রাসূলুল্লাহ (সা:) প্রবর্তিত ইসলামী শরীয়তের বৈশিষ্ট্য

রাসূলুল্লাহ (সা:) যে শরীয়ত নিয়ে আগমন করেছিলেন, তা ছিল দুনিয়ার জন্য সর্বশেষ ও অবিনশ্বর শরীয়ত। এই চিরস্থায়ী ও চিরন্তন এবং সর্বশেষ শরীয়তের জন্য এটাও জরুরি ছিল যে, শরীয়তের এমন এক চিরস্থায়ী বিধানের মূল উৎস অবশ্যই থাকবে যা সবকিছুর নিয়ন্ত্রক বলে বিবেচিত হবে। এ জন্য এই সর্বশেষ অহীয়ে ইলাহী স্বীয় কিতাবকে নিধানাবলীর নীতি নির্ধারণ এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার আকর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং শাখা-প্রশাখার ক্ষেত্রে এই কিতাবের আয়াত সমূহে এমন সকল ইঙ্গিত-ইশারা বিধৃত আছে, যার ধারা প্রবাহ প্রজ্ঞা ও জ্ঞান এবং মনীষার আলোকে সমুজ্জ্বল।
যাদের অন্তর জ্ঞান-বিজ্ঞানে পরিপূর্ণ, যাদের সমগ্র বক্ষ সম্প্রসারিত এবং আল্লাহর সাহায্য প্রাপ্ত ব্যক্তিগণ তাদের মনীষা ও অনুভূতি অনুযায়ী আল-কোনআনের ইঙ্গিতপূর্ণ নিদের্শাবলী যথার্থভাবে হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন। তাই মহান আল্লাহ পাক মর্যাদার আসন সর্বপ্রথম আম্বিয়াদেরকে প্রদান করেছেন। যেহেতু তাঁরা সর্বোতভাবে মা’সুম ও ত্রুটিমুক্ত সেহেতু তাদের পদ-মর্যাদা ও তাদের প্রসূত সিদ্ধান্ত ও পরিণাম ফলগুলোও সামগ্রিকভাবে ত্রুটিমুক্ত।
তারপর রাসূলুল্লাহ (সা:)-এর উসীলায় এই দায়িত্ব ও কর্তব্য খোলাফায়ে রাশেদীন, আকাবেরে সাহাবা, ইমামগণ, তাবেয়ীন, তাবে-তাবেয়ীন, মুজতাহেদীন এবং ওলামায়ে ইসলাম সবসময় লাভ করে আসছেন। এর ব্যবহারিক নাম হচ্ছে, ‘ইজতেহাদ।’ যাকে প্রত্যেক যুগের নুবওতের জ্ঞানে বিরঞ্জিত পবিত্রত্মাগণ এবং শরীয়তের গোপন রহস্যাবলীর ধারকগণ আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞানানুশীলন মোতাবেক তাঁর অহীর আলো সম্প্রসারণের দায়িত্বকে আঞ্জাম দিয়েছেন এবং দিতে থাকবেন। এ কারণেই মহান আল্লাহ পাক কুরআনুল কারীমের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের জিম্মাদারীও নিজের উপর সমর্পণ করেছেন।
আল-কুরআনে ঘোষণা করা হয়েছে, ‘তাড়াতাড়ি ওহী আয়ত্ত করার জন্য তুমি তোমার জিহবাকে এর সাথে সঞ্চালন করো না। তা সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব কেবলমাত্র আমারই। সুতরাং যখন আমি তা পাঠ করি, তুমি সেই পাঠের অনুসরণ কর। তারপর এর বিশদ ব্যাখ্যার দায়িত্ব আমারই।” (সূরা কিয়ামাহ : রুকু-১)
এই বয়ান ও বিশ্লেষণের জিম্মাদারী কখনো অহীর দ্বারা সম্পন্ন হয়েছে যা আল-কুরআনে বিবৃত রয়েছে। এবং কখনো তা রাসূলুল্লাহ (সা:)-এর কাজ ও কথার দ্বারা পরিপূর্ণতা লাভ করেছে, যা অবিচ্ছিন্ন বর্ণনা বিন্যাসের মাধ্যমে আহাদীস ও সুনানের কিতাবসমূহে বিধৃত আছে। প্রকৃতপক্ষে এই বয়ান ও বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা আল্লাহপাকের তরফ হতে রাসূলুল্লাহ (সা:)-কে পরিপূর্ণভাবে প্রদান করা হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে আল-কুরআনে ঘোষণা করা হয়েছে, “এবং তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করেছি মানুষকে সুস্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য, যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছিল, যাতে তারা চিন্তা করে।” (সূরা নহল : রুকু-৬)
আরবী ভাষায় বয়ান এবং ‘তাবয়ীন’ শব্দদ্বয়ের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে, উন্মুক্ত করা এবং সুস্পষ্ট করা। এবং এর ব্যবহার দুটি অর্থে হয়ে থাকে। প্রথমত : ঘোষণা এবং প্রকাশ করার অর্থে। অর্থাৎ যা লুক্কায়িত রাখার বিপরীত। দ্বিতীয়ত : বিশ্লেষণ করা ও ব্যাখ্যা করার অর্থে। আল-কুরআনে ‘তাবয়ীন’ শব্দটিকে দু’টি অর্থেই ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এতে করে এই মর্ম উদঘাটন করা যে, কোন্ আয়াতে কি মর্ম তুলে ধরা হয়েছে? তা পূর্বাপর আয়াতগুলোর মাধ্যমেই নির্ধারণ করা যায়। যেমন আল-কুরআনে বিশেষভাবে ঘোষণা করা হয়েছে, “হে কিতাবধারীগণ! আমার রাসূল তোমাদের নিকট আগমন করেছেন; তোমরা কিতাবের যা গোপন করতে তিনি তার অনেক কিছু তোমাদের নিকট প্রকাশ করেন এবং অনেক কিছু উপেক্ষা করেন। ” (সূরা মায়িদাহ : রুকু-৩)
এই আয়াতে ‘তাবয়ীন’ শব্দটি পরিষ্কারভাবে গোপন করা বা প্রচ্ছন্ন করার বিপরীতে উপস্থাপিত হয়েছে। এ জন্য এই আয়াতে ‘তাবয়ীন’ শব্দের অর্থ হচ্ছে প্রকাশ করা ও ঘোষণা করা। কিন্তুু আল-কোরাআনের সূরা নহলে শব্দটি এভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে, “আমি তোমার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি যারা এ বিষয়ে মতভেদ করে তাদেরকে সুস্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য এবং মুমিনদের জন্য পথ নির্দেশ ও দয়াস্বরূপ।” (সূরা নহল : রুকু-৮)

বস্তুুত : যেখানে এখতেলাফ বা মত-বিরোধ দেখা দেয়, সেখানে প্রকাশ করা ও ঘোষণা করাই যথেষ্ট নয়। বরং সেখানে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণেরও প্রয়োজন আছে। কেননা যে বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়, সে বিষয়ের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের পর মতবিরোধ দূর হয়ে যায়। তাই প্রথমোক্ত আয়াতের উপর চিন্তা করা দরকার যা এই সূরার অন্য একস্থানে বিবৃত হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে, “এবং তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করেছি মানুষকে সুস্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছিল, যাতে তারা চিন্তা করে।” (সূরা নহল : রুকু-৬)
তবে এক্ষেত্রে এই প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়া স্বাভাবিক যে, এই আয়াতে ‘বয়ান’ করার অর্থ প্রকাশ করা অথবা ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করা। আমাদের মতে এখানে প্রকাশ করার পরিবর্তে চিন্তা ও গবেষণার যোগসূত্রের আলোকে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ কথাটি গ্রহণ করাই যথার্থ হবে। কেননা গোপন কাজের প্রকাশ করাকে শ্রবণ করা ও মেনে নেয়ার উপযোগী বলে বিবেচনা করা যায়। কিন্তু একে চিন্তা ও গবেষণা বলে ধরে নেয়া যায় না। চিন্তা ও গবেষণা করার জন্য এক্ষেত্রে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে। শুধু প্রকাশ করা ও ঘোষণা করাই যথেষ্ট নয়।
এক্ষেত্রে যেহেতু আল-কুরআনে নির্দেশাবলীর ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের ক্ষমতা ও দায়িত্ব মহান আল্লাহপাকের তরফ হতে রাসূলুল্লাহ (সা:)-কে প্রদান করা হয়েছিল, সেহেতু তাঁর প্রদত্ত ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের এবং নির্দেশাবলীর পায়রুবী ও অনুসরণ করাও আল্লাহপাকের নির্দেশ প্রতিপালন বলেই সাব্যস্ত হবে। রাসূলুল্লাহ (সা:)-এর পাক জবানে যে সকল ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ প্রকাশ পেয়েছে তা মূলত : তাঁর নূরে হেকমতের ফল্গুধারা মাত্র। যার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত আমরা আল-কুরআনের বিভিন্ন স্থানে পেয়ে থাকি।
মানুষের ভাষা ও শব্দাবলীর মাঝে এই শক্তি ও সামর্থ নেই যে, এগুলোর দ্বারা এমন এক কানুন প্রতিষ্ঠা করা যায় যা একদিকে বুদ্ধি ও বিবেচনার বিরোধ হতে মুক্ত হবে এবং অপরদিকে তার মাঝে এমন এক সঙ্গতি থাকবে যা ভবিষ্যতে সংঘটিতব্য বিষয়াবলীর বিবরণ পূর্ণভাবে বিদ্যমান পাওয়া যাবে।
এরূপ হওয়া মোটেই সম্ভব নয়। কিন্তু আইন ও বিধানের ক্ষেত্রে মানবিক বুদ্ধি ও বিবেচনাপ্রসূত যে সকল মতপার্থক্য ও দুর্বলতা দেখা যায়, তা যদিও সার্বিকভাবে দূর করা যায় না, তবুও এর মাত্রা ও পরিমাণ অবশ্যই কমানো সম্ভব। ইসলাম স্বীয় কানুনে ইলাহীর দ্বারা যা মানবমুখের ভাষার সাথে সম্পৃক্ত এই বুদ্ধি-বিবেচনাপ্রসূত ত্রুটিসমূহ দূর করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা:)-এর জবানের দ্বারা ব্যবহারিক জীবনে আল-কুরআনের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে যদিও মানবিক স্মৃতিশক্তি ও বর্ণনা বিন্যাসের উপকরণাদির ত্রুটি এবং দুর্বলতার দরুন এ সকল ব্যাখা বিশ্লেষণেও বুদ্ধি-বিবেচনাপ্রসূত মত-পার্থক্য দেখা দিয়েছে, তবুও একথা স্বীকার করে নিতে হবে যে, যদি এ সকল ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ না পাওয়া যেত, তাহলে বিরোধপূর্ণ বিষয়াবলীর সমুদ্র গভীর হতে গভীরতর হয়ে উঠত।
এ জন্য ইসলামে প্রাত্যহিক জীবনের ঘটমান বিক্ষিপ্ত ঘটনাবলীর ফায়সালার ধারা এভাবে উন্মুক্ত করা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা:)-এর আদালতে প্রত্যহ ও জাতীয় মোকদ্দমা ও ঘটনাবলী পেশ করা হত এবং তিনি অহীয়ে কিতাবের মৌলিক বিধানের আলোকে দুরদর্শীতা ও প্রজ্ঞা-মনীষার দ্বারা এগুলোর ফায়সালা করতেন। এমনকি খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলেও সদ্য সমুপস্থিত ঘটনাবলীর ও সমস্যাবলীর ফায়সালার জন্য প্রথমত : কিতাবী অহীকে এবং তারপর রাসূলুল্লাহ (সা:)-এর ঐ সকল ফায়সালা ও সিদ্ধান্তকে মানদন্ড হিসেবে গ্রহণ করতেন যা তাঁর নবুওতী প্রজ্ঞা, দূরদর্শীতা এবং আল্লাহর অনুমোদন সূলভ সম্মতির মাধ্যমে প্রকাশ পেত। আর এটাই ছিল সমস্যা সমাধানের মোক্ষম উপায়।
পরবর্তীকালে ফুকাহা ও মুজতাহেদীনে কেরাম এই নিয়মতান্ত্রিকতাকেই গ্রহণ করেছিলেন এবং আংশিক ও বিচ্ছিন্ন ঘটনাবলীর চূড়ান্ত ফায়সালা, কিতাবে ইলাহী ও ফায়সালায়ে নবুবীর সাথে সঙ্গতি রেখে প্রদান করেছেন।

যদি তাদের সামনে এমন কোন সমস্যা পেশ করা হত, যার সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায় না, অথবা যার উদাহরণ লাভ করা খুবই মুস্কিল, এসকল ক্ষেত্রে তারা সাধারণ ন্যায়-নীতি ও ইনসাফ মোতাবেক এবং উপস্থিত বুদ্ধি-বিবেচনা ও মঙ্গলকর অবস্থার পর্যালোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। এই সিদ্ধান্তসমূহের সমষ্টিকেই বর্তমানে ফিকাহ শাস্ত্র বলা হয় যা শরীয়তের একমাত্র মানদন্ড হিসেবে সুপরিচিত।

তাবলীগ ও দাওয়াত :
একজন নবীর সর্বপ্রথম ও অবশ্য পালনীয় দায়িত্ব হচ্ছে তাবলীগ এবং দাওয়াত। অর্থাৎ যে সত্য তিনি আল্লাহর নিকট হতে লাভ করেছিলেন তা অন্যান্যদের নিকট পৌঁছে দেয়া এবং যে জ্ঞান তাঁকে প্রদান করা হয়েছিল, তা সম্পর্কে অন্যান্যদেরকে অবহিত করা। আল্লাহর যে পয়গাম তাঁর নিকট পৌঁছেছিল, তা মানুষকে শুনিয়ে দেয়া। তিনি তাঁকে যে সত্যতা সম্পর্কে বা খবর করেছিলেন, তা সম্পর্কে সমগোত্রীয়দের অবহিত করা। যে সম্পদ, যে প্রাণশক্তি, যে বাকশক্তি, যে চিন্তাশক্তি, যে আত্মিক ও চারিত্রিক শক্তি তাঁকে দান করা হয়েছিল, সেগুলো দাওয়াত ও তাবলীগের পথে ব্যয় করা এবং এই বুঝানো, শিখানো ও সত্য পথে আনয়নের ক্ষেত্রে সত্যতার অভিব্যক্তিকে গ্রহণ করা। আর এই ঘোষণা ও দাওয়াতের মাঝে যে সকল বেদনা ও কষ্ট প্রতিবন্ধক হোক, তাকে শান্তির পরশ বলে বিবেচনা করা। যে যন্ত্রণাই দেখা দিক, তাকে আরাম মনে করা। এই প্রান্তরের বিষাক্ত কাঁটার আঘাতকে ফুলের পরশ বলে মনে করা। এই সত্য আহবানকে স্তিমিত করার জন্য যে শক্তিই মাথা তুলুক না কেন তা পদদলিত করা। মাল ও দৌলত, পরিবার, পরিজন মোট কথা, যে কোন জিনিস এই সফরে সামনে আসুক তা হটিয়ে দেয়া এবং তাঁর যাবতীয় চেষ্টা ও তদবীরের উদ্দেশ্য একমাত্র আল্লাহর রেজামন্দি, সৃষ্টিজগতের কল্যাণ সাধন এবং রিসালতের দায়িত্ব নিষ্পন্ন করা ছাড়া কিছুই না হওয়া। আম্বিয়াদের দাওয়াত ও তাবলীগের মূলমর্ম হচ্ছে এই যে, এই পৃথিবীতে যত পয়গাম্বর আগমন করেছেন, তাঁরা নিজেদের দায়িত্বকে এতই আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করেছেন যে, একটি মুহূর্তের জন্যও তাঁরা এতে শৈথিল্য প্রদর্শন করেননি। কারণ বর্তমান বিশ্বে আল্লাহর মহব্বত, ভ্রাতৃপ্রেম ও ভ্রাতৃস্নেহ, মানবিক সহমর্মিতা, নি:স্বদের সাহায্য করা, গরীবদের সাহায্য করা এবং অন্যান্য পুণ্য কর্মকান্ডের যে বিকাশ দেখতে পাওয়া যায়, সেগুলো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে নবী ও রাসূলদের দাওয়াত ও তাবলীগ, চেষ্টা ও সাধনার শুভ ফলমাত্র। এই পৃথিবীতে বহু বড় বড় চিন্তাবিদ বড় বড় কবি, নামী-দামী দার্শনিক নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য বলতে বুঝেন অন্যকে বুঝিয়ে দেয়া, বড় জোর জানিয়ে দেয়া। কিন্তুু আম্বিয়ায়ে কেরাম যে সত্যকে লাভ করেন, তা অন্যান্যদের বুঝানো এবং সম্ভাব্য সকল পন্থায় তা প্রচার করা এবং দুনিয়ার মানুষকে তা বিশ্বাস করানোর জন্য তারা নিজেদের সার্বিক শক্তি নিয়োগ করেন। এমনিভাবে তাঁরা প্রত্যেক বিপদকে উপেক্ষা করে, মূল সত্যকে সমুন্নত করার লক্ষ্যে প্রাণপণ কাজ করেছেন এবং অন্ধজনকে পথের দিশা দেখিয়েছেন। তাই আম্বিয়ায়ে কেরামের প্রশংসা করে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছেন, ‘তারা আল্লাহর বাণী প্রচার করত এবং তাঁকে ভয় করত এবং আল্লাহকে ছাড়া কাউকে ভয় করত না, আর হিসাব গ্রহণে আল্লাহই যথেষ্ট। (সূরা আহযাব : রুকু-৫) হযরত মূসা (আ:)-কে হুকুম দেয়া হয়েছিল, “ফেরাউনের কাছে গমন কর, কেননা সে বিরুদ্ধাচরণ করেছে।” (সূরা ত্বাহা) আর রাসূলুল্লাহ (সা:)-কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, পয়গামে রাব্বানীকে নির্ভয়ে প্রচার করুন। দুশমনদের ভয় মোটেই করবেন না। কেননা তাঁর হেফাজতের দায়িত্ব শাহন শাহে দো-আলম আল্লাহ নিজেই গ্রহণ করেছেন। ইরশাদ হচ্ছে, “হে রাসূল! আপনার প্রতিপালকের নিকট হতে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা প্রচার করুন। যদি তা না করেন তাহলে আপনি তাঁর বার্তা প্রচার করলেন না। আল্লাহ পাক আপনাকে মানুষ হতে রক্ষা করবেন।” (সূরা মায়িদাহ : রুকু-১০)
আম্বিয়ায়ে কেরামের তাবলীগ ও দাওয়াতের মাঝে খোশ-খবরী প্রদান ও ভীতি-প্রদর্শন উভয়টিই থাকে। তাবসীর অর্থাৎ খোশ-খবরী দেয়া, আশার বাণী শোনানো এবং এনজার অর্থাৎ আল্লাহর জালালের প্রতি ভীতি-প্রদর্শন করা, আল্লাহর আজাবের ভয় দেখানো এবং মানুষকে তাদের খারাপ পরিণাম সম্পর্কে সচেতন করা। আম্বিয়াদের আগমন এই দায়িত্ব পালনের জন্য নির্ধারিত হয় এজন্য যে, আল্লাহর প্রমাণ উপস্থাপন বান্দাহদের প্রতি যেন পরিপূর্ণ হয়ে যায়। আল-কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে, আমি “সুসংবাদবাহী ও সাবধানকারী রাসূল প্রেরণ করেছি, যাতে রাসূল আগমন করার পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোন অভিযোগ না থাকে। এবং আল্লাহ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।” (সূরা নিসা : রুকু-২৩)

আম্বিয়ায়ে কেরাম পয়গামে ইলাহী পৌঁছানোর সাথে সাথে নিজেদের মঙ্গলাকাঙ্খা, আন্তরিকতা ও একনিষ্ঠতার ঘোষণাও করেছেন। ইরশাদ হচ্ছে, “আমি আমার প্রতিপালকের বাণী তোমাদের নিকট পৌঁছে দিচ্ছি এবং আমি তোমাদের একজন বিশ্বস্ত হিতাকাঙ্খী।” (সূরা আ’রাফ : রুকু-৯) অপর এক আয়াতে ঘোষণা করা হয়েছে, “তারপর সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! আমি আমার প্রতিপালকের বাণী তোমাদের নিকট পৌঁছিয়েছিলাম এবং তোমাদেরকে হিতোপদেশ দিয়েছিলাম; কিন্তু তোমরা হিতকাঙ্খীদেরকে পছন্দ কর না।” (সূরা আ’রাফ : রুকু-১০) মহান আল্লাহ পাক আরোও ঘোষণা করেছেন, “এবং হে আমার সম্প্রদায়! আমার প্রতিপালকের বাণী আমি তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি এবং তোমাদেরকে উপদেশ দিয়েছি, সুতরাং আমি অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য কেমন করে আক্ষেপ করি?” (সূরা আ’রাফ : রুকু-১১) অন্যত্র আরোও ঘোষণা করা হয়েছে, “হে আমার সম্প্রদায়! এর পরিবর্তে আমি তোমাদের নিকট ধন-সম্পদ কামনা করি না। আমার পারিশ্রমিক আল্লাহরই নিকট সংরক্ষিত।” (সূরা হুদ : রুকু-৩) একই সূরার সামনে অগ্রসর হয়ে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, “হে আমার সম্প্রদায়! আমি এর পরিবর্তে তোমাদের কাছে পারিশ্রমিক চাই না, আমার পারিশ্রমিক আল্লাহর নিকট আছে, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা হুদ : রুকু-৫)

‘ডেনিম’ মোস্তাফিজ

প্রথমআলো: দিনে চাকরি আর রাতে কম্পিউটারে ক্রেতা খোঁজা। চার-পাঁচ মাস ধরে এভাবেই চলছে জীবনের ঘড়ি। ভাগ্যের শিকে কিছুতেই ছিঁড়ছে না। রাত সাড়ে নয়টার দিকে হঠাৎই একদিন নেদারল্যান্ডসের এক ক্রেতার ই-মেইল, ‘কাল সকাল নয়টায় কি গুলশানে আমার সঙ্গে হোটেলে দেখা করতে পারবে?’

ঘটনা সতেরো বছর আগের। চট্টগ্রামের রাতের সব বাস ততক্ষণে ঢাকার উদ্দেশে বেরিয়ে গেছে। যাব কি যাব না, কীভাবে যাব—ভাবতে ভাবতে বাসা থেকে বেরিয়ে গেলেন। রাত ১১টার দিকে মহাসড়কে এসে চালককে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে উঠে পড়লেন পণ্যবাহী এক ট্রাকে। ভোরে ঢাকায়, সোজা হোটেলের অভ্যর্থনাকক্ষে।

ক্রেতা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে দেখলেন, পুঁচকে এক ছোকরা। নাহ্, একে দিয়ে হবে না—এমন মনোভাব নিয়ে নাশতা খাইয়ে বিদায় করে দিতে চাইলেন। কিন্তু নাছোড়বান্দা তরুণটি অকপটেই বললেন, ‘আমার কোনো কারখানা নেই, কিন্তু আত্মবিশ্বাস আছে। অন্তত একটি নমুনা বানানোর সুযোগ আমাকে দিন।’ ২৩ বছরের তরুণের সেই আত্মবিশ্বাস দেখে কিছুটা সদয় হলেন বিদেশি সেই ক্রেতা। টেবিলে একটি জিনস ট্রাউজার রেখে বললেন শিগগিরই নমুনা বানিয়ে পাঠিয়ে দিতে।

দারুণ খুশিতে চট্টগ্রামে চলে এলেন ওই তরুণ। কিন্তু কোনো কারখানাই যে নমুনা বানাতে চাইছে না। কেউ বিশ্বাস করতে পারছে না এই ছোকরাকে। অগত্যা একটি সেলাইমেশিন ভাড়া করে পাহাড়তলীতে বাবার ছোট দোকানে এলেন। চেনা এক কারিগরকে দিয়ে নমুনা তৈরি হলো। সেই নমুনা দেখে চলে এল ৩ হাজার জিনস তৈরির কাজ।

সেদিনের ২৩ বছরের যুবক চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ইপিজেডের ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজ উদ্দিন। তাঁর ব্যবসার অংশীদার নেদারল্যান্ডসের সেই ক্রেতা এগবার্ট বোভেনহুইস। নিজের প্রতিষ্ঠানের নামের মতোই মোস্তাফিজ সত্যিকারের ডেনিম বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছেন। ব্লুএক্সঅনলি নামে নিজস্ব ব্র্যান্ডের জিনস রপ্তানি করছেন বিদেশে। একটি উদ্ভাবনীকেন্দ্রও করেছেন, যেখানে প্রতিবছর হাজারখানেক নিত্যনতুন নকশার জিনস তৈরি হচ্ছে।

কিন্তু মোস্তাফিজ উদ্দিনের বিশেষত্ব অন্যত্র। চার বছর ধরে তিনি দেশের ভেতরে সফলভাবে আয়োজন করে চলেছেন আন্তর্জাতিক মানের একটি প্রদর্শনী। সেটির পোশাকি নাম ডেনিম এক্সপো। অলাভজনক এই প্রদর্শনীর জন্য ক্রেতাদের টানতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ক্রেতা-প্রতিষ্ঠানের দ্বারে দ্বারে যান। বিশ্বের বড় বড় প্রদর্শনীতে অংশ নেন কপালে লাল-সবুজ পতাকা বেঁধে।

মোস্তাফিজের ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেড গত বছর ১ কোটি ৭০ লাখ ডলারের জিনস রপ্তানি করেছে, দেশীয় মুদ্রায় যা ১৩৬ কোটি টাকার সমান। ১৯৯৯ সালে ঘটনাচক্রে একটি বায়িং হাউসে মোস্তাফিজ চাকরি শুরু করেছিলেন ৩ হাজার টাকা বেতনে। ১৯৯৮ সালে মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ করে দেশে ফেরার সময় তাঁর স্বপ্ন ছিল বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার। যা হোক, চাকরিটি একসময় ছেড়েও দেন। তখনই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন ব্যবসা করবেন। চাইলেই তো সব হয় না। ১২ বছর বয়সে বাবা মারা গেছেন। মায়ের পীড়াপীড়িতে চাকরি খুঁজতে নামলেন। রাতে চলল কম্পিউটারে বসে ক্রেতা খোঁজা।

পাহাড়তলীতে বাবার দোকানেই মোস্তাফিজ প্রতিষ্ঠা করলেন এমএএস ইন্টারন্যাশনাল নামের বায়িং হাউস, সাতজন তরুণকে নিয়ে। জিনসের ক্রয়াদেশ আসছে। বিভিন্ন কারখানায় তৈরি হয়ে চলে যাচ্ছে। সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়লেও জায়গা কিনে কারখানা করার মতো যথেষ্ট নয়। শেষে এগবার্টকে ব্যবসায়িক অংশীদার করলেন। তত দিনে চট্টগ্রাম বন্দরের পাশে কর্ণফুলী ইপিজেড হয়েছে।

খোঁজখবর নিয়ে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) ঢাকা কার্যালয়ে ঘোরাঘুরি শুরু করলেন মোস্তাফিজ। কিন্তু কেউ পাত্তা দেন না। নাছোড়বান্দা মোস্তাফিজ কর্মকর্তাদের পিছু পিছু ঘোরেন। একদিন বেপজার চেয়ারম্যানের নজরে পড়ে কপাল খুলে গেল। কারখানা করার জন্য একসঙ্গে পাঁচটি প্লট পেলেন।

কারখানা নির্মাণে শুরু থেকেই শ্রমিকের নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়েছিলেন। দোতলা মূল কারখানা ভবন ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয়। জিনসের কারখানায় প্রক্ষালন (ওয়াশিং) খুব গুরুত্বপূর্ণ। এতে প্রচুর পানি দরকার। ভবনের সামনের পার্কিংয়ের নিচের পুরো অংশজুড়ে গড়ে তুললেন বিশাল পানির ট্যাংক। ৩ কোটি ২০ লাখ গ্যালন পানি তাতে ধরে রাখা যায়। ধরে রাখা হয় বৃষ্টির পানিও। এতে ২০ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। বয়লার ও রাসায়নিক গুদামের জন্য আলাদা ভবন। বর্জ্য পরিশোধনে আছে ইটিপি।

২০০৯ সালে পরীক্ষামূলক এবং পরের বছর পুরোদমে উৎপাদন শুরু হয় ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডে। কারখানাটিতে শ্রমিক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ২ হাজার। প্রাইমার্ক, জারা, ম্যাঙ্গোসহ আটটি ব্র্যান্ডের জন্য তাঁরা প্রতিদিন ১২ হাজার পিস জিনস তৈরি করেন। চলতি বছর তাঁদের লক্ষ্যমাত্রা ১ কোটি ৯০ লাখ ডলারের জিনস রপ্তানি।

দেশে থাকলে প্রতিদিন সকাল নয়টার মধ্যে কারখানায় ঢুকে পড়েন কাজপাগল মোস্তাফিজ। দিনের বেশির ভাগ সময়ই তাঁর কাটে ওয়াশিং বিভাগে। সেখানকার শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে উদ্ভাবন করেন নতুন নতুন নকশার জিনস। কারখানার এই বিভাগই তাঁর সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। কেন? মোস্তাফিজ বলেন, ‘ওটাই আসল জায়গা। কারণ আমরা নিজেদের নকশায় জিনস উৎপাদন করি।’

মোস্তাফিজের কারখানার কিছু বিশেষত্ব আছে। নারী শ্রমিকেরা ছয় মাসের বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি পান। ঈদে-পার্বণে শ্রমিকেরা পান নতুন জামা-কাপড়। শ্রমিকদের যাতায়াতের জন্য আছে বাসের ব্যবস্থা। অসুস্থ শ্রমিকেরা পান চিকিৎসা খরচ। নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুনদেরই বেশি প্রাধান্য দেন মোস্তাফিজ।

ব্যবসায় কিছুটা থিতু হতেই জার্মানি, স্পেনসহ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে নিজের নকশার জিনস নিয়ে হাজির হতে শুরু করেন মোস্তাফিজ। এসব প্রদর্শনীতে অংশ নিতে নিতেই তাঁর মাথায় আসে নতুন ভাবনা। দেশের ভেতরেই কি বিশ্বমানের ডেনিম প্রদর্শনী করা যায় না? তাহলে তো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য বিদেশি ক্রেতাদের কাছে তুলে ধরতে পারে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নতুন কিছু শিখতেও পারে। সেই থেকে শুরু ঢাকার ডেনিম এক্সপো।

২০১৪ সালের নভেম্বরে ঢাকার র‍্যাডিসন হোটেলে বাংলাদেশসহ ১৪ দেশের ৫০টি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে প্রথম ডেনিম এক্সপো আয়োজন করলেন। এ বছরের মে মাস পর্যন্ত এর ছয়টি চমকপ্রদ আয়োজন হয়েছে। তবে ডেনিম এক্সপো নিয়েও মোস্তাফিজকে কম কাঠখড় পোড়াতে হয়নি। প্রথম দিকে প্রদর্শনীর আমন্ত্রণ জানাতে গেলে কেউ ঢুকতে দিত না। তখন তাঁরা ইউরোপে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে প্রচার-প্রচারণা ও আমন্ত্রণ জানাতে শুরু করলেন। তাঁদের প্রতিনিধিদের বললেন ডেনিম এক্সপোতে অংশ নিতে। এতে কাজ হলো। ধীরে ধীরে জমতে শুরু করল প্রদর্শনী।

নকশায় নতুনত্ব ছাড়া জিনসের ব্যবসায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। তাই বছর দেড়েক আগে মোস্তাফিজ ডেনিম ইনোভেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছেন। নিয়োগ দিয়েছেন ২৫ জন তরুণকে। এ বছর সেখানে প্রায় ৯০০ নতুন নকশার জিনস তৈরি হয়েছে। অন্য কারখানাও এসব নকশা কিনে নিয়ে জিনস উৎপাদন করছে।

কারখানা প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকে ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেড সাধারণত ৫ থেকে ৮ ডলারে জিনস তৈরি করত। এখন সেটি ৮ থেকে ১৬ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। এই উন্নতি হয়েছে নকশায় নতুনত্ব আনায়। মোস্তাফিজ বলেন, ‘আমি কারখানা বাড়াতে চাই না। এই কারখানা দিয়েই বছরে ২ থেকে ৪ কোটি ডলারের পোশাক আমি রপ্তানি করতে চাই।’

মোস্তাফিজ অবসর সময়ে অন্তর্জাল ঘেঁটে দেখেন কোন দেশে ডেনিমের কোন ধারা চলছে। ভবিষ্যতে কী আসছে। মানুষটার প্রতিটি দিনক্ষণ আগাগোড়া ডেনিম দিয়ে মোড়া। তাঁর নামটাও তাই পাল্টে গেছে খানিকটা। দেশ-বিদেশের অনেকেই তাঁকে ডাকেন ‘ডেনিম মোস্তাফিজ’।

লেখক: শুভংকর কর্মকার: সাংবাদিক।

বাংলালিংক আনলিমিটেড ইন্টারনেট অফার- ১৯টাকায়!

বাংলা‌লিংক দি‌চ্ছে আন‌লি‌মি‌টেড ইন্টার‌নেট মাত্র ১৯ টাকায়, ৪ঘন্টার জন্য!

বাংলালিংক সিমে ৪ ঘন্টা আনলিমিটেড ইন্টারনেট ১৯ টাকা অফারের বিস্তা‌রিতঃ

আপনার জন্য বাংলালিংক নিয়ে এসেছে খুবই আকর্ষণীয় ও সাশ্রয়ী ডাটা প্যাক অফার! ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ মাত্র ১৯ টাকায় একটানা ৪ ঘন্টা ইন্টারনেট ব্যবহার করুন বাধাহীন।

আপনি মাত্র ১৯ টাকায় ৪ ঘন্টা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। এখন ইন্টারনেট ডাটা শেষ হবার দিন শেষ। ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে এখন আর দিন রাত বাধা নেই। যখন ইচ্ছে তখনই প‌রিপূর্ণ ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন ।

বাংলা‌লিংক গ্রাহকরা মাত্র ১৯ টাকায় একটানা ৪ ঘন্টা ইন্টার‌নেট ডাটা ব্যবহার করতে পারবে।
১ জিবি ইন্টার‌নেট ব্যবহারের পর ফেয়ার ইউজেস পলিসি প্রযোজ্য এবং ডাটা স্পিড হয়ে যাবে 128kbps।
বাংলা‌লিংক ইন্টার‌নেট অফার‌টি অ্যাকটিভ করতে ডায়াল করুন  *5000*773#


#banglalink Hourly Data Pack, bl 19 tk 4 hour Internet, 4 hour Internet 19 tk, #বাংলালিংকে ৪ ঘন্টা ইন্টারনেট ১৯ টাকায়, বাংলালিংকে ঘন্টা হিসাবে ইন্টারনেট প্যাক।

বাংলা‌লিংক ইন্টারনেট অফার- ৯৮TK@৫GB এবং ৪৫TK@২GB

বাংলা‌লিংক ধামাকা ইন্টারনেট অফার!
বাংলা‌লিংক গ্রাহকগণ পা‌চ্ছেন; মাত্র ৯৮ টাকায় 5GB ইন্টার‌নেট, যার মেয়াদ ৭ দিন এবং ৪৫ টাকায় 2GB ইন্টার‌নেট, যার মেয়াদ ৩ দিন।

মাত্র ৯৮ টাকায় 5GB, মেয়াদ ৭ দিন এবং ৪৫ টাকায় ২ জিবি, মেয়াদ ৩ দিন
বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্য নিয়ে এসেছে দারুণ এক ইন্টারনেট অফার, একদম সাশ্রয়ী দামে! এখন মাত্র ৪৫ টাকায় আপনি পাচ্ছেন ২জিবি ইন্টারনেট, যার মেয়াদ ৩ দিন আর ৫ জিবি ইন্টারনেট মাত্র ৯৮ টাকায়, যার মেয়াদ ৭ দিন ।

বাংলা‌লিংক মাত্র ৯৮ টাকায় 5GB, মেয়াদ ৭ দিন:
5GB প্যাকটি কিনতে হলে গ্রাহককে একবারে ৳৯৮ রিচার্জ করতে হবে অথবা *5000*584# ডায়াল করতে হবে।
অফারটির মেয়াদ অ্যাক্টিভেশনের দিনসহ সাত দিন।
ইন্টারনেট প্যাকটির ব্যালেন্স জানতে ডায়াল *5000*500# (*5000*584# ডায়াল করে অ্যাক্টিভেশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) অথবা *124*50# (৳৯৮ রিচার্জের মাধ্যমে অ্যাক্টিভেশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)

বাংলা‌লিংক মাত্র ৪৫ টাকায় 2GB, মেয়াদ ৩ দিন:
2GB প্যাকটি কিনতে হলে গ্রাহককে একবারে ৳৪৫ রিচার্জ করতে হবে অথবা *5000*583# ডায়াল করতে হবে
অফারটির মেয়াদ অ্যাক্টিভেশনের দিনসহ তিন দিন।
ইন্টারনেট প্যাকটির ব্যালেন্স জানতে ডায়াল *5000*500# (*5000*583# ডায়াল করে অ্যাক্টিভেশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) অথবা *124*50# (৳৪৫ রিচার্জের মাধ্যমে অ্যাক্টিভেশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)

বাংলা‌লিংক অফা‌রের বিস্তারিত:
বাংলা‌লিং‌কের এই অফারটি শুধু প্রি-পেইড এবং কল অ্যান্ড কন্ট্রোল ব্যবহারকারীদের জন্য প্রযোজ্য।
প্যাকের মেয়াদ থাকাকালীন ইন্টারনেট ভলিউম শেষ হয়ে গেলে ৳০.০১২১৭৫/10KB হারে চার্জ প্রযোজ্য হবে।
এই অফারটি সীমিত সময়ের জন্য।

বিপিএলের সব তথ্য পাওয়ার অ্যাপ (BPL Live Score)

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসর নিয়ে ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে ইতোমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। অনেকেই জানতে চাইছেন কোন দলে কে খেলছেন, খেলার সময়সূচী ও টিকেট কেনার তথ্য কোথায় পাওয়া যাবে।

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চোখ রাখতে হচ্ছে সংবাদপত্রের খেলার খবরে। স্মার্টফোনের এ যুগে তথ্য খোঁজার কাজটি সহজ করে দিয়েছে একটি অ্যাপ্লিকেশন। এটি ফোনে ডাউনলোড করা থাকলেই জানা যাবে বিপিএলের সব খবর। এটির নাম ‘বিপিএল সময়সূচী’। তৈরি করেছে দেশীয় স্টার্টআপ ট্রিং অ‍্যাপ ল‍্যাব।

অ‍্যাপ্লিকেশনটির ফিচার সমূহ:

* অ‍্যাপটিতে বিপিএল ২০১৭ খেলার সময়সূচী, তারিখ, সময় ও খেলার ভেন্যুসহ আরও বি‌ভিন্ন তথ‍্য জানা যাবে।

* বি‌পিএল'র যে‌কোন খবর জানা যা‌বে।

* খেলার চলার সময় লাইভ স্কোর দেখা যাবে।

* অ‍্যাপটির সাহায‍্যে বিপিএল বিষয়ক খেলার সব খবর জানা যাবে।

* বিপিএলের সকল দল ও খেলোয়াড়দের নাম রয়েছে অ‍্যাপটিতে।

* অ‍্যাপের মাধ‍্যমে জানা যাবে বিপিএল লাইভ পয়েন্ট স্কোর ও রেকর্ড বিষয়ক সব তথ্য।

* অ‍্যাপটিতে মিলবে টিকেটের মূল্য এবং টিকেট কেনার তথ‍্য সমূহ।

* অ‍্যাপটিতে রয়েছে প্রতিদিনের খেলা শুরু হওয়ার আগে এবং ম্যাচের সর্বশেষ তথ্য জানাতে নিয়মিত পুশ নোটিফিকেশনের সুবিধা।

বি‌পিএল ক্রি‌কেট অ্যাপ (BPL Cricket App)

এই ঠিকানা থেকে গুগল প্লে স্টো‌রের ৫ রেটিং প্রাপ্ত অ‍্যাপ্লিকেশনটি বিনামূল‍্যে ডাউনলোড করে ব‍্যবহার করা যাবে।




#বি‌পিএল-২০১৭ (#BPL-2017)

মহানবীর (সা:) চিকিৎসা নীতি

নয়া‌দিগন্ত: সুস্থতা আল্লাহর নিয়ামত। অসুস্থতাও আল্লাহর নিয়ামত। সুস্থতা ও অসুস্থতা দু’টি বিপরীত অবস্থা। সুস্থতার জন্য ব্যক্তিকে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আত্মিক প্রশান্তি লাভ করতে হয়। বিপরীতে অসুস্থতা ব্যক্তির শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আত্মিক যন্ত্রণায় নিপতিত হতে হয়। তারপরও কেন অসুস্থতা নিয়ামত? নবী (সা:) বলেন, মুসলমান কোনো যাতনা, রোগ-কর্ম, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, নির্যাতন ও শোকের শিকার হলে, এমনকি তার দেহে কাঁটাবিদ্ধ হলেও এর বদলে আল্লাহ তায়ালা তার গুনাহ মাফ করে দেন (বুখারি)। অর্থাৎ রোগ হচ্ছে গুনাহর কাফফারা। রোগ কর্মের বিনিময় ঈমানদার তার গুনাহ থেকে পবিত্রতা অর্জন করে।

নবী (সা:) আরো বলেছেন, আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে মুসিবতে ফেলেন (বুখারি)। আয়েশা (রা:) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা:)-এর চেয়ে রোগ-যাতনা বেশি ভোগ করতে আর কাউকে দেখিনি (বুখারি)।

আবদুল্লাহ (রা:) বলেন, আমি নবী (সা:)-এর অসুখের সময় তার খেদমতে আসলাম এবং তাকে স্পর্শ করলাম। (দেখলাম) তার ভীষণ জ্বর। আমি বললাম, আপনার অত্যধিক জ্বর উঠেছে। কারণ আপনার সওয়াবও দ্বিগুণ। নাবী (সা:) বললেন, হ্যাঁ, কোনো মুসলমান যখন কোনো কষ্ট ভোগ করবে তখন তার গুনাহগুলো ঝরে যায়। যেমন ঝরে যায় বৃক্ষের পাতাগুলো (বুখারি)।

রোগ যন্ত্রণায় মানুষ অস্থির হয়ে যায়। আরোগ্যের আশায় চিকিৎসকের কাছে দৌড়াদৌড়ি করে। মনের মধ্যে চিকিৎসক এবং ওষুধকে আরোগ্যদাতার আসনে বসিয়ে দেয়। অথচ রোগেরও সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ। আরোগ্যদাতাও আল্লাহ। এ জন্য নবী (সা:) রোগের সময় অস্থির হতে নিষেধ করেছেন। ধৈর্য ধারণের উপদেশ দিয়েছেন। একবার রাসূল (সা:) এক রুগ্ণ ব্যক্তিকে দেখতে গিয়ে তাকে বলেন, অস্থির হবেন না, ইনশাল্লাহ পাক-পবিত্র হয়ে যাবেন (রোগ যন্ত্রণার দ্বারা), বুখারি।

আরেকবার এক মৃগী রোগী (মহিলা) নবী (সা:)-এর কাছে এসে বলল, আমি মৃগী রোগী। রোগাক্রান্তের সময় আমার কাপড় খুলে যায়। আমার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। নবী (সা:) তাকে বললেন, তুমি চাইলে ধৈর্য ধারণ কর, তোমার জন্য বেহেশত রয়েছে। মহিলাটি বলল, আমি ধৈর্য ধারণ করব (বুখারি)।
আনাস ইবনে মালেক (রা:) বলেন, আমি নবী (সা:)-কে বলতে শুনেছি : আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, যখন আমি আমার কোনো বান্দাকে তার অতিপ্রিয় দু’টি বস্তু অর্থাৎ তার চক্ষুদ্বয়ের ব্যাপারে পরীক্ষায় ফেলি এবং সে সবর করে তখন এর বিনিময়ে তাকে আমি বেহশত দান করি (বুখারি)।

রোগ যন্ত্রণা এক ধরনের বিপদ। এ সময় রোগের প্রকারভেদে মানুষের মনে অস্থিরতা, হতাশা এবং আরোগ্য বিষয়ে নানা কুমন্ত্রণা কাজ করে। কঠিন ব্যাধি, যেমন ক্যান্সার কিংবা যক্ষ্মার মতো রোগ মানুষকে নানাবিধ মানসিক হতাশায় নিমজ্জিত করে। রোগ আরোগ্য রোগীরা বহুবিধ চিকিৎসার দারস্থ হয়। অনেক রোগীর মনে থাকে না যে, রোগ আরোগ্যের মালিক একমাত্র আল্লাহ। ‘আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো বিপদ আসে না (আত-তাগাবুন-১১)’। আল্লাহ যদি তোমাকে কষ্ট দিতে চান তাহলে তিনি ছাড়া তা দূর করার কেউ নেই (ইউনুস-১০৭)’।
আল্লাহ তার প্রিয় বান্দাদের ভয়, ক্ষুধা এবং ধনসম্পদ, জীবন ও ফলফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা পরীক্ষা করেন (আল বাকারা-১৫৫)। এ ধরনের বিপদে যারা বলে থাকে আমরা আল্লাহরই জন্য, আর আমরা তারই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী (আল বাকারা-১৫৬), তারাই সফল ব্যক্তি। আর আল্লাহ মুমিন বান্দাদের ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়ার কথা বলেছেন (আল-বাকারা-১৫৩), কুরআনে আরো বলা হয়েছে, ‘মুমিনদের উচিত আল্লাহর ওপর ভরসা করা (ইব্রাহিম-১১) বিপদ মুসিবতে আল্লাহর প্রিয় বান্দারা শুধু আল্লাহকেই একনিষ্ঠভাবে ডাকতে থাকে (আয-যুমার-৮)’।

আল্লাহ ছাড়া বান্দার আর কেউ সাহায্যকারী নেই। যারা আল্লাহ ভিন্ন অন্য কাউকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে তাদের অবস্থা মাকড়সার মতো (আনকাবুত-৪১)।

মূল কথা হচ্ছে, মহানবী (সা:)-এর চিকিৎসা নীতিতে রোগের আরোগ্যদাতা একমাত্র আল্লাহ। রোগের সৃষ্টিকর্তাও আল্লাহ। মহানবী (সা:) চিকিৎসা গ্রহণকে বৈধ বলেছেন। কিন্তু ওষুধ ও চিকিৎসকের ওপর ভরসা না করে আল্লাহর ওপর ভরসা করতে বলেছেন মহানবী (সা:)। আমরা চিকিৎসা ক্ষেত্রে মহানবী (সা:)-এর নীতিমালাকে অনুসরণ করলে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আত্মিক উন্নয়ন করতে পারব।

লেখক : ইসলামিক সাইকোথেরাপি ফিচার

শনিবার থেকে দেশের ৫-১৬ বছর বয়সী শিশুকে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানো হবে

আগামী শনিবার থেকে দেশের পাঁচ থেকে ১৬ বছর বয়সী চার কোটি ছয় লাখ শিশুকে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানো হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) অনুমোদিত এসব কৃমিনাশক নিরাপদ বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।

দুই ধাপে স্কুলগামী, স্কুল বহির্ভূত এবং স্কুল থেকে ঝড়ে পড়া প্রতিটি শিশুকে একডোজ কৃমিনাশক (মেবেন্ডাজল) বিনামূল্যে খাওয়ানো হবে।

৪ থেকে ৯ নভেম্বর দেশের প্রাথমিক পর্যায়ের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঁচ থেকে ১২ বছর বয়সী সব শিশুকে এবং দ্বিতীয় ধাপে ১৬ থেকে ২৩ নভেম্বর দেশের সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিত ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুকে ওই ওষুধ খাওয়ানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পাঁচ থেকে ১৪ বছরের শিশুদের মধ্যে কৃমি সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের সহায়তায় ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুদেরও কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কৃমির ওষুধ খেলে বমি বমি ভাব হতে পারে। এছাড়া পেট ও মাথা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এগুলো বড় ধরনের কোনো সমস্যা নয় এবং এগুলো দীর্ঘক্ষণ থাকে না।

অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজদ বলেন, কৃমি নিয়ে মানুষের মধ্যে এখনও এক ধরণের আশঙ্কা কাজ করে। কৃমিনাশক ওষুধগুলো খাওয়ানো হচ্ছে তা মানসম্মত। ওষুধের মান নিয়ে কোনো সংশয় নেই। কৃমিনাশক খাওয়ার পর কোনো উপসর্গ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের কাছে যাবার পরামর্শ দেন তিনি।

খালি পেটে কৃমিনাশক ওষুধ না খাওয়া, ওষুধ খাওয়ার পর বেশিক্ষণ রোদে না থাকা, পিটি বা প্যারেড না করার পরামর্শ দেন ডা. সানিয়া তাহমিনা।

আগেরবার কৃমির ওষুধ খেয়ে শিশুদের অসুস্থ হওয়ার বিষয়টিকে ‘গণ মনস্তাত্বিক সমস্যা’ (ম্যাস সাইকোজোনিক ইলনেস) উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেখা গেছে, মাধ্যমিক স্কুলের শিশুদের একজনের দেখাদেখি অন্যরাও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। অক্টোবর মাসে এই সপ্তাহ উদযাপন করার কথা থাকলেও পর্যাপ্ত ওষুধ মজুদ না থাকায় তা পিছিয়ে নভেম্বর মাসে পালিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।