কোন পরীক্ষা দেব?

আইইএলটিএস, টোয়েফল, জিআরই, জিম্যাট বা স্যাট !

সাধারণত ইউ‌রো‌পের দেশ বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এমবিএ করতে গেলে কিংবা বাণিজ্য বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে চাইলে ইং‌রে‌জি ভাষা দক্ষতার প্রমাণ স্বরূপ পরীক্ষা দি‌তে হয়।

অনেক সময়ই শিক্ষার্থীরা নানান ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই অনেকে আইইএলটিএস, টোয়েফল, জিআরই, জিম্যাট বা স্যাট পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। অনেকে আবার কোন পরীক্ষাটিতে অংশ নেবেন, সেটা ঠিক করতে করতেই দেরি করে ফেলেন।
দেশ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং পড়ার বিষয় ভেদে ভিন্ন ভিন্ন পরীক্ষা আপনার কাজে লাগতে পারে। তাই আপনার লক্ষ্য এবং যোগ্যতা অনুসারে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। কোনো কোনো পরীক্ষার জন্য শুধু ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকাই যথেষ্ট, কোনোটার জন্য আবার একটু বড় পরিসরে প্রস্তুতি নিতে হয়। তবে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এই পরীক্ষাগুলোর কোনো না কোনোটার স্কোর মোটামুটি আবশ্যক বলা যায়। আইইএলটিএস, টোয়েফল, জিআরই, জিম্যাট এবং স্যাট—কোনটা কী কাজে আসে, সেটাই চলুন জানা যাক।

ভাষা দক্ষতার জন্য আইইএলটিএস ও টোয়েফল
ইংরেজি ভাষার দক্ষতা প্রমাণের সনদ হচ্ছে আইইএলটিএস বা টোয়েফল। স্নাতক, স্নাতকোত্তর কিংবা পিএইচডি পর্যায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টোয়েফল স্কোর বেশ গুরুত্বপূর্ণ। টোয়েফল পরীক্ষার মোট স্কোর ১২০। চার ভাগে পরীক্ষা হয়—রিডিং, লিসেনিং, স্পিকিং, ও রাইটিং। টোয়েফল পরীক্ষার ফি ১৮০ ডলার বা প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার টাকা। www.ets.org/toefl সাইটে পরীক্ষার জন্য নাম নিবন্ধন করে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ফি জমা দিতে হয়।
যুক্তরাজ্য, জার্মানি, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের ক্ষেত্রে ভাষা দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে আইইএলটিএস স্কোর জমা দিতে হয়। এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও আইইএলটিএস স্কোর গ্রহণ করা হয়। আইইএলটিএস পরীক্ষার মোট স্কোর ৯। পরীক্ষা হয় চার ভাগে—রিডিং, লিসেনিং, স্পিকিং ও রাইটিং। বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিল ও আইডিপি এডুকেশন অনুমোদিত বিভিন্ন কেন্দ্রে আইইএলটিএসের জন্য নাম নিবন্ধন করা যায় ও পরীক্ষা দেওয়া যায়। আইইএলটিএস পরীক্ষার ফি ১৫৮০০ টাকা।

মেধা-দক্ষতা প্রমাণের জন্য জিআরই
বাংলাদেশে আপনি প্রকৌশল, বাণিজ্য কিংবা কলা অনুষদের যেকোনো বিষয়েই পড়ুন না কেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেকোনো বিষয়ে পড়ার ক্ষেত্রে আবেদনের জন্য জিআরই স্কোর প্রয়োজন হয়। জাপান, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়ার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই জিআরই স্কোর গ্রহণ করা হয়। ৩৪০ নম্বরের এই পরীক্ষায় ভারবাল রিজনিং, কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিং আর অ্যানালিটিক্যাল রাইটিংয়ের ওপর প্রশ্ন থাকে। www.ets.org/gre ওয়েবসাইট থেকে পরীক্ষার জন্য নাম নিবন্ধন করা যায়। জিআরই পরীক্ষার ফি ২০৫ ডলার বা সাড়ে ১৬ হাজার টাকা। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি জমা দিতে হয়। নাম নিবন্ধনের সময়েই নির্ধারিত কেন্দ্র নির্বাচন করে পরীক্ষার সময় ঠিক করে নিতে হয়।

জিম্যাট যাদের জন্য
সাধারণত ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ে পড়াশোনার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে জিম্যাট স্কোর গ্রহণ করা হয়। গ্র্যাজুয়েট ম্যানেজমেন্ট অ্যাডমিশন টেস্টের সংক্ষিপ্ত রূপ হচ্ছে জিম্যাট। ৮০০ নম্বরের এই পরীক্ষায় রাইটিং, ইন্টিগ্রেটেড রিজনিং, কোয়ান্টিটেটিভ ও ভারবাল—এই চার ভাগে প্রশ্ন করা হয়। এই পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে www.mba.com/global সাইটে ২৫০ ডলার বা প্রায় ২০ হাজার টাকা জমা দিয়ে নাম নিবন্ধন করতে হয়।

স্যাট যাদের জন্য
স্যাট হচ্ছে স্কলাস্টিক অ্যাসেসমেন্ট টেস্টের সংক্ষিপ্ত রূপ। বাংলাদেশ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে স্নাতক পর্যায়ে কেউ যদি যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে চান, সে ক্ষেত্রে স্যাট স্কোর প্রয়োজন হতে পারে। www.collegereadiness.collegeboard.org সাইট থেকে বিস্তারিত জানা যাবে। নাম নিবন্ধন করতে ও অনলাইনে ফি জমা দিতেও এই ওয়েবসাইটে ঢুঁ মারতে পারেন।

লক্ষ করুন
* পরীক্ষার জন্য নাম নিবন্ধনের সময় পাসপোর্ট নম্বর প্রয়োজন হয়। এমনকি পরীক্ষার কেন্দ্রে পরিচয় প্রমাণের জন্যও পাসপোর্ট সঙ্গে রাখতে হয়। তাই আবেদনের আগে পাসপোর্ট নিশ্চিত করুন।
* অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে যেকোনো ব্যাংকের আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড কিংবা ডেবিট কার্ড ব্যবহার করতে পারেন।
* যাঁদের ক্রেডিট কার্ড নেই, তাঁরা ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন বেসরকারি সেন্টারের মাধ্যমে নাম নিবন্ধন করতে পারবেন।
* সাধারণত মাস তিনেক আগে সময় নিয়ে আবেদন করা উচিত। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রায় এক-দেড় মাস আগে থেকে নির্দিষ্ট তারিখের জন্য নির্ধারিত আসন পূরণ হয়ে যায়।
* পরীক্ষাগুলোতে ভালো স্কোর পাওয়ার জন্য অন্তত ছয় মাস আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করা উচিত। ইউটিউবের বিভিন্ন টিউটোরিয়াল ভিডিও থেকে কোন পরীক্ষায় কেমন প্রশ্ন হয়, তা নিয়ে সরাসরি ধারণা পাওয়া যাবে।

বিদেশে যেতে ব্যাংক ঋণ পে‌তে করণীয়

বিদেশে গিয়ে কাজ করতে চাইছেন, কিন্তু যাওয়ার পুরো খরচ নেই আপনার হাতে। চিন্তার কোনো কারণ নেই। আপনার পাশে আছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। ব্যাংকটি বিদেশে যাওয়ার জন্য আপনাকে ঋণ দেবে। ঋণের জন্য কোনো স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বন্ধক রাখতে হবে না।

বিদেশে যাওয়ার জন্য বেকার লোকদের ঋণ দিতেই ২০১১ সালে গঠন করা হয় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। যাত্রা শুরুর পর থেকে প্রতিবছর এই ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণকারী বাড়ছে। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম তিন বছরে ব্যাংকটি থেকে ঋণ নিয়েছিলেন বিদেশগামী ৬ হাজার কর্মী, ছয় বছরের মাথায় যা বেড়ে চার গুণ হয়েছে।

তবে ঋণ পেতে চাইলে বৈধ ভিসা থাকতে হবে। ভিসাটা সংগ্রহ করতে হবে নিজেকে, অর্থাৎ ব্যাংক কোনো ভিসা পাইয়ে দেবে না। ভিসা থাকলে ঋণ দেওয়া হবে ভিসার মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে। ঋণের পরিমাণ ১ থেকে ২ লাখ টাকা। ঋণের মেয়াদ সাধারণত ২ বছর। গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে আরও দুই মাস। সব মিলিয়ে ঋণ দেওয়া হচ্ছে ২৬ মাসের জন্য এবং সুদের হার ৯ শতাংশ।

ঋণ পাওয়ার শর্তগুলোও অত কঠিন নয়। বৈধ ভিসার পাশাপাশি বিদেশগামী কর্মীকে যে কোম্পানি কাজ দেবে বা নিয়োগ করবে, সেই কোম্পানির নিয়োগপত্রটা লাগবে। লাগবে সত্যায়িত তিন কপি ছবি, বর্তমান ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানাসংবলিত পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেওয়া সনদ, পাসপোর্ট এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি। আরও লাগবে স্থানীয় বা ঘনিষ্ঠ এক বা একাধিক ব্যক্তির ব্যক্তিগত জামিননামা।

বড় কথা হচ্ছে, আবেদনের তিন দিনের মধ্যে ঋণের প্রক্রিয়া শেষ করে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক আবেদনকারীকে মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা (এসএমএস) দিয়ে জানিয়ে দেয়। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া—এসব দেশের ক্ষেত্রে দুই বছর, তবে সিঙ্গাপুরের ক্ষেত্রে এক বছর।

২০১৪ সালের জুনে প্রকাশিত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ‘অগ্রগতির তিন বছর’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন বছরে ৬ হাজার ৫০০ জন কর্মীকে বিদেশে যেতে ৪৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে এবং ঋণের টাকা আদায়ের হার ৯৭ শতাংশ।

যোগাযোগ করলে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আ ন ম মাসরুরুল হুদা সিরাজী গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিষ্ঠার ছয় বছরে মোট ২৪ হাজার জনকে ঋণ দেওয়া হয়েছে ২৩০ কোটি টাকার মতো এবং আদায়ের হার ৯০ শতাংশ।

বিদেশে যেতে ঋণ চেয়ে যে পরিমাণ আবেদন আসে, টাকার অভাবে সবগুলোতে সাড়া দেওয়া যায় না বলে জানান মাসরুরুল হুদা। তিনি বলেন, ‘তফসিলভুক্ত ব্যাংক হতে পারলে আমরা প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) আনতে পারতাম। তখন ব্যাংকের আয় বাড়ত এবং আরও বিদেশগামী কর্মীর জন্য ঋণ দেওয়া যেত।’

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন বর্তমানে ১০০ কোটি টাকা। তফসিলভুক্ত ব্যাংক হতে গেলে ৪০০ কোটি টাকার দরকার। গত ১৭ এপ্রিল ওয়েজ আর্নারস কল্যাণ বোর্ডের তহবিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ৫০ কোটি টাকার একটি চেক প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের এমডির কাছে তুলে দেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। বাকি ২৫০ কোটি টাকাও সরকার দেবে বলে জানা গেছে।

বাজেট পেশের আগে গত ৩ মে সংসদে উপস্থাপিত সাংসদ মনিরুল ইসলামের (যশোর-২) প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘নতুন তিনটি এনআরবি ব্যাংকও এ ধরনের (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মতো) ঋণ দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বেসরকারি খাতের এই ব্যাংকগুলো হচ্ছে এনআরবি ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক। এর মধ্যে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী তারা এক থেকে তিন বছর মেয়াদে ৩ লাখ টাকা ঋণ দিচ্ছে। তবে এ ঋণের সুদের হার ১৪ শতাংশ।

চাকরির সাক্ষাৎকার: প্র‌য়োজনীয় কিছু টিপস

সাক্ষাৎকার (Interview) কি শুধু মৌখিক কথাবার্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ? কিছু প্রশ্নের উত্তর ঝটপট বলে ফেলা ও নিজের জ্ঞানের গভীরতাকে প্রশ্নকর্তার কাছে জাহির করাটাই একটি সফল সাক্ষাৎকার বলে না। বরং শব্দহীন আচার আচরণ, প্রস্তুতি আর উপস্থাপনার মাঝেও ইন্টারভিউয়ের সফলতা নির্ভর করে। অনেকে মনে করেন চাকরির সাক্ষাৎকারের সফলতার জন্য প্রশ্নের উত্তরগুলো পারার ওপরই সব সফলতা নির্ভর করে। কিন্তু ব্যাপারটা তা নয়। বরং চাকরির সাক্ষাৎকারের সফলতার জন্য একটি বড় অংশ হলো শব্দহীন বা অমৌখিক যোগাযোগ। ইংরেজিতে যাকে বলে Nonverbal Communication. কথা বলার মধ্যেও শারীরিক ভাষা, স্বরভঙ্গি, কথার গতি, মুখের অভিব্যক্তি, বিরতি, শ্বাস ও মুদ্রাদোষ গুরুত্বপূর্ণ। অশাব্দিক যোগাযোগ রক্ষার মধ্যে পোশাক ও সাজগোজও গুরুত্বপূর্ণ।

কেন অশাব্দিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ?

অশাব্দিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ এমনকি অনেক সময় সাক্ষাৎকারের মৌখিক অংশের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। একজন সাক্ষাৎগ্রহণকারী সাক্ষাৎ সময়ের পুরো সময় জুড়ে ইন্টারভিউ প্রদানকারীর শব্দহীন যোগাযোগ ও আচরণগুলো লক্ষ্য করেন। মৌখিক উত্তরগুলো যতই ভালো হোক তার Nonverbal Communication-এর দক্ষতাগুলো যদি সন্তোষজনক না হয় তবে কাঙ্ক্ষিত সফলতা নাও আসতে পারে। ইন্টারভিউ প্রদানকারী যখন অফিসের গেটে প্রবেশ করেন তখনই Nonverbal Communication ইন্টারভিউ শুরু হয়ে যায়। সিগারেট খেতে খেতে কিংবা চুইংগাম চিবাতে চিবাতে গেট দিয়ে প্রবেশ করাটা Nonverbal Communication-এর বিপরীত কাজ। অনেক সময় অতিরিক্ত সুঘ্রাণ ব্যবহার কিংবা সঠিক পোশাক না পরিধান করাও সাক্ষাৎকারে প্রভাব রাখে। আবার এমনটিও দেখা যায় ইন্টারভিউ প্রদানকারী যখন সাক্ষাৎকারের জন্য রুমে অপেক্ষা করছেন তখন মোবাইলে কারও সঙ্গে কথা বলছেন কিংবা হেডফোনে গান শুনছেন যা তার সাক্ষাৎকারের জন্য নেতিবাচক ভূমিকা রাখে। সুতরাং সাক্ষাৎকারে Nonverbal Communication-কে সফল করতে এই বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে।

করণীয়

সাক্ষাৎকারে Nonverbal Communication-কে সফল করতে হলে সাক্ষাৎকারের আগে ও পরে কিছু করণীয় আছে। যেমন সাক্ষাৎকারের আগে পেশাধারী পোশাক পরা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হওয়া, ভালো জুতা পরা, অতিরিক্ত সুগন্ধি ব্যবহার না করা। সাক্ষাৎকারে সময় কিছু জিনিস নিজের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের জন্য নিয়ে আসা এবং কিছু জিনিস বাসায় রেখে আসা। এই বিষয়গুলো ইন্টারভিউ প্রদানকারীর Nonverbal Communication-কে উন্নত করবে।

যে জিনিসগুলো সঙ্গে নিয়ে আসা প্রয়োজন

*কয়েক কপি রেজুমি (RESUME)।
*কয়েকজন রেফারেন্সের লিস্ট (প্রোফেশনাল)।
*কাজের নমুনা কপি (যদি থাকে)।
*নোটপ্যাড ও কলম।
*ব্রেথ মিন্ত (ভবনে প্রবেশের পূর্বে চিবিয়ে আসা। যাতে কথা বলার সময় মুখ থেকে গন্ধ না আসে)।
*একটি ফোল্ডার (সকল কাগজপত্র তথা রেজুমি, রেফারেন্সের লিস্ট, নোটপ্যাড ও কলম রাখার জন্য)।
*কয়েকটি টিসু।

যে জিনিসগুলো সঙ্গে আনা উচিত নয়

*মোবাইল (যদি প্রয়োজনে আনতে হয় তবে ভবনে প্রবেশের আগে বন্ধ করা)
*আইপ্যাড বা আইপড।
*গাম, ক্যানডি, সিগারেট ও সোডা বা কফি।
*পলিসবিহীন জুতা ও অপরিচ্ছন্ন পোশাক।

যখন আপনি সাক্ষাতের জন্য অপেক্ষা করবেন

দেখুন যেভাবে আপনি সাক্ষাতের জন্য অপেক্ষা করবেন, অভ্যর্থনাকারী বা সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন এই সবই সাক্ষাৎকারের অংশ। এ সব সাক্ষাৎকারের সফল হওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বন্ধুত্বসুলভ ও অমায়িক হোন কিন্তু অতিরিক্ত করবেন না। যখন অপেক্ষা করবেন তখন ধৈর্যশীল হয়ে নীরবে অপেক্ষা করুন। মোবাইল ফোনে কথা বা গান শুনবেন না। অপেক্ষা করার সময় যদি আপনার হাত, মুখ ঘেমে যায় তবে রেস্ট রুমে গিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে মুছে নিন। হ্যান্ডশেক করার সময় হাতকে অতিরিক্ত শক্ত বা নরম করতে যাবেন না বরং স্বাভাবিক রাখুন।

সাক্ষাৎকারের সময় করণীয়

সাক্ষাৎকারের সময় প্রশ্নের উত্তর দেওয়া ছাড়াও কিছু জিনিস করণীয় রয়েছে। মূলত এই সবগুলো সঠিকভাবে করতে পারার মধ্যে সাক্ষাৎকারের সফলতা নিহিত। করণীয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—
*সময়ে সময়ে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর চোখে চোখ রাখা।
*সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী কথা বলার সময় মুখে হাসি ভাব রাখা। কিন্তু এটা যেন অতিরিক্ত না হয়। জোরে হাসতে যাবেন না যদি না সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর কোনো কিছু নিয়ে নিজ থেকে প্রথমে হাসির উদ্রেক সৃষ্টি না করেন।
*কথা ও উপস্থাপনার মধ্যে বিনয়ী ভাব রাখুন। খুব জোরে বা খুব আস্তে কথা বলবেন না।
*সাক্ষাৎকার গ্রহণের সময়ে নিজেকে আগ্রহী ও সংযুক্ত রাখুন। চেয়ারে হেলান দিয়ে বসবেন না বরং কিছুটা এগিয়ে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর দিকে মনোযোগী হয়ে বসুন।
*জবুথবু হয়ে বসবেন না। পা মাটিতে রেখে এবং আপনার মেরুদণ্ডকে চেয়ারের শেষ অংশে রেখে সোজা হয়ে বসুন।
*সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর প্রতি পূর্ণ মনোযোগ রাখুন। প্রয়োজনে তার কথার নোট নিতে পারেন।
*সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী যখন কথা বলে মনোযোগ দিয়ে শুনুন। তার কথার মাঝখানে কথা বলবেন না।
*নিজেকে শান্ত ও স্থির রাখুন। কোনো বিষয়ে নিজের রাগ প্রকাশ করতে যাবেন না।

সাক্ষাৎকার শেষে করণীয়

সাক্ষাৎকার শেষে মুখে হাসি রাখুন এবং সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর সঙ্গে দৃঢ় হ্যান্ডশেক করে বের হোন। আসার পথে প্রথমে যাদের সঙ্গে দেখা হয়েছিল যেমন অভ্যর্থনাকারী, অন্যান্য অফিস স্টাফদের বিদায়ী শুভেচ্ছা জানিয়ে আসুন।

কিছু অমৌখিক যোগাযোগের দক্ষতার উদাহরণ

নিচে কিছু অমৌখিক যোগাযোগের দক্ষতার উদাহরণ দেওয়া হলো যেগুলো আপনি ব্যক্তিগতভাবে কিংবা ক্যারিয়ার ক্লাবে চর্চা করে নিজেকে একজন সফল সাক্ষাৎকারের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন।
*সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর প্রতি মনোযোগী হওয়া এবং মনোযোগ সহকারে শোনা।
*সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর কথার মাঝে কথা না বলা।
*একটু সামনের দিকে হেলে বসা যাতে বোঝা যায় আপনি আন্তরিক ও মনোযোগী।
*মাথায় ও মুখে হাত না রাখা।
*অনর্থক হাত-পা না নাড়ানো।
*কথাবার্তার প্রতি পূর্ণ মনোযোগী থাকা।
*সঙ্গে ফোন না নিয়ে আসা যা আপনার মনোযোগকে বিঘ্নিত করতে পারে।
*নিজের পরিচয় দেওয়ার সময় মুখে হাসি রাখা এবং দৃঢ় হ্যান্ডশেক করা।
*নিজের কণ্ঠের মাঝে বিনয়ী ও ভদ্র ভাব রাখা।
*সাক্ষাৎ গ্রহণের সময়ে ঘড়ি, ফোন ও অন্যান্য ডিসপ্লের প্রতি না তাকানো।
*সাক্ষাৎকার গ্রহণকালে যদি একাধিক ব্যক্তি থাকেন তবে সকলের সঙ্গে দৃষ্টি বিনিময় করা।
*যখন সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী কোনো গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন তখন মুখের হাসি ভাব দূর করে তার কথার গুরুত্ব অনুধাবন করা।
*আপনার উত্তরে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর প্রতিক্রিয়া অনুধাবন করা।
*নিজেকে পেশাধারী রূপে উপস্থাপন করা।

মৌখিক সাক্ষাৎকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি মৌখিক সাক্ষাৎকারকে সফল করতে Nonverbal Communicationও গুরুত্বপূর্ণ। আশা রাখি সঠিক চর্চা ও উপস্থাপনা আপনার সাক্ষাৎকারকে সফল করবে।

লেখক: আ হ ম করিম, নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র) |
© প্রথম আ‌লো

রোজার ক‌য়েক‌টি শারী‌রিক উপকারীতা

শুরু হয়েছে পবিত্র মাস রমজান। রমজান হচ্ছে ত্যাগ, প্রার্থনা, উদারতা এবং আত্মত্যাগের মাস।

আমরা সবাই কমবেশি রমজানের সময় প্রার্থনা ও উপবাসের আধ্যাত্মিক উপকারগুলো সম্পর্কে সচেতন। কিন্তু আপনি হয়ত জানেন না দীর্ঘ একমাসব্যাপী রোযা রাখা কেন আপনার জন্য সর্বোত্তম? হ্যাঁ, এর কয়েকটি বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে। চলনু দেখে নেই এই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাগুলো।

খারাপ আসক্তি থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে

রমজানের সঙ্গে রয়েছে আত্মনিয়ন্ত্রণের সম্পর্কে। খারাপ, অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ত্যাগ করার শ্রেষ্ঠ সময় হচ্ছে পবিত্র রমজান। পবিত্র এই মাসে ৩০ দিনের জন্য আপনি যাবতীয় আসক্তি ছেড়ে দেয়ার পরে পুনরায় ওই পথে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আপনার মধ্য অনুভব নাও হতে পারে।

আপনার শরীর নতুন পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বা খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম হবে। তাই খারাপ আসক্তি ছাড়ার জন্য রমজান হচ্ছে একটি আদর্শ সময়।

আপনার ক্ষুধাকে কমিয়ে দেয়

৩০ দিনে সংযমে দিনের বেলায় আহার থেকে বিরত থাকায় এটি ধীরে ধীরে আপনার পেটকে অনেক সঙ্কুচিত করে দেয়। এতে করে আপনার মধ্য অল্প অল্প স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পূর্ণ আগ্রহ জন্মাবে।

আপনি যদি আপনার খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে চান সেক্ষেত্রে রমজান হচ্ছে আপনার জন্য উত্তম সময়। এটি আপনাকে অতি প্রয়োজনীয় খাদ্যতালিকা পুনর্বিন্যাসের জন্য উৎসাহ প্রদান করবে। পবিত্র মাস শেষ হয়ে গেলে এটি আপনার মধ্য কম ক্ষুধা অনুভূত হবে এবং আপনি বেশি বেশি খাওয়ায় প্ররোচিত হবেন না।

শরীর অধিক পুষ্টি উপাদান শোষণ করে

রমজানের সময় দীর্ঘ সময়ের জন্য রোজা আপনার বিপাকক্রিয়াকে উন্নত করে এবং আপনার শরীরকে খাদ্য থেকে আরো অধিক মাত্রায় পুষ্টি শোষণ করার সক্ষমতা এনে দেয়। এটি আপনার শরীরে ‘অ্যাডিয়েপনেক্টিন’ নামক হরমোন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে; যা দিনের বেলায় উপবাস এবং রাতের বেলায় দেরি করে আহারের সংমিশ্রণে উৎপন্ন হয়। এই হরমোন আপনার মাংসপেশিকে আরো পুষ্টি শোষনের সুযোগ করে দেয়।

রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

গবেষণায় দেখা গেছে তিন দিনের জন্য উপবাস কেবল আপনার রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতাকেই বৃদ্ধি করে না, বরং এটি পুনরুৎপাদন ক্ষমতাকেও বাড়িয়ে দেয়। যখন কয়েক ঘন্টার জন্য আপনার পাকস্থলী কোনো খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকে তখন এটি মানুষের শরীরকে আরো অধিক শ্বেত রক্তকোষ উৎপন্ন করতে উৎসাহিত করে; যা আপনার রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

এটা শরীরের স্টেম সেলগুলোকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে এবং পুরো রোগ প্রতিরোধক সিস্টেমকে পুনর্নির্মাণ করতে শুরু করে।

ফ্যাট বা চর্বির ভাঙ্গন

ভোর রাত থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রোজা গ্লুকোজকে ব্যবহার করার মাধ্যমে শরীরকে মেদহীন করে তুলে। গ্লুকোজ হচ্ছে চর্বির শক্তির প্রধান উৎস। এছাড়াও, এটি অপরিহার্য প্রোটিনের জন্য পেশির ভাঙ্গন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

চর্বি শক্তির জন্য ব্যবহার করা হলে তখন তা ওজন কমাতে সহায়তা করে এবং অবশেষে এটি আপনার শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রাকে হ্রাস করে। ওজন হ্রাসের ফলে এটি ডায়াবেটিস এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

খালি পেটে লিচু খেলে মৃত্যু হতে পারে!

হাইপোগ্লাইসিন নামক রাসায়নিকের কার‌ণে খালি পেটে লিচু খেলে শিশুর মৃত্যু হতে পারে।

২০১৫ সালের ২৯ মে থেকে ১৮ জুনের মধ্যে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা গেছে ১১ শিশু। ওদের বয়স ছিল দেড় থেকে ছয় বছর। এই ঘটনার আগে ও পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে মৌসুমী ফল খেয়ে আরো অনেক শিশু মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভারতেও ১৯৯৫ সাল থেকে এভাবে শিশুর মৃত্যুর খবর আসছে। তবে শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভরা পেটে শিশুরা লিচু খেলে কোনো সমস্যা নেই।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) গবেষকরা এতদিন কারণ হিসেবে লিচু বাগানে ছিটানো কীটনাশক ও রাসায়নিকের কথা বলে আসছিলেন। তবে সমপ্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে খালি পেটে লিচু খেলেই শিশুদের শরীরে বিষক্রিয়া দেখা দেয়।
ভারতের বিহারে দুই বছর আগে মৌসুমী ফল লিচু খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ৩৯০টি শিশু। তার মধ্যে ১২২ জনই মারা গিয়েছিল। গবেষকরা এখন বলছেন, খালি পেটে লিচু খাওয়ার ফলেই তাদের শরীরে বিষক্রিয়া দেখা দিয়েছিল।
লিচু মৌসুমী ফল হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হলেও, ভারত ও বাংলাদেশের কিছু এলাকায় শিশুর মৃত্যুর কারণ হিসাবে লিচু থেকে বিষক্রিয়ার প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, ভারতের বিহার রাজ্য এবং বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অনেক শিশুর মৃত্যুর কারণ এটি। আন্তর্জাতিক চিকিত্সা বিজ্ঞান পত্রিকা ‘ল্যানচেট’-এর সাম্প্রতিক সংখ্যায় প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে এই তথ্য উঠে এসেছে। খালি পেটে অনেকগুলো লিচু খেয়ে ফেললে শরীরে যে বিষ তৈরি হয়, তার ফলেই সুস্থ-সবল শিশুদের হঠাত্ খিঁচুনি আর বমি শুরু হয়। তারপরেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে তারা। আর এভাবে আক্রান্ত হওয়া অর্ধেকেরও বেশি শিশু মারা যায়।
বিহারে ‘লিচু রোগ’ বা বাংলাদেশের কোথাও কোথাও ‘অজানা কীটনাশকের প্রয়োগ’—কেই এসব শিশুমৃত্যুর কারণ বলে মনে করা হতো এতদিন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে যে মৃত্যুর কারণটা লুকিয়ে থেকেছে ‘লিচু’ ফলের মধ্যেই। লিচুতে হাইপোগ্লাইসিন নামে একটি রাসায়নিক থাকে, যা শরীরে শর্করা তৈরি রোধ করে। খালি পেটে অতিরিক্ত লিচু খেয়ে ফেললে শিশুদের শরীরে শর্করার পরিমাণ অত্যন্ত কমে গিয়ে তা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিহারের ঘটনায় বিজ্ঞানীরা প্রত্যেকটি শিশুর চিকিত্সা সংক্রান্ত তথ্য খুঁটিয়ে দেখে এই সিদ্ধান্তে এসেছেন যে, ওই বাচ্চাগুলো আগের রাতে খাবার খায়নি অথবা কম খেয়েছিল। পরের দিন রাস্তায় পড়ে থাকা, নষ্ট হয়ে যাওয়া অথবা অপরিপক্ব লিচু একসঙ্গে অনেকগুলো খেয়ে ফেলেছিল তারা। তারপরেই অসুস্থ হয়ে পড়ে বাচ্চাগুলো।
মে থেকে জুলাই মাসেই লিচুর ফলন হয়ে থাকে। আর ওই সময়েই শিশুরা ওই উপসর্গ নিয়ে মারাও যায় সব থেকে বেশি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, অপরিপক্ব লিচু বা লিচু জাতীয় ফল খেয়েই যে বিষক্রিয়ায় বহু শিশু মারা যায়, সেটা অনেক দিন আগেই ক্যারিবিয়ান দ্বীপে গবেষণায় জানা গিয়েছিল। এরপর ‘জামাইকান ভমিটিং সিকনেস’ নামের ওই রোগটির ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য ভারত ও বাংলাদেশসহ এশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়েছে, বলছে ‘ল্যানচেট’।

বস্তির ছেলে যেভা‌বে কোটিপতি

হাইয়ুক জন্মগ্রহন ক‌রেন একটি টেক্সটাইল কারখানা লাগোয়া বস্তিতে। স্কুলজীবনও শেষ করতে পারেননি। কিন্তু তিনিই এখন একজন কোটিপতি উদ্যোক্তা। তাঁর পু‌রো নাম ব্যাং জুন-হাইয়ুক। তাঁর গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নেটমার্বেল গেমস করপোরেশন গত সাত বছরের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় আইপিও সংগ্রহ করেছে। বর্তমানে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪০০ কোটি ডলার।

দক্ষিণ কোরিয়ার মূল প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় বড় পদে রয়েছেন বিভিন্ন ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্যরা। এখানে বংশানুক্রমিক রাজত্ব চলে। কিন্তু ব্যাং জুনের কাহিনি একেবারেই আলাদা। তিনি ২০০০ সালে প্রথম কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠান নেটমার্বেল কাজ করে মোবাইল গেম নিয়ে। গুগল প্লে স্টোরে এই কোম্পানির তৈরি মোবাইল গেমের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। বিশেষ করে লিনিয়েজ ২ রেভল্যুশন ও মার্বেল ফিউচার ফাইট নামের গেম দুটি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।

নেটমার্বেলের ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে ব্যাংয়ের দখলে। কিছুদিন আগে আইপিও থেকে তিনি আয় করেছেন প্রায় ২৯০ কোটি ডলার। পড়াশোনা বেশি দূর না হওয়ায় এখনো ইংরেজিতে খুব একটা দক্ষ নন এই কোটিপতি। তবে গেম–সংক্রান্ত বিভিন্ন সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন হরহামেশা। গত বছরের জুনে লস অ্যাঞ্জেলেসে ইথ্রি গেমিং এক্সপোতে গেম দুনিয়ার হর্তাকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। বিশ্বখ্যাত ব্যবসা সাময়িকী ফোর্বস ব্যাং জুনকে এশিয়া অঞ্চলের উদীয়মান উদ্যোক্তা হিসেবে অভিহিত করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো ব্যাং জুনকে তুলনা করে স্টিভ জবসের সঙ্গে। অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতার জীবনের সঙ্গে কিছুটা মিলও আছে ব্যাংয়ের। স্টিভের মতোই নিজের প্রতিষ্ঠান ছেড়ে একবার চলে গিয়েছিলেন তিনি। স্টিভ অ্যাপল ছাড়লেও প্রযুক্তি খাত ছাড়েননি। কিন্তু গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে ব্যাং নিয়েছিলেন কফিশপের ব্যবসা! এরপর আবার ফিরে আসেন নেটমার্বেলে। আর বনে যান কোটিপতি উদ্যোক্তা।

ব্লুমবার্গ ইন্টেলিজেন্সের বিশ্লেষক অ্যানথিয়া লাই বলেন, ‘বাজার সম্পর্কে নিজের ভালো ধারণা ও নেতৃত্ব গুণেই কোম্পানিকে বর্তমান অবস্থায় নিয়ে এসেছে ব্যাং। বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে প্রয়োজন মতো অংশীদারত্বও তৈরি করেছেন তিনি।’

মাত্র আটজন কর্মী নিয়ে নেটমার্বেল শুরু করা এই ব্যবসায়ী নিজের গরিব থাকার দিনগুলো নিয়ে বলতে পছন্দ করেন না। পছন্দ করেন না গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতেও। তিনি শুধু নিজের কাজটাই করে যেতে যান।

নকল ডিম খাচ্ছেন না তো? জেনে নিন চেনার উপায়

ভারতের পাশাপা‌শি বাংলা‌দে‌শের বাজারেও বিক্রি হচ্ছে প্লাস্টিকের ডিম। আর এই খবর ছড়াতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। যে ডিম খাচ্ছেন তা কি আসল? কী করে বুঝবেন? সত্যিই কি বাইরে থেকে চেনা সম্ভব আসল ও প্লাস্টিকের ডিম?

চীনা ওয়েবসাইট চায়নাহাশ.কম-এর দাবি হ্যাঁ সম্ভব। একটু সতর্ক হলে প্লাস্টিকের ডিম চিনতে পারেন আপনি নিজেই। তবে হাতের কাছে একটা আসল ডিম থাকলে কাজটা সহজ হয়।

বাইরে থেকে‌ কীভাবে চিনবেন নকল ডিম ?

* নকল ডিমের খোল আসলের থেকে একটু বেশিই চকচকে;

* চকচকে হলেও আসল ডিমের থেকে বেশি খসখসে নকল ডিমের খোল;

* নকল ডিম কানের কাছে ধরে জোরে ঝাঁকালে শব্দ শুনতে পাবেন;

* আসল ডিমের মতো আঁশটে গন্ধ নেই;

ফাটানো হয়ে গেলে কী করে চিনবেন নকল ডিম ?

* ডিমের খোলায় চাপ দিলে তা আসল ডিমের মতো কুড়মুড়ে আওয়াজ করবে না;

* নকল ডিম ফাটানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই স্পর্শ না করলেও নিজে থেকেই মিশে ‌যাবে কুসুম ও ডিমের সাদা অংশ;

* নকল ডিম ‌যদি সরাসরি গরম পাত্রের ওপরে ফাটান তাহলে ফাটানোর সময় কুসুম আস্ত থাকলেও পাত্রের গরমের সংস্পর্শে আসতেই তা নিজে থেকে ফেটে ‌যাবে। ‌যা আসল ডিমের ক্ষেত্রে কখনোই সম্ভব নয়। আসল ডিমে আস্ত কুসুম গরম পাত্রে পড়লে তা কিছুক্ষণের মধ্যেই জমে ‌যায়।