চাকরি খুঁজে পাওয়ার কার্যকরী উপায়

বাংলাদেশে চাকরি খোঁজা এখন আর খুব একটা কঠিন কাজ নয়। আপনি যদি এই মুহূর্তে চাকরির খোঁজে থেকে থাকেন, হোক সেটা আপনার প্রথম চাকরি অথবা আপনার ১০ নাম্বার চাকরি তবে আপনি সঠিক- জায়গায় এসেছেন। আপনি যদি কিছু টিপস অনুসরণ করেন তবে আপনি নিজেকে একজন সুদক্ষ চাকরি সন্ধানী রূপে গড়ে তোলার জন্য প্রস্তুত হয়ে উঠতে পারেন।

বাংলাদেশে চাকরি খুঁজে পাওয়ার কিছু সহজ টিপস
বাড়ি থেকেই চাকরি খোঁজা শুরু করুন :
আপনার পরিবারের সদস্যদের কাছেই হয়ত চাকরির অনেক সম্ভাব্য চাকরিদাতার লিংক থাকতে পারে যা সম্পর্কে আপনার কোনো ধারণাই নেই। সুতরাং চাকরি খোঁজার সুবাদে প্রথম এবং সবচেয়ে সহজ জায়গাটি হল নিজের বাড়ি। আপনার বাবা-মা, ভাই-বোনদের, চাচা-মামা-খালু, চাচি-মামী-খালা ইত্যাদি আত্মীয়-স্বজনদের প্রশ্ন করুন যে তাদের এমন কোনো পরিচিত সূত্র আছে কিনা যেখান থেকে তারা আপনাকে চাকরির সন্ধান এনে দিতে পারে। আত্মীয়-স্বজনদের কাছে সরাসরি চাকরি না চেয়ে আপনি তাদের কাছে নিজের যোগ্যতা তুলে ধরতে পারেন। এর উদ্দেশ্য হল আপনার উপর আপনার আত্মীয়-স্বজনদের ইতিবাচক ধারণা তৈরি করা যাতে করে তারা আপনাকে চাকরিদাতার কাছে রেফার করতে পারেন।
আপনার নিজস্ব নেটওয়ার্ক ব্যবহার করুন :
আপনি যখন চাকরির সন্ধান করতে যাবেন তখন আপনার বন্ধু এবং সহকর্মীরাই আপনাকে অনেক সহায়তা করতে সক্ষম হবে। তারা যদি এমন কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন যেখানে আপনিও কাজ করতে ইচ্ছুক তবে অবশ্যই তাদেরকে জানান এবং কোনো সুযোগ থাকলে আপনাকে রেফার করার কথা বলুন। এমনও যদি হয় যে তারা আপনাকে আপনার মন মত সাহায্য করতে পারছেন না তবে অন্তত সে প্রতিষ্ঠানে কোনো চাকরির সুযোগ রয়েছে কিনা তা সম্পর্কে জেনে নিন। চাকরি সন্ধান করার আরেকটি কার্যকারী উৎস হল অ্যালামনাই। এমনও যদি হয় যে আপনি আপনার স্কুল বা ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন ছাত্রদের ব্যক্তিগতভাবে চিনেন না, তবুও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা মঙ্গলজনক। নিজেকে একই স্কুল বা ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে পরিচয় দিন এবং আপনি যে একই ধরণের মন-মানসিকতা ও মানসম্পন্ন বৈশিষ্ট্যের ধারক তা প্রকাশ করুন। আপনাদের মধ্যে যদি সর্বজনীন কিছু থেকে থাকে তবে তা আপনার চাকরি পাবার সম্ভাবনাকে ত্বরান্বিত করতে সক্ষম হবে।
ইন্টারনেটই আপনার সেরা বন্ধু :
বাংলাদেশে চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে ইন্টারনেট একটি অন্যতম সেরা বিকল্প। বিগত কিছু বছর ধরে চাকরির বিজ্ঞাপন প্রদানের জন্য বিভিন্ন ওয়েবসাইট নির্মাণের নিরলস প্রয়াস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকের কাছে ফেইসবুক হচ্ছে চাকরির সন্ধান করার প্রথম কোনো ওয়েবসাইট। ফেইসবুক গ্রুপগুলোতে অজস্র চাকরির সুযোগের সন্ধান রয়েছে, তবে সেগুলো জানতে আপনাকে সবসময় চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। এই গ্রুপগুলো ছাড়াও আপনি কিছু চাকরি সংক্রান্ত ওয়েবসাইট, যেমন Bikroy-এ বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের বাইরে চাকরির সন্ধান পাবেন। এ ওয়েবসাইটগুলোর মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন সুবিধাও রয়েছে যার মাধ্যমে আপনি যেখানেই থাকুন না কেন, খুব সহজেই চাকরির বিজ্ঞাপনগুলোতে নজর রাখতে পারবেন। আরেকটি উত্তম উপায় হচ্ছে একটি LinkedIn প্রোফাইল রাখা, কেননা এর মাধ্যমে আপনি সহজেই বেশ গোছানো ভঙ্গিমায় আপনার দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা প্রদর্শন করতে পারবেন।
খবরের কাগজের বিজ্ঞাপন দেখুন :
আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশে খবরের কাগজ এখনও প্রাসঙ্গিক। প্রায় সব খবরের কাগজেই একটি পৃথক কলাম থাকে যেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের চাকরির বিজ্ঞাপন প্রদান করে থাকে। যদিও প্রিন্ট মিডিয়াতে চাকরির বিজ্ঞাপন প্রদানের হার ক্রমাগত কমছে, তবুও এখন পর্যন্ত এই পুরনো পন্থা চাকরির সন্ধান করার জন্যে বেশ কার্যকর।
নিজেই নিজেকে চাকরি দিন অর্থাৎ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ শুরু করুন :
অনেক সময়ই আমরা হয়ত কর্মক্ষেত্র পরিবর্তন করে থাকি এবং কখনও অফিসের গতানুগুতিক সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারি না। এমন অনেক উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তি আছেন যারা অফিসের গতানুগুতিক সংস্কৃতির সাথে খাপ খাওয়াতে না পারার দরুন ভাল মানের কাজ করতে পারছেন না। এ ধরণের ব্যক্তিরা ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করতে পারেন। এর অর্থ হল আপনি আপনার সুবিধামত একই সময়ে একাধিক ক্লায়েন্ট বা কোম্পানির হয়ে কাজ করতে পারবেন। অন্যদিকে, একজন ব্যক্তি নিজেই একটি ব্যবসা শুরু করতে পারেন। তবে ব্যবসায়ের অবকাঠামো অবশ্যই নির্ভর করবে ব্যবসা কি ধরণের হবে এবং কি পরিমাণ মূলধন নিয়ে সেটি শুরু করা যাবে তার উপর। যদিও ব্যবসাকরাটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ তবে এই ঝুঁকি নিয়ে সঠিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে সক্ষম হলে তা হবে লাভজনক। বহু স্থানীয় ব্যবসায়ী ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। এই পন্থাটি অত্যন্ত কঠিন হলেও বেশ ফলপ্রসূও বটে।

চাকরির সন্ধান করা শুনতে হয়ত অনেক সহজ একটি ব্যাপার মনে হতে পারে কিন্তু চাকরির বাজার যদি মন্দা থাকে তবে সেক্ষেত্রে এটি প্রকৃত অর্থেই বেশ চ্যালেঞ্জিং একটি বিষয়। তবে আপনি অবশ্যই নিরাশ হবেন না এবং সবসময় চেষ্টা করতে থাকবেন। আপনি যদি চাকরি পেতে সক্ষম না হয়ে থাকেন তবে ভলান্টিয়ার বা ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করুন, এতে করে আপনি একাধারে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন এবং কানেকশন বৃদ্ধি করতে পারবেন যা আপনাকে একসময় প্রকৃত চাকরির সুযোগ এনে দেবে।

আপনাকে ওয়েবসাইটের ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন সম্পর্কেও সচেতন থাকতে হবে। আপনার যদি কোনো কিছু সন্দেহজনক মনে হয় তবে সেগুলো এড়িয়ে চলুন। আশা করা যায়, এই টিপসগুলো যদি আপনি মেনে চলেন তবে আপনার চাকরি খোঁজার প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ হয়ে যাবে।

ইফতারে লেবু! জে‌নে নিন উপকারীতা কি কি

তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও দিনের দৈর্ঘ্য বাড়ছেই। তাই অনেকক্ষণ সংযমের পর এমন দিনে ইফতারে চাই পুষ্টি ও স্বাস্থ্যকর খাবার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইফতারে ভাজাপোড়া না খাওয়াই ভালো। বরং বুদ্ধিমানের কাজ হবে ফলমূলে মনোযোগী হওয়া। ‌জে‌নে রাখুন লেবু মামার স্বাস্থ্যগুণ:

পুষ্টি উপাদান : লেবু বলতেই আমরা ভিটামিন সি-তে ভরপুর এক ফলের কথা জানি। কিন্তু এই সাইট্রাস ফলে রয়েছে ভিটামিন বি-৬, ভিটামিন এ, ই, ফোলেট, নিয়াসিন, থিয়ামিন, রিবোফ্লোবিন, প্যান্টোথেনিক এসিড, কপার, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, জিংক, ফসফরাস আর প্রোটিন।
বদহজম : লেবুর রস হজমসংক্রান্ত সমস্যা দূর করতে ও কোষ্ঠকাঠিন্যের বিরুদ্ধে লড়তে উপকারী। ইফতারে এক গ্লাস লেবুর শরবত রাখতে ভুলবেন না। অন্যান্য খাবারের পাতেও কয়েক ফোঁটা মিশিয়ে দিন। রোজার দিন সাধারণত খাদ্য গ্রহণে সময়ের পরিবর্তন ও পানির অভাবে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। অন্যান্য পানীয় ও খাবারের সঙ্গে লেবুর রসের ব্যবহার আপনাকে এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে পারে।
সর্দি-জ্বর : যখন-তখন জ্বরে পড়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। লেবু কিন্তু আপনাকে রমজান মাসে জ্বর, ঠাণ্ডা, সর্দি বা ফ্লু থকে নিরাপদ রাখতে পারে। ঘাম ঝরানোর মাধ্যমে জ্বরকে বিদায় জানায় লেবুর রস।
দাঁত : ডেন্টাল কেয়ার বিষয়ে লেবুর ব্যবহারের তুলনাই হয় না। দাঁতের যে অংশে ব্যথা সেখানে টাটকা লেবুর রস মেখে নিন। কিছুক্ষণ বাদেই ব্যথা গায়েব হয়ে যাবে। এর রস মাড়িতে ম্যাসাজ করলে রক্তপাত বন্ধ হয়। মাড়ির আরো কিছু রোগ ও বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে সুরক্ষা দেয় লেবু। ইফতারিতে মুখের দুর্গন্ধ থাকবে না লেবু খেলে।
চুল : যদি খুশকি থাকে মাথায়, তো লেবুর রস চুলে মেখে গোসল করুন। এ ছাড়া শরবতের মাধ্যমে রস খেলেও উপকার পাবে চুল। দেখবেন চুল হয়ে উঠবে ঝলমলে আর প্রাণবন্ত।
ত্বক : লেবুর রস পেটে পড়লে ত্বকও উপকৃত হয়। ত্বকে লাগালেও জাদু দেখতে পাবেন। এমনিতেই লেবুর রস প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক হিসেবে সুপরিচিত। ত্বকে ব্যথা থেকে শুরু হয়ে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিতে ঝলসে যাওয়া অংশেও লেবুর রস দিলে তা ভালো হয়ে যাবে। ইফতারে পানি ও মধুর সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে ত্বকের লাবণ্য বাড়ে।
ওজন কমাতে : বলা হয়, হালকা গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। শরীরের বাড়তি মেদ ঝরতে থাকে। বহু পুরনো আমল থেকেই ওজন কমাতে লেবুর রস রীতিমতো পথ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
শ্বাসযন্ত্রের যত্ন : শ্বাস গ্রহণের সমস্যা ছাড়াও অন্যান্য রেসপিরেটরি ডিসঅর্ডার সামলাতে লেবু দারুণ কাজের। অ্যাজমার আক্রমণে লেবু আপনাকে আরাম দেবে।
বাতরোগ :
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে লেবুতে। ব্যাকটেরিয়াসহ বিষাক্ত উপাদান দেহ থেকে বের করে দিতে পটু এর ভিটামিন সি। তাই বাতরোগ ও আরথ্রাইটিসের মতো রোগে আক্রান্তদের লেবু ওষুধের মতো কাজ করতে পারে।
গলায় সংক্রমণ : গলার ভেতরে যেকোনো ধরনের সংক্রমণে প্রতিরোধী ব্যবস্থা নিতে লেবু এক দারুণ জিনিস। এতে আছে শক্তিশালী অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। ইফতারে নিয়মিত লেবু ও লেবুর শরবত পান করুন, সংক্রমণ থেকে দূরে থাকুন।

কোন পরীক্ষা দেব?

আইইএলটিএস, টোয়েফল, জিআরই, জিম্যাট বা স্যাট !

সাধারণত ইউ‌রো‌পের দেশ বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এমবিএ করতে গেলে কিংবা বাণিজ্য বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে চাইলে ইং‌রে‌জি ভাষা দক্ষতার প্রমাণ স্বরূপ পরীক্ষা দি‌তে হয়।

অনেক সময়ই শিক্ষার্থীরা নানান ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই অনেকে আইইএলটিএস, টোয়েফল, জিআরই, জিম্যাট বা স্যাট পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। অনেকে আবার কোন পরীক্ষাটিতে অংশ নেবেন, সেটা ঠিক করতে করতেই দেরি করে ফেলেন।
দেশ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং পড়ার বিষয় ভেদে ভিন্ন ভিন্ন পরীক্ষা আপনার কাজে লাগতে পারে। তাই আপনার লক্ষ্য এবং যোগ্যতা অনুসারে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। কোনো কোনো পরীক্ষার জন্য শুধু ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকাই যথেষ্ট, কোনোটার জন্য আবার একটু বড় পরিসরে প্রস্তুতি নিতে হয়। তবে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এই পরীক্ষাগুলোর কোনো না কোনোটার স্কোর মোটামুটি আবশ্যক বলা যায়। আইইএলটিএস, টোয়েফল, জিআরই, জিম্যাট এবং স্যাট—কোনটা কী কাজে আসে, সেটাই চলুন জানা যাক।

ভাষা দক্ষতার জন্য আইইএলটিএস ও টোয়েফল
ইংরেজি ভাষার দক্ষতা প্রমাণের সনদ হচ্ছে আইইএলটিএস বা টোয়েফল। স্নাতক, স্নাতকোত্তর কিংবা পিএইচডি পর্যায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টোয়েফল স্কোর বেশ গুরুত্বপূর্ণ। টোয়েফল পরীক্ষার মোট স্কোর ১২০। চার ভাগে পরীক্ষা হয়—রিডিং, লিসেনিং, স্পিকিং, ও রাইটিং। টোয়েফল পরীক্ষার ফি ১৮০ ডলার বা প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার টাকা। www.ets.org/toefl সাইটে পরীক্ষার জন্য নাম নিবন্ধন করে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ফি জমা দিতে হয়।
যুক্তরাজ্য, জার্মানি, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের ক্ষেত্রে ভাষা দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে আইইএলটিএস স্কোর জমা দিতে হয়। এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও আইইএলটিএস স্কোর গ্রহণ করা হয়। আইইএলটিএস পরীক্ষার মোট স্কোর ৯। পরীক্ষা হয় চার ভাগে—রিডিং, লিসেনিং, স্পিকিং ও রাইটিং। বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিল ও আইডিপি এডুকেশন অনুমোদিত বিভিন্ন কেন্দ্রে আইইএলটিএসের জন্য নাম নিবন্ধন করা যায় ও পরীক্ষা দেওয়া যায়। আইইএলটিএস পরীক্ষার ফি ১৫৮০০ টাকা।

মেধা-দক্ষতা প্রমাণের জন্য জিআরই
বাংলাদেশে আপনি প্রকৌশল, বাণিজ্য কিংবা কলা অনুষদের যেকোনো বিষয়েই পড়ুন না কেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেকোনো বিষয়ে পড়ার ক্ষেত্রে আবেদনের জন্য জিআরই স্কোর প্রয়োজন হয়। জাপান, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়ার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই জিআরই স্কোর গ্রহণ করা হয়। ৩৪০ নম্বরের এই পরীক্ষায় ভারবাল রিজনিং, কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিং আর অ্যানালিটিক্যাল রাইটিংয়ের ওপর প্রশ্ন থাকে। www.ets.org/gre ওয়েবসাইট থেকে পরীক্ষার জন্য নাম নিবন্ধন করা যায়। জিআরই পরীক্ষার ফি ২০৫ ডলার বা সাড়ে ১৬ হাজার টাকা। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি জমা দিতে হয়। নাম নিবন্ধনের সময়েই নির্ধারিত কেন্দ্র নির্বাচন করে পরীক্ষার সময় ঠিক করে নিতে হয়।

জিম্যাট যাদের জন্য
সাধারণত ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ে পড়াশোনার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে জিম্যাট স্কোর গ্রহণ করা হয়। গ্র্যাজুয়েট ম্যানেজমেন্ট অ্যাডমিশন টেস্টের সংক্ষিপ্ত রূপ হচ্ছে জিম্যাট। ৮০০ নম্বরের এই পরীক্ষায় রাইটিং, ইন্টিগ্রেটেড রিজনিং, কোয়ান্টিটেটিভ ও ভারবাল—এই চার ভাগে প্রশ্ন করা হয়। এই পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে www.mba.com/global সাইটে ২৫০ ডলার বা প্রায় ২০ হাজার টাকা জমা দিয়ে নাম নিবন্ধন করতে হয়।

স্যাট যাদের জন্য
স্যাট হচ্ছে স্কলাস্টিক অ্যাসেসমেন্ট টেস্টের সংক্ষিপ্ত রূপ। বাংলাদেশ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে স্নাতক পর্যায়ে কেউ যদি যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে চান, সে ক্ষেত্রে স্যাট স্কোর প্রয়োজন হতে পারে। www.collegereadiness.collegeboard.org সাইট থেকে বিস্তারিত জানা যাবে। নাম নিবন্ধন করতে ও অনলাইনে ফি জমা দিতেও এই ওয়েবসাইটে ঢুঁ মারতে পারেন।

লক্ষ করুন
* পরীক্ষার জন্য নাম নিবন্ধনের সময় পাসপোর্ট নম্বর প্রয়োজন হয়। এমনকি পরীক্ষার কেন্দ্রে পরিচয় প্রমাণের জন্যও পাসপোর্ট সঙ্গে রাখতে হয়। তাই আবেদনের আগে পাসপোর্ট নিশ্চিত করুন।
* অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে যেকোনো ব্যাংকের আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড কিংবা ডেবিট কার্ড ব্যবহার করতে পারেন।
* যাঁদের ক্রেডিট কার্ড নেই, তাঁরা ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন বেসরকারি সেন্টারের মাধ্যমে নাম নিবন্ধন করতে পারবেন।
* সাধারণত মাস তিনেক আগে সময় নিয়ে আবেদন করা উচিত। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রায় এক-দেড় মাস আগে থেকে নির্দিষ্ট তারিখের জন্য নির্ধারিত আসন পূরণ হয়ে যায়।
* পরীক্ষাগুলোতে ভালো স্কোর পাওয়ার জন্য অন্তত ছয় মাস আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করা উচিত। ইউটিউবের বিভিন্ন টিউটোরিয়াল ভিডিও থেকে কোন পরীক্ষায় কেমন প্রশ্ন হয়, তা নিয়ে সরাসরি ধারণা পাওয়া যাবে।

বিদেশে যেতে ব্যাংক ঋণ পে‌তে করণীয়

বিদেশে গিয়ে কাজ করতে চাইছেন, কিন্তু যাওয়ার পুরো খরচ নেই আপনার হাতে। চিন্তার কোনো কারণ নেই। আপনার পাশে আছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। ব্যাংকটি বিদেশে যাওয়ার জন্য আপনাকে ঋণ দেবে। ঋণের জন্য কোনো স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বন্ধক রাখতে হবে না।

বিদেশে যাওয়ার জন্য বেকার লোকদের ঋণ দিতেই ২০১১ সালে গঠন করা হয় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। যাত্রা শুরুর পর থেকে প্রতিবছর এই ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণকারী বাড়ছে। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম তিন বছরে ব্যাংকটি থেকে ঋণ নিয়েছিলেন বিদেশগামী ৬ হাজার কর্মী, ছয় বছরের মাথায় যা বেড়ে চার গুণ হয়েছে।

তবে ঋণ পেতে চাইলে বৈধ ভিসা থাকতে হবে। ভিসাটা সংগ্রহ করতে হবে নিজেকে, অর্থাৎ ব্যাংক কোনো ভিসা পাইয়ে দেবে না। ভিসা থাকলে ঋণ দেওয়া হবে ভিসার মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে। ঋণের পরিমাণ ১ থেকে ২ লাখ টাকা। ঋণের মেয়াদ সাধারণত ২ বছর। গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে আরও দুই মাস। সব মিলিয়ে ঋণ দেওয়া হচ্ছে ২৬ মাসের জন্য এবং সুদের হার ৯ শতাংশ।

ঋণ পাওয়ার শর্তগুলোও অত কঠিন নয়। বৈধ ভিসার পাশাপাশি বিদেশগামী কর্মীকে যে কোম্পানি কাজ দেবে বা নিয়োগ করবে, সেই কোম্পানির নিয়োগপত্রটা লাগবে। লাগবে সত্যায়িত তিন কপি ছবি, বর্তমান ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানাসংবলিত পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেওয়া সনদ, পাসপোর্ট এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি। আরও লাগবে স্থানীয় বা ঘনিষ্ঠ এক বা একাধিক ব্যক্তির ব্যক্তিগত জামিননামা।

বড় কথা হচ্ছে, আবেদনের তিন দিনের মধ্যে ঋণের প্রক্রিয়া শেষ করে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক আবেদনকারীকে মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা (এসএমএস) দিয়ে জানিয়ে দেয়। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া—এসব দেশের ক্ষেত্রে দুই বছর, তবে সিঙ্গাপুরের ক্ষেত্রে এক বছর।

২০১৪ সালের জুনে প্রকাশিত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ‘অগ্রগতির তিন বছর’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন বছরে ৬ হাজার ৫০০ জন কর্মীকে বিদেশে যেতে ৪৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে এবং ঋণের টাকা আদায়ের হার ৯৭ শতাংশ।

যোগাযোগ করলে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আ ন ম মাসরুরুল হুদা সিরাজী গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিষ্ঠার ছয় বছরে মোট ২৪ হাজার জনকে ঋণ দেওয়া হয়েছে ২৩০ কোটি টাকার মতো এবং আদায়ের হার ৯০ শতাংশ।

বিদেশে যেতে ঋণ চেয়ে যে পরিমাণ আবেদন আসে, টাকার অভাবে সবগুলোতে সাড়া দেওয়া যায় না বলে জানান মাসরুরুল হুদা। তিনি বলেন, ‘তফসিলভুক্ত ব্যাংক হতে পারলে আমরা প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) আনতে পারতাম। তখন ব্যাংকের আয় বাড়ত এবং আরও বিদেশগামী কর্মীর জন্য ঋণ দেওয়া যেত।’

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন বর্তমানে ১০০ কোটি টাকা। তফসিলভুক্ত ব্যাংক হতে গেলে ৪০০ কোটি টাকার দরকার। গত ১৭ এপ্রিল ওয়েজ আর্নারস কল্যাণ বোর্ডের তহবিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ৫০ কোটি টাকার একটি চেক প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের এমডির কাছে তুলে দেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। বাকি ২৫০ কোটি টাকাও সরকার দেবে বলে জানা গেছে।

বাজেট পেশের আগে গত ৩ মে সংসদে উপস্থাপিত সাংসদ মনিরুল ইসলামের (যশোর-২) প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘নতুন তিনটি এনআরবি ব্যাংকও এ ধরনের (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মতো) ঋণ দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বেসরকারি খাতের এই ব্যাংকগুলো হচ্ছে এনআরবি ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক। এর মধ্যে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী তারা এক থেকে তিন বছর মেয়াদে ৩ লাখ টাকা ঋণ দিচ্ছে। তবে এ ঋণের সুদের হার ১৪ শতাংশ।

চাকরির সাক্ষাৎকার: প্র‌য়োজনীয় কিছু টিপস

সাক্ষাৎকার (Interview) কি শুধু মৌখিক কথাবার্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ? কিছু প্রশ্নের উত্তর ঝটপট বলে ফেলা ও নিজের জ্ঞানের গভীরতাকে প্রশ্নকর্তার কাছে জাহির করাটাই একটি সফল সাক্ষাৎকার বলে না। বরং শব্দহীন আচার আচরণ, প্রস্তুতি আর উপস্থাপনার মাঝেও ইন্টারভিউয়ের সফলতা নির্ভর করে। অনেকে মনে করেন চাকরির সাক্ষাৎকারের সফলতার জন্য প্রশ্নের উত্তরগুলো পারার ওপরই সব সফলতা নির্ভর করে। কিন্তু ব্যাপারটা তা নয়। বরং চাকরির সাক্ষাৎকারের সফলতার জন্য একটি বড় অংশ হলো শব্দহীন বা অমৌখিক যোগাযোগ। ইংরেজিতে যাকে বলে Nonverbal Communication. কথা বলার মধ্যেও শারীরিক ভাষা, স্বরভঙ্গি, কথার গতি, মুখের অভিব্যক্তি, বিরতি, শ্বাস ও মুদ্রাদোষ গুরুত্বপূর্ণ। অশাব্দিক যোগাযোগ রক্ষার মধ্যে পোশাক ও সাজগোজও গুরুত্বপূর্ণ।

কেন অশাব্দিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ?

অশাব্দিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ এমনকি অনেক সময় সাক্ষাৎকারের মৌখিক অংশের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। একজন সাক্ষাৎগ্রহণকারী সাক্ষাৎ সময়ের পুরো সময় জুড়ে ইন্টারভিউ প্রদানকারীর শব্দহীন যোগাযোগ ও আচরণগুলো লক্ষ্য করেন। মৌখিক উত্তরগুলো যতই ভালো হোক তার Nonverbal Communication-এর দক্ষতাগুলো যদি সন্তোষজনক না হয় তবে কাঙ্ক্ষিত সফলতা নাও আসতে পারে। ইন্টারভিউ প্রদানকারী যখন অফিসের গেটে প্রবেশ করেন তখনই Nonverbal Communication ইন্টারভিউ শুরু হয়ে যায়। সিগারেট খেতে খেতে কিংবা চুইংগাম চিবাতে চিবাতে গেট দিয়ে প্রবেশ করাটা Nonverbal Communication-এর বিপরীত কাজ। অনেক সময় অতিরিক্ত সুঘ্রাণ ব্যবহার কিংবা সঠিক পোশাক না পরিধান করাও সাক্ষাৎকারে প্রভাব রাখে। আবার এমনটিও দেখা যায় ইন্টারভিউ প্রদানকারী যখন সাক্ষাৎকারের জন্য রুমে অপেক্ষা করছেন তখন মোবাইলে কারও সঙ্গে কথা বলছেন কিংবা হেডফোনে গান শুনছেন যা তার সাক্ষাৎকারের জন্য নেতিবাচক ভূমিকা রাখে। সুতরাং সাক্ষাৎকারে Nonverbal Communication-কে সফল করতে এই বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে।

করণীয়

সাক্ষাৎকারে Nonverbal Communication-কে সফল করতে হলে সাক্ষাৎকারের আগে ও পরে কিছু করণীয় আছে। যেমন সাক্ষাৎকারের আগে পেশাধারী পোশাক পরা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হওয়া, ভালো জুতা পরা, অতিরিক্ত সুগন্ধি ব্যবহার না করা। সাক্ষাৎকারে সময় কিছু জিনিস নিজের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের জন্য নিয়ে আসা এবং কিছু জিনিস বাসায় রেখে আসা। এই বিষয়গুলো ইন্টারভিউ প্রদানকারীর Nonverbal Communication-কে উন্নত করবে।

যে জিনিসগুলো সঙ্গে নিয়ে আসা প্রয়োজন

*কয়েক কপি রেজুমি (RESUME)।
*কয়েকজন রেফারেন্সের লিস্ট (প্রোফেশনাল)।
*কাজের নমুনা কপি (যদি থাকে)।
*নোটপ্যাড ও কলম।
*ব্রেথ মিন্ত (ভবনে প্রবেশের পূর্বে চিবিয়ে আসা। যাতে কথা বলার সময় মুখ থেকে গন্ধ না আসে)।
*একটি ফোল্ডার (সকল কাগজপত্র তথা রেজুমি, রেফারেন্সের লিস্ট, নোটপ্যাড ও কলম রাখার জন্য)।
*কয়েকটি টিসু।

যে জিনিসগুলো সঙ্গে আনা উচিত নয়

*মোবাইল (যদি প্রয়োজনে আনতে হয় তবে ভবনে প্রবেশের আগে বন্ধ করা)
*আইপ্যাড বা আইপড।
*গাম, ক্যানডি, সিগারেট ও সোডা বা কফি।
*পলিসবিহীন জুতা ও অপরিচ্ছন্ন পোশাক।

যখন আপনি সাক্ষাতের জন্য অপেক্ষা করবেন

দেখুন যেভাবে আপনি সাক্ষাতের জন্য অপেক্ষা করবেন, অভ্যর্থনাকারী বা সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন এই সবই সাক্ষাৎকারের অংশ। এ সব সাক্ষাৎকারের সফল হওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বন্ধুত্বসুলভ ও অমায়িক হোন কিন্তু অতিরিক্ত করবেন না। যখন অপেক্ষা করবেন তখন ধৈর্যশীল হয়ে নীরবে অপেক্ষা করুন। মোবাইল ফোনে কথা বা গান শুনবেন না। অপেক্ষা করার সময় যদি আপনার হাত, মুখ ঘেমে যায় তবে রেস্ট রুমে গিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে মুছে নিন। হ্যান্ডশেক করার সময় হাতকে অতিরিক্ত শক্ত বা নরম করতে যাবেন না বরং স্বাভাবিক রাখুন।

সাক্ষাৎকারের সময় করণীয়

সাক্ষাৎকারের সময় প্রশ্নের উত্তর দেওয়া ছাড়াও কিছু জিনিস করণীয় রয়েছে। মূলত এই সবগুলো সঠিকভাবে করতে পারার মধ্যে সাক্ষাৎকারের সফলতা নিহিত। করণীয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—
*সময়ে সময়ে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর চোখে চোখ রাখা।
*সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী কথা বলার সময় মুখে হাসি ভাব রাখা। কিন্তু এটা যেন অতিরিক্ত না হয়। জোরে হাসতে যাবেন না যদি না সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর কোনো কিছু নিয়ে নিজ থেকে প্রথমে হাসির উদ্রেক সৃষ্টি না করেন।
*কথা ও উপস্থাপনার মধ্যে বিনয়ী ভাব রাখুন। খুব জোরে বা খুব আস্তে কথা বলবেন না।
*সাক্ষাৎকার গ্রহণের সময়ে নিজেকে আগ্রহী ও সংযুক্ত রাখুন। চেয়ারে হেলান দিয়ে বসবেন না বরং কিছুটা এগিয়ে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর দিকে মনোযোগী হয়ে বসুন।
*জবুথবু হয়ে বসবেন না। পা মাটিতে রেখে এবং আপনার মেরুদণ্ডকে চেয়ারের শেষ অংশে রেখে সোজা হয়ে বসুন।
*সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর প্রতি পূর্ণ মনোযোগ রাখুন। প্রয়োজনে তার কথার নোট নিতে পারেন।
*সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী যখন কথা বলে মনোযোগ দিয়ে শুনুন। তার কথার মাঝখানে কথা বলবেন না।
*নিজেকে শান্ত ও স্থির রাখুন। কোনো বিষয়ে নিজের রাগ প্রকাশ করতে যাবেন না।

সাক্ষাৎকার শেষে করণীয়

সাক্ষাৎকার শেষে মুখে হাসি রাখুন এবং সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর সঙ্গে দৃঢ় হ্যান্ডশেক করে বের হোন। আসার পথে প্রথমে যাদের সঙ্গে দেখা হয়েছিল যেমন অভ্যর্থনাকারী, অন্যান্য অফিস স্টাফদের বিদায়ী শুভেচ্ছা জানিয়ে আসুন।

কিছু অমৌখিক যোগাযোগের দক্ষতার উদাহরণ

নিচে কিছু অমৌখিক যোগাযোগের দক্ষতার উদাহরণ দেওয়া হলো যেগুলো আপনি ব্যক্তিগতভাবে কিংবা ক্যারিয়ার ক্লাবে চর্চা করে নিজেকে একজন সফল সাক্ষাৎকারের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন।
*সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর প্রতি মনোযোগী হওয়া এবং মনোযোগ সহকারে শোনা।
*সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর কথার মাঝে কথা না বলা।
*একটু সামনের দিকে হেলে বসা যাতে বোঝা যায় আপনি আন্তরিক ও মনোযোগী।
*মাথায় ও মুখে হাত না রাখা।
*অনর্থক হাত-পা না নাড়ানো।
*কথাবার্তার প্রতি পূর্ণ মনোযোগী থাকা।
*সঙ্গে ফোন না নিয়ে আসা যা আপনার মনোযোগকে বিঘ্নিত করতে পারে।
*নিজের পরিচয় দেওয়ার সময় মুখে হাসি রাখা এবং দৃঢ় হ্যান্ডশেক করা।
*নিজের কণ্ঠের মাঝে বিনয়ী ও ভদ্র ভাব রাখা।
*সাক্ষাৎ গ্রহণের সময়ে ঘড়ি, ফোন ও অন্যান্য ডিসপ্লের প্রতি না তাকানো।
*সাক্ষাৎকার গ্রহণকালে যদি একাধিক ব্যক্তি থাকেন তবে সকলের সঙ্গে দৃষ্টি বিনিময় করা।
*যখন সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী কোনো গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন তখন মুখের হাসি ভাব দূর করে তার কথার গুরুত্ব অনুধাবন করা।
*আপনার উত্তরে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর প্রতিক্রিয়া অনুধাবন করা।
*নিজেকে পেশাধারী রূপে উপস্থাপন করা।

মৌখিক সাক্ষাৎকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি মৌখিক সাক্ষাৎকারকে সফল করতে Nonverbal Communicationও গুরুত্বপূর্ণ। আশা রাখি সঠিক চর্চা ও উপস্থাপনা আপনার সাক্ষাৎকারকে সফল করবে।

লেখক: আ হ ম করিম, নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র) |
© প্রথম আ‌লো