আউটসোর্সিং ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনার সাথে থাকছে.. গুরুত্বপূর্ণ সফট্ওয়্যার, অনলাইন জগতের বিশেষ খবর, অতিপ্রয়োজনীয় টিপস & ট্রিকস- সহ আরও কিছু আপডেট তথ্য, যা আপনার অনলাইন জীবনকে সমৃদ্ধশালী করতে সহায়ক হবে- উন্মুক্ত ‘সংগ্রহশালা’
ভুল মাস্কের ভয়াবহ বিপদ
সংক্রামক রোগ: রাসূল সা:-এর নির্দেশনা এবং করণীয়
অধ্যাপক কর্নেল (অব:) ডা: জেহাদ খান: বিভিন্ন দেশের সরকার কর্তৃক করোনাভাইরাসে জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য এ চেষ্টা, আর্থিক প্রণোদনা, অন্য দিকে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে নানা রকম প্রচারণা। এই ভাইরাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক চীনকে দোষারোপ, আবার চীন ও রাশিয়া কর্তৃক চলছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীকে দোষারোপ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটাকে মহামারী ঘোষণা করেছে। বিভিন্ন দেশে এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ লাখ লোক আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রায় ২২ হাজার লোক মৃত্যুবরণ করেছে। ভবিষ্যতের অজানা আশঙ্কায় মানুষ খাদ্যদ্রব্য মজুদ করা শুরু করেছে এবং জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডাক্তার ও নার্সরাও আতঙ্কের শিকার হচ্ছেন। ঢাকা মেডিক্যালের ডাক্তার ও চিকিৎসা সহকারী একজন বিদেশফেরত রোগীকে চিকিৎসা দিতে অস্বীকার করেছেন এবং পরে সে রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন। এক রোগী আতঙ্কিত হয়ে হাসপাতাল থেকে নাকি পালিয়েছেন।করোনায় নাগরিক ঐক্যের ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম
করোনা ভাইরাসে ২৪ ঘণ্টা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে নাগরিক ঐক্যের পক্ষে গণস্বাস্থ্য হাসপাতালের দুই চিকিৎসকের নেতৃত্বে মেডিকেল টিম কাজ করবে।
টিমের চিকিৎসকদের মধ্যে রয়েছেন- ডা. রিফাত হাসান রনি, ডা. বুশরা সাদিয়া। তারা দুজন করোনার চিকিৎসাসেবা প্রদানে সনদপ্রাপ্ত। এ টিমের নেতৃত্ব দেবেন ডা. শোয়েব মোহাম্মদ এবং ডা. রুবাইয়া আনোয়ার।নাগরিক ঐক্যের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চিকিৎসকদের পাশাপাশি শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী কাজ করবে। একইভাবে দেশের কয়েকটি জেলায় সেবা প্রদানের জন্য চিকিৎসক এবং স্বেচ্ছাসেবকদের টিম গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।
নিচের নম্বরে ফোন করে ২৪ ঘণ্টা সেবা পাওয়া যাবে -
ডা. শোয়েব মোহাম্মদ (০১৭১৯-৪৩৫১৮৫)
ডা. রুবাইয়া আনোয়ার (০১৭০৬-৩৪০২৫৭)
ডা. রিফাত হাসান রনি (০১৬৮০-৭৩৩১৮৪)
ডা. বুশরা সাদিয়া (০১৮৮৪-৯০৭৭২৯)
দেশে করোনা চিকিৎসার উপকরণ যেমন পরীক্ষার কিট, ডাক্তারদের সুরক্ষা উপরকরণের অভাব থাকার পরও নাগরিক ঐক্যের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল টিম প্রয়োজনে পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) ব্যবহার করে অক্সিজেন, নেবুলাইজার এবং প্রয়োজনীয় ওষুধসহ রোগীদের কাছে গিয়ে সেবা প্রদান করবে। তাদের করোনা পরীক্ষা এবং প্রয়োজন হলে সরকার অনুমোদিত হাসপাতালে ভর্তি এবং পরবর্তী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নাগরিক ঐক্যের মেডিকেল টিমের সঙ্গে যোগাযোগের পর যাদের কোয়ারেন্টাইন বা আইসোলেশনের পরামর্শ দেয়া হবে, তারা তা পালন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন কিনা - তা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে।
সাত দিনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করুন! Increase Immunity

প্রতিমুহূর্তে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ফাংগাস, ভাইরাস আমাদের দেহ আক্রমণের চেষ্টা করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এই সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তাই সুস্বাস্থ্যের জন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হওয়া দরকারি।
বারবার ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস আক্রমণের শিকার হলে এবং সুস্থ হতে বেশি সময় লাগলে বুঝতে হবে, শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অভাব রয়েছে। তখন এটি বাড়ানো প্রয়োজন। কিছু পদক্ষেপ নিলে কয়েক দিনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো যায়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে বোল্ডস্কাই জানিয়েছে সাত দিনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর কিছু উপায়।
গ্রিন ও ব্ল্যাক টি
গ্রিন ও ব্ল্যাক টি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোয় খুব কার্যকর। তবে বেশি খাবেন না। দিনে এক থেকে দুই কাপ খান। শরীর ভালো রাখতে ক্যাফেইন (চা, কফি) জাতীয় খাবারের পরিবর্তে গ্রিন টি খান।
কাঁচা রসুন
রসুন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এর মধ্যে রয়েছে এলিসিন, জিংক, সালফার, সেলিনিয়াম, ভিটামিন-এ এবং ই। এ ছাড়া রয়েছে অ্যান্টিফাংগাল, অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। এসব বিষয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর। সাত দিনের প্রথম দিন কাঁচা রসুন খান।
দই
দই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এর মধ্যে রয়েছে অনেক পুষ্টি উপাদান। এটি হজমের জন্যও ভালো। তাই দই খান। তবে খালি পেটে খাবেন না।
ওটস
এতে রয়েছে আঁশ এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান। প্রতিদিন খেলে রোগকে সহজে মোকাবিলা করায় সহায়তা পাবেন।
ভিটামিন-ডি
ভিটামিন-ডি হাড়ের জন্য ভালো। এটি হাড় মজবুত রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আমরা জানি, ভিটামিন-ডি-এর ভালো উৎস হলো সূর্যের আলো। তবে খুব কড়া আলো ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। সকালের হালকা আলো স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
লেবুর শরবত
ভিটামিন-সি রোগবালাইের আক্রমণ থেকে শরীরকে সুরক্ষা দেয়। এটি দেহকে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফ্রি রেডিক্যালসের হাত থেকে প্রতিরোধ করে। লেবুতে রয়েছে এই ভিটামিন-সি। তাই এই সাত দিন অবশ্যই লেবুর শরবত খান। এ ছাড়া ভিটামিন-সি পেতে কমলার রসও খেতে পারেন।
জিংক
শরীরে এনজাইমের কার্যক্রম ঠিকমতো চলার জন্য জিংক প্রয়োজন। জিংকের চাহিদা পূরণে সবুজ শাকসবজি এবং গমের আটার রুটি, শিম ইত্যাদি খেতে পারেন। অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে জিংক সাপ্লিমেন্টও খেতে পারেন।
যে খাবারগুলো শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
বর্তমান বিশ্ব ধূকছে করোনা ভাইরাসের আক্রমণে। এই আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রধান উপায় শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা। শরীরের সুস্থতা এবং রোগের আক্রমণে দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়া থেকে টিকে থাকতে প্রয়োজন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার রক্ষা কবচ। কিছু খাবার আছে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে শরীরকে সবসময় সুস্থ রাখে।
এমন কিছু খাবারের তালিকা এখানে দেয়া হলো। দেখে নিন-
১. ভিটামিন ই ও ভিটামিন সি জাতীয় খাবার
ভিটামিন ই ও ভিটামিন সি জাতীয় খাবারে আছে শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, যা ইনফেকশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিনের খাবারে কমলা, লেবু, পেয়ারা, টমেটো, লেবু, নারকেল, পেয়ারা, কালোজামের মতো খাবার রাখুন। বিটা-ক্যারোটিন যা শরীরের বলিরেখা দূর করে এবং রক্ত পরিশোধন করে।
২. মিষ্টি আলু
গাজরের মতো মিষ্টি আলুতেও থাকে বিটা-ক্যারোটিন। মানুষের শরীরে ঢুকে এটি হয়ে যায় ভিটামিন এ। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। এমনকি বুড়ো হয়ে যাওয়া ঠেকাতেও কাজ করে বিটা-ক্যারোটিন।
৩. চিকেন স্যুপ
বাসায় বানানো চিকেন স্যুপ মানুষের শরীরের জন্য খুব উপকারী। এতে থাকে কারনোসিন নামের একটি রাসায়নিক পদার্থ। এটি ভাইরাস জ্বরের সংক্রমণ থেকে শরীরকে বাঁচাতে ভূমিকা রাখে।
৪. রসুন
রসুন রান্না করা খাবারের স্বাদ বাড়িয়ে দেয়। কাঁচা রসুন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকজনিত আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বিশেষ করে, ত্বকের সংক্রমণ নিরাময়ে ভালো কাজ করে রসুন। শরীরের কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতেও কাজ করে এটি।
৫. আদা
খাবারের ঝাঁজ ছাড়াও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টেরও ভালো উৎস আদা। ফলমূল বা সবজি থেকে পাওয়া অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরে কাজও করে তাড়াতাড়ি।
৬. দুধ ও দই
জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার যেমন দুধ ও দই রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। দুধ হজম না হলে দুধের তৈরি খাবার খান। দিনে অন্তত ১০০ গ্রাম দই অথবা ১ কাপ দুধ খাবার চেষ্টা করুন।
৭. কাঠবাদাম
কাঠবাদামে রয়েছে ভিটামিন ‘ই’ যা খুবই শক্তিশালী একটি অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এটি ঠাণ্ডার সমস্যা ও কাশি প্রতিরোধ করে। এর স্বাস্থ্যকর ফ্যাট শরীরে শক্তি প্রদান করে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বজায় রাখে।
৮. ক্যারোটিন সমৃদ্ধ খাবার
ক্যারোটিন সমৃদ্ধ খাবার রোগ প্রতিরোধে খুব সাহায্য করে। গাজর, টোমাটো, কুমড়া বেশি করে খান। সারাদিনে ১ কাপ গাজরের জুস খেতে পারলে দারুণ উপকার পাবেন। গাজরের জুস দুধের থেকে সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর।
৯. মধু ও দারুচিনি
মধু ও দারচিনি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
১০. আমলকী
আমলকীর সাথে অল্প আদা ও খেজুর বেটে নিন। ভিটামিন সিতে ভরপুর আমলকীর এই চাটনি শরীরের জন্য দারুণ উপকারী।
১১. পানি
সারাদিনে প্রচুর পানি পান করুন। এছাড়া হারবাল চাও খেতে পারেন, কেননা তা শরীরকে নীরোগ রাখতে সহায়তা করে। সফট ড্রিঙ্ক কম খান।
১২. গ্রিন টি
তুলসি ও গ্রিন টি দেহের জন্য দারুণ উপকারী। এগুলো অর্গানিক, ডায়াবেটিসের জন্য উপকারী, হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী, ক্যালোরি অনেক কম এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর। গ্রিন টি খেলে দেহের রোগ প্রতিরোধীব্যবস্থা শক্তিশালী হয়।
ডেঙ্গু জ্বরে পেঁপে পাতার রস বা নারিকেল তেল কি আসলেই ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কার্যকর?

ডেঙ্গু নিরসনে পেঁপে পাতার রসের ভূমিকার পরীক্ষা পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় হয়েছে।
বাংলাদেশে ব্যাপক আকারে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশের সামাজিক মাধ্যমে ডেঙ্গুর কিছু প্রাকৃতিক সমাধানের কথা ছড়িয়ে পড়েছে - যার মধ্যে একটি হলো পেঁপে পাতার রস।
বলা হচ্ছে, পেঁপে পাতার রসের সাথে আরো কিছু উপাদান যোগ করে একটি নির্দিষ্ট সময় বিরতিতে পান করলে ডেঙ্গু থেকে দ্রুত আরোগ্য লাভ করা সম্ভব।
কিন্তু আসলেই কি পেঁপে পাতার রস ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে?
ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান বলেন, পেঁপে পাতার রস যে ডেঙ্গু নিরসনে ভূমিকা রাখে, এই দাবির কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
"ডেঙ্গু নিরসনে পেঁপে পাতার রসের ভূমিকার পরীক্ষা পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় হয়েছে, কিন্তু পুরোপুরি প্রমাণিত হয়নি যে এটি ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কার্যকর।"
পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু পরীক্ষা হলেও বৈজ্ঞানিক নীতি অনুসরণ করে কোনো ধরণের 'র্যান্ডমাইজড কন্ট্রোলড ট্রায়াল'-এর মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয়নি বলে জানান মি. মুজিবুর রহমান।
"কোন ওষুধের কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হলে র্যান্ডমাইজড কন্ট্রোলড ট্রায়াল হতে হবে। এছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না যে ঐ ওষুধটি কোন একটি নির্দিষ্ট রোগের বিরুদ্ধে কার্যকর।"
মি. রহমান বলেন, বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে পেঁপে পাতার রসের কার্যকারিতার বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
তবে পৃথিবীর কয়েকটি দেশে ডেঙ্গু রোগীকে পেঁপে পাতার রস খাওয়ানোর উপদেশ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।
২০১৭ সালে ভারতে ৪০০ জন ডেঙ্গু রোগীর ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় উঠে আসে যে পেঁপে পাতার রস খাওয়া রোগীদের রক্তকণিকার পরিমাণ অন্য রোগীদের তুলনায় অপেক্ষাকৃত বেশি বেড়েছে এবং তাদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও অপেক্ষাকৃত কম। খবরটি তখন 'টাইমস অফ ইন্ডিয়া'তে প্রকাশিত হয়েছিল।
এছাড়া পেঁপে পাতার রস খাওয়ানো ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে রক্ত নেয়ার প্রয়োজনীতার হারও কম হিসেবে পরিলক্ষিত হয়।
ডেঙ্গুর তীব্রতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোগীদের নির্দিষ্ট পরিমাণে পেঁপে পাতার রস খাওয়ার উপদেশ দেয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের ওয়েবসাইটে।
নারিকেল তেল মাখলে কি আসলেই মশা কামড়ায় না?
পেঁপে পাতার রস খাওয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধ গত কিছুদিন ধরে বাংলাদেশে সামাজিক মাধ্যমে আরেকটি বিষয় নিয়েও আলোচনা হচ্ছে - সেটি হলো পায়ে নারিকেল তেল মাখা।
নারিকেল তেল মশা তাড়ায় এবং তেল পায়ে মাখলে মশার কামড় থেকে বাঁচা সম্ভব - এই দাবির সাথে পুরোপুরি একমত প্রকাশ করেননি শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ব বিভাগের অধ্যাপক তাহমিনা আখতার।
"মশা যেহেতু চামড়া ভেদ করে রক্ত পান করে, তাই চামড়ার ওপর ঘন যেকোন ধরণের তেলই মশাকে কিছুটা প্রতিহত করতে পারে বলে আমি মনে করি।"
তবে এক্ষেত্রে নারিকেল তেলের সাথে কীটনাশক জাতীয় কোন দ্রব্য মিশিয়ে নিলে আরো বেশি কার্যকর হবে বলে মনে করেন মিজ. আখতার।
"ন্যাপথলিন বা কর্পূরের গুড়া বেশ ভাল কীটনাশক। নারিকেল তেলের সাথে কর্পূরের গুড়া মিশালে মশা নিবারনে তা আরো বেশি কার্যকর হতে পারে।"
এছাড়া কড়া গন্ধ থাকায় নারিকেল তেলের বদলে সরিষার তেলও মশা দূরে থাকতে কার্যকর হতে পারে।
বিবিসি বাংলার বিশেষ প্রতিবেদন
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির উপায় : How to Increase Immunity
শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর কার্যকরী উপায় - চিকিৎসক এবং পুষ্টিবিজ্ঞানীর মতে
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
মানুষ কীভাবে সুস্থ থাকতে পারে এবং কোন উপায়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে, সেটি নিয়ে নানামুখী গবেষণা হয়েছে বিশ্বজুড়ে।
চিকিৎসক এবং পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলছেন, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী না হলে অল্প অসুস্থতাতেও মানুষ খুব সহজে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রোগের আক্রমণও জোরালো হয়।
এক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবন-যাপনের পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করছেন চিকিৎসকরা।
মানুষ সচরাচর যে ধরণের খাবার খায়, সেগুলো হচ্ছে - শর্করা, প্রোটিন এবং ফ্যাট বা চর্বি জাতীয় খাবার।
এ ধরণের খাবার শরীরের জন্য অবশ্যই প্রয়োজন। মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নির্ভর করে ভিটামিন এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট-এর উপর।
দুগ্ধজাত খাবার
দুগ্ধজাত খাবারগুলো বিজ্ঞানের ভাষায় প্রোবায়েটিকস হিসেবে পরিচিত। যেমন- দই, ঘোল, ছানা ইত্যাদি।
মানুষের পাকস্থলিতে যে আবরণ আছে, সেটার ভেতরে বেশ কিছু উপকারী জীবাণু কার্যকরী হয়।
বাংলাদেশের একজন চিকিৎসক হাসান শাহরিয়ার কল্লোল বলেন, পাকস্থলীতে যদি উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমে যায় তখন সেখানে ক্যান্সার বাসা বাঁধতে পারে।
দুগ্ধজাত খাবারগুলোর পাকস্থলীতে উপকারী জীবাণুকে বাঁচিয়ে রাখে। ভিটামিন ডি এর জন্য দিনের কিছুটা সময় শরীরে রোদ লাগাতে হবে। এটা খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনাচরণের সাথে সম্পৃক্ত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক নাজমা শাহীন বলেন, যার শরীরের গঠন ভালো এবং সেখানে কোন ঘাটতি থাকবে না, তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হবে।
তিনি বলেন, যেমন শিশু জন্মের পর থেকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
ভিটামিন 'বি' এবং 'সি' জাতীয় খাবার
এই ভিটামিনগুলো পানির সাথে মিশে যায়। এগুলো শরীরে জমা হয়না। চিকিৎসক কল্লোলের মতে, প্রতিদিনই কিছু পরিমাণে ভিটামিন বি এবং সি জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে।
এই ভিটামিনগুলো পানিতে মিশে যাওয়ার কারণে প্রস্রাবের সাথে বেরিয়ে যায়।
শরীরের নার্ভ-এর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এই দুই ধরণের ভিটামিন কাজ করে।
শরীরের ভেতরে বিক্রিয়ার কারণে যেসব সেল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সেগুলো সারিয়ে তুলতে কাজ করে ভিটামিন সি।
দুধ এবং কলিজার মধ্যে ভিটামিন বি আছে। টক জাতীয় যে কোন ধরণের ফল- লেবু, আমলকী, কমলা, বাতাবিলেবু এবং পেয়ারাতে ভিটামিন সি আছে।
চা-কফি কতটা খাবেন?
অতিমাত্রায় চা-কফি পান করা শরীরের জন্য ভালো নয় বলে সতর্ক করে দিচ্ছেন চিকিৎসক মি: কল্লোল।
"ধরুন একজন ব্যক্তি যদি দিনে সাত কাপ চা খায়, এবং প্রতি কাপে এক চামচ চিনি থাকে তাহলে তিনি কিন্তু প্রতিদিন সাত চামচ চিনি খাচ্ছেন। এই সাত চামচ চিনি শরীরের জন্য ভয়াবহ।" বলছিলেন মি: কল্লোল।
চা-কফিতে এমন অনেক উপাদান থাকে যার কোনটি শরীরের জন্য ভালো এবং কোনটি শরীরের জন্য খারাপ।
ভাত বেশি খাবেন না
একজন মানুষ প্রতিদিন যে পরিমাণ খাবার খাবেন, তার ৬০ শতাংশ হওয়া উচিত কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা।
এর পর ৩০ শতাংশ হতে হবে প্রোটিন এবং ৫ শতাংশের মতো থাকবে চর্বিজাতীয় খাবার।
মি: কল্লোল বলেন, "আমাদের দেশে দেখা যায়, শর্করা প্রচুর খাওয়া হচ্ছে কিন্তু সে পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করা হয়না।"
তিনি বলেন, অতিরিক্ত ভাত বা শর্করা জাতীয় খাবার খেলে সেটি শরীরের ভেতরে ঢোকার পর ফ্যাট বা চর্বিতে রূপান্তর ঘটে।
অধ্যাপক নাজমা শাহীন বলেন, রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ধরণের খাবার সুষমভাবে খেতে হবে।
"আপনি হয়তো মনে করছেন যে আপনি প্রচুর পরিমাণে তেল, চর্বি, ঘি বা মাখন জাতীয় খাবার খাচ্ছি না। তাহলে আমার শরীরে এতো চর্বি জমা হয় কীভাবে?"
নিয়মিত ব্যায়াম অথবা অন্য যে কোন ধরণের শারীরিক পরিশ্রম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম
শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে শারীরিক পরিশ্রমের সম্পর্ক আছে। একজন মানুষ যখন শারীরিক পরিশ্রম করে তখন শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাজ করে।
শরীরের মাংসপেশি এবং হৃদযন্ত্র অনেক কার্যকরী হয়। একই সাথে শরীরের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়।
ফলে শরীরের দূরতম প্রান্ত পর্যন্ত অক্সিজেন পৌঁছবে। তখন শরীরের কোষগুলোতে শক্তি উৎপাদন শুরু হবে।
সুতরাং প্রতিদিন শারীরিক পরিশ্রমের সাথে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সম্পর্ক আছে। মি: কল্লোল বলেন, এমন ধরণের পরিশ্রম করতে হবে যাতে শরীর থেকে ঘাম ঝরে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে ডেঙ্গু জ্বর থেকে রেহাই মিলবে?
চিকিৎসক মি: কল্লোল বলেন, এর সাথে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া কিংবা না হওয়ার সম্পর্ক আছে কিনা সেটি এখনো পরিষ্কার নয়। একজনের শরীরে কতটুকু জীবাণু ঢুকছে এবং সে জীবাণুটির আক্রান্ত করার ক্ষমতা কতটা সেটি গুরুত্বপূর্ণ।
"ডেঙ্গু একটি ভাইরাস। সে ভাইরাস যখন আমার শরীরে ঢুকছে, তখন আমার শরীরের রোগ প্রতিরোধ সিস্টেম অ্যাকটিভেট (কার্যকরী) হচ্ছে সাথে-সাথে। তখন আমার শরীর সাথে-সাথে সেটির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। সুতরাং যার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো, এবং যে মশাটি কামড়াচ্ছে সেটির ভেতরে যদি জীবাণুর পরিমাণ কম হয়, সেক্ষেত্রে আমার শরীর ভালো রিঅ্যাক্ট (সাড়া) করবে।"
"বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন"
কর্মস্থলে করোনামুক্ত থাকার উপায়
বিশ্ব এখন করোনাভাইরাসে স্তব্ধ, লড়াইয়ের আপ্রাণ চেষ্টায় সর্বমহল। মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে প্রায় সব দেশেই। প্রাণনাশের আশঙ্কায় গৃহবন্দি হচ্ছে মানুষ। তবুও কিছু মানুষকে যেতে হচ্ছে কর্মস্থলে। তাদের জন্য আতঙ্কটা আরও বেশি। ফলে তাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। দিনের বেশিরভাগ সময় যেখানে থাকতে হয়; সেখানে তো কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতেই হয়। তাহলে জেনে নিন নিরাপদ থাকার উপায়-
ডেস্ক পরিষ্কার রাখুন
অফিসে ডেস্কে বসে কাজ শুরু করার আগেই চারপাশ ভালোভাবে মুছে নিন। কি-বোর্ড, কম্পিউটার, মাউস, ফোন ও অন্যান্য জিনিস জীবাণুমুক্ত করে নিন। এছাড়াও যেসব জিনিসে আপনি হাত দেন, সেগুলোও মুছে নিন। ওয়াইপ বা ব্লিচিং দিয়ে বেশ কিছুক্ষণ ধরে মুছতে হবে।
একাধিকবার হাত ধোবেন
অফিসে থাকাকালীন একাধিকবার হাত ধুতে হবে। যতবার সম্ভব; ততবার হাত ধুতে হবে। কাজ করে খাওয়ার আগে হাত ধোবেন। দরজার হাতল ধরার পর হাত ধোবেন। বাড়ি যাওয়ার আগেও হাত ধুয়ে বের হবেন। যদি সাবান না থাকে, তাহলে স্যানিটাইজার লাগিয়ে নিন। তবে পানি ও সাবানে যতটা পরিষ্কার হয়, স্যানিটাইজারে তা হয় না।
করমর্দন করবেন না
সাধারণত মানুষের মাধ্যমেই ছড়াচ্ছে এ ভাইরাস। তাই যতটা সম্ভব করমর্দন থেকে বিরত থাকবেন। কাজের জায়গায় অন্যদের দূর থেকেই অভিবাদন জানান। প্রয়োজনে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখবেন। অন্য কারো সংস্পর্শ এড়িয়ে চলবেন।
স্মার্টফোন পরিষ্কার
ফোন থেকে ভাইরাস ছড়ানোর প্রবণতা থাকে। কেননা ফোন সবসময় ব্যবহার করা হয়। তাই সেটি পরিষ্কার করা খুবই জরুরি। ফোনের স্ক্রিন ও ব্যাক কভার ভালোভাবে ওয়াইপস দিয়ে মুছে নিন। তবে কোনো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যেন পানি না ঢোকে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। অনেকক্ষণ ধরে মুছতে হবে।
মাস্ক পরুন
কর্মস্থলে মাস্ক ব্যবহার করুন। নিজের এবং অন্যের নিরাপত্তায় সবাইকেই এ কাজটি করতে হবে। বিশেষত হাঁচি-কাশির সময় রুমাল বা টিস্যু ব্যবহার করুন। বিশেষ করে যারা সড়ক নিয়ন্ত্রণে (ট্রাফিক) কাজ করেন তাদের জন্য মাস্ক অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।
পিপিই পরুন
স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে দায়িত্বরত চিকিৎসক বা সেবকরা পারসোনাল প্রোটেকশন ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই) পরুন। তা না হলে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে গিয়ে নিজেও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য পিপিই’র ব্যবস্থা করা উচিত।
