ব্লগিং ক‌রে আয় - উপার্জন যেভা‌বে সম্ভব

অনলাইন জগ‌তের অ‌তি প‌রি‌চিত এক‌টি নাম হ‌চ্ছে "ব্ল‌গিং"। যারা ব্ল‌গিং ক‌রে থা‌কেন তা‌দের বলা হয় 'ব্লগার'। ব্লগিং বিষয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেন, যা সম্পূর্ণ ভি‌ত্তিহীন নয়। এ কাজটি আপনি যদি ভালোভাবে করতে পারেন; তাহলে অর্থ উপার্জন যেমন কঠিন নয়, তেমন নিজের সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে মনের মতো কাজ করাও অসম্ভব নয়।
তবে এজন্য আপনার প্রয়োজন হ‌লো কয়েকটি বিষয় জেনে রাখা। আজ‌কের এই লেখায় তুলে ধরা হলো তেমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।


ব্লগিং কি শুধুই সময় নষ্ট?
এ কথাটি সত্য নয়। এটি আপনার কঠিন মনে হতে পারে। কিন্তু বিষয়টির চ্যালেঞ্জ যদি আপনি গ্রহণ করতে পারেন, সঠিকভাবে কাজ করতে পারেন তাহলে বিষয়টি কঠিন নয়। এটি আপনার জীবনের সবচেয়ে সফল কাজ হতে পারে যদি আপনি সত্যিই সিরিয়াস হন।

সফল ব্লগিংয়ের জন্য কী করবেন?
সফল ব্ল‌গিং‌য়ের জন্য ম‌নের সমস্ত ভুল ধারণা দূর করতে হ‌বে। ব্লগিংকে অনেকেই সঠিকভাবে বুঝতে পারেন না। আর এতে ব্ল‌গিং‌য়ের সোনার খনির সন্ধান লাভ করতে ব্যর্থ হন। আপনি যতই স্মার্ট হন না কেন, ব্লগিংয়ের বিষয়টি ভিন্ন। আর সে ভিন্ন বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে আপনার যে ভুল ধারণা রয়েছে তা সবার আগে দূর করতে হবে। এরপর এগোতে হবে সাফল্যের পথে।

স্বল্পমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি নয়ঃ
বহু মানুষই মনে করেন ব্লগিং একটি সোনার খনি। কিন্তু এজন্য সঠিক স্থানে তা অনুসন্ধান করতে যান না। আপনার বেডরুমে নিশ্চই স্বর্ণখনি সন্ধান করলে কাজ হবে না। এজন্য সঠিক স্থানে যেতে হবে। সে স্থানে খনন করে স্বর্ণ উদ্ধার করতে হবে। আর এজন্য পর্যাপ্ত পরিশ্রম করতে হবে- নিজের সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে।

দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করুনঃ
ব্লগিংয়ের জন্য দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে আপনার বহু বিষয়ে দক্ষ হতে হবে। আপনার চারপাশেই পাবেন বহু বিষয়, যা আপনি তুলে ধরতে পারেন ব্লগে। তবে এজন্য আপনার খেয়াল রাখতে হবে ভুল তথ্য দেওয়া চলবে না। যে বিষয়েই আপনি উপস্থাপন করুন না কেন, তা দক্ষতার সঙ্গে করতে হবে।

মজার ব্লগিং উপভোগ করুনঃ
নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করা যায় বলে ব্লগিংয়ের কাজটি খুবই মজার। তবে শুধু মজার বিষয়ই নয় এটি। এজন্য আপনার গুরুত্ব দিয়ে কাজও করতে হবে।

আগ্রহের পেছনে ছুটুনঃ
ব্লগিংয়ে আপনি যদি এমন কোনো বিষয় নিয়ে কাজ শুরু করেন, যে বিষয়ে কোনো আগ্রহ পান না তাহলে আপনি ব্যর্থ হবেন, এমন কথা চোখ বন্ধ করেই বলা যায়। আর আপনি যে বিষয়ে আগ্রহী, সেই বিষয়ে যদি কাজ করেন, নিজের সৃজনশীলতার প্রকাশ করেন তাহলে সফল হতে পারবেন।

ভুল বিষয়ে গুরুত্ব নয়ঃ
বহু ব্লগারই মনে করেন যে, ব্লগ লেখা শুরু করে বিজ্ঞাপন দিলেই প্রচুর অর্থ আসবে। যদিও বিষয়টি তেমন নয়। প্রথমেই আপনার টাকার পেছনে ছুটলে হবে না। সঠিক বিষয়ের পেছনে ছুটতে হবে। এরপর অর্থ আপনার পেছনে নিজে নিজেই আসবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করুনঃ
আপনি যে বিষয়েই লিখুন না কেন, তাই যে পাঠকরা পছন্দ করবে, এমনটা নয়। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী আপনার পাঠকশ্রেণী উন্নয়ন করতে হবে। অন্যথায় জগাখিচুরি ব্লগ হয়ে যাবে, যা সঠিকভাবে কাজ নাও করতে পারে।

লক্ষ্যের অভাব দূর করুনঃ
আপনি যদি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অনুযায়ী কাজ করতে পারেন তাহলে তা আপনাকে সফল ব্লগার হতে সহায়তা করবে। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়া কাজ করলে এ ক্ষেত্রে এগোনো কঠিন। কেউ সব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে পারেন না। একটি নির্দিষ্ট বিষয়েই বিশেষজ্ঞ হওয়া যায়।

সমালোচনাকে স্বাগত জানানঃ
ব্লগে বহু মানুষ সমালোচনা করতে পারেন। তবে তাদের মতামতকে মূল্য দিতে হবে। সঠিক বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে হবে। মনে রাখতে হবে, তারা আপনার শত্রু নয়- বন্ধু।

ট্রাফিক ও ভিজিটর লক্ষ্য রাখুনঃ
অনেকেই ছোটখাট ব্লগ লিখে তার ট্রাফিক ও ভিজিটর নিয়ে খুবই ব্যস্ত হয়ে পড়েন। যদিও বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখবেন তা আপনার বিষয়। তবে এ নিয়ে প্রথমেই বেশি চিন্তা করা উচিত নয়।

কনটেন্টের মান বজায় রাখুনঃ
নিম্নমানের কনটেন্ট দিয়ে ব্লগের সুনাম নষ্ট করবেন না। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হয় সৃজনশীল ও গতিশীল কনটেন্ট দিতে পারলে। আর এক্ষেত্রে আপনি যত মানসম্মত কনটেন্ট দিতে পারবেন ততই সফল হবেন।

পেজ অপ্টিমাইজেশন করুনঃ
আপনার পেজ অপ্টিমাইজেশন করা অত্যন্ত ভালো একটি বিষয়। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে আপনার খুব ভালো কনটেন্ট হলেও তা যে গুগলের নজরে পড়বে কিংবা পাঠকেরা হুমড়ি খেয়ে পড়বে, তা নয়। এজন্য আপনার কি-ওয়ার্ড যেমন মনে রাখতে হবে তেমন তা সঠিকভাবে সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন করে নিতে হবে।

নির্দিষ্ট টার্গেট শ্রেণী গড়ুনঃ
আপনার এ বিষয়টি মনে রাখতে হবে যে, আগ্রহ জাগিয়ে তুলতে না পারলে বিশ্বে শত কোটি মানুষ থাকলেও তারা কেউ আপনার ব্লগ পড়তে চাইবেন না। আর এ কারণে আপনার তাদের আগ্রহের বিষয়ের প্রতি মনোনিবেশ করতে হবে। তাদের চাহিদা, স্বাদ ও প্রয়োজনীয়তা জেনে নিন। সে অনুযায়ী কনটেন্ট তৈরি করুন।

ফলোয়ার তৈরি করুনঃ
ফলোয়ারের সংখ্যাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি একঝাঁক ফলোয়ার তৈরি করতে পারেন তাহলে ব্লগিংয়ে সাফল্য আসবেই। আর এখানে সংখ্যাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তৈরি করুন প্রডাক্ট/সার্ভিসঃ
আপনার ব্লগকে শুধু ব্লগ হিসেবেই দেখবেন না। এখানে প্রডাক্ট বা সার্ভিস রাখতে পারেন। আপনার অভিজ্ঞতাগুলো লেকচার আকারে জানান। এছাড়া বইও প্রকাশ করতে পারেন।

বিজ্ঞাপন নিনঃ
ব্লগে বিজ্ঞাপন দিয়ে আপনি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। এজন্য গুগলের অ্যাডসেন্সসহ বিভিন্ন বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠানের খোঁজখবর নিতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, ব্লগ জনপ্রিয় হলেই কেবল এসব থেকে লাভ আসবে।

অন্যদের সার্ভিস দিনঃ
আপনি যদি ব্লগিংয়ের মাধ্যমে দক্ষতা ও সফলতা পান তাহলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব করতে পারেন। এক্ষেত্রে এটি আপনার ব্লগের পাশাপাশি বাড়তি উপার্জন হিসেবে কাজ করবে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং করুনঃ
সফলভাবে আপনি যদি একটি প্ল্যাটফর্ম গড়তে পারেন তাহলে আর পেছনে তাকাতে হবে না। বহু প্রতিষ্ঠানই আপনাকে তাদের সহায়তাকারী হিসেবে নিয়োগ করতে চাইবে। এক্ষেত্রে নানা পদ্ধতিতে আপনার উপার্জন বাড়তে থাকবে।

অনলাইনে আ‌য়ের বি‌ভিন্ন উপায়

No comments:

Post a Comment