ঈদে ভাড়া বে‌শি নি‌লে অভিযোগ করবেন কোথায়?

প্রতিবছরই দুই ঈদে অনিয়মকে নিয়ম মেনেই বাড়তি ভাড়া আদায় করে বাস মালিকরা। কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, ‘ঈদে ঘরমুখো মানুষের কাছে বাড়তি ভাড়া আদায় করা যাবে না, বাড়তি ভাড়া আদায় অবৈধ।
প্রমাণ হলে শাস্তি হবে। ’ তবু কর্তাব্যক্তিদের এসব হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেই চলে বাড়তি ভাড়া আদায়ের মহা উৎসব! যুক্তি—‘ঈদের সময় বাস ঢাকায় ফিরতিকালে যাত্রী পায় না, তাই একটু বেশি নেয়!’ অন্যদিকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের শাস্তির জন্য আইন আছে; কিন্তু শাস্তি কী বা অভিযোগ কোথায় জানাতে হবে তা জানা নেই বেশির ভাগ যাত্রীরই। এই যখন পরিস্থিতি, তখন রাজধানী ঢাকায় বসবাসরত প্রায় পৌনে দুই কোটি মানুয়ের সঙ্গে প্রতিদিন নতুন করে যুক্ত হচ্ছে এক হাজার ৪০০ নতুন মুখ। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রাজধানীতে আসা এই মানুষগুলো পুরো বছর শিকড়ের টানে গ্রামে যেতে না পারলেও বছরের দুটি ঈদে ফেরার চেষ্টা করে। শুধু ঈদ এলেই ছুটে চলা এই মানুষগুলোর যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ বড় একটি মাধ্যম হয় দূরপাল্লার বাস। কিন্তু বাড়তি আনন্দ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিলেও প্রথমেই গুনতে হয় বাড়তি ভাড়া। বিআরটিএর দেওয়া ভাড়ার তালিকা সে সময় হয়ে যায় দুই অথবা তিনের ঘরের নামতার মতো।

বিআরটিএর দেওয়া তথ্য মতে, মে ২০১৬-র সর্বশেষ নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী কিলোমিটারপ্রতি ১.৪২ টাকা হারে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। বিভাগীয় শহর, রাজধানীসহ ৩৭৬টি রোডে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছে বিআরটিএ। অথচ ব্যতিক্রম ছাড়া ঈদের সময় বিআরটিএর নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়া হয়। বিগত কয়েক বছরের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এনে এবারের ঈদে ভাড়া বাড়ার আগেই গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ, গুলিস্তান বাস টার্মিনালগুলোতে ঘুরে আসন্ন ঈদে এই পরিস্থিতিতে সাধারণ একজন যাত্রী আইনগত কী সুবিধা পেতে পারে এবং বাড়তি ভাড়া আদায়ের কোনো বৈধতা আছে কি না, সে বিষয়ে অনুসন্ধান করে কালের কণ্ঠ। এ সময় নির্ধারিত ভাড়া থেকে যেকোনো সময় বাড়তি আদায় করাটাই অপরাধ বলে জানায় বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ। তবে অনেক চেষ্টা করেও জানা গেল না কী শাস্তি হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআরটিএর এক কর্মকর্তা জানালেন, ‘বাড়তি ভাড়া আদায় অবশ্যই একটি বড় সমস্যা। মূল সমস্যার কথা কেউ বলে না। তাই এর কোনো সমাধানও সম্ভব নয়। এই বাড়তি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও নির্ধারণ আসলে সরকারেরই একটি শক্তি নির্ধারণ করে। তাই এর সমাধানও অনেকটা কঠিন!’ কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, মাত্র কয়েক হাজার বাস ব্যবসায়ীর অর্থ আর ক্ষমতার কাছে কিভাবে ১৬ কোটি সাধারণ মানুষ নতি স্বীকার করে ভোগান্তি মেনে নেবে?

গাবতলী টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেল, কয়েকজন যাত্রী চুয়াডাঙ্গা যাওয়ার জন্য পূর্বাশা বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। কথা বলার চেষ্টা করতেই তাঁরা এগিয়ে এলেন এবং জানালেন, একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন তাঁরা। একজন বললেন, ‘যেতাম আরো পরে, কিন্তু ওই সময় বাড়তি ভাড়ার সঙ্গে যুক্ত হয় অসহনীয় যানজট, যা কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল। ’ মহাখালী বাস টার্মিনালে গিয়ে কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা বললে জানালেন, ‘বাড়তি ভাড়া নেওয়া এ আর নতুন কী। প্রতিবছরই এমনটা ঘটে। পুরো বছর ভাড়া এক আর ঈদের সময় ভিন্ন।’
কাউন্টারগুলোতে গেলে কথা বলতে নারাজ অনেকেই। দু-একজন বললেন, যানজটের কারণে একবার ট্রিপ নিয়ে যেতেই কষ্ট হয়, আবার আসার সময় আসি খালি। যাত্রী পাওয়া যায় না। আসার সময়ের তেল খরচের টাকা কে দেবে! ভাড়া বাড়লেও কিছু করার নেই। আমাদের তো পোষাতে হবে!’ এ প্রসঙ্গে রাজশাহীগামী এক যাত্রীর সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, ‘তাহলে কি যানজট আর নানা সমস্যার দায় আমাদের মতো সাধারণ যাত্রীদেরই নিতে হবে? বাস মালিকরাও তো সারা বছর কোনো রকম বাধা ছাড়া ব্যবসা করে যাচ্ছে। তারা কেন দায় নেবে না?’
গোপলগঞ্জ যাবেন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তাহেরুল ইসলাম বাপ্পি, কথা হলো গুলিস্তান বিআরটিসি টার্মিনালে—বললেন, ‘ভাই, এসেছিলাম ঈদের অগ্রিম টিকিটের জন্য, এসে জানলাম ১৫ রমজানের পর নাকি টিকিট ছাড়বে! প্রতিবছর ৩০০ টাকার টিকিট ৫০০ বা তারও বেশি টাকা দিয়ে কিনতে হয়, এবার নাকি আরো বেশি হবে টিকিটের দাম! নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এত বেশি ভাড়া নেওয়ার যৌক্তিকতা খুঁজে পাই নারে ভাই।

’টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের রাব্বি নামের এক কন্ডাক্টর বলেন, ‘ঢাকা থেকে ৪৫০ টাকার ভাড়া হবে ৬০০ টাকা আর এসি বাসে সব সময়ের ভাড়া ৫৫০ টাকা হলেও ঈদে এটা বেড়ে হতে পারে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা। ’
ঈদে বাড়তি ভাড়া আদায়ের বৈধতার বিষয়ে বিআরটিএ সদর কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জি.) মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ‘ভাড়ার বিষয়টি আমরাই নির্ধারণ করে থাকি। ঈদে বা অন্য যেকোনো সময় বাড়তি ভাড়া আদায়ের কোনো বৈধতা বিআরটিএ দেয় না। নির্ধারিত ভাড়ার বেশি আদায় করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত ব্যবস্থা নেবেন, সেই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তো আছেনই। এ ধরনের সমস্যার ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করতে চাইলে আমাদের ওয়েবসাইটে (www.brta.gov.bd) গিয়ে অভিযোগের জন্য একটি ফরম পূরণ করতে হবে। তারপর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে।
’শাস্তি কী হতে পারে—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের মুখপাত্র পরিচালক রোড সেফটি বলতে পারেন। ’ বিষয়টি জানতে রোড সেফটির পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রাব্বানীর সঙ্গে কথা বলার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

একজন যাত্রী হিসেবে এ ধরনের ভোগান্তিতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর থেকে কী সুবিধা পাওয়া যেতে পারে? এ বিষয়ে কথা বললে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিষয়ে যদি কোনো যাত্রী ওই বাসের ড্রাইভার, কন্ডাক্টর বা মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা দেয়, আমরা দুই পক্ষকে ডেকে বিষয়টি জানব। তারপর প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর কেন্দ্র।’
জানা যায়, অপরাধের ধরন অনুযায়ী শাস্তি হতে পারে এক বছর থেকে তিন বছরের জেল এবং ৫০ হাজার থেকে অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করতে পারে। আদায়কৃত জরিমানার ২০ শতাংশ দেওয়া হবে অভিযোগকারীকে।
অভিযোগ করতে হবে অবশ্যই লিখিতভাবে, ফ্যাক্স, ই-মেইল (nccc@dncrp.gov.bd), ওয়েবসাইট (http://dncrp.portal.gov.bd/) এবং অফিস চলাকালে সরাসরি মোবাইলে ০১৭৭৭৭৫৩৬৬৮ নম্বরে।
এছাড়া সরাসরি কারওয়ান বাজার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অফিসে অভিযোগ করা যাবে। অভিযোগের জন্য অভিযোগ ফরম সংগ্রহ করে পূরণের সঙ্গে অবশ্যই বাড়তি ভাড়া আদায়ের টিকিট অথবা প্রমাণ পেশ করতে হবে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৬০ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে কারণ উদ্ভব হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে এ আইনের অধীনে অভিযোগ দায়ের করতে হবে; অন্যথায় ওই অভিযোগ গ্রহণযোগ্য হবে না।

চাকরির সা‌থে জামদানির ব্যবসায় তান‌জিনা

ঢাকার বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেছেন তানজিনা হক। চাকরি করেন বসুন্ধরা গ্রুপের সফটওয়ার কম্পানি চ১-এ বিজনেস অ্যানালিস্ট হিসেবে।
চাকরির পাশাপাশি করছেন জামদানি শা‌ড়ির ব্যবসা। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও যাচ্ছে তাঁর ডিজাইন করা নানা রঙের শাড়ি। স্বপ্ন দেখেন তাঁর জামদানি একদিন হয়ে উঠবে আন্তর্জাতিক কোনো ব্র্যান্ড। তানজিনার উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প শোনাচ্ছেন রাতিব রিয়ান
একবার স্বামী রাসেল মাহমুদের কর্মস্থল রংপুরে গিয়েছিলেন তানজিনা। ঘটনাচক্রে যাওয়া হয় রংপুরের তাঁতিপাড়ায়। কিন্তু ওখানে গিয়ে তাঁর বেশ মন খারাপ হয়ে যায়। কারণ তাঁতিপাড়ার সেই জৌলুস আর নেই। একসময়ের ব্যস্ত তাঁতিদের এখন সময় কাটে বসে বসে! তবু যতটুকু কাজ, মনহরণকারী। জামদানি, কাতান প্রভৃতি দেখে মুগ্ধ হন তানজিনা। নিজের জন্যই শাড়ির বায়না দিলেন। একটা ডিজাইন দেখিয়ে তাঁতিকে বললেন, ‘আমাকে এভাবে শাড়িটা বানিয়ে দেন। ’ সেই শাড়ি পরে ফেসবুকে দিয়েছিলেন নিজের ছবি। এরপর ফেসবুকের মাধ্যমে আসতে থাকে একের পর এক অনুরোধ ‘আপু আমার জন্য একটা’, ‘আমাকে এই শাড়িটা বানিয়ে দাও প্লিজ। ’ অভূতপূর্ব সাড়া। এক শাড়িতেই বুঝি বাজিমাত!
তানজিনা চিন্তা করলেন, ‘বাহ্, চাইলে তো আমি জামদানির ব্যবসাই শুরু করতে পারি!’ এরপর তানজিনার উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প শুরু। তবে শুরুটা এতটা মসৃণ ছিল না। তিনি বলেন, ‘বাণিজ্যিকভাবে শুরু করতে গেলে ক্রেতাদের কাছ থেকে কেমন সাড়া পাব—এটা নিয়ে চিন্তায় থাকতাম। কারণ এখন প্রযুক্তির যুগ। গ্রামীণ তাঁতিরা যেসব শাড়ি বানায় তা হাতে টানা মেশিনের। এটির কদর কেমন সে সম্পর্কে ধারণা ছিল না। তার পরও শুরু করলাম। কিন্তু তাঁতিদের কনভিনস করতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছিল। তাঁতিরাও বলল, ‘এখন এসব শাড়ির বাজার নেই। বাজারে বিভিন্ন কম্পানির শাড়ি আছে। হাতে চলা মেশিনের শাড়ি কিনবে কে?’ তার পরও আশ্বস্ত করলাম তাঁতিদের। চেষ্টা করেই দেখি না। তাঁতিদের কিছু ডিজাইন আমার পছন্দ হলো। এরপর আমিও কিছু ডিজাইনের লেআউট করে দিলাম। তাঁতিরা সে অনুযায়ী সাঁচ বানিয়ে নিল। এরপর আর পিছিয়ে থাকতে হয়নি’, বলেন তানজিনা।
নিজের চাকরি থেকে জমিয়েছিলেন ৫০ হাজার টাকা। শুরুতেই ১০-১২টি শাড়ি দিয়ে ব্যবসাটা শুরু হয়েছিল তাঁর। ফেসবুকে একটি পেজ খুললেন অংশু নামে। সিল্ক কাতান, জামদানি কাতান, কটনের সংগ্রহ তাতে। ‘ক্রেতারাই সেরা’ এমন মূলমন্ত্র নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকলেন তানজিনা। এ কারণে ক্রেতাদের চাহিদা মাথায় রেখেই শাড়ির যাবতীয় ডিজাইন তাঁর। তানজিনা বলেন, ‘ডিজাইনগুলো আমার নিজের আইডিয়া থেকে আসা। ডিজাইন করার সময় উৎসবের চিন্তা মাথায় রাখি। ধরা যাক ঈদের সময় কোন ডিজাইন চলবে, শরতে কোনটি, পহেলা বৈশাখে কোনটি—এসব ডিজাইন মাথায় রেখে সেই অনুযায়ী শাড়ির অর্ডার দিই। এ ছাড়া কালারের বিষয়টি মাথায় রাখতে হয়। আমার যে কালেকশন তাতে লাল, নীল, সবুজের সমারোহ। কারণ বেশির ভাগ ক্রেতার কাছে এই রংগুলো পছন্দের। ’
প্রথম দিনের শাড়ি বিক্রির অম্লান স্মৃতি এখনো গাঁথা তানজিনার মনে। তিনি বলেন, ‘পিনাজ নামে এক আপু ফেসবুকের মাধ্যমে নমুনা দেখে আমার কাছ থেকে শাড়ি নিয়েছিলেন। শাড়ি বাবদ তিনি ৫০ শতাংশ টাকা অগ্রিমও দিয়েছিলেন। প্রথম শাড়িটা বিক্রি করেছিলাম তিন হাজার ৬০০ টাকায়। ’ তানজিনা জানান, সিল্ক কাতান রকমভেদে বিক্রি করেন এক হাজার ৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা, জামদানি তিন হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার ৮০০ টাকা, কটন ৮০০ থেকে চার হাজার টাকা। গত দুই বছরে নেট দুনিয়ায় তিনি পাঁচ হাজারের বেশি শাড়ি বিক্রি করেছেন।
ঈদের সময়ও দারুণ ব্যস্ততা যাচ্ছে তানজিনার। বলছিলেন, ‘হাতে বেশ কিছু অর্ডার আছে। এগুলো সময়মতো ডেলিভারি দিতে হবে। কারণ ক্রেতারা ঈদে শাড়ি পরবে এই কারণে ডেলিভারি দেওয়ার তাড়া আছে। তবে সব সময় শাড়ি ডেলিভারি দেওয়াও কিছুটা কষ্টের। কেননা একটা ভালো মানের শাড়ি হাতে টানা মেশিনে নামাতে, শাড়ির ফিনিশিং সব কিছু প্রক্রিয়া সামলে সময় লাগে ছয়-সাত দিন। ’ পণ্যের মানের ব্যাপারে বেশ যত্নশীল তানজিনা। তিনি বলেন, ‘মেশিনে একটা শাড়ি এক দিনেই নামানো সম্ভব, এমনকি একাধিক শাড়িও তৈরি সম্ভব। কিন্তু দেশীয় প্রযুক্তিই আমার পছন্দের। ’ তিনি বলেন, ‘পণ্যের গুণগত মানের ব্যাপারে আমার কোনো আপস নেই। আমি বিশ্বাস করি, আমার সরবরাহ করা পণ্যটি যদি গুণগত মানের হয় তাহলে ওই ক্রেতা আমাকে মনে রাখবে, কিংবা তার পরিচিত কারো মাধ্যমে আমি নতুন ক্রেতা পাব। যেহেতু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবসা করা হয়, চাইলে সেখানে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ আছে। ন্যায্য দামের থেকে বেশি দাম নেওয়ার সুযোগও আছে। কিন্তু সৎ থাকতে হবে। কারণ ক্রেতা ঠকিয়ে অর্থ উপার্জন করা গেলেও সুনাম কিন্তু আসবে না। ’
শুধু কি ব্যবসা, যিনি ব্যবসা করবেন তাঁর কী গুণ থাকতে হবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে এই উদ্যোক্তা বলেন, ‘অবশ্যই নিজেকে আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। চিন্তায় সৎ থাকতে হবে। ক্রেতার কাছে বিশ্বস্ত হতে হবে। কারণ ক্রেতা পূজনীয়। ক্রেতা যদি সন্তুষ্ট না থাকে, তবে সেই ব্যবসা বেশি দূর এগোনো সম্ভব না। ’
শুধু শাড়ি নয়, বুটিকের কালেকশনও আছে তানজিনার। বুটিকগুলোর ডিজাইনও নিজেই করেন। সেই অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘নিজেই বুটিকের কাজ শুরু করলাম। দেখলাম মানুষ মূল্যায়ন করছে। অনেকেই সাড়া দিচ্ছে। ’ কারা ক্রেতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বেশির ভাগ ঢাকার বাসিন্দা। এ ছাড়া ঢাকার বাইরের জেলা থেকেও ক্রেতারা তাঁর শাড়ি নিয়ে যায়। ’ শুধুই কি দেশের সীমানা, দেশের বাইরে অন্য কোথাও তাঁর শাড়ি যাচ্ছে কি না? তানজিনা বলেন, ‘পাঁচ-ছয়টি দেশে তাঁর শাড়ি যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারত, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া। তাদের বেশির ভাগই প্রবাসী ক্রেতা। হয়তো কোনো আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে তারা তথ্য জেনে এসব অর্ডার দেয়। ’
তবে বিদেশে শাড়ি পাঠানো বেশ সময়সাপেক্ষ ও হয়রানিমূলক বলে জানালেন তিনি। বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময় ডেলিভারি পাঠানো যায় না। একাধিকবার চেকিং করা হয়। কী পাঠাচ্ছি তা জায়গায় জায়গায় দেখা হয়। এরপর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হয়ে ছাড়ে। ’ পোস্ট অফিস ও এয়ার মেইলের মাধ্যমে এসব পাঠানো হয় বলে তানজিনা উল্লেখ করেন। সে ক্ষেত্রে পাঠানোর খরচটা একটু বেশি।
উপার্জন সম্পর্কে তানজিনা বলেন, ‘খণ্ডকালীন সময় দিলে প্রতি মাসে অন্তত ৩০ হাজার টাকা উপার্জন করা সম্ভব। আর কেউ যদি পূর্ণ সময় দেন তাহলে তার উপার্জন মাসে ৫০ হাজার টাকার বেশি হবে। ’ যাঁরা উদ্যোক্তা হতে চান তাঁদের প্রতি তানজিনার পরামর্শ—‘কেউ একটা কাজ করে সফল হলো অন্য কেউ যে সেই একই কাজ করে সফল হবে তার নিশ্চয়তা নেই। যা কিছুই শুরু করুন না কেন, নিজস্ব চিন্তা থাকতে হবে; ক্রেতাদের মানসিকতা বুঝতে হবে। তার জন্য প্রচুর স্টাডি দরকার। আর সবার আগে বুঝতে হবে, আমি কী করতে পারব। নিজের অবস্থানটা পরিষ্কার থাকতে হবে। যা করতে পারব সেটাতেই লেগে থাকতে হবে। ’
কথার ফাঁকে তানজিনা জানালেন তাঁর স্বপ্নের কথা। ফেসবুক দুনিয়ার পাশাপাশি ঢাকার কোথাও একটা শোরুম দিতে চান তিনি।
এ ছাড়া তাঁর অন্য একটা পরিকল্পনাও রয়েছে—বিশ্বজনীন কিছু করা। জামদানি, কাতান আমাদের দেশীয় ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যকে সারা বিশ্বে পরিচিত করাতে চান তিনি। তানজিনা চান আমাদের দেশীয় এই পণ্য একদিন হয়ে উঠুক বিশ্বখ্যাত কোনো ব্র্যান্ড। সেই লক্ষ্যে তাঁর অবিরাম শ্রম। অবিরাম শ্রমের প্রেরণা পেয়েছেন মা নীলুফা বেগমের কাছ থেকে। মা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কিন্ডারগার্টেন স্কুল চালাতেন। মাকে কখনো বসে থাকতে দেখেননি। অফিসের কাজের পাশাপাশি মা ব্যস্ত থাকেন নিজের কাজ নিয়ে। মায়ের কাছ থেকেই পরিশ্রমের দীক্ষা নিয়ে তানজিনা পা রাখতে চান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

চাকরি খুঁজে পাওয়ার কার্যকরী উপায়

বাংলাদেশে চাকরি খোঁজা এখন আর খুব একটা কঠিন কাজ নয়। আপনি যদি এই মুহূর্তে চাকরির খোঁজে থেকে থাকেন, হোক সেটা আপনার প্রথম চাকরি অথবা আপনার ১০ নাম্বার চাকরি তবে আপনি সঠিক- জায়গায় এসেছেন। আপনি যদি কিছু টিপস অনুসরণ করেন তবে আপনি নিজেকে একজন সুদক্ষ চাকরি সন্ধানী রূপে গড়ে তোলার জন্য প্রস্তুত হয়ে উঠতে পারেন।

বাংলাদেশে চাকরি খুঁজে পাওয়ার কিছু সহজ টিপস
বাড়ি থেকেই চাকরি খোঁজা শুরু করুন :
আপনার পরিবারের সদস্যদের কাছেই হয়ত চাকরির অনেক সম্ভাব্য চাকরিদাতার লিংক থাকতে পারে যা সম্পর্কে আপনার কোনো ধারণাই নেই। সুতরাং চাকরি খোঁজার সুবাদে প্রথম এবং সবচেয়ে সহজ জায়গাটি হল নিজের বাড়ি। আপনার বাবা-মা, ভাই-বোনদের, চাচা-মামা-খালু, চাচি-মামী-খালা ইত্যাদি আত্মীয়-স্বজনদের প্রশ্ন করুন যে তাদের এমন কোনো পরিচিত সূত্র আছে কিনা যেখান থেকে তারা আপনাকে চাকরির সন্ধান এনে দিতে পারে। আত্মীয়-স্বজনদের কাছে সরাসরি চাকরি না চেয়ে আপনি তাদের কাছে নিজের যোগ্যতা তুলে ধরতে পারেন। এর উদ্দেশ্য হল আপনার উপর আপনার আত্মীয়-স্বজনদের ইতিবাচক ধারণা তৈরি করা যাতে করে তারা আপনাকে চাকরিদাতার কাছে রেফার করতে পারেন।
আপনার নিজস্ব নেটওয়ার্ক ব্যবহার করুন :
আপনি যখন চাকরির সন্ধান করতে যাবেন তখন আপনার বন্ধু এবং সহকর্মীরাই আপনাকে অনেক সহায়তা করতে সক্ষম হবে। তারা যদি এমন কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন যেখানে আপনিও কাজ করতে ইচ্ছুক তবে অবশ্যই তাদেরকে জানান এবং কোনো সুযোগ থাকলে আপনাকে রেফার করার কথা বলুন। এমনও যদি হয় যে তারা আপনাকে আপনার মন মত সাহায্য করতে পারছেন না তবে অন্তত সে প্রতিষ্ঠানে কোনো চাকরির সুযোগ রয়েছে কিনা তা সম্পর্কে জেনে নিন। চাকরি সন্ধান করার আরেকটি কার্যকারী উৎস হল অ্যালামনাই। এমনও যদি হয় যে আপনি আপনার স্কুল বা ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন ছাত্রদের ব্যক্তিগতভাবে চিনেন না, তবুও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা মঙ্গলজনক। নিজেকে একই স্কুল বা ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে পরিচয় দিন এবং আপনি যে একই ধরণের মন-মানসিকতা ও মানসম্পন্ন বৈশিষ্ট্যের ধারক তা প্রকাশ করুন। আপনাদের মধ্যে যদি সর্বজনীন কিছু থেকে থাকে তবে তা আপনার চাকরি পাবার সম্ভাবনাকে ত্বরান্বিত করতে সক্ষম হবে।
ইন্টারনেটই আপনার সেরা বন্ধু :
বাংলাদেশে চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে ইন্টারনেট একটি অন্যতম সেরা বিকল্প। বিগত কিছু বছর ধরে চাকরির বিজ্ঞাপন প্রদানের জন্য বিভিন্ন ওয়েবসাইট নির্মাণের নিরলস প্রয়াস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকের কাছে ফেইসবুক হচ্ছে চাকরির সন্ধান করার প্রথম কোনো ওয়েবসাইট। ফেইসবুক গ্রুপগুলোতে অজস্র চাকরির সুযোগের সন্ধান রয়েছে, তবে সেগুলো জানতে আপনাকে সবসময় চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। এই গ্রুপগুলো ছাড়াও আপনি কিছু চাকরি সংক্রান্ত ওয়েবসাইট, যেমন Bikroy-এ বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের বাইরে চাকরির সন্ধান পাবেন। এ ওয়েবসাইটগুলোর মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন সুবিধাও রয়েছে যার মাধ্যমে আপনি যেখানেই থাকুন না কেন, খুব সহজেই চাকরির বিজ্ঞাপনগুলোতে নজর রাখতে পারবেন। আরেকটি উত্তম উপায় হচ্ছে একটি LinkedIn প্রোফাইল রাখা, কেননা এর মাধ্যমে আপনি সহজেই বেশ গোছানো ভঙ্গিমায় আপনার দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা প্রদর্শন করতে পারবেন।
খবরের কাগজের বিজ্ঞাপন দেখুন :
আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশে খবরের কাগজ এখনও প্রাসঙ্গিক। প্রায় সব খবরের কাগজেই একটি পৃথক কলাম থাকে যেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের চাকরির বিজ্ঞাপন প্রদান করে থাকে। যদিও প্রিন্ট মিডিয়াতে চাকরির বিজ্ঞাপন প্রদানের হার ক্রমাগত কমছে, তবুও এখন পর্যন্ত এই পুরনো পন্থা চাকরির সন্ধান করার জন্যে বেশ কার্যকর।
নিজেই নিজেকে চাকরি দিন অর্থাৎ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ শুরু করুন :
অনেক সময়ই আমরা হয়ত কর্মক্ষেত্র পরিবর্তন করে থাকি এবং কখনও অফিসের গতানুগুতিক সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারি না। এমন অনেক উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তি আছেন যারা অফিসের গতানুগুতিক সংস্কৃতির সাথে খাপ খাওয়াতে না পারার দরুন ভাল মানের কাজ করতে পারছেন না। এ ধরণের ব্যক্তিরা ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করতে পারেন। এর অর্থ হল আপনি আপনার সুবিধামত একই সময়ে একাধিক ক্লায়েন্ট বা কোম্পানির হয়ে কাজ করতে পারবেন। অন্যদিকে, একজন ব্যক্তি নিজেই একটি ব্যবসা শুরু করতে পারেন। তবে ব্যবসায়ের অবকাঠামো অবশ্যই নির্ভর করবে ব্যবসা কি ধরণের হবে এবং কি পরিমাণ মূলধন নিয়ে সেটি শুরু করা যাবে তার উপর। যদিও ব্যবসাকরাটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ তবে এই ঝুঁকি নিয়ে সঠিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে সক্ষম হলে তা হবে লাভজনক। বহু স্থানীয় ব্যবসায়ী ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। এই পন্থাটি অত্যন্ত কঠিন হলেও বেশ ফলপ্রসূও বটে।

চাকরির সন্ধান করা শুনতে হয়ত অনেক সহজ একটি ব্যাপার মনে হতে পারে কিন্তু চাকরির বাজার যদি মন্দা থাকে তবে সেক্ষেত্রে এটি প্রকৃত অর্থেই বেশ চ্যালেঞ্জিং একটি বিষয়। তবে আপনি অবশ্যই নিরাশ হবেন না এবং সবসময় চেষ্টা করতে থাকবেন। আপনি যদি চাকরি পেতে সক্ষম না হয়ে থাকেন তবে ভলান্টিয়ার বা ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করুন, এতে করে আপনি একাধারে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন এবং কানেকশন বৃদ্ধি করতে পারবেন যা আপনাকে একসময় প্রকৃত চাকরির সুযোগ এনে দেবে।

আপনাকে ওয়েবসাইটের ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন সম্পর্কেও সচেতন থাকতে হবে। আপনার যদি কোনো কিছু সন্দেহজনক মনে হয় তবে সেগুলো এড়িয়ে চলুন। আশা করা যায়, এই টিপসগুলো যদি আপনি মেনে চলেন তবে আপনার চাকরি খোঁজার প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ হয়ে যাবে।

ইফতারে লেবু! জে‌নে নিন উপকারীতা কি কি

তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও দিনের দৈর্ঘ্য বাড়ছেই। তাই অনেকক্ষণ সংযমের পর এমন দিনে ইফতারে চাই পুষ্টি ও স্বাস্থ্যকর খাবার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইফতারে ভাজাপোড়া না খাওয়াই ভালো। বরং বুদ্ধিমানের কাজ হবে ফলমূলে মনোযোগী হওয়া। ‌জে‌নে রাখুন লেবু মামার স্বাস্থ্যগুণ:

পুষ্টি উপাদান : লেবু বলতেই আমরা ভিটামিন সি-তে ভরপুর এক ফলের কথা জানি। কিন্তু এই সাইট্রাস ফলে রয়েছে ভিটামিন বি-৬, ভিটামিন এ, ই, ফোলেট, নিয়াসিন, থিয়ামিন, রিবোফ্লোবিন, প্যান্টোথেনিক এসিড, কপার, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, জিংক, ফসফরাস আর প্রোটিন।
বদহজম : লেবুর রস হজমসংক্রান্ত সমস্যা দূর করতে ও কোষ্ঠকাঠিন্যের বিরুদ্ধে লড়তে উপকারী। ইফতারে এক গ্লাস লেবুর শরবত রাখতে ভুলবেন না। অন্যান্য খাবারের পাতেও কয়েক ফোঁটা মিশিয়ে দিন। রোজার দিন সাধারণত খাদ্য গ্রহণে সময়ের পরিবর্তন ও পানির অভাবে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। অন্যান্য পানীয় ও খাবারের সঙ্গে লেবুর রসের ব্যবহার আপনাকে এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে পারে।
সর্দি-জ্বর : যখন-তখন জ্বরে পড়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। লেবু কিন্তু আপনাকে রমজান মাসে জ্বর, ঠাণ্ডা, সর্দি বা ফ্লু থকে নিরাপদ রাখতে পারে। ঘাম ঝরানোর মাধ্যমে জ্বরকে বিদায় জানায় লেবুর রস।
দাঁত : ডেন্টাল কেয়ার বিষয়ে লেবুর ব্যবহারের তুলনাই হয় না। দাঁতের যে অংশে ব্যথা সেখানে টাটকা লেবুর রস মেখে নিন। কিছুক্ষণ বাদেই ব্যথা গায়েব হয়ে যাবে। এর রস মাড়িতে ম্যাসাজ করলে রক্তপাত বন্ধ হয়। মাড়ির আরো কিছু রোগ ও বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে সুরক্ষা দেয় লেবু। ইফতারিতে মুখের দুর্গন্ধ থাকবে না লেবু খেলে।
চুল : যদি খুশকি থাকে মাথায়, তো লেবুর রস চুলে মেখে গোসল করুন। এ ছাড়া শরবতের মাধ্যমে রস খেলেও উপকার পাবে চুল। দেখবেন চুল হয়ে উঠবে ঝলমলে আর প্রাণবন্ত।
ত্বক : লেবুর রস পেটে পড়লে ত্বকও উপকৃত হয়। ত্বকে লাগালেও জাদু দেখতে পাবেন। এমনিতেই লেবুর রস প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক হিসেবে সুপরিচিত। ত্বকে ব্যথা থেকে শুরু হয়ে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিতে ঝলসে যাওয়া অংশেও লেবুর রস দিলে তা ভালো হয়ে যাবে। ইফতারে পানি ও মধুর সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে ত্বকের লাবণ্য বাড়ে।
ওজন কমাতে : বলা হয়, হালকা গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। শরীরের বাড়তি মেদ ঝরতে থাকে। বহু পুরনো আমল থেকেই ওজন কমাতে লেবুর রস রীতিমতো পথ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
শ্বাসযন্ত্রের যত্ন : শ্বাস গ্রহণের সমস্যা ছাড়াও অন্যান্য রেসপিরেটরি ডিসঅর্ডার সামলাতে লেবু দারুণ কাজের। অ্যাজমার আক্রমণে লেবু আপনাকে আরাম দেবে।
বাতরোগ :
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে লেবুতে। ব্যাকটেরিয়াসহ বিষাক্ত উপাদান দেহ থেকে বের করে দিতে পটু এর ভিটামিন সি। তাই বাতরোগ ও আরথ্রাইটিসের মতো রোগে আক্রান্তদের লেবু ওষুধের মতো কাজ করতে পারে।
গলায় সংক্রমণ : গলার ভেতরে যেকোনো ধরনের সংক্রমণে প্রতিরোধী ব্যবস্থা নিতে লেবু এক দারুণ জিনিস। এতে আছে শক্তিশালী অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। ইফতারে নিয়মিত লেবু ও লেবুর শরবত পান করুন, সংক্রমণ থেকে দূরে থাকুন।