দাঁ‌তের হলুদভাব ও মু‌খের দূর্গন্ধ দূর করুন সহ‌জেই

কথা বল‌তে গে‌লে মুখ থে‌কে দূর্গন্ধ বের হয়, হাসতে গে‌লে হল‌দে দাঁ‌ত সবার নজ‌রে আ‌সে। হাস‌লে মন প্রফুল্ল থা‌কে, তার চে‌য়ে বড় ব্যাপার হ‌লো আয়ু বা‌ড়ে ! চিকিৎসকেরাও আমা‌দের মন খুলে হাসার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। অথচ ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কোন মানুষের সাথে কথা বল‌তে, মন খুলে হাসতে যেয়ে ম‌নো‌বেদনা নি‌য়ে বিরত থাক‌তে হয়। আর তাই মু‌খের দূর্গন্ধ ও হলুদ দাঁত বা দাঁতের হলদে ভাব থে‌কে মু‌ক্তি সবারই কামনা।

এমন অ‌নে‌কে আ‌ছে যারা এই ব্যাপা‌রে চরম উদাসীন। কিন্তু একটু লক্ষ্য কর‌লে বোঝা যা‌বে যে, অন্যরা তার কা‌ছে যে‌তে কতটা বিরক্ত ও ইতোস্থতাবোধ কর‌ছে। এছাড়াও প্রিয়জ‌নের সংস্প‌র্শে, অ‌ফি‌সে, বন্ধুদের সাথে, এমনকি যেকোনো মানুষের সামনে কথা বল‌তে ও মন খুলে হাসতে না পারার প্রধান কারণ হলো মু‌খের দূর্গন্ধ ও দাঁতের হলদে ভাব। অথচ মুখ ও দাঁ‌তের একটু যত্ন নিলেই এমনটি আর হয় না। চলুন মু‌খের দূর্গন্ধ ও দাঁতের হলদে ভাব দূর করার সহজ উপায় জেনে নেই-

নিয়‌মিত দাঁত ব্রাশ
নিয়‌মিত দুই‌বেলা স‌ঠিকভা‌বে দাঁত ব্রাশ কর‌তে হ‌বে। খাবার খাওয়ার আধ ঘন্টা প‌রে দাঁত ব্রাশ করা ভা‌লো। এ‌তে মু‌খের দূর্গন্ধ ও দাঁ‌তের হলুদভাব থে‌কে মু‌ক্তি পা‌বেন।

লবন পা‌নি
হালকা গরম পা‌নি‌তে লবন মি‌শি‌য়ে দুই বেলা গড়গড়াসহ কু‌লি কর‌লে মু‌খের দূর্গন্ধ ক‌মে যায়।

কমলা‌লেবুর খোসা
তাজা কমলালেবুর খোসা দিয়ে নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার করলে দাঁতের হলদে ভাব দূর হয়ে যায়। এছাড়াও নিয়মিত ঘুমাতে যাওয়ার আগে দাঁতে কমলালেবুর খোসা ঘষে ঘুমিয়ে পড়ুন। এভাবে ক‌য়েক সপ্তাহ করতে থাকলে দাঁতের হলদে ভাব দূর হয়ে যাবে।

পেয়ারা বা বেল পাতা
পেঁয়ারা বা বেল গা‌ছের ক‌চি পাতা প্রত্যহ সকালে ভালভা‌বে কিছুক্ষণ চি‌বি‌য়ে খে‌লে দূর্গন্ধ, হল‌দেভাব‌ দূর হয়।

লেবু
সামান্য পরিমাণ লবণের সাথে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে দাঁতে ঘষুন। কিছুক্ষণ পরে পানি দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। এভাবে নিয়মিত দিনে দুইবার করে দুই সপ্তাহ ব্যবহার করলে নিজেই পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারবেন।

সরিষার তেল ও লবণ
দাঁত ব্রাশ করার সময় টুথপেস্টের পরিবর্তে স‌রিষার তেল ও লবণ মিশ্রন ক‌রে ব্যবহার করতে পারেন। অথবা চারকোলের সাথে লবণ মিশিয়ে ব্রাশ করতে পারেন। দিনে দুই বার করে দুই সপ্তাহ ব্যবহার করলেই দাঁতের হলদে ভাব দূর হয়ে যাবে।

আপেল
দিনে একটা থেকে দুইটা আপেল চিবিয়ে খেলেও এসমস্যা দূর হয়ে যায়। আপেলটি শেষ পর্যন্ত চিবিয়ে যান। অম্লীয় এবং উচ্চ মাত্রার খাদ্যআঁশ থাকায় এটি দাঁতের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

নিম বা জয়তুনের ডাল
জয়তুন বা নিম গা‌ছের ডাল দিয়ে দাঁত ব্রাশ করতে পারেন, এতে দাঁতের হল‌দেভাব দূর হ‌বে। এ‌ক্ষে‌ত্রে জয়তুন ডাল ব্যবহার করাই উত্তম। আবার নিমপাতা বা ডাল চিবিয়েও ব্যবহার করতে পারেন।

নিম তেল
নিমের তেল সাধারণ টুথপেস্টের সাথে মিশিয়ে দাঁত ব্রাশ করলে মু‌খের দূর্গন্ধ ও হল‌দে সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

ডে‌ন্টিস্ট‌দের সরণাপন্ন
আপ‌নি ই‌চ্ছে কর‌লে আশপা‌শের ভা‌লো কোন ডে‌ন্টিস্ট‌কে ব‌লেও এই সমস্যা থে‌কে মু‌ক্তি পে‌তে পা‌রেন।

^
^
দাঁ‌তের সমস্যা, মু‌খের গন্ধ, দাঁ‌ত ও মু‌খের সমস্যা, দাঁ‌তের হল‌দেভাব দূর করার উপায়,

স‌ঠিক নিয়‌মে সম‌য়ম‌তো দাঁত ব্রাশ করুন

দাঁত সুস্থ্য ও দুর্গন্ধমুক্ত রাখ‌তে ছোট বেলা থেকেই প্রতিদিন ভাত খাওয়ার মত করে আমরা দুই বেলা আবার কেউ এক বেলা ক‌রে দাঁত ব্রাশ করে যাচ্ছি। কিন্তু আস‌লেই কি আমরা দাঁত সুস্থ্য রাখ‌তে পে‌রে‌ছি ? দাঁত মাজা আমা‌দের প্র‌তি‌দি‌নের কাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ ম‌নে করা হ‌লেও; এটা সত্যি যে, আমরা অনেকেই সঠিক নিয়মে ও সময় মতো দাঁত ব্রাশ করার কথা ভা‌বি না।

সঠিক নিয়মে ব্রাশ না করলে জীবাণুগুলো ঠিকমত পরিস্কার হয় না, যা দাঁতে ক্যাভিটির সৃষ্টি করে। যার ফ‌লে দাঁত হলুদ হ‌য়ে যায়, মু‌খে দুর্গন্ধ সৃ‌ষ্টি হয়, মাঁড়ি থে‌কে রক্ত প‌ড়ে, ব্যাথার সৃ‌ষ্টি হয়, দাঁ‌তের স্বাভা‌বিক গঠনের ক্ষ‌তিসাধন হয়। তাই চলুন জেনে নেই সঠিক উপায়ে দাঁত ব্রাশ করার নিয়ম ও সময়-

যে গ্রা‌মের নিরাপত্তা ব্যবস্থা লা‌গে না

যে গ্রামে ঘরের দরজা খোলা থা‌কে হরদম, চু‌রি-ডাকা‌তির কোনো ভয় নেই, দরকার হয়না কোন নিরাপত্তার, দোকা‌নিরা না থাক‌লেও দোকানপাট থা‌কে খোলা, ব্যাং‌কের তালাও সবসময় খোলা, নিরাপত্তা নিয়ে কারও কোনো অ‌ভি‌যোগ নেই।
ভাব‌ছেন বর্তমান যুগ-যামানায় এটা কি বাস্তব ? শুনতে অবাস্তব মনে হলেও এমন গ্রাম সত্যিই আছে। এটি ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের শনিশিংনাপুর গ্রাম।

সম্প্রতি বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গ্রামটির বাসিন্দাদের এই নিরাপদ বোধ করার পেছনে অন্যতম কারণ ভগবান শনির প্রতি তাঁদের অগাধ বিশ্বাস। তাঁরা মনে করেন, এই দেবতাই তাঁদের গ্রামের অভিভাবক।
কথিত আছে, ৩০০ বছর আগে বন্যায় এই গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পানাসনালা

৩৪৪০ জন সহকারী শিক্ষক প‌দের নি‌য়োগ বিজ্ঞ‌প্তি

সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৩)-এর আওতায় প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার জন্য সহকারী শিক্ষক পদে ৩ হাজার ৪৪০ জনকে নিয়োগ করা হবে। সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বিভিন্ন পত্রিকায় ও তাদের ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ নিয়োগের বিষয়টি জানিয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ নিয়োগে শুধু মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা আবেদনের সুযোগ পাবেন। ত‌বে পার্বত্য তিন জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ব্যতীত। এরই মধ্যে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। আবেদন করা যাবে আগামী ৩০ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। তাই লক্ষ্য যাঁদের শিক্ষক হওয়ার, আবেদনের শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা না করে পদটিতে আবেদন করতে পারেন এখনই। এই নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিটি পে‌তে dpe.gov.bd এই ঠিকানায় যান।
যেসব জেলার উপজেলা বা থানার প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন না:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট। নাটোর: লালপুর। রাজশাহী: বাঘা। কুষ্টিয়া: দৌলতপুর, ভেড়ামারা। মাগুরা: শ্রীপুর। নেত্রকোনা: কলমাকান্দা ও কেন্দুয়া। টাঙ্গাইল: ঘাটাইল। রাজবাড়ী: পাংশা। শরীয়তপুর: ডামুড্যা। ময়মনসিংহ: ভালুকা, তারাকান্দা। কিশোরগঞ্জ: তারাইল। ঢাকা: মোহাম্মদপুর, রমনা ও ডেমরা। ফরিদপুর: নগরকান্দা, মধুখালী। জামালপুর: মাদারগঞ্জ। লক্ষ্মীপুর: রামগতি, কমলনগর। চট্টগ্রাম: কোতোয়ালি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া: কসবা। নোয়াখালী: সুবর্ণচর। পঞ্চগড়: দেবীগঞ্জ। কুড়িগ্রাম: চিলমারী ও ফুলবাড়ী। ভোলা: লালমোহন। সুনামগঞ্জ: সদর, দোয়ারাবাজার।

আবেদনের যোগ্যতা
এ পদে আবেদনের জন্য পুরুষ প্রার্থীদের কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ/শ্রেণি/সমমানের জিপিএসহ স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি পাস হতে হবে। অন্যদিকে, মহিলা প্রার্থীদের ক্ষেত্রে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা সমমানের পরীক্ষায় ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ/সমমানের জিপিএসহ উত্তীর্ণ অথবা স্নাতক বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। উভয় প্রার্থীদের বয়স ৩০ জুন ২০১৬ তারিখে ১৮ থেকে ৩০ অথবা ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে।

যেভাবে আবেদন করবেন
এ পদে প্রার্থীদের অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। http://dpe.telelalk.com.bd এবং www.dpe.gov.bd এই ওয়েবসাইটে লগ ইন করলে একটি লিংক পাওয়া যাবে। এই লিংকে প্রবেশ করে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা মোতাবেক অনলাইন আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করে সাবমিট করার পর অ্যাপ্লিকেশন কপি প্রিন্ট করতে হবে। সঠিকভাবে পূরণকৃত অ্যাপ্লিকেশন কপির ইউজার আইডি দিয়ে আবেদন ফি জমা দিতে হবে। একবার আবেদন ফি জমা দেওয়ার পর অ্যাপ্লিকেশন ফরম কোনো অবস্থাতেই সংশোধন বা প্রত্যাহার করা যাবে না। শুধু ইউজার আইডিপ্রাপ্ত প্রার্থীরা উক্ত সময় পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত এসএমএসের মাধ্যমে ফি প্রদান করতে পারবে। আবেদনকারীকে একটি ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড দেওয়া হবে। এই ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড সব সময়ের জন্য প্রার্থীকে সংরক্ষণ করতে হবে। প্রার্থীকে পরীক্ষার ফি বাবদ অফেরতযোগ্য সার্ভিস চার্জসহ ১৬৬.৫০ টাকা যেকোনো টেলিটক মোবাইল নম্বর থেকে এসএমএসের মাধ্যমে যথাসময়ে প্রেরণ করতে হবে।

নির্বাচন পদ্ধতি
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সহকারী শিক্ষক পদে এর আগে ৮০ নম্বরের এমসিকিউ পদ্ধতিতে লিখিত পরীক্ষা ও ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হতো। বাংলা গণিত, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে প্রশ্ন থাকত। তবে এবারের নিয়োগে কত নম্বরের পরীক্ষা হবে, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এসব পরীক্ষার তারিখ পরে অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে বলে অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

পরীক্ষাপ্রস্তুতি
বাংলা অংশে ব্যাকরণ এবং সাহিত্য থেকে প্রশ্ন আসে। ব্যাকরণ অংশের জন্য নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ডের ব্যাকরণ বই, সাহিত্যের জন্য বোর্ড বইয়ের গদ্য ও পদ্যের লেখক পরিচিতি, কবি পরিচিতি পড়তে হবে। ইংরেজিতে Translation, গ্রামারে Tense, Preposition, Parts of Speech, Voice, Narration, Right forms of verb থেকে প্রশ্ন আসে। গণিতে পাটিগণিত, বীজগণিত ও জ্যামিতি থেকে প্রশ্ন আসে। অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণীর গণিত বইয়ের অঙ্কগুলো অনুশীলন করতে হবে। সাধারণ জ্ঞান-বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ঘটনাসমূহ পড়বেন।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আবেদনপত্রের সঙ্গে অনলাইনে দাখিলকৃত আবেদনের ফটোকপি, পাসপোর্ট সাইজের ২ কপি ছবি, প্রথম শ্রেণির গেজেটেড সরকারি কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত শিক্ষাগত যোগ্যতা-সম্পর্কিত সব মূল বা সাময়িক সনদ এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/পৌরসভার মেয়র/সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিক সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিতে হবে।

বেতনাদি
চূড়ান্তভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ১০ হাজার ২০০ (গ্রেড ১৪) টাকা স্কেলে বেতন পাবেন। আর প্রশিক্ষণবিহীন একজন সহকারী শিক্ষক ৯ হাজার ৭০০ (গ্রেড-১৫) টাকা স্কেলে বেতন পাবেন।

^
^
dearbangla : প্রাইমা‌রির নি‌য়োগ ২০১৬, primary job, শিক্ষক নি‌য়োগ, bd, primary teacher job bangladesh, সরকা‌রি, নি‌য়োগ, bangla jobs

যেসব পণ্যের দাম কমবে

আগামী অর্থবছরের (২০১৬-১৭) জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বেশ কিছু পণ্যের ওপর মূল্য সংযোজন কর বা শুল্কহার কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এর ফলে এসব পণ্যের দাম কমে যাবে।

দাম কমার তালিকায় উল্লেখযোগ্য হলো- দেশী মোটরসাইকেল তৈরির যন্ত্রাংশ, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রাংশ, স্ট্যাবিলাইজার, এলপিজি সিলিন্ডার, ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল, ভিডিও কনফারেন্স ডিভাইস, স্মার্ট কার্ডের যন্ত্রাংশ, সাইবার সিকিউরিটির যন্ত্রাংশ, বায়োগ্যাস ডাইজেস্টার, ফায়ার বোর্ড, কফি মেট, পেট্রোলিয়াম জেলি ও এলইডি ল্যাম্পের যন্ত্রাংশসহ প্রভৃতি পণ্যের দাম

যেসব প‌ণ্যের দাম আরও বাড়বে

আগামী অর্থবছরের (২০১৬-১৭) জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বেশ কিছু পণ্যের ওপর কর বা শুল্কহার বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এর ফলে এসব পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে। দাম বাড়ার তালিকায় উল্লেখযোগ্য হলোÑ বিড়ি, সিগারেট, তামাকজাত পণ্য, নির্মাণসামগ্রী যেমন- পাথর, রড, মোবাইল সেবা, বৈদ্যুতিকসামগ্রী, রাসায়নিক পণ্য, সুগন্ধি, ওয়াশিং মেশিন, এসি, বাস ও লরির টায়ার, বায়োমেট্রিক স্ক্যানার, ইউপিএস, আইপিএস, ট্রান্সফরমার, মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিকের আমদানি করা বই, কাগজ ও কাগজজাত পণ্য, অপটিক্যাল ফাইবার ও মশা মারার ব্যাট, হোটেল নির্মাণ যন্ত্রাংশ, আমদানি করা চাল ইত্যাদি পণ্যের দাম

বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ে স্টিভ জব‌স-এর ঐতিহা‌সিক বক্তব্য

স্টিভ জবস বিশ্বখ্যাত কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপল ও অ্যানিমেশন স্টুডিও পিক্সারের (টয় স্টোরি, ফাইন্ডিং নিমো, মনস্টার ইনকরপোরেটেড, ওয়াল-ই, আপ-এর মতো অসাধারণ অ্যানিমেশন তৈরি করেছেন) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন বক্তা হিসেবে ২০০৫ সালে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন স্টিভ জবস। সে বছর ১২ জুন এক ঝাঁক তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীর সেই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যে ভাষণটি তিনি দিয়েছিলেন, সেটি সত্যিই অসাধারণ।

ভাষান্তর সিমু নাসের
প্রথমেই একটা সত্য কথা বলে নিই। আমি কখনোই বিশ্ববিদ্যালয় পাস করিনি। তাই সমাবর্তন জিনিসটাতেও আমার কখনো কোনো দিন উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। এর চেয়ে বড় সত্য কথা হলো, আজকেই কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান সবচেয়ে কাছে থেকে দেখছি আমি। তাই বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে নিজেকে অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। কোনো কথার ফুলঝুরি নয় আজ, স্রেফ তিনটা গল্প বলব

বিশ্বখ্যাত ১২ উ‌দ্যোক্তার সফলতার গল্প

বিশ্বসেরা ১২ উদ্যোক্তাদের সফলতার পেছ‌নের কাহিনী। উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল ধারণার প্রবর্তন করে ব্যবসা-উদ্যোগের গতানুগতিক ধরন পাল্টে দিয়ে দুনিয়াজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছেন—এ রকম ১২ জন সেরা উদ্যোক্তার একটি তালিকা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টাইমের প্রভাবশালী ম্যাগাজিন ফরচুন। তালিকার ১২তম স্থানে আছেন বাংলাদেশের নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

ক্ষুদ্র উ‌দ্যোক্তা হা‌ফিজুর এখন রানার গ্রু‌পের মা‌লিক

হাফিজুর রহমান, চেয়ারম্যান, রানার গ্রুপ।
তি‌নি স্বপ্ন দেখতেন এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নও করলেন। চাকুরী ছেড়ে নেমে পড়লেন ব্যবসায়। হয়ে উঠলেন একজন সফল উদ্যোক্তা। গড়ে তুললেন রানার গ্রুপ। এখন সেই রানার গ্রুপ নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন আন্তজার্তিক পর্যায়ে।
সেই ব্যক্তির কথা বলছি যার মেধা, বুদ্ধি, পরিশ্রমে গড়ে উঠা রানার গ্রুপ আজ বাংলাদেশের অটোমোবাইলস্ জগতের  সুনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠান। তিনি হাফিজুর রহমান, রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান।
হাফিজুর রহমান খানের একান্ত সাক্ষাতকারে উঠে এসেছে রানার গ্রুপের সেই সফলতার কথা। বাবা চাইতেন না ছেলে ব্যবসা করুন। বাবা চাইতেন ছেলেও যেন তার মতো চাকুরি করেন। কারণ ব্যবসা করতে পুঁজি লাগে। সেই পুঁজিইবা দিবেন কিভাবে।  বারো জন ছেলে-মেয়ের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো বাবা কোরেশ আলী খানকে।  তাই পরিবারের কিছুটা দায়িত্ব নিজের কাধে নিতে এবং বাবা কোথায় প্রথম কর্মজীবনে হাফিজুর রহমান লেখাপড়া শেষে চাকুরি করলেও চাকুরিতে মন বসাতে পারেননি তিনি।
ছোট বেলে থেকেই হাফিজুর রহমান খান ছিলেন স্বপ্নবাজ। স্বপ্ন দেখতে দেশের একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী হবেন।  তাই চাকুরি ছেড়ে নেমে পড়ে ব্যবসায়। পুঁজি না থাকলেও ছিল মেধাশক্তি ও পরিশ্রমের মানসিকতা। তাই ব্যবসার কারণে ছুঠেছেন গ্রাম থেকে গ্রামে। আজ তার সেই পরিশ্রমের ফসল রানার মোটরসাইকেল ছুটে চলেছে শহর থেকে গ্রামের মেঠোপথে। শুধু মোটরসাইকেলই নয় চলছে রানার গ্রুপের যানবাহনগুলো। দেশের  অটোমোবাইল বাণিজ্যে সুনাম কুড়িয়েছে রানার গ্রুপ। এছাড়াও রিয়েল এস্টেট, কৃষি ও তথ্য খাতে রয়েছে ব্যাপক ভূমিকা। রানার অটোমোবাইলস, রানার এগ্রো কোম্পানি, রানার অটো ব্রিকস ফিল্ড, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, রানার সিসটেমস লিমিটেড, রানার  প্রোপার্টিজ ও রানার মোটরস লিমিটেড।

রানার প্রুপ বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সমাজে সুপরিচিত একটি নামই শুধু নয় বরং সংশ্লিষ্ট সকলের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীকও বটে। তাই তিনি তরুণ উদ্যোক্তাদের মডেল।

ফিরে যাই পিছনের দিকে। সেই ১৯৫৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। বাবা মরহুম কোরেশ আলী খান ও মাতা মরহুমা পরিজান নেসার কুলে জন্ম নেয় ফুটফুটে শিশুটিই ছিল রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রজমান। রাজশাহীতে জন্ম নিলেও পৈত্রিক নিবাস ছিলো নওগাঁ। বাবা সরকারি চাকুরিজীবী হওয়ায় শৈশব পার করেন দেশের বিভিন্ন জেলায়। নওগাঁ থেকে ম্যাট্রিক ও ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পর ভর্তি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাজশাহীতে ভর্তি হওয়ার পরই সফল উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তিনি। রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে শুরু করেন কর্মজীবন। পুঁজি না থাকায় ব্যবসা করা আর হয়ে না তার।  তবুও তিনি হাল ছেড়ে দেননি তিনি। পুঁজি না থাকলে কি হবে ছিলো তার বুদ্ধি ও অদম্য সাহস।
প্রথম কর্মজীবনে হাফিজুর রহমান খান একটি পাটকলে চাকরি করেন। এই চাকরি ছেড়ে চাকরি নেন শ্যালো মেশিন ও পাম্প বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানে। এই চাকরি মাধ্যমে শিখতে থাকেন ব্যবসায় নানা বিষয়।
১৯৮৩ সালে শেষের দিকে চাকুরি ছেড়ে নেমে পড়লেন ব্যবসায়। সেই সময় তার মূলধন মাত্র ছিল ২০ হাজার টাকা। পুঁজি যথেষ্ট না থাকলেও তিনি  মেধাকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তুলেন নিজের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। অংশদারিত্বের ভিত্তিতে তিনজন মিলে তৃতীয়াংশ শেয়ারে ব্যবসা শুরু করেন। এই ব্যবসায় তার ছিলো মেধাশক্তি আর বিনিয়োগকারী ছিল অর্থ। অবশেষে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগকারীই  থেকে গেলেন আর তিনি হয়ে সফল উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী। ২০০০ সালে গড়ে তুলেন রানার অটোমোবাইলস। আমন্ত্রণ জানাতে শুরু করেন দেশের সুপ্রতিষ্ঠিত মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীদের। তার ব্যবসার পরিকল্পনা ও উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখে এসব ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করেন তার ব্যবসায়। এখন সময় তার পুঁজি হয় ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এই পুঁজি নিয়ে পুরোদমে নেমে পড়েন ব্যবসায়। ব্যবসার শুরুতে চায়না থেকে মোটরসাইকেল আমদানি করে বিক্রি করা করতেন। এর পাশাপাশি ট্রাক, বাস দেশের বাইরে থেকে এনে বিক্রয় শুরু করে দেন। যখন  রানারপুরোপুরি সফল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠলো এই ব্যবসা । তখন স্বপ্ন দেখতে শুরু করলেন দেশের আবাসন খ্যাতকে নিয়ে। গড়ে তুলনে রিয়েল এস্টেট ও ব্রিকস কোম্পানি। এরপর আরো গড়ে তুললেন কিছু প্রতিষ্ঠান। এই ভাবে তার মেধা, বুদ্ধি, পরিশ্রম  এবং অনেক বাধা উপক্ষো তিলতিল করে গড়ে তুললেন ছোট ব্যবসা চালু করার সময় কি করবো এবং কি করবো না?
কি ভাবে শুরু করবো। এই প্রশ্নটি উদ্যোক্তাদের মাথায় প্রথমে চলে আসে যখন তারা চিন্তা করতে শুরু করে, তারা কি করবে। এটা আসলেই একটু কঠিন তাদের জন্য কি করা উচিত আর উচিত নয়।

যে পণ্য নিয়ে কাজ করবেন:

যে পন্য নিয়ে কাজ করবেন তার সুস্পষ্ট একটি ধারনা থাকতে হবে এবং সেই পন্যকে বুঝতে চেষ্টা করতে হবে মানে হচ্ছে আপনার ক্রেতা কারা, আপনার পন্য কি কি হবে এবং আপনার প্রতিযোগীদের কথাও মাথায় রাখতে হবে।

নিজেকেই একটু প্রশ্ন করুন:

এই পন্যটিতে কি কোন সমস্যা সমাধানের পথ খুজে পাওয়া যাবে
এই পন্যটিতে নতুন কি আছে
কারা এই পন্যটি কিনতে বেশি আগ্রহ প্রকাশ করবে
এটা সত্য যে আপনি আপনার প্রতিযোগীর থেকে ভালো করতে না পারলেও নতুন কিছু উপাদান যোগ করতে পারবেন যেটা কিনা আপনার ক্রেতাদের কাছে বিক্রয় করতে পারবেন।

কি ভাবে সামনে পৌছবেন ঠিক করুন:

মনের ভেতর আপনার বিজনেস প্লান এর নকশা তৈরি করে রাখেতে হবে, সেটা দীর্ঘ এবং স্বল্প মেয়াদী হতে পারে।এই গোছানো প্লানটিই আপনাকে সামনে আগানোর পথ দেখাবে, কথন আপনার কি করা দরকার।আপনি প্রথম ৬ মাসে কি করতে চান প্রথম ৩ বছর আপনার প্রতিষ্ঠান কোথায় নিতে চান।যদি সম্বব হয় বিস্তারিত ভাবে আপনার সকল পরিকল্পনা লিখে রাথা ভালো।এটা শুধু পরিকল্পনাকেই সহায়তা করবে না আপনার চলার পথকেও সজহ করবে।

আপনার ব্যবসায়িক পরিবেশকে জানুন এবং আপনাকে পরিচিতো করে তুলুন:

নিজের প্রতিষ্ঠানকে পরিচিতো করার জন্য আপনার ব্যবসায়িক পরিবেশের সাথে খাপ খায়িয়ে চলুন, পরিবেশকে বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার জন্য ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানের সাথে সর্ম্পক তৈরি করতে হবে, এটা খুব গুরুত্বপূন্য কারন এটা এমন একটি নেটওয়ার্ক আপনাকে অনেক দূর পযর্ন্ত নিয়ে যেতে পারে। ব্যবসার

সময় ব্যবস্থাপনা:

সময় = টাকা যদি ধরা হয়, সে ক্ষেত্রে সময় এর দিকে একটু নজর দিতে হবে। আপনি কোন কাজে কতটুকু সময় ব্যয় করছেন এটাও আপনার প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূণ্য বিষয়, সঠিক সময় সঠিক কাজ না করলে আপনার কাজটিই করা হবে না।

শেষ কথা, ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করতে গেলে ব্যাংক থেকে টাকা না নেয়াই ভালো।আপনার য দেখছেন তটুকু সামর্থ্ আছে ততটুকু দিয়েই শুরু করতে দিতে পারে। গ্রুপ।
এখন সেই রানার গ্রুপ নিয়ে স্বপ্ন আন্তজার্তিক পর্যায়ে। সাক্ষাতে তাই তিনি জানালেন, অটোমোবাইলস শিল্পখাতে রয়েছে প্রচুর সম্ভাবনা। বর্হিবিশ্বে  এইসব পণ্যের চাহিদা রয়েছে ব্যাপক।  তাই এসব পণ্য রফতানির জন্য চাই একটি সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও নীতিমালা । তাহলে অটোমোবাইলস খাতের পণ্যগুলো বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি আরো দৃঢ় করা সম্ভব। তিনি আরো বলেন, এ শিল্প খাতের পণ্য বিশ্ববাজার দখলে সক্ষম হবে এবং দেশের চেয়ে বিশ্ববাজারে  রফতানির সম্ভাবনা  দ্বিগুণ বেড়ে যাবে।  তিনি তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্য করেন বলেন, তরুণ্য উদ্যোক্তারা এ শিল্পে খাত উন্নয়নে এগিয়ে আসলে এই শিল্প খাত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশে সুনাম বয়ে আনবে।

উল্লেখ্য,  রানার গ্রুপ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের পাশাপাশি নিজস্ব মানবসম্পদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে  দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়েছে। রানার গ্রুপের সকল কর্মী ও তাদের পরিবারের vvcc সদস্যরা চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত কল্পে একটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে

#doinikbangladesh

" ব্যবসা " গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানুন - ৩

শেষপর্বঃ ব্যবসায় নতুন হোন আর পুরাতন, অথবা ব্যবসা শুরু কর‌তে চা‌চ্ছেন বা যা‌চ্ছেন। তা‌দের জন্যই ব্যবসা‌য় সফলতার দিক‌নি‌র্দেশনা বা নিয়ম-কানুন, যার অত্যাবশ্যকীয়তা বা গুরুত্ব ব‌লে শেষ হবার নয়।
প‌ড়েই - ক‌রেই দেখুন না কি হয় !

প্রশ্ন : ভেবেছিলাম ব্যবসা শুরু করবো। কিন্তু আমার চেহারা দেখলে সবাই কেমন করে যেন বুঝে ফেলে-আমাকে ঠকানো যায়। কী করবো বুঝে উঠতে পারছি না।
উত্তর : যদি ব্যবসা করার যোগ্যতা থাকে আর আপনাকে দেখে যদি মনে হয় যে, আপনাকে ঠকানো যায় তাহলে তো খুব ভালো। আপনি জেনেশুনে খুব সরলতার ভান করতে থাকুন। অন্যরা ভাববে যে, তারা আপনাকে ঠকাচ্ছে। আসলে ঠকছে সে নিজে। এটা তো একটা বড় গুণ যে, কাউকে দেখে মনে হয় তাকে ঠকানো যায় কিন্তু আসলে সে তা নয় এবং সে অন্যদের এ অভিসন্ধিটা বুঝতেও পারে। আর এরকম ক্ষেত্রে তাকে কেউই ঠকাতে পারে না। উল্টো যে ঠকাতে চায় সে-ই ঠকে যায়।
প্রশ্ন : আমি একজন ব্যবসায়ী, দুইটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটাতে সর্বদা একটু সমস্যা লেগে থাকে। কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠানটি আকারে বড় অর্থাৎ বিনিয়োগ বেশি। আমি কী করতে পারি? দয়া করে জানালে উপকৃত হবো।
উত্তর : বড় প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে আরো মনোযোগী হতে হবে। মনোযোগী হলেই সমস্যা সমাধানের পথ বেরিয়ে আসবে। অর্থাৎ যেখানেই সমস্যা সেখানেই আরো বেশি মনোযোগ দিতে হবে।
প্রশ্ন : আগামী মাসে আমি বিজনেস শুরু করতে যাচ্ছি। মনে জোর পাচ্ছি না। ভয় হচ্ছে যদি লোকসান হয়? ভয়ে আমি ঘুমাতে পারি না। কী করবো?
উত্তর : আসলে নিজের মনের ভেতরে আগে সাহস আনতে হবে। বিশ্বাস আনতে হবে। ভয় পাওয়া মানেই হচ্ছে নিজের ওপরে বিশ্বাসের অভাব রয়েছে। বিশ্বাস যখন আসবে তখন ভয়টা এমনিতেই কেটে যাবে। সাহস করতে না পারলে কেউ কখনো বড় কাজ করতে পারে না। আসলে যুক্তিসঙ্গত সীমার মধ্যে কোনোটাই ঝুঁকি নয় যদি বিশ্বাস এবং সাহস থাকে। কারণ আপনি এমন কিছু করতে যাচ্ছেন না যেটা এর আগে কেউ করে নি। এর আগে যেহেতু কেউ না কেউ পেরেছে অতএব আপনিও পারবেন। কাজেই লোকসানের ঝুঁকি নয়, আপনার অন্তর্গত ভয়ই হচ্ছে আপনার বাধা।
আর ব্যবসায়ে যদি আপনি এই নিয়ত নিয়ে নামতে পারেন যে, আপনি আপনার ক্লায়েন্টদের সেবা দেবেন, আপনার কর্মীদের একটা ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ দেবেন তাহলে আপনাকে কখনো লোকসানের ভয়ে ভীত হতে হবে না। একটা উদাহরণ দেই।

বিশ্ববিখ্যাত প্যানাসনিক কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা কনসুকি মাতসুশিতা জন্মেছিলেন ১৮৯৪ সালে পশ্চিম জাপানের এক প্রত্যন্ত গ্রামে। জুয়াড়ি বাবার অপরিণামদর্শিতার ফলে সবকিছু খুইয়ে পরিবারটি যখন পথে বসতে যাচ্ছিলো তখন আট ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট নয় বছর বয়সী মাতসুশিতা বাইসাইকেলের দোকানে ফুটফরমাশের কাজ করে ধরেন পরিবারের হাল। কিছুদিনের মধ্যেই সেটি ছেড়ে যোগ দেন ওসাকা লাইট কোম্পানিতে। দক্ষতা ও বিশ্বস্ততার কারণে একের পর এক পদোন্নতি পেয়ে ইন্সপেক্টরের পদে উন্নীত হলেও স্বপ্ন ছিলো তার আরো বড়। ভাবনা ছিলো মানুষকে কীভাবে আরো সেবা দেয়া যায়। উদ্ভাবন করলেন নতুন এক ধরনের লাইট-সকেট, প্রচলিতগুলোর চেয়ে যা অনেক ভালো।

কিন্তু মালিক এর উৎপাদনে রাজি হলেন না। অগত্যা-‘বল বল আপন বল’। চাকরি ছেড়ে দিলেন। স্ত্রী এবং তিনজন মাত্র সহকারী নিয়ে মাতসুশিতা শুরু করলেন তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান। অর্থ নেই, ব্যবসা করার অভিজ্ঞতা নেই এবং প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া বা ইলেকট্রিক বাল্ব উৎপাদনে কোনোরকম অভিজ্ঞতা নেই-এমন সহকারীদের নিয়ে একটানা কয়েক মাস কাজের পর তারা সফল হলেন। উৎপাদন তো হলো। কিন্তু বিক্রি করতে গিয়ে দেখা দিলো বিপত্তি। পাইকারি বিক্রেতারা তার পণ্য নিতে চাইলো না পরিমাণে কম বলে। লেগে থাকলেন মাতসুশিতা। গুণগত মান বাড়িয়ে দিলেন। দাম কমালেন ৫০%। পত্রিকায় পণ্যের বিজ্ঞাপন দেয়ার অভিনব উপায় তিনিই প্রথম চালু করেন। হু হু করে বাড়তে লাগলো তার বিক্রি।

১৯২২ সাল নাগাদ মাতসুশিতার প্রতিষ্ঠান প্রতিমাসেই নতুন নতুন পণ্য নিয়ে হাজির হতে লাগলো। ব্যবসাক্ষেত্রে মাতসুশিতা দিলেন এক যুগান্তকারী ধারণা। প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে বাজারে প্রচলিত পণ্যের চেয়ে অন্তত ৩০% ভালো পণ্য দিতে হবে আর দাম কমাতে হবে অন্তত ৩০%। আফটার সেল সার্ভিস দেয়ার ধারণাটি মাতসুশিতাই চালু করেন।

কর্মীদের তিনি নিজ পরিবারের সদস্য বলে ভাবতেন। মহামন্দার সময় কোম্পানিগুলো যখন কর্মী ছাঁটাই করে মন্দা মোকাবেলার চেষ্টা করছিলো মাতসুশিতা তখন উৎপাদন কর্মীদের বিক্রয়কাজে নিয়োজিত করে চেষ্টা করেছেন ছাঁটাই না করে কীভাবে চলা যায়। সে সময় কর্মীদের আধবেলা কাজ করালেও বেতন দিতেন পুরোবেলার। এই ভালবাসার প্রতিদানও তিনি পেয়েছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মিত্রবাহিনীর অভিযোগের মুখে কোম্পানি প্রধানের পদ ছেড়ে দিতে হলেও তার কর্মীরাই তাকে আবার ফিরিয়ে আনে কোম্পানিতে। তিনি বলতেন, একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান শুধু তার শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থই রক্ষা করবে না, রক্ষা করবে সমাজের স্বার্থও।

আপনি যদি মনে করে থাকেন-এত দান-দক্ষিণা করে মাতসুশিতার কী লাভ হলো, তাহলে ভুল করবেন। ১৯৮৯ সালে ৯৪ বছর বয়সে মৃত্যুর সময় তার ব্যক্তিগত সম্পদেরই পরিমাণ ছিলো তিন বিলিয়ন ডলার। ২০ হাজার কর্মীসমেত তার প্রতিষ্ঠান ছিলো বিশ্বের সবচেয়ে লাভজনক ইলেকট্রনিক কোম্পানি। আমেরিকার কোনো ভিসিআর বিক্রির দোকানে গিয়ে যদি আপনি ব্র্যান্ড ভিসিআর খোঁজেন তাহলে দেখবেন সবগুলোই মাতসুশিতার।

আপনিও এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজে নেমে পড়ুন। কখনো লস করবেন না।

প্রশ্ন : আমি ইটের ব্যবসা করতে চাইছি। কিন্তু আমি মহিলা। আমার পক্ষে এ ব্যবসা কতটুকু শোভন হবে?
উত্তর : এটা কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েটসুলভ কোনো কথা হলো না। কারণ আমি বহু মহিলাকে ইট ভাঙতে দেখেছি। আর আপনি তো ইটের ব্যবসা করবেন। মহিলারা যদি ইট হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুঁড়া গুঁড়া করতে পারে আর আপনি ইটের ব্যবসা করতে পারবেন না এটা একটা কথা? তবে বাস্তবে ইটভাটা চালাতে হলে অনেক ঝক্কি পোহাতে হয়। এর চেয়ে আরো অনেক ধরনের ব্যবসা আছে, যা করা আপনার জন্যে সহজ হবে।

@QuantumMethod

^
^
dearbangla24 = ব্যবসার মূল শর্ত, ব্যবসা, how to start new business, উন্ন‌তি, সফল ব্যবসার নিয়ম, ব্যবসা শুরুর কথা, business, ব্যবসার সফলতা, ব্যবসার শর্ত, সফল ব্যবসার কথা, good business, উ‌দ্যোক্তা হ‌তে চাই, ব্যবসা সফল কর‌তে, ব্যবসার নিয়ম, নতুন ব্যবসা, new business, সফল, উ‌দ্যোক্তা,