প্রচলিত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি

‘ছেলে হোক মেয়ে হোক, দুটি সন্তানই যথেষ্ট’ বা ‘ছোট পরিবার সুখী পরিবার’ কথাগুলো এখন সমাজে বেশ প্রচলিত। সংসারকে সচ্ছল ও সুখী রাখতে কম সন্তান নেওয়ার প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে সব সময়। আর এ উদ্দেশ্য থেকেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে বিভিন্ন ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি। এটি পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তবে অনেকে এসব পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক ধারণার অভাবে মাঝে মাঝে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। সংসার ছোট রাখতে চাইলে অবশ্যই জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা প্রয়োজন।

জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নিয়ে কথা হয় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রেজাউল করিম কাজলের সঙ্গে। তিনি জানান, পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি রয়েছে। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিগুলোকে তিনভাগে ভাগ করা হয়। যেমন- স্বল্পমেয়াদি, দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী।
পুরুষের ক্ষেত্রে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সম্পর্কে রেজাউল করিম কাজল বলেন, ‘পুরুষের জন্য স্বল্পমেয়াদে কনডম এবং দীর্ঘমেয়াদে ভ্যাসেকটমি পদ্ধতি চালু রয়েছে। ভ্যাসেকটমি পদ্ধতি হলো পুরুষের শুক্রকীটবাহী নালি কেটে দেওয়া। এটি মাত্র পাঁচ মিনিটে করা সম্ভব। এই পদ্ধতি গ্রহণে স্বাভাবিক কাজকর্ম, যৌনমিলন বা যৌন আকাঙ্ক্ষার কোনো পরিবর্তন হয় না।’

তবে নারীদের জন্য নানা ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি রয়েছে বলে জানান এ চিকিৎসক। তিনি বলেন, নারীরা স্বল্পমেয়াদে পিল (এক মাস) ও ইনজেকশন (তিন মাস) ব্যবহার করতে পারেন। আর দীর্ঘমেয়াদের ক্ষেত্রে রয়েছে আইইউসি বা কপারটি বা রিং। এটি ১০ বছর পর্যন্ত জন্মনিয়ন্ত্রণ করে। এ ছাড়া রয়েছে ইমপ্ল্যান্ট (একটি ছোট ম্যাচের কাঠির মতো জিনিস, যা চামড়ার নিচে ব্যবহার করতে হয়)। এটি তিন থেকে পাঁচ বছর মেয়াদে কাজ করে থাকে। আর স্থায়ী পদ্ধতি হলো লাইগেশন। এতে পেট কেটে ডিম্বাণুবাহী নালিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এটি করতে ছয় থেকে আট ঘণ্টা লাগে। এক সপ্তাহের মতো ভারী কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হয়। এই পদ্ধতিতে নারীর ঋতুস্রাব, যৌন আকাঙ্ক্ষা বা ক্ষমতার কোনো পরিবর্তন হয় না।
তবে এ পদ্ধতি গ্রহণে কয়েকদিন অস্ত্রোপচারজনিত কারণে তলপেটে ব্যথা হতে পারে বলে জানান চিকিৎসক।

No comments:

Post a Comment