রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক আচরণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি মানবিক আচরণ দেখাতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় গণভবনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও রিয়াল অ্যাডমিরাল খোরশেদ আলমের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। ওই বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সূত্রগুলো জানায়, মিয়ানমার সরকারের অত্যাচার-নির্যাতনে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবেতর জীবনের নানান তথ্য ও ছবি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে, যা মানবতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে শুরু করেছে। বিষয়টি মুসলিম সম্প্রদায়কে ব্যাপকভাবে নাড়া দিয়েছে এবং এ নিয়ে মুলমানদের ভেতরে সেন্টিমেন্ট গড়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সরকারের শীর্ষ নীতি-নির্ধারক শেখ হাসিনা।
এছাড়া বিষয়টি নিয়ে বিএনপিও রাজনীতি করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তাই কাউকে এসব সুযোগ দিতে চান না প্রধানমন্ত্রী। ইস্যুটি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করতে সীমান্ত এলাকার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরার ব্যাপারে উদ্যোগী হতেও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সূত্রগুলো আরও জানায়, এসব বিষয় মাথায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে সহানুভূতিশীল হতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) নির্দেশ দিতে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছেন। আপাতত অনুপ্রবেশের পরবর্তী পরিস্থিতি কী হতে পারে, তা নিয়ে সরকার ভাবছে না বলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো দাবি করে।
অন্য এক সূত্র জানায়, সরকারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের দেশে প্রবেশেও বিধি-নিষেধ শিথিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে সতর্ক থাকারও কথা বলা হয়েছে বিজিবিকে। বিশেষ করে, টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়িতে রোহিঙ্গাদের আপাতত জায়গা করে দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
এ সূত্র আরও জানায়, একইসঙ্গে ওইসব এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটু সতর্ক অবস্থানে থাকার ব্যাপারেও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আশ্রয় নিয়ে তারা যাতে কোনও অপকর্মের সঙ্গে জড়াতে না পারে, সেদিকটা বিশেষ নজরে রাখতে হবে।
সূত্র জানায়, গণভবনের ওই বৈঠকে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের ব্যাপারেও জোর দেওয়া হয়েছে। দেশটির সঙ্গে কোঅপারটিভ ওয়ে-তে আলোচনা চালাতে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।
তবে এ ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি।

কাল পবিত্র হজ

মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তম সমাবেশ পবিত্র হজ পালিত হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মুসলমানদের ‘লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক’ ধ্বনিতে কাল মুখরিত হবে মক্কার আরাফা ময়দান।পবিত্র এই কর্তব্য পালনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মক্কা নগরীতে জড়ো হয়েছেন লক্ষ লক্ষ মুসল্লি।
বুধবার ফজর নামাজের পর মুসল্লিরা মক্কা নগরী থেকে মিনার উদ্দেশে রওনা দেবেন। বুধবার মিনায় অবস্থান করে বৃহস্পতিবার সূর্যোদয়ের পর আরাফার উদ্দেশে রওনা হবেন। আরাফার ময়দানে সারা দিন অবস্থানকালীন সেখানে জোহর ও আসর নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন। সূর্য অস্তমিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরাফা থেকে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা দেবেন। মুজদালিফায় মাগরিব ও এশার নামাজ আদায়ের পর সেখানে রাতে অবস্থান করবেন। রাত শেষে ফজরের নামাজের পর সকালে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য মিনায় যাবেন।
মিনায় শয়তানকে পাথক নিক্ষেপের পর মক্কায় ফিরে গিয়ে কোরবানী করবেন। কোরবানী শেষে মাথা মুণ্ডন করে এহরাম খুলবেন। এভাবেই ধাপে ধাপে শেষ হবে হজের আনুষ্ঠানিকতা।

ঈদুল আজহার নামাজের সময়সূচি

যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে আগামী ২ সেপ্টেম্বর শনিবার সারা দেশে উদ্যাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। এ উপলক্ষে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল আটটায়।

বুধবার ইসলামিক ফাউন্ডেশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার নামাজে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদ জামাত হবে। প্রথম জামাত সকাল ৭টা, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা, তৃতীয় জামাত সকাল ৯টা, চতুর্থ জামাত সকাল ১০টা এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে। প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী। দ্বিতীয় জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস মাওলানা ওয়ালিয়ুর রহমান খান, তৃতীয় জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. মাওলানা মুহাম্মদ আবদুস সালাম, চতুর্থ জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাতে মহাখালী হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ড. মাওলানা নজরুল ইসলাম আল মা ‘রূফ ইমামতি করবেন।

সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের জন্য মুসল্লিদের সুবিধার্থে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যাপ্ত পানি ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে।

সাতকানিয়ার ওসি থ্যালে‌সে‌মিয়া আক্রান্ত শিশুকে রক্ত দিলেন

ই‌ত্তেফাক: ‘মানুষ মানুষের জন্য’ এটি একটি স্লোগান- সেই মানুষের জন্যই, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন পোস্ট দেখে হাসপাতালে ছুটে গিয়ে এক শিশুকে নিজের সন্তানের মতোই বুকে জড়িয়ে ধরে আদর করলেন এবং শিশুটির জন্য রক্ত দিলেন।

গত ২৯ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে অণুচক্রিকা সংগঠনের এক সদস্যের ফেইসবুক ওয়ালে সাতকানিয়া পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের সুকুমার দাশের মেয়ে থ্যালেসেমিয়া রোগে আক্রান্ত মিনা দাশ (১০) নামে এক শিশুর জন্য রক্তের প্রয়োজন এমন একটি পোস্ট দেখে তাৎক্ষণিক পার্শ্ববর্তী ডায়াবেটিকস হাসপাতালে ছুুটে যান সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রফিকুল হোসেন। রক্তের গ্রুপ মিলে যাওয়ায় ওসি শিশুটির জন্য স্বেচ্ছায় রক্ত দান করেন। মেয়েকে ওসি রক্ত দেয়ায় খুশি হলেন সুকুমার দাশ।

তিনি বলেন, আমি গরীব লোক। আমার মেয়েটি থ্যালেসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় তাকে প্রতি মাসে রক্ত দিতে হয়। কয়েক মাস ধরে অণুচক্রিকা সংগঠনটি আমার মেয়েকে বিনা খরচে রক্ত দেয়ার জন্য কাজ করে আসছে। তাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে ওসি সাহেব হাসপাতালে এসে আমার মেয়েকে রক্ত দিলেন।
           
সাতকানিয়া থানার ওসি রফিকুল হোসেন বলেন, মানুষের সেবা করতে না পারলে আমার ভালো লাগে না। সবসময় চেষ্টা করি মানুষের কল্যাণে কাজ করতে। শিশুটিকে রক্ত দিয়ে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি।

‘তুমি বাংলাদেশে যাও, বেঁচে না থাকলে দেখা হবে জান্নাতে’

গত ২৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের দমনের নামে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় সে দেশের সেনাবাহিনী ও রাখাইন যুবকদের যৌথ হত্যাযজ্ঞে পাঁচ শতাধিকরেও বেশি নিরীহ রোহিঙ্গা মুসলিম শিশুসহ নারী পুরুষকে হত্যা করা হয়েছে। অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে তছনছ করে দেয়া হয়েছে বসত ঘর ও ধন সম্পত্তি। এখনো অব্যাহত রয়েছে এমন হত্যাযজ্ঞ।

এই হত্যাযজ্ঞের পর রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা অন্তত ৮ হাজার রোহিঙ্গা নারী-শিশু বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। আরো কয়েক হাজার মানুষ সীমান্তে প্রবেশের জন্য অপেক্ষা করছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব মতে, অন্তত ৪০ হাজার রোহিঙ্গাকে বাড়িছাড়া করা হয়েছে। তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, এবার আগের বাংলাদেশ আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে পুরুষদের সংখ্যা নেই বললেই চলে। যারা আছেন তারা সবাই কিশোর কিম্বা বুড়ো।

এর কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা) এর আভির্ভাবের কারণে এবার পুরুষরা বাংলাদেশে পালিয়ে আসছেন না। তারা আরসা’র আহবানে সাড়া দিয়ে মায়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তির যুদ্ধ করার জন্য আরাকানে থেকে যাচ্ছেন। সেখানে বিভিন্ন পাহাড়ে লুকিয়ে থেকে তারা সংগঠিত হচ্ছেন দীর্ঘ মেয়াদে যুদ্ধের জন্য। পালিয়ে আসা বৃদ্ধ ও নারীরা এমনটিই জানিয়েছেন।

আয়েশা বেগম নামে এক গর্ভবতী নারীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে এএফপি। তিনি এখন বাংলাদেশে একটি ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন। আয়েশা বলেন, ক’দিনের মধ্যেই তিনি তার ৬ষ্ঠতম সন্তানের জন্ম দেবেন। কিন্তু এসময়টি স্বামী কাছে না পেয়ে তার খারাপ লাগছে না। কারণ তার স্বামী তাদের সাথে পালিয়ে না এসে আরাকানে থেকে গেছেন সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য।

চোখের পানি ফেলতে ফেলতে আয়শা তার স্বামীর ব্যাপারে বলেন, ‘সে আমাদেরকে (স্ত্রী-সন্তান) নাফ নদীর পাড়ে এনে দিয়ে গেছে। বিদায় জানানোর সময় সে বলেছে, তুমি বাংলাদেশে যাও, যদি আমি বেঁচে থাকি তাহলে শিগগরিই তোমাদের সাথে স্বাধীন আরাকানে দেখা হবে। অার বেঁচে না থাকলে আমাদের দেখা হবে জান্নাতে।’

প্রকা‌শ্যে এ‌লো 'Android 8.0 Oreo'

‘অ্যান্ড্রয়েড এন’-এর পর এবার এসে গেল ‘অ্যান্ড্রয়েড ও’। মঙ্গলবারই প্রকাশ্যে এল এখনও পর্যন্ত গুগলের সবচেয়ে আধুনিক ও বৃহত্তম আপডেট ‘অ্যান্ড্রয়েড ওরিও’। মিষ্টির নাম মোতাবেক অ্যান্ড্রয়েডের আপডেটের নাম রাখার প্রথা এক্ষেত্রেও জারি থাকল। ‘এন’ এর পর ইংরেজি বর্ণের অক্ষর ‘ও’ অনুযায়ী জনপ্রিয় ক্রিম বিস্কুট ‘ওরিও’-র নাম অনুসারে এবারের আপডেটটির নাম রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে গুগল।

প্রথা মেনে এবারও অ্যান্ড্রয়েডের নবতম আপডেটটি পাচ্ছে গুগলের নিজস্ব হ্যান্ডসেট নেক্সাস ৫এক্স, নেক্সাস ৬পি, গুগল পিক্সেল, পিক্সেল এক্সএল ও পিক্সেল সি। এছাড়াও দ্রুতই অ্যান্ড্রয়েড ৮.০ ওরিও আপডেট পেতে চলেছে অন্যান্য (নন-গুগল) স্মার্টফোনও। যাঁরা গুগলের হ্যান্ডসেট ব্যবহার করেন, তাঁরা ‘ওভার দ্য এয়ার’ বা OTA আপডেটের জন্য হা-পিত্যেশ করে রয়েছেন। গুগলের তরফে জানানো হয়েছে, OTA আপডেট পাওয়া যাবে আগামী সপ্তাহ থেকেই। যাঁরা OTA আপডেটের জন্য অপেক্ষা করতে চাইছেন না তাঁরা কীভাবে এই আপডেট ডাউনলোড করতে পারবেন জেনে নিন এই প্রতিবেদনে।
কোন কোন হ্যান্ডসেটে মিলবে লেটেস্ট অ্যান্ড্রয়েড আপডেটটি?
গুগলের তরফে যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, সেটি তুলে দেওয়া হল এই প্রতিবেদনে-
Nexus 5X
Nexus 6P
Google Pixel
Google Pixel XL
Pixel C
Nexus Player

এছাড়াও কয়েকটি নন-গুগল স্মার্টফোনও এবছরের শেষের দিকে ৮.০ আপডেট পাবে। Huawei, Motorola, Nokia, Samsung ও Sony হ্যান্ডসেটেও ধীরে ধীরে এই আপডেট পাওয়া যাবে। নোকিয়া-র তরফে জানানো হয়েছে, নোকিয়া ৩, ৫ ও ৬-তিনটি মডেলই অ্যান্ড্রয়েড ওরিও আপডেট পাবে। ভারতীয় সংস্থা মাইক্রোম্যাক্স-এর ক্যানভাস ইনফিনিটি ও লেনোভো কে৮ মডেলেও পাওয়া যাবে ‘ও’ আপডেট। আসুস-এর জেনফোন সিরিজ, ওয়ান প্লাস-এর ৩, ৫ ও ৩টি হ্যান্ডসেটেও পাওয়া যাবে এই আপডেট।
যাঁরা এখনই এই আপডেট চান তাঁরা কী করে ডাউনলোড করতে পারবেন? গুগলের একটি ব্লগ পোস্ট জানাচ্ছে, অ্যান্ড্রয়েড বেটা প্রোগ্রাম অনুযায়ী সবার আগে দেখে নিতে হবে আপনার হ্যান্ডসেট ‘অ্যান্ড্রয়েড ও’ সাপোর্ট করবে কি না। যদি করে, তাহলে নিচের লিঙ্ক থেকে ম্যানুয়ালি ডাউনলোড করতে পারেন। তবে এই পদ্ধতি বেশ খানিকটা সময়সাপেক্ষ ও জটিল।

এক্ষেত্রে গুগলের তরফে জানানো হয়েছে, সম্পূর্ণ ‘রিস্ক’ ইউজারের। নিজের ‘ডেটা’র ব্যাক-আপ নিতে ভুলবেন না। গুগল সতর্ক করে জানাচ্ছে, ম্যানুয়ালি এই আপডেট ডাউনলোড করার সময় আপনার পুরনো সব তথ্য মুছে যেতে পারে। ডাউনলোড করা হয়ে গেলে সিস্টেম রি-বুট করে নিন।

যেসব কারণে ক্যারিয়ার ধ্বংসের মুখে পড়ে

চাকরি পাওয়ার পর মনে হয়, হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। স্টাডি ও ক্যারিয়ার দাঁড় করানোর চেষ্টা ছেড়ে দেয়। মনে করে সব চিন্তা শেষ। সত্যিই কি তাই? ক্যারিয়ারের উন্নতি চাইলে ভুলেও এমনটা ভাববেন না। আপনাকে সব সময়, অফিসের বিষয়গুলোতে সচেতন থাকতে হবে। আর কিছু অভ্যাস তো অবশ্যই বদলে ফেলতে হবে, যা আপনার ক্যারিয়ার ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট। সম্প্রতি স্কুপহুপ ওয়েবসাইটে ক্যারিয়ার ধ্বংসকারী কিছু বদঅভ্যাসের তালিকা দেয়া হয়েছে। একজন ক্যারিয়ার ওরিয়েন্টেড কর্মী হিসেবে আপনিও দেখে নিতে পারেন সেগুলো।
১. আপনি হয়তো অনেক দক্ষ একজন কর্মী, আপনার টিমের কেউ দুর্বল। তাই বলে কখনোই নিজের টিমকে অবহেলা বা উপহাস করবেন না। এটা আপনার ক্যারিয়ারের জন্য ক্ষতি বড় কারণ। যদি নিজের ক্যারিয়ার ভালো করতে চান, তাহলে সহকর্মীকে গুরুত্ব দিতে শিখুন। কোনো বিষয়ে তার দুর্বলতা থাকলে সেটি কাটিয়ে উঠতে তাকে সহায়তা করুন। এতে দুর্বল সহকর্মী যেমন আপনাকে শ্রদ্ধা করবে, অফিসও আপনাকে এজন্য ক্রেডিট দেবে।
২. সহকর্মী বা বসের সঙ্গে এমন কোনো প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ হবেন না, যা আপনি রক্ষা করতে পারবেন না। আর যদি কথা দিতেই হয়, তাহলে সেটা যেভাবেই হোক রক্ষা করার চেষ্টা করুন।
৩. সব সময় শেষ মুহূর্তে কাজ শেষ করা ভালো অভ্যাস নয়। একবার বা দু’বার হতে পারে, কিন্তু সেটিরও যৌক্তিক গ্রাউন্ড থাকতে হবে। সদা যদি আপনি এমনটা করতে থাকেন, তাহলে বস আপনাকে ভালো চোখে দেখবে না, খুবই বিরক্ত হবেন।
৪. আপনি কাজের বিষয়ে সিরিয়াস না বলে অন্যরাও আপনার মতো হবে, এমনটা ভাববেন না। কোনোভাবেই সহকর্মীদের কাজে ব্যাঘাত ঘটাবেন না। এর ফলে সহকর্মীরা আপনার কাছে থেকে দূরে দূরে থাকার চেষ্টা করবে। টিম স্পিরিট নষ্ট করার দোষে আপনি দুষ্ট হতে পারেন।
৫. কোনো এক সহকর্মীর বিরুদ্ধে অন্য সহকর্মীদের কাছে কথা বলার অভ্যাস ত্যাগ করুন। এমনকি সহকর্মীদের কথা বসের সঙ্গে, বসের কথা সহকর্মীর সঙ্গে শেয়ার করাও ঠিক না। এতে আপনার ব্যক্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
৬ . বসের আদেশ, নিষেধ, কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। ক্যারিয়ারের উন্নতি চাইলে অফিসে সবার কথা মন দিয়ে শুনুন। কখনোই এ বিষয়ে বিরক্তি প্রকাশ করবেন না। কোনো বিষয়ে দ্বিমত থাকলে বুঝিয়ে বলুন।
৭. অফিসের সবকিছুতেই হ্যাঁ বলাটা কি ভালো, না খারাপ? উত্তর হল, খারাপ। সবকিছুতেই রাজি হয়ে যাওয়াটা আপনার ক্যারিয়ার নষ্ট করে দেবে। এটা ঠিক যে, হ্যাঁ বলার জন্য আপনার বস ও সহকর্মীরা আপনার ওপর অনেক খুশি হবেন, তবুও যদি ক্যারিয়ার বাঁচাতে চান, তাহলে ‘না’ বলতে শিখুন। তবে যুক্তি ছাড়াই বস বা সহকর্মীর কথায় না বলাটা আবার ঝুঁকিপূর্ণ। আপনি কেন তার কথায় একমত নয় তা সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।
৮. অফিসের ই-মেইলগুলো অযথা বড় করে লিখা যাবে না। কারণ অত সময় নিয়ে আপনার ইমেইল পড়ার সময় কারোরই নেই। এই ই-মেইলগুলো ছোট করে লিখতে শিখুন। আর সহকর্মীদের পাঠানো ই-মেইলে কখনোই অপ্রয়োজনীয় কথা লিখবেন না।
৯. সাদামাটাভাবে চাকরি করতে থাকলে একসময় আপনার ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। হয়তো আপনার চাকরি যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই, কিন্তু তাই বলে যেমন ইচ্ছা, তেমন করা যাবে না। মনে রাখবেন অফিস আপনাকে নিত্য জাজ করে। নিয়মিত দায়িত্ব অবহেলা বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই অফিসে সিরিয়াস হওয়াটা খুবই জরুরি। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিয়মিত স্টাডি করাও ক্যারিয়ারের জন্য দরকারী।
১০. অফিসে নিজের ইগো ধরে রাখলে ভবিষ্যতে আপনারই ক্ষতি হবে। সহকর্মীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রাণবন্ত আচরণ আপনার ক্যারিয়ারের জন্যই ভালো।
১১. কর্মক্ষেত্রে বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন হওয়াটা খুবই জরুরি। আপনার বস যদি কোনো কাজে আপনার ওপর আস্থা না রাখতে পারেন তবে ক্যারিয়ার বেশি দূরে এগোবে না।
১২. আপনার যদি চাকরিটা ভালো নাই লাগে, তাহলে ছেড়ে দিন। চাকরিও ছাড়বেন না, আবার সহকর্মীদের সঙ্গে অফিসের বদনাম করবেন, এটা আপনার ক্যারিয়ারের ওপর অনেক বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অফিসও আপনাকে নিয়ে বিড়ম্বনায় ভোগবে।

ফেসবুকে ৩৬০ ডিগ্রির ফটো-ফিচার

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য কখনো একদিকে থাকে না; বরং প্রকৃতি অকৃপণভাবে তার সৌন্দর্য ছড়িয়ে দেয় চারপাশে। আর এই চারপাশের অপরূপ সৌন্দর্যকে ক্যামেরায় বন্দি করার জন্য যে প্রযুক্তি আবিষ্কার করা হয়েছে, তার নাম ৩৬০ ফটো, যা এত দিন ছিল থার্ড পার্টি অ্যাপ্লিকেশনের হাতে। কিন্তু গ্রাহকদের সে প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। টেকক্রাঞ্চের খবরে প্রকাশ, নিজেদের অ্যাপে ৩৬০ ডিগ্রি ফটো-ফিচার সংযোজন করেছে ফেসবুক। তাই এবার সরাসরি ফেসবুক দিয়েই তোলা যাবে ৩৬০ ডিগ্রি ফটো।
এর ফলে ফেসবুকে ছবি নিয়ে আরো বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ থাকছে। ফেসবুক অ্যাপের ৩৬০ ফটো-ফিচারের মাধ্যমে ৩৬০ ডিগ্রি ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। এ জন্য কোনো থার্ড পার্টি অ্যাপ্লিকেশনের সাহায্যের দরকার পড়বে না। ৩৬০ ডিগ্রিতে তোলা ছবিগুলো নিজেদের টাইমলাইনে শেয়ার করার পাশাপাশি প্রোফাইল পিকচার বা কাভার পিকচার হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। বন্ধুদের ট্যাগও করা যাবে এই ছবিতে । জুম ইন ও জুম আউট করার সুযোগও থাকছে এই ফিচারে।

কিন্তু ফেসবুকের কোথায় ও কীভাবে পাওয়া যাবে এই ফিচার? অ্যাপের মাধ্যমে ফেসবুক চালু করে স্ট্যাটাস বারে যেতে হবে। সেখানে ক্লিক করলেই ‘ট্যাগ পিপলের’ নিচে পাওয়া যাবে ‘৩৬০ ডিগ্রি ফটো’। সেই ফিচারের নীল বাটনে ক্লিক করলেই ৩৬০ ডিগ্রি ভিউতে ছবি তুলতে পারবেন। কোন জায়গা থেকে ছবি তোলা শুরু করে কোন জায়গায় শেষ করবেন, সে অপশনও পাবেন ওই ফিচারে। এরপর চাইলে সরাসরি সে ছবি শেয়ার করে দিতে পারেন আপনার টাইমলাইনে। কাভার পিকচার বা প্রোফাইল পিকচার হিসেবেও ব্যবহার করতে পারবেন ছবিটি। অ্যানড্রয়েড ও আইওএস অপারেটিং সিস্টেমে পাওয়া যাবে এই ফিচার।

বেনামাজি ব্যক্তি হজ করতে পারবেন কি?

সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য জীবনে একবার হজ পালন অবশ্যকর্তব্য। সব সময় চর্চা হয় না বলে হজ পালন সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা থাকে না। হজের শুদ্ধ পদ্ধতি, হজের প্রস্তুতি নিয়ে জানা মুসলিমদের কর্তব্য। এ লক্ষ্যেই এনটিভির বিশেষ অনুষ্ঠান ‘হজ ও উমরা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
জুমাবারের সরাসরি সম্প্রচারিত হজ ও উমরা অনুষ্ঠানের ষষ্ঠ পর্বে যদি কোনো ব্যক্তি নামাজ না পড়েন তাহলে তিনি হজ করতে পারবেন কি না , সে সম্পর্কে ময়মনসিংহ থেকে টেলিফোনে জানতে চেয়েছেন আরমান। অনুলিখনে ছিলেন জহুরা সুলতানা।

প্রশ্ন : যদি কেউ কখনো নামাজ না পড়ে বা অনেক সময় দেখা যায় দু-তিন জুমা নামাজ পড়ল না। সে ধূমপান করে এবং সিগারেটও খায়। সেই লোক কি হজ করতে পারবে?
উত্তর : প্রথম কথা হচ্ছে তিনি তো হজ করবেন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। হজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করতে হলে অবশ্যই হজের আগে যেই ইবাদত রয়েছে, সেগুলো আগে তাঁকে ঠিক করতে হবে। এ জন্য তিনি আগে সালাত ঠিক করবেন, তারপরে তিনি হজের জন্য চেষ্টা করবেন। তাই তাঁর হজের এই চেষ্টাটুকু তখনই সফল হবে, সঠিক হবে যখন তিনি সালাতকে নিয়মিত করবেন। কারণ সালাত হচ্ছে এমনই ইবাদত, যে ইবাদতের ওপর নির্ভর করে আছে ইমানের বিষয়টি। এখন ইমান যদি ঠিক না থাকে তাহলে তো অন্য কোনো ইবাদতের কোনো মূল্য নেই। সালাত নিয়মিত করতে হবে অন্যথায় এই ইবাদতটুকু আল্লাহতায়ালার কাছে একেবারেই অনর্থক, অপ্রয়োজনীয়; আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আপনার এই কাজের জন্য মহতাজ নন। যেমনটি আল্লাহতায়ালা এই গোটা পৃথিবীর কারো ইবাদতের জন্য মহতাজ নন, আপনার ইবাদতের জন্যও মহতাজ নন।

বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় অসহায় রোহিঙ্গারা

বাংলাদেশ- মায়ানমার সীমান্তের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা কয়েক হাজার রোহিঙ্গা তিন দিন ধরে অবস্থান করছে। তারা না পারছেন মায়ানমারে ফিরতে, না পারছেন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে। দু’দিকেই তারা গুলির মুখে।

রাখাইনের বাতি ঢেকিবানিয়ার আমানুল্লাহ তিন দিন আগে গুলির মুখে পরিবার-পরিজন নিয়ে পালিয়ে এসে সীমান্তের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছেন। তারা বাংলাদেশে আসতে চাইলেও ঢুকতে পারছে না। রাখাইনেও ফিরতে পারছেন না।

তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘রবিবার আমাদের গ্রামসহ আশপাশের গ্রামে সেনাবাহিনী হামলা চালায়। অনেকেই আহত হয়েছেন। কেউ কেউ মারাও গেছেন। আমি আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোনোভাবে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে এসেছি। আমরা এখন তমব্রু সীমান্ত পার হয়ে নো-ম্যান্স ল্যান্ডে আছি। এখানে খাবার নাই, থাকার মতো অবস্থা নাই। এখানে প্রায় একহাজারের মতো আছি আমরা।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এখন মায়ানমারে ফিরলেও গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে। আবার গুলির মুখে বাংলাদেশেও ঢুকতে পরছি না।'

মায়ানমারের সরকারি বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী এলাকায় পালিয়ে আসা মৌলভী শফিউল্লাহ বলেন, ‘আমার গ্রামের বাড়ি ঢেঁকিবনিয়ার ফকিরপাড়ায়। গত দুই দিন ধরে সেখানে সেনাবাহিনী বর্বর নির্যাতন চালাচ্ছে। বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করে তরুণদের আটক করে নিয়ে যাচ্ছে।'

পালংখালী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমদ সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ‘সীমান্তে নাফ নদী সংলগ্ন চিংড়ি ঘের থাকায় সেখানে স্থানীয় লোকজনের যাতায়াত তেমন নেই। তবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী প্রায় হাজারখানেক রোহিঙ্গা নদীর পারে অবস্থান করছে। ওপারে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ। শুধু তাই নয়, রোহিঙ্গা নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের কান্নার আওয়াজও পাওয়া যাচ্ছে।'

এদিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে জড়ো হচ্ছে শত শত রোহিঙ্গা। সীমান্তের জিরো লাইনের ছোট ছোট টিলা ও পাহাড়গুলোতে ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে সেখানে বসবাস শুরু করেছে দুই হাজারেও বেশি রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ। তারা সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। অন্ধকার ঘনিয়ে আসার সাথে সাথেই সীমান্তের সরু খাল, জঙ্গল দিয়ে এবং কাঁটাতারের বেড়া গলিয়ে আসছে আক্রান্ত শত শত রোহিঙ্গা নারী ও শিশু।

সীমান্ত এলাকা সরেজমিন ঘুরে কক্সবাজারের সাংবাদিক আব্দুল আজিজ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘বাংলাদেশ মায়ানমার সীমান্তের ১৮টি পয়েন্টে কমপক্ষে ২০ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন। তারা বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করলেও বিজিবি তাদের জিরো পয়েন্টে ফেরত পাঠাচ্ছে। তারা খোলা আকাশের নীচে না খেয়ে অবস্থান করছেন।'

এদিকে গত তিন দিনে রাখাইনে গুলিবিদ্ধ হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা অন্তত ১৯ জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যাদের মধ্যে একজন প্রথম দিনই মারা যান।

সোমবার মায়ানমারকে সীমান্তে সন্ত্রাসবিরোধী যৌথ অভিযান চালানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। মায়ানমারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত অং মিন্টকে পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ে ডেকে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পরিচালক মঞ্জুরুল করিম সরকারের পক্ষ থেকে এই চিঠি দেন। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মায়ানমারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে দুই বার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠানো হলো।

এই আনুষ্ঠানিক পত্রে বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্ত এলাকায় যৌথ অভিযানের প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ। এতে দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনী জঙ্গি, আরাকান আর্মি এবং অন্য যে কোনো অরাষ্ট্রীয় শক্তির বিরুদ্ধে কাজ করবে।

এদিকে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন জানিয়েছেন, ‘মায়ানমার সীমান্ত সিল করে দেয়া হয়েছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রতি বিজিবি'র সদস্যরা মানবিক আচরণ করছেন। মায়ানমার সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতি সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মোকাবেলা করা হচ্ছে।'