণ আপডেট প্রক্রিয়াটি শেষ হতে বেশ কিছুক্ষন সময় লাগতে পারে। আপডেট চলাকালিন সময়ে মোবাইল ফোনটি চার্জার এ কানেক্ট করে রাখবেন যাতে মোবাইল এর চার্জ শেষ হয়ে না যায়। 

স্মার্ট‌ফোন‌কে হ্যাকারদের হাত থেকে বাঁচাতে করণীয়

শিশু থেকে বৃদ্ধ এখন সবার হাতেই স্মার্টফোন। প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট ডিজিটাল ট্রেন্ডের দেওয়া তথ্য মতে, শুধু ২০১৬ সালে বিশ্বব্যাপী বিক্রি হয়েছে দেড়শ কোটি স্মার্টফোন। কিন্তু বেশিরভাগ স্মার্টফোন ব্যবহারকারী ফোনে থাকা তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন নন। হ্যাকাররা সুযোগ বুঝে হাতিয়ে নিচ্ছে ছবি, ফোননম্বরসহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

ভাবুন তো ফেসবুক স্ক্রল করতে করতে দেখতে পেলেন আপনার নাম, ছবি ব্যবহার করা আরেকটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট। কিন্তু আপনি সেই ছবি ফেসবুকে কখনো আপলোডই করেন নাই। আপনি নিশ্চয় দুশ্চিন্তায় পড়ে যাবেন। দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে কীভাবে এই ধরনের চুরি বা হ্যাকিং থেকে আপনি বাঁচতে পারবেন।

সফটওয়্যার আপডেট
আপনার স্মার্টফোনটি সবসময় আপডেট রাখার চেষ্টা করুন। যদি হ্যাকাররা ফোনের সফটওয়্যারে কোনো ফাঁকফোকর খুঁজে পায়, নতুন সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে সেই রাস্তা বন্ধ করে দেয় স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। শুধু স্মার্টফোনের জন্য নয়, কম্পিউটারের ক্ষেত্রেও আপডেট রাখা খুব জরুরি।

অ্যাপ ইন্সটল
অ্যাপ ইন্সটল করার বিষয়ে সচেতন হতে হবে। হ্যাকিংয়ের বড় ঝুঁকিতে আছেন অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা। এর মূল কারণ থার্ড পার্টি অ্যাপ (তৃতীয় পক্ষ নির্মিত অ্যাপ)। এই অ্যাপগুলো ইন্সটল করার সময় কিছু বিষয়ের অনুমতি চেয়ে নেয়। দ্রুত অ্যাপটি ইন্সটল করার জন্য নেক্সট বাটন চাপার আগে ভালো ভাবে পড়ে দেখুন কিসের অনুমতি দিচ্ছেন। অনেক সময় প্লে স্টোরের বাইরে থেকে অ্যাপ ইন্সটল করেন। এটি আপনার জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই প্লে স্টোর থেকে অ্যাপ ইন্সটল করাই নিরাপদ।

কঠিন পাসওয়ার্ড
ফোন চুরি বা ছিনতাই হয়ে গেলে ব্যক্তিগত তথ্য চলে যায় অনিরাপদ হাতে। এই ঝুঁকি থেকে বাঁচতে অবশ্যই কঠিন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উত্তম। আর মোবাইল খুঁজে পাওয়ার জন্য আইওএস এবং এন্ড্রয়েডের আলাদা ট্র্যাক করার সেবা রয়েছে।

পাসওয়ার্ড সেভ না করা
আমরা অনেক সময় বারবার পাসওয়ার্ড টাইপ করার ঝামেলা এড়াতে পাসওয়ার্ড সেভ করে রাখি। আবার কেউ আপনার স্মার্টফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার করতে চাইলে দিতে হয়। কিন্তু আপনি লগ আউট করতে ভুলে গেছেন। এমন অবস্থায় আপনার অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা হারাতে পারেন। তাই পাসওয়ার্ড সেভ না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। আর অবশ্যই একই পাসওয়ার্ড সব অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করবেন না।

ব্যক্তিগত তথ্য
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সব তথ্য প্রকাশ না করাই ভালো। আপনার ব্যক্তিগত তথ্য থেকেও আপনার আপনার অ্যাকাউন্ট ঝুঁকিতে পড়তে পারে। যেমন, আপনার জন্ম তারিখ যদি ফেসবুকে দেওয়া থাকে সেখান থেকে তথ্য নিয়ে আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকে পরা সহজ হবে হ্যাকারদের জন্য। ব্যক্তিগত তথ্যের ব্যাপারে সাবধান থাকুন।

ফ্রি ওয়াইফাই
কোথাও পাসওয়ার্ড ছাড়া ওয়াইফাই কানেকশন পেলেও সংযোগ করা থেকে বিরত থাকুন। ফ্রি ওয়াইফাইয়ে সংযোগ স্থাপনের সঙ্গে সঙ্গে আপনার ফোনের অনেক তথ্য চলে যায় ওয়াইফাই রাউটারে। সেখান থেকে আপনার ফোনের আইপি(IP) এড্রেস নিয়ে খুব সহজেই হ্যাকাররা আপনার ফোনের তথ্য চুরি করতে পারবে।

অ্যাপ লক
ব্যক্তিগত তথ্য আছে এমন অ্যাপগুলো পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে লক করে রাখুন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাপগুলোতে অনেক ব্যক্তিগত তথ্য থাকে। যেমন, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার ইত্যাদি।

WHATSAPP-এর নতুন ফিচার: লাইভ লো‌কেশন শেয়া‌রিং

হোয়াটস অ্যাপে ‌যোগ হল নতুন একটি ফিচার। নতুন এই ফিচারটির সাহায্য শেয়ার করা ‌যাবে আপনার লাইভ লোকেশন।

হোয়াটস অ্যাপের নতুন এই ফিচারটির নাম WhatsApp Live Location sharing। ফিচারটির সুবিধা হল আপনি নিজের লোকেশন বন্ধু বান্ধবদের জানাতে পারবেন। তাও আবার একেবারে লাইভ।
হোয়াটস অ্যাপের প্রোডাক্ট ম্যানেজার জাফির খান সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, ‌যাতায়াতের সময় আপনার লোকেশন ‌যদি কারও সঙ্গে শেয়ার করা থাকে তাহলে আপানার নিরাপত্তা নিয়ে ভাবনা অনেকটাই কমে ‌যায়। একথা মাথায় রেখেই এই ফিচারটি যোগ করা হচ্ছে।

কীভাবে অ্যাক্টিভেট করা ‌যাবে এই অপশন?
কোনও কনট্যাক্টের চ্যাট উইন্ডোয় অ্যাটাচমেন্ট অপশনে গিয়ে 'শেয়ার লাইভ লোকেশন' আইকনে ট্যাপ করলেই সেই ব্যক্তি ম্যাপের ওপর আপনার অবস্থান দেখতে পাবেন। ওই অপশনে ট্যাপ করলেই জানতে চাওয়া হবে কতক্ষণের জন্য আপনি আপনার লোকেশন শেয়ার করতে চান।

ফেসবুক মেসেঞ্জারে পেপাল সু‌বিধা

ফেসবুক মেসেঞ্জারে পেপালের যুক্ত করলো ফেসবুক। এই সুবিধার আওতায় পেপাল থেকে সরাসরি মেসেঞ্জারে আর্থ পাঠানো যাবে। একইসঙ্গে অর্থ পাঠানোর অনুরোধও জানানো যাবে।

পেপাল হলো বিশ্বব্যাপী অর্থ স্থানান্তরের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। ১৯অক্টোবর বাংলাদেশে পেপালের জুম সেবা উদ্বোধন করা হয়।

ফেসবুকের সঙ্গে যৌথভাবে এই সুবিধা চালু করলো পেপাল। ফেসবুক নতুন সুবিধার সাথে অতিরিক্ত হিসেবে মেসেঞ্জারে কাস্টমার সার্ভিস চ্যাট বট যুক্ত করেছে। যার ফলে পেপাল গ্রাহকরা লেনদেনের পাশাপাশি এখন থেকে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, অ্যাকাউন্ট ইনকয়ারি এবং অ্যাপে পেমেন্ট সম্পর্কিত সহায়তা চাইতে পারবে।

ফেসবুক মেসেঞ্জার এবং পেপাল গতবছর গ্রাহককে কেনাকাটার জন্য তাদের পেপাল অ্যাকাউন্ট ম্যাসেঞ্জারে লিংক করার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়। আর নতুন ঘোষণায় পিয়ার টু পিয়ার পেমেন্ট সমর্থন করবে।

বর্তমানে এই সুবিধাটি কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের আইওএস ডিভাইস ব্যবহারকারীরা পাবে। শিগগিরই এই সুবিধা অ্যানড্রয়েড ডিভাইসেও পাওয়া যাবে বলে ফেসবুক জানিয়েছে।

ফেসবুক সেলিব্রেটি হ‌তে চাই‌লে!

সোশ্যাল মি‌ডিয়ার জন‌প্রিয় মাধ্যম ফেসবুকে লাইক-কমেন্টস না পেলে অনেকেরই মন খারাপ হয়। এবার সেই খারাপ লাগার দিন শেষ। চলুন জেনে নিই, কিভাবে হয়ে উঠবেন আপনিও একজন ফেসবুক সেলিব্রেটি।

১. ফেসবুকে আজকাল অনেক ভালো ভালো গ্রুপ আছে। এইসব গ্রপের সক্রিয় সদস্য হয়ে যান, সকলের সাথে পরিচয় বাড়ান। সেখান থেকে বেছে বেছে পছন্দের মানুষের অ্যাড করুন। দেখবেন ভারি হচ্ছে আপনার ফ্রেন্ড লিস্ট।

২. অশ্লীল বা সাম্প্রদায়িক পেজে লাইক দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। পোস্ট ও পেজের কনটেন্ট পাবলিক করে রাখুন।

৩. ফেসবুকের মাধ্যমে সামাজিক কর্তব্য পালন করুন। সেটা রক্তদান হতে পারে, দুঃস্থদের পাশে দাঁড়ানো হতে পারে কিংবা অন্য কিছুও হতে পারে।

৪. ফেসবুক ফ্রেন্ড সার্কেলে থাকা সকলের জন্মদিনের ‘‌রিমাইন্ডার’‌ দেয়। জন্মদিনে বন্ধুদের ‘‌উইশ’‌ করতে ভুলবেন না।

৫. নিজের রসবোধকে কাজে লাগান। মানুষকে দৃষ্টি আকর্ষণের সবচেয়ে সহজ উপায় হল রসবোধ। আপনি যে বিষয় নিয়ে উৎসাহী, সেই বিষয়ের একটি পেজ শুরু করুন।

৬. নিয়মিত প্রোফাইল পিকচার বদলান। যিনি ছবি তুলে দিচ্ছেন, তার নাম উল্লেখ করতে ভুলবেন না।

৭. গান, সিনেমা, বই এমন নানা জিনিসের রিভিউ দিন। তবে যা নিয়ে আপনার জ্ঞান কম, সেটা নিয়ে লিখতে যাবেন না।

৮. বন্যা, ভূমিকম্পের মতো আপদকালীন বিষয়ে যত পারবেন, খবর শেয়ার করুন। সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নিজের বক্তব্য নিয়ে পোস্ট দিন। তবে সেই ঘটনার বিশ্লেষণ যেন যুক্তিপূর্ণ হয়।

৯. গুরুত্ব বুঝে লাইক দিন। সবকিছুতে লাইক ঠুকে দিলে আপনিই গুরুত্ব হারাবেন। নিতান্ত দরকার না হলে কিংবা পোস্টের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক না হলে শুধুমাত্র লাইকের লোভে কাউকে ট্যাগ করবেন না। এতে অনেকেই বিরক্ত হন।

১০. যতটা পারবেন, নিজে থেকে বন্ধুত্বের অনুরোধ পাঠানোর থেকে বিরত থাকুন। কেউ বন্ধুত্বের অনুরোধ প্রত্যাখান করলে তাকে উত্যক্ত করবেন না।

'ব্লু হোয়েল গেম' থেকে বিরত থাকতে করণীয়

অবসরে স্মার্টফোনে গেম খেলার পরিণতি এতটা ভয়ানক হতে পারে কদিন আগেও কে ভেবেছিল তা?  কিন্তু এখন ভাবতে হচ্ছে তা। সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে আতংকের নাম হয়ে দাঁড়ানো ‘ব্লু হোয়েল’ গেম কেড়ে নিয়েছে অনেক তরুণ প্রাণ। এর পরপরই মানুষ অনুধাবন করছে আপাত সাধারণ অনলাইন ভিত্তিক একটি গেমও কতটা মারাত্মক হতে পারে। আতঙ্কের পুরো নাম ‘ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেম’। যেখানে একজনকে অতি সহজে বোকা বানিয়ে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায় গেমটির এ্যাডমিন। গেমটি খেলতে খেলতে ব্যবহারকারীরা এতটাই আসক্ত হয়ে পড়ছে যে এক সময় আত্মহত্যা করতেও হৃদয় কাঁপছে না তাদের।

পশ্চিমা ও ইউরোপীয় দেশগুলো ইতোমধ্যে এই গেমটির বিপক্ষে স্কুল কলেজসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রচারণা চালাচ্ছে। তরুণ-তরুণীদের এ গেম খেলা থেকে বিরত রাখার জন্য রীতিমত চিন্তিত হয়ে পড়েছেন সেসব দেশের বিশেষজ্ঞরা।

কী এই ব্লু হোয়েল গেম ?

অনলাইন ভিত্তিক একটি গেম। অনলাইনে একটি কমিউনিটি তৈরি করে চলে এ প্রতিযোগিতা। এতে সর্বমোট ৫০টি ধাপ রয়েছে।

আর ধাপগুলো খেলার জন্য ঐ কমিউনিটির অ্যাডমিন বা পরিচালক খেলতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ দিবে। আর প্রতিযোগী সে চ্যালেঞ্জ পূরণ করে তার ছবি আপলোড করবে। শুরুতে মোটামুটি সহজ এবং কিছুটা চ্যালেঞ্জিং কাজ দেয়া হয়। যেমন: মধ্যরাতে ভূতের সিনেমা দেখা। খুব সকালে ছাদের কিনারা দিয়ে হাঁটা এবং ব্লেড দিয়ে হাতে তিমির ছবি আঁকা।
তবে ধাপ বাড়ার সাথে সাথে কঠিন ও মারাত্মক সব চ্যালেঞ্জ দেয় পরিচালক। যেগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ এবং এ খেলার সর্বশেষ ধাপ হলো আত্মহত্যা করা। অর্থাৎ গেম শেষ করতে হলে প্রতিযোগীকে আত্মহত্যা করতে হবে।

কেন যুবক–যুবতীরা আকৃষ্ট হচ্ছে?

সহজ ও নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ এবং সাহস আছে কি না এমন কথায় সাহস দেখাতে গিয়ে দিনকে দিন যুবক-যুবতীরা আকৃষ্ট হচ্ছে এই গেমে। তবে একবার এ খেলায় ঢুকে পড়লে তা থেকে বের হয়ে আসা প্রায় অসম্ভব।

তেমনি জানা যায় গেম থেকে বেঁচে ফিরে আসা ভারতীয় এক যুবকের কাছ থেকে তিনি জানান, ব্লু হোয়েল গেমটা আসলে একটা ভয়ঙ্কর মরণ ফাঁদ। ইচ্ছে থাকলেও যে ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসা যায় না। সেই হাতছানিই প্রায় আত্মহত্যার পথে টেনে নিয়ে গিয়েছিল ভারতের পুদুচেরির যুবক ২২ বছর বয়সী আলেকজান্ডারকে। কিন্তু শেষমেশ পুলিশ পুদুচেরির করাইকালে তার বাড়িতে ঢুকে পড়ায় আর আত্মঘাতী হতে পারেনি আলেকজান্ডার।

পুলিশ যখন তাকে বাঁচায়, তখন আলেকজান্ডারের হাতে আঁকা ছিল নীল তিমি। এক পদস্থ পুলিশ কর্তার পাশে বসে আলেকজান্ডার বলেছেন, ‘‘এটা পুরোপুরি মরণ ফাঁদ। ওই গেমে ঢুকে পড়লেই ভয়ে কাঁপতে হবে। অ্যাডভেঞ্চার যাদের খুব ভাল লাগে, তারাও ভয়ে কাঁপতে থাকবেন। আমি সবাইকে বলছি, বড়ই ভয়ঙ্কর গেম ব্লু হোয়েল। কেউ যেন ভুল করেও ওই মরণ ফাঁদে না পড়েন। ’’

খেলার মাঝপথে বাদ দিতে চাইলে প্রতিযোগীকে ব্লাকমেইল করা হয়। এমনকি তার আপনজনদের ক্ষতি করার হুমকিও দেয়া হয়। আর একবার মোবাইলে এই অ্যাপটি ব্যবহারের পর তা আর ডিলিট করা যায় না।

গেমটি ঠিক কোনও অ্যাপ নয়। নয় কোনও গেমও। এটা জাস্ট একটা লিঙ্ক। আর সেটা চালান একজন অ্যাডমিন। ওই গেম খেলতে যিনিই ঢোকেন, তাকে কয়েকটি টাস্ক দেন অ্যাডমিন। প্রত্যেক দিন সেই টাস্কগুলো রাত ২ টার পর শেষ করতে হয়। ওই গেম খেলতে ঢোকার পর কয়েকটা দিন কাটে মোটামুটি স্বাভাবিক ভাবেই। তখন অ্যাডমিন সকলের ব্যক্তিগত পরিচিতি ও ফটোগ্রাফ সংগ্রহ করতে শুরু করেন। তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় মেতে ওঠেন অ্যাডমিন।

কোথায় জন্ম এই মরণ খেলার?

ইন্টারনেট বলছে, এই খেলার জন্ম রাশিয়ায়। জন্মদাতা ২২ বছরের তরুণ ফিলিপ বুদেকিন। ২০১৩ সালে রাশিয়ায় প্রথম সূত্রপাত। ২০১৫ সালে প্রথম আত্মহত্যার খবর পাওয়া যায়। তবে এহেন গর্হিত কাজের জন্য নিজেকে অপরাধী না বলে বরং সমাজ সংস্কারক বলে নিজেকে অভিহিত করে বুদেকিন। সে জানায়, এই চ্যালেঞ্জের যারা শিকার তারা এ সমাজে বেঁচে থাকার যোগ্য নয়।

ব্লু হোয়েল গেম এর ৫০ টি ট্যাস্ক থাকে যা আপনাকে সুইসাইড পর্যন্ত নিয়ে যাবে। এই খেলার সমাপ্তি ঘটবে খেলোয়াড়ের মৃত্যু দিয়ে। এ গেম নিয়ে রীতিমতো অবাক রাশিয়া পুলিশ। তদন্তের পর তারা জানায় অন্তত ১৬ জন কিশোরী এ গেমের কারণে আত্মহত্যা করেছে। এমনকি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১৩০ জনের আত্মহত্যার জন্য এ গেম দায়ী। তবে এ গেমের মূল অ্যাডমিন বুদেকিন আটক থাকলেও থেমে নেই তাদের কার্যক্রম। যার ফলে এ গেমের প্রভাব বিরাজমান।

ব্লু হো‌য়েল থেকে বাঁচতে কি করতে হবে?

১। প্রথমত চাই আপনার সচেতনতা। কেন আপনি অপরের নির্দেশনায় যাকে আপনি কখনও দেখেন নি, যার পরিচয় জানেন না তার কথায় কেন নিজের জীবন অকালে বিলিয়ে দিবেন!

২। এই রকম কোনও লিংক আসলে তাকে এড়িয়ে চলা। সমাজের তরুণ ছেলে-মেয়ে থেকে শুরু করে সব বয়সীদের মাঝে এই গেমের আদ্যোপান্ত সম্পর্কে বলা।

৩। আপনার সন্তানকে মোবাইলে ও কম্পিউটারে অধিক সময়ে একাকী বসে থাকতে দেখলে, খেয়াল করুন সে কি করছে। সন্তানকে কখনও একাকী বেশি সময় থাকতে না দেয়া এবং এই সব গেমের কুফল সম্পর্কে বলা।

৪। সন্তানদের মাঝে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার মানসিকতা সৃষ্টি করা। যাতে করে তারা বুঝতে পারে আত্মহত্যা করা বা নিজের শরীরকে ক্ষতবিক্ষত করা অ‌নেক বড় পাপের কাজ।

৫। আপনার সন্তান ও পরিবারের অন্য কোন সদস্য মানসিকভাবে বিপর্যস্ত কি না সেদিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখা। কেউ যদি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয় তাকে সঙ্গ দেয়া।

৬। কৌতুহলী মন নিয়ে এই গেমটি খেলার চেষ্টা না করায় ভালো। কৌতুহল থেকে এটি  নেশাতে পরিণত হয়। আর নেশাই হয়তো ডেকে আনতে পারে আপনার মৃত্যু। 

অতএব, দয়া করে এই গেমটি কেউ খেলবেন না, কাউকে খেলতেও দেবেন না। 

© ডিএমপিনিউজ