এয়ারপোর্ট নতুন ব্যাগেজ বিধিমালা ২০১৮

যাত্রী (অপর্যটক) ব্যাগেজ (আমদানি) বিধিমালা ২০১২ বাতিল করে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন বিধিমালায় ‘যাত্রী’ বলতে বিদেশ থেকে আসা কোনো যাত্রীকে বোঝানো হয়েছে।
অনেক দিনের পুরোনো 2012 বিধিমালাকে ভেঙ্গে বাংলাদেশ এয়ারপোর্ট নতুন ব্যাগেজ বিধিমালা প্রণয়ন করেছেন ? যা সবারই জেনে রাখা উচিত বিশেষ করে যারা নিত্য যাওয়া আসা করেন দেশ বিদেশের বিভিন্ন স্হানে । আপনাদের সুবিধার্থে আমরা আজ বাংলাদেশ এয়ারপোর্ট এর নতুন ব্যাগেজ বিধিমালাটি সম্পূর্ণ তুলে ধরলাম । বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রনালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক ২ জুন,  ২০১৮ তারিখের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে যে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড যাত্রী (অপর্যটক) ব্যাগেজ (আমদানি) বিধিমালা ২০১২ বাতিল করে নতুন বিধিমালা প্রনয়ন করেছে। এই বিধিমালা Tourist Baggage (Import) Rules, 1981 এবং Privileged Persons (Customs Procedures) Rules, 2003 এর আওতাভুক্ত যাত্রী ব্যতীত সকল যাত্রীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এই বিধিমালার ব্যাখ্যায় ‘যাত্রী’ বলতে বিদেশ থেকে আসা কোন যাত্রীকে বুঝানো হয়েছে। আর ‘ব্যাগেজ’ বলতে কোন যাত্রী কর্তৃক আমদানিকৃত যুক্তিসঙ্গত পরিমাণের খাদ্যদ্রব্য, পরিধেয়, গৃহস্থালি বা অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রী বুঝানো হয়েছে-যার প্রত্যেকটি আইটেমের ওজন ১৫ কেজির বেশি হবে না।

এয়ারপোর্ট নতুন যাত্রী ব্যাগেজ বিধিমালার উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো:

এই বিধিমালার ব্যাখ্যায় ‘যাত্রী’ বলতে বিদেশ থেকে আসা কোনো যাত্রীকে বোঝানো হয়েছে। আর ‘ব্যাগেজ’ বলতে কোনো যাত্রীর মাধ্যমে আমদানিকৃত যুক্তিসঙ্গত পরিমাণের খাদ্যদ্রব্য, পরিধেয়, গৃহস্থালি বা অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রী বুঝানো হয়েছে, যার প্রত্যেকটি আইটেমের ওজন ১৫ কেজির বেশি হবে না।

নতুন  ‘ব্যাগেজ’ বিধিমালা নিম্নরূপ:-

১। শিরোনাম, প্রবর্তন ও প্রয়োগ
(ক) এই বিধিমালা যাত্রী (অপর্যটক) ব্যাগেজ (আমদানি) বিধিমালা, ২০১৬ নামে অভিহিত হবে।
(খ) এই বিধিমালা Tourists Baggage (Import) Rules, 1981 এবং Privileged Persons (Customs Procedures) Rules, 2003 এর আওতাভুক্ত যাত্রী ছাড়া সকল যাত্রীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

২। সংজ্ঞা
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকলে, এই বিধিমালায় -
(ক) ‘তফসিল’ অর্থ এই বিধিমালার কোন তফসিল
(খ) ‘ব্যাগেজ’ অর্থ কোন যাত্রী কর্তৃক আমদানিকৃত যুক্তিসংগত পরিমাণের খাদ্যদ্রব্য, পরিধেয়, গৃহস্থালি বা অন্যবিধ ব্যক্তিগত সামগ্রী, যার প্রতিটি আইটেমের ওজন ১৫ কেজির অধিক নয়
(গ) ‘যাত্রী’ অর্থ বিদেশ হইতে আগত কোন যাত্রী।

৩। আকাশ ও জলপথে আসা যাত্রীর শুল্ক ও কর সুবিধা
(ক) আকাশ এবং জলপথে আসা ১২ (বার) বৎসর বা তদূর্ধ্ব বয়সের যাত্রীর সঙ্গে আনা হাতব্যাগ, কেবিনব্যাগ বা অন্যবিধ উপায়ে আনা মোট ৬৫ (পঁয়ষট্টি) কিলোগ্রাম ওজনের অতিরিক্ত নয় এইরূপ ব্যাগেজ সকল প্রকার শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়া খালাসযোগ্য হবে।
(খ) উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত ব্যাগেজের অতিরিক্ত অনূর্ধ্ব ৩৫ (পঁয়ত্রিশ) কিলোগ্রাম ওজনের আনা পরিধেয় বস্ত্র, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী, বই, সাময়িকী এবং পড়াশুনার সামগ্রী সকল প্রকার শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়া খালাসযোগ্য হইবে।
(গ) ১২ (বার) বৎসরের কম বয়সের যাত্রীর ক্ষেত্রে অনধিক ৪০ (চল্লিশ) কিলোগ্রাম ওজনের একটি কার্টন, ব্যাগ বা বস্তায় আনা ব্যক্তিগত ব্যাগেজ সকল প্রকার শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়া খালাসযোগ্য হবে, তবে বর্ণিত এই সুবিধা ব্যতীত অন্য কোন প্রকার সুবিধা ১২ (বার) বৎসরের কম বয়সের যাত্রী ক্ষেত্রে হবে না।
(ঘ) যাত্রীর সংগে আনা হয়নি এইরকম ব্যাগেজ (unaccompanied baggage) তফসিল-১ এ বিধৃত ফরমে ঘোষণা প্রদান ও এই বিধিমালার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, সকল প্রকার শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়া খালাস করা যাবে, তবে উক্ত ব্যাগেজ খালাসের সময় ঘোষণাপত্রের একটি অনুলিপি সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্মকর্তার নিকট দাখিল করিতে হবে।
(ঙ) এই বিধিতে ভিন্নরূপ যা কিছুই থাকুক না কেন, একজন যাত্রী তফসিল-৩ এ উল্লিখিত পণ্যের প্রত্যেকটির একটি (মোবাইল ফোন দুইটি) করে পণ্য সকল প্রকার শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়া এবং তফসিল-২ এ উল্লিখিত পণ্যের প্রত্যেকটির একটি করে পণ্য উক্ত তফসিলে উল্লিখিত শুল্ক ও কর পরিশোধ সাপেক্ষে আমদানি করতে পারবেন।
(চ) একজন বিদেশী পাসপোর্টধারী যাত্রী এক লিটার পর্যন্ত মদ বা মদ্য জাতীয় পানীয় (যেমন-স্পিরিট, বিয়ার, ইত্যাদি) সকল প্রকার শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়া আমদানি করতে পারবেন।
(ছ) কোন যাত্রী তফসিল-২ এবং তফসিল-৩ এ উল্লিখিত পণ্য বিদেশ থেকে সঙ্গে না নিয়ে আসলে তফসিল-৪ এ বিধৃত ফরমে উল্লেখক্রমে তা বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সিটি সেলস্ সেন্টার হইতে যাত্রী আগমনের ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে ক্রয় করতে পারবেন।
(জ) একজন যাত্রী তার পেশাগত কাজে ব্যবহার্য এবং সহজে বহনযোগ্য যন্ত্রপাতি সকল প্রকার শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়া আমদানি করতে পারবেন।
(ঝ) একজন যাত্রী অনধিক ১০০ (একশত) গ্রাম ওজনের স্বর্ণালংকার অথবা ২০০ (দুইশত) গ্রাম ওজনের রৌপ্যের অলংকার [এক প্রকার অলংকার ১২ (বার) টির অধিক হইবে না] সকল প্রকার শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়া আমদানি করতে পারবেন।
(ঞ) একজন যাত্রী বিদেশ হতে দেশে আসার সময় অনধিক ২৩৪ (দুইশত চৌত্রিশ) গ্রাম (বিশ তোলা) ওজনের স্বর্ণবার বা স্বর্ণপিণ্ড অথবা ২৩৪ (দুইশত চৌত্রিশ) গ্রাম (বিশ তোলা) ওজনের রৌপ্যবার বা রৌপ্যপিণ্ড সকল প্রকার শুল্ক ও কর পরিশোধ সাপেক্ষে আমদানি করতে পারবেন।

৪। স্থল পথে আগত যাত্রীর জন্য সুবিধা
বিদেশে অবস্থানের মেয়াদ নির্বিশেষে স্থলপথে আসা একজন যাত্রী সর্বোচ্চ ৪০০ (চারশত) মার্কিন ডলার মূল্যের ব্যাগেজ সকল প্রকার শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়া আমদানি করতে পারবেন।

৫। অসুস্থ, পঙ্গু ও বৃদ্ধ যাত্রীর জন্য সুবিধা
আকাশপথ, জলপথ বা স্থলপথে আগত একজন অসুস্থ, পঙ্গু অথবা বৃদ্ধ যাত্রীর ব্যবহার্য চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও হুইল চেয়ার সকল প্রকার শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়া খালাস করা যাবে।

৬। ক্রু, নাবিক এবং অন্যান্যদের জন্য সুবিধা
(ক) পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বিদেশ হইতে আগত বাংলাদেশী এয়ার লাইন্সে কর্তব্যরত কোন বাংলাদেশী ক্রু বা কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশের কোন বিমান বন্দরে ফ্লাইট পরিচালনাকারী কোন বিদেশী এয়ার লাইন্সে কর্তব্যরত কোন বাংলাদেশী ক্রু বা কর্মকর্তা সর্বোচ্চ ৩০০ (তিনশত) মার্কিন ডলার মূল্যের ব্যাগেজ সকল প্রকার শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়া আমদানি করতে পারবেন।
(খ) বিদেশী সমুদ্রবন্দর হইতে আগমনকারী কোন জাহাজের বাংলাদেশী নাবিক বা কর্মকর্তা সর্বোচ্চ ৩০০ (তিনশত) মার্কিন ডলার মূল্যের ব্যাগেজ সকল প্রকার শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়া আমদানি করতে পারবেন।
(গ) উপ-বিধি (২) এ উল্লিখিত নাবিক বা কর্মকর্তা সাইন অফ (sign off) করলে তিনি অনূর্ধ্ব ২,০০০ (দুই হাজার) মার্কিন ডলার মূল্যের ব্যাগেজ আরোপযোগ্য সকল প্রকার শুল্ক ও কর পরিশোধক্রমে আমদানি করতে পারবেন।
(ঘ) বিদেশ হইতে আসা যাত্রীবাহী বাসের চালক ও স্টুয়ার্ডগণ (হেলপার বা এ্যাসিস্টেন্ট) পরিধেয় বস্ত্র, বিছানা (বেডিং) ও রন্ধনকৃত খাদ্য সামগ্রী এবং সর্বোচ্চ ৫০ (পঞ্চাশ) মার্কিন ডলার মূল্যের ব্যক্তিগত ও গৃহস্থালি পণ্য সকল প্রকার শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়া আমদানি করতে পারবেন।

৭। গ্রীণ এবং রেড চ্যানেল ব্যবহার
(ক) কোন যাত্রী শুল্ক ও কর আরোপযোগ্য পণ্য বহন না করিলে তিনি বিমান বন্দরের গ্রীণ চ্যানেল (যদি থাকে) ব্যবহার করতে পারবেন।
(খ) গ্রীণ চ্যানেল অতিক্রমকারী সর্বোচ্চ ৫% (শতকরা পাঁচ ভাগ) যাত্রীর ব্যাগেজ দৈবচয়নের ভিত্তিতে কাস্টমস কর্মকর্তা কর্তৃক স্ক্যানিং ও পরীক্ষা করা যাইবে।
(গ) উপ-বিধি (১) ও (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন কাস্টমস কর্মকর্তা, যুক্তিসংগত সন্দেহবশতঃ গ্রীণ চ্যানেল অতিক্রমকারী যে কোন যাত্রীর ব্যাগেজ স্ক্যানিং ও পরীক্ষা করতে পারবেন।

৮। সকল যাত্রীর জন্য কাস্টমস ঘোষণাপত্রের বিধান
(ক) বিদেশ হইতে আগত সকল যাত্রীকে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিকট তফসিল-১ এ বর্ণিত ফরম পূরণ করিয়া ব্যাগেজ ঘোষণা প্রদান করতে হবে।
(খ) যাত্রীর সংগে আনা হয়নি এমন ব্যাগেজের (unaccompanied baggage) ক্ষেত্রে কাস্টমস হল (Customs hall) বা কাস্টমস এলাকা ত্যাগ করার পূর্বেই যাত্রী কর্তৃক কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিকট তফসিল-১ এ বর্ণিত ফরম পূরণ করে ব্যাগেজ ঘোষণা প্রদান করতে হবে।
(গ) ভুলবশতঃ অথবা অন্য কোন অনিবার্য কারণে উপ-বিধি (১) ও উপ-বিধি (২) এর বিধান অনুযায়ী কোন যাত্রী কর্তৃক ঘোষণা প্রদান করা সম্ভব না হলে আগমনের ৭ (সাত) দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এ্যাসিস্টেন্ট কমিশনার অব কাস্টমসের নিচে নন এমন কাস্টমস কর্মকর্তার নিকট তফসিল-১ এ বর্ণিত ফরম পূরণ করে তিনি ব্যাগেজ ঘোষণা প্রদান করতে পারবেন।
(ঘ) একজন যাত্রী ১ (এক) পঞ্জিকা বৎসরে মাত্র ১ (এক) বার unaccompanied baggage আনতে পারবেন।

৯। মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে অব্যাহতি
এই বিধিমালায় যা কিছুই থাকুক না কেন, কোন বাংলাদেশী নাগরিক বিদেশে মৃত্যুবরণ করিলে তাহার ব্যাগেজ সকল প্রকার শুল্ক ও কর প্রদান থেকে অব্যাহতি পাবে।

১০। বাণিজ্যিক পরিমাণে ব্যাগেজ আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক ও কর
এই বিধিমালার অন্যান্য বিধানে যা কিছুই থাকুক না কেন, কোন যাত্রী তফসিল-২ এবং তফসিল-৩ এ উল্লিখিত পণ্যের অতিরিক্ত বা ভিন্ন কোন পণ্য (আমদানি নীতি আদেশ বা অন্য কোন আইনের আওতায় নিয়ন্ত্রিত বা নিষিদ্ধ পণ্য ব্যতীত), আমদানি করলে প্রধান আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের ছাড়পত্র উপস্থাপন সাপেক্ষে, ন্যায়-নির্ণয়নপূর্বক (adjudication) প্রদেয় সমুদয় শুল্ক-কর, অর্থদণ্ড ও জরিমানা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, পরিশোধ সাপেক্ষে খালাস করতে পারবেন।

ব্যাগেজসংক্রান্ত নতুন বিধিমালা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করতে পারেন  http://nbr.gov.bd/uploads/sros/650.pdf  ঠিকানায়।

No comments:

Post a Comment