জা‌মের পু‌ষ্টিগুন ও উপকারীতা

জা‌মের পু‌ষ্টিগুন ও উপকারীতার কথা কম বে‌শি আমরা সবাই জা‌নি। জাম গ্রীষ্মকালীন ফলগুলোর মধ্যে অন্যতম। জা‌মের র‌য়ে‌ছে ব্য‌তিক্রম কিছু গুনাবলী। এসব গুনাবলী ও উপকারীতা আমা‌দের কা‌ছে অজানা হ‌লেও জা‌মের এসব ব্যবহার আ‌দিকাল থে‌কেই প্রচ‌লিত। এখন তা আরও বিক‌শিত।

জামকে ইংরেজিতে বলা হয় Jambul / Malabar plum. এই ফ‌লের প্রধান ব্যবহার খাদ্য হিসেবে। টক মিষ্টি সুস্বাদু এই ফলটি বেশ জনপ্রিয় হি‌সে‌বে সবার কা‌ছেই সুপ‌রি‌চিত। এছাড়াও ডাক্তারী, কবিরাজী বা হেকিমী চিকিৎসায়ও এর ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশ, ভারতবর্ষ, ইন্দোনেশিয়া এবং চীন -এ জাম ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
জামের বীজ দিয়ে নানান রোগের আয়ুর্বেদী চিকিৎসা করা হয়; যেমন: বহুমুত্র। ইউনানী এবং চৈনিক চিকিৎসাতেও জা‌মের ব্যবহার আছে।
হজমের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, মাড়ির প্রদাহ ইত্যাদি রোগে জামের বীজ, ছাল ও পাতা ব্যবহৃত হয়।
জাম থেকে নি‌ষিদ্ধ মদ ও সিরকা তৈরি করা যায়।

জা‌মের পু‌ষ্টিগুন ও উপকারীতাঃ

জা‌মের বি‌ভিন্ন পু‌ষ্টি উপাদান রোগ প্র‌তি‌রো‌ধের পাশাপা‌শি শরীরকে সুরক্ষা দেয় নানান রোগ বালাই থেকে। জা‌মের স্যালিসাইলেট নামক উপাদান মানবদে‌হে ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে।
জামে সন্ধান পাওয়া গেছে ইলাজিক এসিড নামের এক ধরনের এসিডের উপস্থিতি, যা ত্বককে করে শক্তিশালী। এই ইলাজিক এসিড ক্ষতিকর ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।
জাম ক্ষতিকর আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মির প্রভাব থেকে ত্বক ও চুলকে রক্ষা করে।
জাম স্মৃতিশক্তি প্রখর রাখতে সাহায্য করে।
লিভারকে বিভিন্ন ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে জাম খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দীর্ঘদিন ধ‌রে কোষ্ঠকাঠিন্য রো‌গের ফ‌লে মলদ্বারে টিউমার হওয়ার আশঙ্কা বে‌ড়ে যায়। অার জাম মলদ্বার বা কোলনের ক্যানসার প্রতিরোধে কাজ করে। জামের বাইরের আবরণে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ থা‌কে। এই আঁশ জাতীয় খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর কর‌তে অত্যন্ত কার্যকর।
জামের গ্লুকোজ, ডেক্সট্রোজ ও ফ্রুকটোজ মানুষের কাজ করার শক্তি যোগায়। এছাড়াও ক্লান্তি দূর করার জন্য মস্তিষ্কে গ্লুকোজ সরবরাহ করাটা ভীষণ জরুরি। যা জামের মাধ্য‌মে হয়ে যায়।
এছাড়াও জামে পর্যাপ্ত পরিমাণে বেগুণী রঞ্জকের উপস্থিতি থাকায় মানব দেহে ক্যান্সার প্রতিরোধে অত্যান্ত কার্যকরী। ক্যান্সারের জীবাণু ধ্বংস করার জন্য এতে রয়েছে চমকপ্রদ শক্তি। জাম হৃৎপিণ্ডের অসুখ, জরায়ু, ডিম্বাশয়, মলদ্বার ও মুখের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই ক‌রে।
জা‌মে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ ‘সি’, এবং ‘ই’।
জামের ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তিকে করে অত্যন্ত প্রখর। বৃদ্ধ বয়সে চোখের অঙ্গ ও স্নায়ুগুলোকে কর্মক্ষম করতে সাহায্য করে।
ভিটামিন ‘সি’ গরমে ঠাণ্ডা, কাশি ও টনসিল প্রতিরোধ করে। শরী‌রের জ্বর জ্বর ভাব দূর ক‌রে। আর দাঁত, চুল ও ত্বক সুন্দর করতেও এর অবদান অপরিসীম।
উচ্চ রক্তচাপ বা হাইব্লাড প্রেসার রোগীদের জন্য জাম অত্যন্ত উপকারী। এই ফল রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
জাম অ‌ধিক বয়সে চোখের অঙ্গ ও স্নায়ুগুলোকে কর্মক্ষম করতে সাহায্য করে। গর্ভবতী মা, বাড়ন্ত শিশুদের জন্যও এই ফল খুবই উপকারী। কারণ, এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে জিংক ও কপার। ডায়রিয়া-পরবর্তী অবস্থায় বড় ও ছোট—সবার জন্য জিংক ও কপার দরকার। তবে ডায়রিয়া চলাকালে জাম খাওয়া নি‌ষিদ্ধ।
জাম ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকারী একটি ফল। জাম ডায়াবেটিস রোগীর রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং রক্তে চিনির মাত্রা কমাতে সাহায্য ক‌রে। গ‌বেষণায় দেখা গে‌ছে, প্রতি মৌসুমে পর্যাপ্ত পরিমাণে জাম খেলে ৩০% পর্যন্ত রক্তে চিনির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব।
জাম রক্তের কোলস্টোরেলের মাত্রা কমিয়ে হৃৎপিন্ড ভালো রাখে।
এছাড়া শরীরের দূষিত কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা কমিয়ে দেহের প্রতিটি প্রান্তে অক্সিজেন পৌছে দেয়।

জা‌মের পু‌ষ্টিমান ও রাসায়‌নিক উপাদানঃ

প্রতি ১০০ গ্রাম (৩.৫ আউন্স) জা‌মের পুষ্টিগত মান হ‌চ্ছে:
শক্তি = ২৫১ কিজু (৬০ kcal), শর্করা = 15.56 g, স্নেহ পদার্থ = 0.23 g, প্রোটিন = 0.72 g ।

জা‌মের ভিটামিনসমূহঃ

ভিটামিন এ = 3 IU, থায়ামিন (বি ) = 0.006 mg, রিবোফ্লাভিন (বি ) = 0.012 mg, ন্যায়েসেন (বি ) = 0.260 mg, প্যানটোথেনিক অ্যাসিড (বি ) = 0.160 mg, ভিটামিন বি = 0.038 mg, ভিটামিন সি = 14.3 mg ।

জা‌মের চিহ্ন ধাতু সমুহঃ

ক্যালসিয়াম = 19 mg, লোহা = 0.19 mg, ম্যাগনেসিয়াম = 15 mg, ফসফরাস = 17 mg, পটাশিয়াম = 79 mg, সোডিয়াম = 14 mg ।

জা‌মের অন্যান্য পু‌ষ্টি উপাদানসমূহঃ
পানি = 83.13 g ।

জাম পাতার পুষ্টি উপাদানঃ
শুধুমাত্র জাম নয়! জা‌মের পাতাও পু‌ষ্টি সমৃদ্ধ। জাম পাতার পুষ্টি উপাদান নিচে দেয়া হলো। জাম পাতায়ঃ
আমিষ = 9.1, স্নেহ = 4.3, আঁশ = 17.0, ছাই = 7, ক্যালসিয়াম = 1.3, ফসফরাস = 0.19 ।

^
^

জা‌মের বি‌ভিন্ন উপকা‌রিতা, কা‌লো জাম, জা‌ম পাতার গুন, জা‌মের স্বাস্থ্য উপকারীতা, জাম, জামে কি কি পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান? জা‌মের গুনাবলী, জা‌মের পু‌ষ্টিগুন, জা‌মের উপকারীতা, জামের স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই ।। কা‌লো জামের পু‌ষ্টিগুন ও উপকারিতা,

No comments:

Post a Comment