করোনাভাইরাস: হ্যান্ড স্যানিটাইজারের নির্ধা‌রিত দাম

বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাসের রোগী ধরা পড়ার পর হ্যান্ড স্যানিটাইজার কেনার হিড়িক পড়ায় এর দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার।

নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থে বিক্রি করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ার করে দেওয়া হয়েছে।

সাতটি কোম্পানির স্যানিটাইজারের দাম নির্ধারণ করে দিয়ে সোমবার রাতে গণবিজ্ঞপ্তি দেয় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

>> মেসার্স এস কে এফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড হ্যান্ডিরাব সল্যুশন ৫০ মিলিলিটার ৪০ টাকা ও ১০০ মিলিলিটার ৫২ টাকায় এবং ২০০ মিলিলিটার ১০০ টাকা।

>> অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (এসিআই) হেক্সিসল হ্যান্ড রাব (ডিসপেনসারসহ) ৫০০ মিলিলিটার ২১৫ টাকা ৬৫ পয়সা, ২৫০ মিলিলিটার (ডিসপেনসারসহ) ১৪০ টাকা ৪২ পয়সা।

হেক্সিসল হ্যান্ড রাব ২৫০ মিলিলিটার (বোতল) ১৩০ টাকা ৩৯ পয়সা, ৫০০ মিলিলিটার বোতল ১৯৬ টাকা ৩৩ পয়সা, ৫০ মিলিলিটার বোতল ৪০ টাকা ১২ পয়সা।

ক্লিনজেল হ্যান্ড স্যানিটাইজার ১০ মিলিলিটার ১০ টাকায় ও ৫০ মিলিলিটার ১০০ টাকা।

>> ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের স্যানিস্ক্রাব স্কিন ক্লিনজার ২৫০ মিলিলিটার ৩০০ টাকায়, স্যানিককর্ড জেল ছয় গ্রামের টিউব ৫০ টাকা, স্যানিটাইজার হ্যান্ড রাব ২৫০ মিলিলিটার ১৩০ টাকায়, ৫০ মিলিলিটার ৪০ টাকা।

>> জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালসের হ্যান্ডিওয়াশ সলিউশন ৫০ মিলিলিটারের বোতল ৪০ টাকা এবং ২৫০ মিলিলিটারের বোতল ১৩০ টাকা।

>> গ্রিনল্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালসের ২৫০ মিলিলিটারের হ্যান্ডস্কাব ২৫০ টাকা, ২৫০ মিলিলিটারের হ্যান্ডিসোল ১৩০ টাকা, ১২৫ মিলিলিটারের হ্যান্ডিসোল ৭০ টাকা ও ৫০ মিলিলিটারের হ্যান্ডিসোল ৪০ টাকা।

>> স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের জারমিসল হ্যান্ড রাব ২০০ মিলিলিটার বোতল (পাম্প ও ডিসপেনসারসহ) ১৪০ টাকা ৪২ পয়সা, জারমিসল হ্যান্ড রাব (ওয়াসারসহ) ২০০ মিলিলিটারের বোতল ১৩০ টাকা ৩৯ পয়সা ও জারমিসল হ্যান্ড রাব ৫০ মিলিলিটার বোতল ৪০ টাকা।

>> অপসোনিন ফার্মাসিউটিক্যালসের কেভিরাব হ্যান্ড রাব ৫০ মিলিলিটারের বোতল ৪০ টাকা, ২৫০ মিলিলিটারের বোতল ১০৫ টাকা ৭২ পয়সা ও ৫০ মিলিলিটারের বোতল ৩১ টাকা ২২ পয়সা।

বিশ্বের শতাধিক দেশে ছড়িয়ে সাড়ে তিন হাজারের বেশি মৃত্যুর জন্য দায়ী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে বেশি করে হাত ধোয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

রোববার বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসের রোগ পাওয়ার পর চলে স্যানিটাইজার ও হ্যান্ড রাব কেনার হিড়িক। এতে অনেক দোকানে দ্রুত পণ্য ফুরিয়ে যায়।

বিষয়টি নজরে আসার পর সোমবার হাই কোর্ট বলে, স্যানিটাইজারের দাম যাতে না বাড়ে কিংবা কেউ যাতে মজুত করতে না পারে, সেদিকে সরকারকে নজর রাখতে হবে।

এরপরই ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের গণবিজ্ঞপ্তি এল।

ক‌রে‌ানাভাইরাস সংক্রান্ত হটলাইন নম্বরসমূহঃ

নভেল করোনাভাইরাস সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য পেতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই ১৩টি নম্বর সবসময় খোলা পাওয়া যাবে। ক‌রোনা ভাইর‌াস সার্ভিস সংক্রান্ত তথ্য পাবেন।

হটলাইন নম্বরগুলো হচ্ছে- ১৬২৬৩, ০১৪০১১৮৪৫৫১, ০১৪০১১৮৪৫৫৪, ০১৪০১১৮৪৫৫৫, ০১৪০১১৮৪৫৫৬, ০১৪০১১৮৪৫৫৯, ০১৪০১১৮৪৫৬০, ০১৪০১১৮৪৫৬৩, ০১৪০১১৮৪৫৬৮, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯৩৭১১০০১১।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হটলাইনের নম্বরটিও (১৬২৬৩) এখন নভেল করোনাভাইরাস সংক্রান্ত তথ্য জানাতে ব্যবহৃত হবে। বাকি ১২টি নম্বর আইইডিসিআরের।

“কারও নমুনা সংগ্রহের যদি প্রয়োজন মনে হয়, তারাও (স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হটলাইন) আমাদের জানাবেন নমুনা সংগ্রহ করতে হবে কি না।”

ক‌রোনাভাইরাস প্রতিরোধে পরামর্শ

করোনা ভাইরাস নিয়ে ভীত না হয়ে সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দেওয়া কিছু পরামর্শ মেনে চলতে সবাইকে পরামর্শ দিয়েছে সরকার।

>> নিয়মিত জীবণুনাশক বা সাবান বা হ্যান্ড ওয়াশ দিয়ে হাত ধোয়া উচিত।

>> কাশি বা হাঁচি দিচ্ছেন এমন ব্যক্তি থেকে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখা প্রয়োজন।

>> হাত না ধুয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

>> হাঁচি বা কাশি দেওয়ার সময় টিস্যু বা হাতের কনুই দিয়ে নাক ও মুখ ঢেকে রাখতে হবে।

>> যেখানে সেখানে থুথু নিক্ষেপ করা যাবে না।

>> রান্না করার আগে ভালো করে খাবার ধুয়ে নিতে হবে।

>> যে কোনো খাবার ভালো করে সিদ্ধ করে রান্না করতে হবে।

>> অসুস্থ ব্যক্তি বা প্রাণীর সংস্পর্শে আসা যাবে না।

>> কাপড় একবার ব্যবহার করে ধুয়ে ফেলুন।

>> বাড়ি এবং কর্মক্ষেত্র নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

>> বাইরে ব্যবহৃত জুতা ঘরে ব্যবহার করা যাবে না। খালি পায়ে হাঁটা যাবে না।

>> পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে হাত মেলানো বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

>> জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। অন্যের সংস্পর্শ  থেকে দূরে থাকতে হবে।

>> স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ অনুসরণ করে নিরাপদ থাকাই উত্তম পন্থা।

>> অসুস্থ বোধ করলে বাড়িতে অবস্থান করা উত্তম।

>> জনাকীর্ণ স্থানে সতর্ক থেকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

>> শিশু, বৃদ্ধ ও ক্রণিক রোগীদের অধিকতর সতর্ক থাকতে হবে।

>> নিজেকে নিরাপদ রাখতে বিদেশ ভ্রমণ না করাই ভালো।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সন্দেহ, লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিলে সরাসরি জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সরকার। বরং বাড়িতে থেকে হটলাইন নম্বরে ফোন করলে তারাই বাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করবে বলে জানানো হয়েছে।

No comments:

Post a Comment